জাতীয়

বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনলাইনে আবেদন আহ্বান

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সরকারের বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড। 


এ লক্ষ্যে ১৬তম ব্যাচের বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্সের জন্য আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।


সম্প্রতি প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের কার্যালয়ের অধীন বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স পেতে আগ্রহী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। 

কোনো ধরনের সরাসরি বা ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের মাধ্যমে সেবা গ্রহণকারীদের হয়রানি কমানো এবং দ্রুততার সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন করতে হবে।


রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল নম্বরে প্রেরিত ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হবে। 


পরবর্তীতে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্সের আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।


লাইসেন্সের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 


এর মধ্যে রয়েছে বৈধ ট্রেড লাইসেন্সের অনুলিপি, ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) সনদের কপি, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের কপি, মালিক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন বৈদ্যুতিক সুপারভাইজারের সম্মতিপত্র। 


এ ছাড়া প্রয়োজনীয় পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।


আবেদনপত্র পূরণের সময় প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত সব তথ্য যথাযথভাবে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রদান করতে হবে। 


আবেদনকারীর ছবি, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।


আবেদনপত্রের তথ্য সঠিক বলে ঘোষণা দিয়ে তা সংরক্ষণ ও পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে হবে।


আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লাইসেন্স ফি বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক অথবা ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। 


ফি জমা দেওয়ার পর ট্রেজারি চালানের তথ্য ও স্ক্যান কপি অনলাইনে সংযুক্ত করতে হবে।


পাশাপাশি নির্ধারিত সেন্টার ফি মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে।


আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ফাইনাল সাবমিট’ করার আগে আবেদনপত্রের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। 


কারণ একবার ফাইনাল সাবমিট করা হলে পরবর্তীতে কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। 


সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর ড্যাশবোর্ডে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য এসএমএসের মাধ্যমেও জানানো হবে।

সাক্ষাৎকার বা পরীক্ষার সময় আবেদনকারীদের ট্রেড লাইসেন্স, বিআইএন, টিআইএন সনদ, সুপারভাইজার লাইসেন্স, ট্রেজারি চালানের মূল কপি এবং পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের রসিদসহ সকল মূল কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনভিত্তিক এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে। 


একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীরা দেশের যেকোনো স্থান থেকে সহজেই আবেদন করতে পারবেন।

সরকারের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সমুদ্রপথে ইতালির পথে অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রপথে ইতালিগামীদের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

২০২৬ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা যায়, ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশের মোট ১৪ হাজার ৬২৩ জন অভিবাসী দেশটির উপকূলে পৌঁছেছেন।    দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগমনকারীদের মধ্যে ৪ হাজার ৩১৪ জনই বাংলাদেশি, যা মোট অভিবাসীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।   বাংলাদেশিদের পর এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোমালিয়া, যেখান থেকে পৌঁছেছেন ১ হাজার ৭০২ জন। এছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে সুদান থেকে ১,৩৭১ জন, পাকিস্তান থেকে ১,১৮৫ জন, আলজেরিয়া থেকে ১,১০৬ জন এবং মিশর থেকে ৯৩৬ জন অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন।    তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে ইরিত্রিয়া, টিউনিশিয়া, মালি, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ইরান, দক্ষিণ সুদান ও গিনি। এর বাইরে পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা আরও ১ হাজার ১৬৩ জন বিভিন্ন দেশের নাগরিক এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছেন পাকিস্তানি নাগরিকেরা এবং অন্যান্য শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ।   তবে সামগ্রিক অভিবাসনের হারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে গত দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীর মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত যেখানে ৩১ হাজার ৪৩০ জন এবং ২০২৪ সালের একই সময়ে ২৬,৬৬৪ জন অভিবাসী ইতালিতে পৌঁছেছিলেন, সেখানে চলতি বছরের এই সংখ্যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কম।    মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের প্রতিটি মাসেই অভিবাসীদের আগমন আগের দুই বছরের তুলনায় কম ছিল। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে এই সাময়িক পরিসংখ্যানে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।   সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৭, ২০২৬

সংসদে প্রশাসন, বিচার ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরব সরকার-বিরোধী দল

এবার রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি- সংগৃহীত
প্রশাসনে ফ্যাসিবাদী সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখা নিয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগ বা অনিয়ম নজরে এলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা ও তথ্য তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের উদ্যোগে ছয়টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর আরও আটটি প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচারবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি। সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের একটি বড় চিত্রও তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের পদগুলোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের এক হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের দুই হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন দুই হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশে সময় কমে আসার তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় লেগেছিল ৩ বছর ৭ মাস। তবে ৪৫তম বিসিএসে তা কমে দাঁড়ায় ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিনে। ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয় ২ বছর ২ মাস ৯ দিনে এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীতে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের বলেও জানান তিনি। একই প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি জনবলসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন সাড়ে ৫ লাখের বেশি মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বাল্যবিবাহ ও নির্যাতনের উচ্চ ঝুঁকিতে পথশিশুরা: সমাজকল্যাণ সচিব

ছবি: সংগৃহীত

প্রশাসনে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
‘বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের সেরা দেখতে চাই’ — চিফ হুইপ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সংসদ হিসেবে দেখতে চান তিনি। এজন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (বামু) আয়োজিত ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর ব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।   চিফ হুইপ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর এবং গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   তিনি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকারি হিসাব, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটিগুলোর কার্যকর ভূমিকা আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।   অনুষ্ঠানের অন্য একটি অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে আলোচনা করেন। ব্রিফিংয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়, মৌলভীবাজারে যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

৯ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল, প্রস্তুতি সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরও জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

0 Comments