শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডের নাম ঘোষণা করে আইসিসি। এরপর থেকেই ক্রিকেট দুনিয়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যে রাজনীতিকে খেলা থেকে আলাদা করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার জন্টি রোডসের মত অবশ্য ভিন্ন। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর তিনি রাজনীতি আর খেলার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলেছেন। বিশ্বকাপের প্রচারণামূলক ইভেন্টে রোডস জানান, প্রশাসকরা প্রায়ই খেলা থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখার আশা করলেও এটা সবসময় সম্ভব না। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ যুগের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে তার মত- ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞা তাদের রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিল।
রোডস বললেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি, আপনি সবসময় ভাবেন যে, চলুন খেলাধুলা থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখি... কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আপনি রাজনীতিকে খেলাধুলা থেকে আলাদা করতে পারবেন না।’
বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে ম্যাচ না খেলার দাবিতে অনড় থাকার পর গতকাল শনিবার আইসিসি তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করছে না টাইগাররা। গুঞ্জল ছিল বাংলাদেশেল পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তানও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আজ ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে পিসিবি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মেয়েদের এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের ফাইনালে ভারতকে ১৩৪ রানেই থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে এদিন নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে এই স্কোর গড়ে ভারতের মেয়েরা। ব্যাংককে আজ রোববার (২২ফেব্রুয়ারি) টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক রাধা যাদব। দুই ওপেনার নন্দিনি কাশ্যপ ও দীনেশ বৃন্দা দিচ্ছিলেন ভালো শুরুর ইঙ্গিত। তবে দলীয় ৩০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙতেই খেই হারায় ভারত 'এ'। ফাতেমা জাহানের শিকার হয়ে দীনেশ বিদায় নেওয়ার ঠিক এক ওভার পর দলীয় ৩৩ রানে রানআউট হন নন্দিনী। ঠিক তার পরের বলে ফারজানা ইয়াসমিনের শিকারে পরিণত হন মিন্নু মানি, যিনি গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। ৩৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। বিপর্যয় সামাল দিতে গিয়ে ভারতের রানের গতিও শ্লথ হয়ে যায়। এতে চাপ ভর করে বসলে দলীয় ৪৪ রানে চতুর্থ উইকেটও হারিয়ে ফেলে। এবার বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৪ রান তুলতে সক্ষম হয় ভারতের মেয়েরা।
দুই বছর আগে হংকংয়ের মং ককে নারী রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। নারী রাইজিং স্টারসের প্রথম আসর ছিল সেটা। ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩১ রানে হারিয়ে রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছিল ভারত। দুই বছর পর দুই প্রতিবেশীর ‘এ’ দল পুনরায় মুখোমুখি হচ্ছে নারী রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের ফাইনালে। দুই বছর আগে লতা মণ্ডলের নেতৃত্বে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ। দুই বছর পর ফাহিমা খাতুনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কি ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিতে পারবে? পারবে কি চ্যাম্পিয়ন হতে? ফাহিমার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল খেলেছে। গ্রুপ পর্বে ফাহিমা বাহিনী ৪ রানে শ্রীলঙ্কাকে, ৩ উইকেটে থাইল্যান্ডকে এবং ৯০ রানে হারিয়েছে মালয়েশিয়াকে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। ১১০ রান করেও জিতেছে ৫৪ রানের বড় ব্যবধানে। ওই ম্যাচে দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স করেছেন নারী দলের অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন। লেগ স্পিন অলরাউন্ডার ফাহিমা প্রথম ব্যাটিংয়ে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরপর বল হাতে ৩ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিং করে ৬ রানের খরচে নেন ২ উইকেট। ম্যাচসেরা হন। প্রথম ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১০ রান করে। জবাবে সানজিদা আক্তার মেঘলা ও ফাহিমার ঘূর্ণিতে পাকিস্তান ‘এ’ ১৬.৪ ওভারে ৫৬ রানে অলআউট হয়। মেঘলা ৩ উইকেট নেন। ভারত ‘এ’ দল ফাইনালে উঠেছে অধিনায়ক রাধা যাদবের অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে। রাধার অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ৫ উইকেটে হারায়। প্রথম ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা ১১৮ রান করে। ১১৯ রানের টার্গেটে ভারত ৩৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে ভারত। রাধা প্রথমে বোলিংয়ে ১৯ রানে ৪ উইকেট ও ব্যাটিংয়ে ১৮ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। আসরে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছে। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত টানা চার ম্যাচ জিতে অপরাজিত রয়েছে ফাহিমা বাহিনী। ভারত গ্রুপ পর্বে হেরেছিল ৭ উইকেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে। আগামী জুনে ইংল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপ। বাছাইপর্ব টপকে বিশ্বকাপে চূড়ান্ত পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং চূড়ান্ত স্কোয়াড বাছাই করতেই জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারকে নিয়ে দল গঠন করে বিসিবি। অথচ অপরাপর দলগুলো তাদের স্কোয়াড গঠন করেছে জাতীয় দলের পাইপ লাইনে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে।
একদিন আগেই চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারা নিয়ে বড় খবর দেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ সালাহউদ্দিন। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে সরাসরি মিথ্যুক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বকাপ খেলতে না পারা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন বিসিবি পরিচালক ফারুক আহমেদও।অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ফারুক আহমেদ আরও বলেন, ক্রিকেটার অথবা বিসিবি কর্তাদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। ফারুক আহমেদ জানান, সরকার পরিবর্তন হলেও বোর্ডের পরিবর্তন হঠাৎ করে আসবে না। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি। বিসিবির এই পরিচালক আরও জানান, সাকিব আল হাসানকে ক্রিকেট বোর্ড সব সময় চায়। আগে বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব না হলেও এবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিসিবি সেভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশে ফিরে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা বেশি সাকিবের বলেও জানান তিনি। তবে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যদিও কাজটা দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা কম।’