প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'শৃঙ্খলার সামান্য ঘাটতিও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।'
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যে কোনো দেশেই যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। আপনাদের এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখতে হবে। কোনো বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে সেই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।'
তিনি বলেন, 'পেশাদারিত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি বহুমাত্রিক ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।'
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই সময় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রেখেছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বাহিনীটি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।'
তিনি বলেন, 'ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি,এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। আমি মনে করি, এই কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।'
পার্বত্য চট্টগ্রাম, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কলকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নিরাপত্তা প্রদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদক বিরোধী কার্যক্রমসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে আনসার ভিডিপির সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বাহিনী কেবল নিরাপত্তা রক্ষা নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।'
তিনি বলেন, ‘আনসার-ভিডিপি মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স জি ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। আমি মনে করি, এ ধরণের উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা দেশে বিদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে। '
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফাস্ট রেসপোন্ডার’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এই বাহিনীর সাহসিকতা, দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা দৃষ্টান্তমূলক। একইসঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যগণ টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যও প্রশংসনীয়। ৫ম,৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করে। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।'
ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে যেসব খেলোয়াড় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন, একটি বেতন কাঠামোর আওতায় এনে বর্তমান সরকার তাদেরকে স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে। আপনারা নিঃসন্দেহে জেনেছেন, আনসার ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকেও বর্তমান সরকার স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে। '
মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।'
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে একাডেমিতে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সদস্যদের তাঁত ও বুনন শিল্প, মৃৎ শিল্প, গবাদি পশু খামার, জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। সদস্যরা কিভাবে কাজ করছে সে সম্পর্কে তিনি অবহিত হন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতি মন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊধর্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬ তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন। তিনি শহীদদের স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন।
এর আগে সফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে ছয়জন প্রতিনিধিকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি– ১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে। ৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে। ৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে। ৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত না হয় বা মানসিক চাপে না পড়ে। এর আগে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করলেও সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলের দাবির তালিকায় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি রাখা হয়নি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ বিতরণ এবং ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত রয়েছেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ধারাবাহিকতায় আরও চারটি কারখানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সবুজ ভবন (গ্রিন বিল্ডিং) সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে দেশে সবুজ সনদপ্রাপ্ত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে ২৯০টিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এসব কারখানার মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম, ১৪৫টি গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার ও সার্টিফায়েড পর্যায়ের সনদধারী। পাশাপাশি বিশ্বের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০ সবুজ কারখানার তালিকায় বাংলাদেশের কারখানার সংখ্যা বেড়ে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন সনদ পাওয়া চারটি কারখানার মধ্যে দুটি প্লাটিনাম, একটি গোল্ড এবং একটি সিলভার মান অর্জন করেছে। নতুন প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর একটি হলো চট্টগ্রামের নর্থ নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার ক্যানভাস গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান ভবন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (Existing Buildings: Operations and Maintenance v4.1) মানদণ্ডে ৯০ নম্বর পেয়ে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। একই মানদণ্ডে গাজীপুরের চয়দানা এলাকার ম্যাট্রিক্স সোয়েটার্স লিমিটেড ৮৮ নম্বর পেয়ে প্লাটিনাম সনদ লাভ করেছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরের করিম টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৩ নম্বর পেয়ে গোল্ড সনদ এবং ঢাকার ধামরাইয়ের করিম টেক্স লিমিটেড ৫৩ নম্বর পেয়ে সিলভার সনদ অর্জন করেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাও ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বড় ব্র্যান্ডগুলো কারখানার জ্বালানি দক্ষতা, কার্বন নিঃসরণ কমানো, পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সবুজ বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের ফলে দেশের কারখানাগুলো ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, সবুজ সনদ শুধু পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের স্বীকৃতিই নয়, এটি আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা ও ক্রেতাদের আস্থাও বাড়ায়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বড় সুবিধা এনে দেয়। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সবুজ সনদপ্রাপ্ত তৈরি পোশাক কারখানা বাংলাদেশেই রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।