বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মরক্কো।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতার বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। গতকাল দেশটির রাজধানী রাবাতে এ বৈঠক হয়।
আজ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে আগ্রহী।
দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরেন। রাবাতে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে|।
চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সম্ভাবনার নতুন খাত চিহ্নিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয় তারা।
শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতাকে আমন্ত্রণ জানান।
পরে মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর মন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিদ্যমান কৃষি সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসফেটের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সরকারি পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
পাশপাশি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।
দুই দেশ উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়|।
একই দিনে মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ।
বৈঠকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন|
দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকগুলোতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল।
উল্লেখ্য, ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে মরক্কো সফরে রয়েছেন শামা ওবায়েদ। আজ রাবাতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মরক্কো। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতার বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। গতকাল দেশটির রাজধানী রাবাতে এ বৈঠক হয়। আজ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে আগ্রহী। দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরেন। রাবাতে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে|। চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সম্ভাবনার নতুন খাত চিহ্নিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয় তারা। শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতাকে আমন্ত্রণ জানান। পরে মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর মন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিদ্যমান কৃষি সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসফেটের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সরকারি পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। পাশপাশি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি। দুই দেশ উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়|। একই দিনে মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ। বৈঠকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন| দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকগুলোতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল। উল্লেখ্য, ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে মরক্কো সফরে রয়েছেন শামা ওবায়েদ। আজ রাবাতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কর্পোরেট নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘উইমেন অন বোর্ডস’ শীর্ষক একটি অনবোর্ডিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) যৌথভাবে ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় এ সেশনের আয়োজন করে। গত ১৭ মে ঢাকার নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মশালায় আইসিএবি, আইসিএমএবি, এসিসিএ এবং বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় নারী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, পরিচালনা পর্ষদে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি সময়ের দাবি। বোর্ডে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি কর্পোরেট বোর্ডে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে দক্ষ নারী পেশাজীবীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও ডেটাবেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন পেশাগত ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা পালন, সাহসিকতার সঙ্গে মতামত প্রকাশ এবং প্রশ্ন করার আহ্বান জানান। কর্মশালায় কর্পোরেট সুশাসন ও নেতৃত্ব বিষয়ে বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ সেশন পরিচালনা করেন খ্যাতনামা পেশাজীবী ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা। আইএফসি সাউথ এশিয়ার কর্পোরেট গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজরি লোপা রহমান পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা, পরিচালকদের দায়িত্ব ও আইনগত দায়বদ্ধতা বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি সুশাসন কাঠামো, সাসটেইনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ড, ইএসজি চর্চা এবং কার্যকর বোর্ড পরিচালনা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আর্থিক সুশাসন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের কাউন্সিল সদস্য, জেন্ডার ইনক্লুশন অ্যান্ড লিডারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র স্বতন্ত্র পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘উইমেন অন বোর্ডস’ উদ্যোগটি আইএফসি’র ইন্টিগ্রেটেড এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রকল্পের অংশ। ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতে সুশাসন চর্চা জোরদার করা, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ডিএসই’র প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মো. আবিদ হোসেন খান বলেন, দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো দ্রুত অগ্রসর হলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, টেলিযোগাযোগ ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের সফল নেতৃত্ব ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন বোর্ডরুমে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে তাদের মেধা ও নেতৃত্ব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।
শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্পখাতের সার্বিক উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘ-উভয় মেয়াদে কার্যকর করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিকের পক্ষ থেকে নীতিগত সহযোগিতাসহ এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। আজ রোববার রাজধানীর মতিঝিলে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স’-এর নবম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ আবদুর রহিম খানসহ টাস্কফোর্সের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চামড়া শিল্পখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। তিনি বলেন, পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে চামড়া খাতকে দেশের অন্যতম বড় আয়ের উৎসে পরিণত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, চামড়া সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে হবে, যাতে কোরবানির মৌসুমে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়। চামড়া শিল্পকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, কোরবানির ঈদে সংগৃহীত পশুর চামড়া এতিমখানাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এজন্য চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো, সংরক্ষণ এবং মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) প্রতিনিধিদের অনুরোধে চামড়া ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদানের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এ খাতের ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি অনুরোধ জানান মন্ত্রী। এছাড়া, সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং চামড়া শিল্পনগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।