বিশ্ব

নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলন

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মঙ্গলবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনীতিকরা অংশ নেন।

 

 

ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রম, আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে কূটনৈতিক সহকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে সার্জিও গোর লেখেন, ভারতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সব মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একসঙ্গে পেয়ে তিনি আনন্দিত। সার্জিও গোরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অধীনে থাকা ১১টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরা অংশ নেন। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান,  শ্রীলঙ্কা, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান।

 

 


সম্মেলনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেন। বিশেষ করে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সম্মেলনে যুক্ত হন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন।

 


রুবিও বলেন, ভারতে অনুষ্ঠিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি সম্মেলনের আয়োজনের জন্য সার্জিও গোরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১১ দেশে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। রুবিও আরো বলেন, এসব মার্কিন কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করছেন।

 

 

 
এর আগে সোমবার ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর সফর করেন সার্জিও গোর।

 

 

সেখানে তিনি শিখদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান স্বর্ণমন্দির পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘরও ঘুরে দেখেন। সফরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশ করে গোর বলেন, অমৃতসরে স্বর্ণমন্দির, জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘর পরিদর্শনের দিনটি তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকা সফরের অংশ হিসেবে তিনি অমৃতসরে যান। এর আগে গোর ভারতের শ্রীনগর ও লেহও সফর করেছেন।
ভারতের রাজস্থান সফরের সময় সার্জিও গোর দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’র দ্বিতীয় পর্বও তিনি দেখেন। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গোর জানান, সেখানে ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা একসঙ্গে এই মহড়ায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দুই দেশের সেনাদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতে দেখার জন্য তিনি আগ্রহী ছিলেন। পরে মহড়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে গোর বলেন, মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে মার্কিন ও ভারতীয় সেনাদের একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে দেখে তিনি সন্তুষ্ট।


 

 

 

তার ভাষ্য, এই মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব, পারস্পরিক আস্থা, প্রস্তুতি এবং একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাকে তুলে ধরে। মার্কিন ও ভারতীয় সেনারা যৌথভাবে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক ভারত সফরে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সামরিক কার্যক্রম পরিদর্শনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : রয়টার্স
রুশ বিমান হামলায় ইউক্রেনে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ৭

রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বুধবার ভোরে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো সাতজন। কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।   রয়টার্স জানায়, কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে হামলায় দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেছেন, হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যক্তিগত বাড়ি, একটি দোকান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।     রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, এলাকাটিতে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি শিশু নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় অবকাঠামো, বাড়িঘর, গুদাম ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রোমানিয়া ও পোল্যান্ড রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় সামরিক যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে।         প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে ব্যক্তিগত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অঞ্চলটি তেল উৎপাদন ও পরিশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে সড়কপথে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-তে এ তথ্য জানিয়েছেন।     রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রণালির মুখ থেকে সরে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: দাবি আইআরজিসির

সংগৃহীত ছবি

নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ছবি : সংগৃহীত

আকাশসীমা নিয়ে জটিলতা: রূপপুরের জ্বালানি ফ্লাইট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাখ্যা

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়াল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমানোর বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানোর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে।     বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়।       আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.১৪ ডলার বা ১.১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.৭৩ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯.৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।     এর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ায় আগের দিন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছিল। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে।     গত জুলাইয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে ব্রেন্টের সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধি।     এদিকে চলতি মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। এর আগে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়েছিল।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে তেলের দামে ফের ঊর্ধ্বগতি, ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার

ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র পাচারের চেষ্টার পর একটি ড্রোন জব্দ। ছবি : আইডিএফ

জর্ডান সীমান্ত থেকে অস্ত্রভর্তি ড্রোন জব্দ করল ইসরায়েলি বাহিনী

সংগৃহীত ছবি

ইরান ইস্যু নিয়ে আমিরাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর গোপন সফর

