আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ‘অনির্দিষ্টকাল’ অবরোধের ঘোষণা

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর হামলায় অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জায়গায় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে লিংকনের নাবিকদের মানসিক চাপ ও নানা সমস্যার খবর প্রকাশের পর এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থা না কাটলে ইরানের বন্দরগুলোতে ‘অনির্দিষ্টকাল’ নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন দাবি করছে, হরমুজ প্রণালি তাদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

 

তবে ইরানের দাবি, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই এবং জলপথটি বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এটি খোলা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটি।

 

তেহরানের শর্তের মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া অন্যতম।

 

মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য নতুন রণতরি পাঠানোর সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৪০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে রয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা জাহাজটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহের ঘাটতি, পানিদূষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

 

তবে এসব প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জাহাজের কোনো নৌ সদস্য মারা যাননি। ৩ আগস্ট জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়া একজন নাবিককে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল।

 

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ অভিযানে নাবিকদের মানসিক চাপের পাশাপাশি মৌলিক সরবরাহের ঘাটতি, পানিদূষণ ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার খবর এসেছে।

 

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান বলেন, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরির মতো জটিল যুদ্ধজাহাজের অনেক রক্ষণাবেক্ষণ সমুদ্রে সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকলে জাহাজের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা কমে যেতে পারে। লিংকন টানা প্রায় ২০০ দিন কোনো বন্দরে ভেড়েনি।

 

এ কারণে জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোকে শুধু নিয়মিত জাহাজ বদল নয়, দীর্ঘ অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর তৈরি চাপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেছে।

 

‘অনির্দিষ্টকাল’ অবরোধের ঘোষণা

গত বৃহস্পতিবার হেগসেথ বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ‘অনির্দিষ্টকাল’ বজায় রাখা সম্ভব। জাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে বদলে দিয়ে এ অবরোধ চালানো হবে বলে জানান তিনি।

 

একই দিন ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। আগামী সপ্তাহ থেকে কোনো দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

গত ১৭ জুন যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এতে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু আলোচনা ভেঙে যায় এবং দুই দেশ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে।

 

৬০ দিনের সেই সময়সীমা আগামীকাল রবিবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু সমঝোতা নবায়ন বা নতুন করে আলোচনা শুরুর কোনো লক্ষণ নেই। এর মধ্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নৌ অবরোধসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

 

হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। মঙ্গলবার তা কমে আটটিতে নেমে এসেছে। তবে গত ১০ দিনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ এবং ইরানের ‘প্রণালি বন্ধ’—দুই দাবিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

 

হরমুজ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে যেত। অবরোধ ও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে এখন এই সরবরাহব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে।

 

ইরান বলছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলতে পারবে না। দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকার দাবি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে।

 

এদিকে, মার্কিন অবরোধে ইরানের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।

 

তবে ইরানের হাতেও বড় চাপ তৈরির হাতিয়ার হরমুজ প্রণালি। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

 

ফলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন রণতরি এনে অবরোধ দীর্ঘায়িত করার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ধরে রেখেছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু না হলে এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

 

সূত্র : আল-জাজিরা 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ করল আমিরাত-ওমান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তেহরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের এটিই প্রথম বড় প্রভাব।   উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম ভ্রমণ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নতুন নীতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করছে।   ইরানের আধা সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ওমান, জর্জিয়া, আজারবাইজান এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ ইরাকের আরেকটি বিমানবন্দর নাজাফ এর দিকে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরের যেসব বৈশ্বিক কোম্পানি ইরানি এয়ারলাইন্সের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।   বৃহস্পতিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, ইরাক, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামার তালিকা দেখা গেছে। কিন্তু নিকটবর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর যাদের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে কোনো ফ্লাইটের তালিকা দেখা যায়নি।   ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত আকাশপথের অবরোধ কার্যকর করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বুধবার দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা কোনো আঞ্চলিক দেশের বিমানবন্দরগুলোকে ‘ব্যবহারের অযোগ্য’ করে দেওয়া হবে।   গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের বিমান চলাচল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলো অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটিকে সহায়তা করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।   অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপগুলোকে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।   সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট, গাল্ফ নিউজ।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করবে ফ্রান্স

সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক জরুরি সতর্কতা জারি

ছবি: সংগৃহীত

ইরান সংকট সমাধানে যে পথের কথা বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’ : ট্রাম্প

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ছিলেন না।   মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই আবারও বৈঠক হবে।   ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে। তবে চুক্তি না হলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   তবে পরে উইটকফ জানান, তিনি ও কুশনার সরাসরি ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেননি। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে আলোচনা এগিয়ে নেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার একটি ধাপ শেষ হয়েছে এবং এটি গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে বলে তারা আশা করছেন। মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্ত তুলে ধরেছেন।   ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ দ্রুত তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ দ্রুত ফেরত দেওয়া এবং বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধ করা।   এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ট্রাম্প প্রস্তুত রয়েছেন।   রুবিও বলেন, সমস্যা সমাধানে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ট্রাম্প। তবে আলোচনায় বসলেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।   ইরানের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে ‘রেড লাইন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল চীন

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের আস্থা ফেরাতে ও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারে খলিলুর রহমানের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
মক্কা লক্ষ্য করে হামলা, হুতিদের ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ বললেন সৌদি বাদশাহ

পবিত্র মক্কা নগরীকে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ আখ্যা দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের কথিত হামলার প্রচেষ্টাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সৌদি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব কথা বলেন বাদশাহ সালমান। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।   বাদশাহ সালমান বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর পাশাপাশি সৌদি আরবের নাগরিক, বাসিন্দা এবং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।   সম্প্রতি সৌদি আরব দাবি করে, হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার দিকে যাওয়ার সময় তারা সেটি প্রতিহত করেছে। তবে হুতি নেতৃত্ব সৌদি আরবের এ দাবি অস্বীকার করেছে। হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি দাবিকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন।   সৌদি আরবের দাবি অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার গত সপ্তাহে মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফ মক্কায় অবস্থিত।   সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথের জাহাজের নাম উঠে এসেছে।   গত শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট দাবি করে, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় তারা তা প্রতিহত করেছে। এ ঘটনায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকার ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, হুতিদের হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারিত করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধের কারণে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প সমুদ্রপথ হিসেবেও লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।   সৌদি বাদশাহ সালমান একই সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মিসরে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ও তুলে ধরেন।   সূত্র: আল জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে ট্রাম্পের বক্তব্য, মাঝপথেই ওয়াকআউট ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ওষুধ সরবরাহ পদ্ধতির গবেষণায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার কুবি শিক্ষকের

0 Comments