সংগৃহীত ছবি
মঙ্গল গ্রহে নাসার কিউরিওসিটি রোভারে অদ্ভুত ছোট গর্তের সন্ধান

মঙ্গল গ্রহে ছোট ছোট গর্তের এক অদ্ভুত বিন্যাসের সন্ধান পেয়েছে নাসার কিউরিওসিটি রোভার। প্রথম দেখায় গর্তগুলোকে অনেকটা পায়ের ছাপের মতো মনে হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, লাল গ্রহের পৃষ্ঠে হেঁটে যাওয়া কোনো প্রাণী বা বস্তুর কারণে এগুলো তৈরি হয়নি।       কিউরিওসিটি যখন মঙ্গলের মাউন্ট শার্প পর্বত এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছিল, তখন এই অস্বাভাবিক গঠনগুলোর ছবি ধারণ করা হয়। মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মিটার উঁচু এই পর্বতটি দীর্ঘদিন ধরে কিউরিওসিটির অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। নতুন আবিষ্কৃত গর্তগুলোর প্রতিটির ব্যাস আনুমানিক ১ সেন্টিমিটার। উন্মুক্ত শিলাস্তরের ওপর এগুলো অগভীর খাঁজ বা অবনতির মতো দেখা যাচ্ছে।     বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠে ছোট গর্ত ও ক্ষতচিহ্ন নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এবার দেখা গঠনগুলো আলাদা করে নজর কেড়েছে। এর কারণ হলো, গর্তগুলোর আকৃতি অস্বাভাবিক এবং এগুলো তৈরি করতে পারে এমন কোনো বস্তু কী ছিল, তা গবেষকরা শনাক্ত করতে পারেননি।     নাসার মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার (MAHLI) কর্মসূচির উপপ্রধান তদন্তকারী মিশেল মিনিত্তি বলেন, কিউরিওসিটি এর আগে মঙ্গলে যে ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখেছে, নতুন গঠনগুলো তার সঙ্গে মেলে না।     মিনিত্তির ভাষায়, কিউরিওসিটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে ১৪ বছর কাটানোর পরও লাল গ্রহটি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে রোভারের অনুসন্ধানের দুটি এলাকাতেই এমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা আগে প্রায় কখনো দেখা যায়নি। এগুলো ছিল শিলাস্তরের ওপর ছড়িয়ে থাকা প্রশস্ত ও অগভীর গর্ত।     তিনি আরো বলেন, মঙ্গলে এ ধরনের গর্ত একেবারে অস্বাভাবিক নয়। কোনো শক্ত নডিউল বা ছোট পাথর আশপাশের শিলা থেকে ক্ষয় হয়ে বেরিয়ে গেলে সেখানে শূন্যস্থান তৈরি হয়, যা পরে গর্তের মতো দেখা যেতে পারে।     তবে এবার দেখা গর্তগুলো আগের বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রশস্ত ও অগভীর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব গর্তের সঙ্গে এমন কোনো দৃশ্যমান বস্তু পাওয়া যায়নি, যা আগে সেখানে ছিল বলে ধারণা করা যায়।     এ কারণে গর্তগুলো কোনো প্রাণী বা অন্য কোনো বস্তুর মঙ্গলের পৃষ্ঠে পা ফেলার প্রমাণ নয়। গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াই দায়ী। তবে ঠিক কিভাবে এসব গঠন তৈরি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।     মিনিত্তি বলেন, মাউন্ট শার্পের এই অংশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন গর্তগুলো একটি নতুন ধাঁধা তৈরি করেছে। তার মতে, ওই শিলাস্তরের নির্দিষ্ট অংশকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাপড়ায় এই নতুন ধাঁধাটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।       গর্তগুলোর আশপাশের শিলাও পরীক্ষা করেছে কিউরিওসিটি। সেখানে বিভিন্ন ধরনের গঠন ও স্তর লক্ষ্য করা গেছে। রোভারের যন্ত্রগুলো আশপাশের শিলাস্তরের তুলনায় বেশি শক্ত কিছু স্তরের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে। গবেষকদের ধারণা, শিলার রাসায়নিক গঠনের পার্থক্যের কারণে এসব শক্ত স্তর তৈরি হয়ে থাকতে পারে।     ২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার গ্রহটির অসংখ্য অস্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেছে। নতুন আবিষ্কারটি সেই দীর্ঘ তালিকায় আরও একটি সংযোজন।     কিউরিওসিটি এখন পর্যন্ত মঙ্গলে ৫ হাজারেরও বেশি দিন কাটিয়ে গ্রহটি অনুসন্ধান করেছে। এ সময়ে রোভারটি পৃথিবীতে ৭ লাখেরও বেশি ছবি পাঠিয়েছে।     কিউরিওসিটির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলো বিজ্ঞানীদের মাউন্ট শার্পের শিলা ও মঙ্গলের পৃষ্ঠ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বুঝতে সাহায্য করছে।     প্রথম দেখায় ছোট গঠনগুলোকে পায়ের ছাপের মতো মনে হলেও, সেখানে কোনো কিছু সত্যিই হেঁটে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে আবিষ্কারটি তাতে কোনো অংশে কম আকর্ষণীয় নয়। কারণ এসব ক্ষুদ্র গর্ত মঙ্গলের পৃষ্ঠকে আকৃতি দেওয়া ভূতাত্ত্বিক শক্তি ও প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

ইরাকে আমদানি করা পেট্রোল পাঠানো শুরু করেছে সিরিয়া

আকাশসীমার অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান, থমকে আছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন

গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করলেন নেতানিয়াহু: ইসরাইলি গণমাধ্যম

0 Comments