বিশ্ব

২০২৫ সালে ইসরায়েলের হামলায় ৫৬% বেসামরিক মৃত্যু হয়েছে

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত


২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক মৃত্যুর একটি বড় অংশ ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ঘটেছে। ‘এক্সপ্লোসিভ উইপনস মনিটর’ নামের সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে ৬৫টি দেশে মোট ২২ হাজার ৬০০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলি অভিযানকে দায়ী করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে। কিছু এলাকায় যুদ্ধবিরতি থাকায় এই কমতি দেখা গেছে। তবে সংস্থাটি বলছে, মোট সংখ্যা এখনো খুবই বেশি এবং উদ্বেগজনক।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমান থেকে নিক্ষেপ করা অস্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ ও সাধারণ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ইরান, ইরাক, লেবানন, মিয়ানমার, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইয়েমেন।

 

এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হামলা করেছে বিভিন্ন দেশের সরকারি সেনাবাহিনী। পাশাপাশি কিছু হামলা করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। স্কুল, হাসপাতাল এবং মানবিক সহায়তা কেন্দ্রেও বহু হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে। সূত্র : শাফাক নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হলে লেবাননেও সংঘাত কমতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত কমাতে পারে। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, আলোচনা এখন অগ্রগতির পর্যায়ে রয়েছে এবং চুক্তি হলে বিভিন্ন ফ্রন্টে সহিংসতা কমে যেতে পারে।   ইসরায়েলের চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে প্রস্তাবিত চুক্তিটি খুবই ভালো এবং এখন যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননে অভিযান কিছুটা কমাতে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সম্ভাব্য চুক্তি বাধাগ্রস্ত না হয়।   এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চূড়ান্ত খসড়া চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং এটি এখন বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, আলোচনার অগ্রগতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আগে কখনো হয়নি এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে। তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কোনো পক্ষই চুক্তির পূর্ণ লেখা প্রকাশ করেনি। সূত্র : শাফাক নিউজ

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

২০২৫ সালে ইসরায়েলের হামলায় ৫৬% বেসামরিক মৃত্যু হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

১৩ হাজার সন্ত্রাসী নিহত, এক বছরে বড় সাফল্যের দাবি নাইজেরিয়ার

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের গুঞ্জন, মুখ খুলল আমিরাত

ছবি : সংগৃহীত
হরমুজে ইরানের সব ড্রোন ভূপাতিতের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (কামিকাজে ড্রোন) পাঠিয়েছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের বাহিনী কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সব ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। খবর আলজাজিরার।   সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানায়, ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য হুমকি ছিল। তবে মার্কিন বাহিনীর পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুট এখনো খোলা আছে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যে কোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে।   সাম্প্রতিক ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ আশাবাদী মন্তব্য করছে। তবে ড্রোন হামলার এই অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা, চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিশ্বকাপ ক্যাম্পের কাছে গাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ায় এক বছরের ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী নিহত: প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত
কী আছে ইরান চুক্তিতে, যা সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) শিগগিরই সই হতে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন, তার আওতায় কোনও ধরনের শুল্ক ছাড়াই অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলার ওপর ভিত্তি করে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই দেওয়া হবে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের একজন কূটনীতিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।   কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ   এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বৃদ্ধি পাবে। এই ৬০ দিন মেয়াদের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। খসড়া চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত মোকাবিলার একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যেকোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ মূলত পরবর্তী সময়ে হতে যাওয়া দ্বিতীয় এবং আরও বিস্তারিত একটি চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।   বর্তমান পরিস্থিতি ও খসড়া চূড়ান্তের দাবি   চুক্তির সর্বশেষ খসড়া বুঝিয়ে দেওয়া মধ্যস্থতাকারী দেশের ওই কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খসড়া নিয়ে একমত হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেছেন যে চুক্তিটিতে এখনও চূড়ান্ত স্বাক্ষরের প্রয়োজন রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খসড়া চুক্তিটি ইরানের উচ্চপর্যায়ে অনুমোদিত হলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত এখনও এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি চলতি সপ্তাহের শেষেই একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আশা করছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তেহরান ‘এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি’।   গত দুই মাসে হোয়াইট হাউজ বেশ কয়েকবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করলেও প্রতিবারই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। তবে এবার এই খসড়াটি টিকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ওই কূটনীতিক।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর চারটি সি-১৭ বিমান গত বৃহস্পতিবার ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে জেনেভায় সম্ভাব্য চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফরের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে এই বিমানগুলো মূলত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে গেছে।   নেপথ্যের আলোচনা ও অন্ধকারে নেতানিয়াহু   দুই মধ্যস্থতাকারী দেশের দুজন কূটনীতিক এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারী আলী আল-থাওয়াদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর বুধবার রাতে এই সাময়িক চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। বৈঠক চলাকালীন আল-থাওয়াদি বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।   চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় বিস্ময় হিসেবে এসেছে। এই বিষয়ে সরাসরি অবগত একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নেতানিয়াহু এই আলোচনার বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছে ফোনও করেছিলেন।   চুক্তির মূল শর্তাবলি   এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে ইরান নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবে। যার মধ্যে প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে যে অচলাবস্থা রয়েছে সেটির সমাধান করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তত্ত্বাবধানে ইরানের অভ্যন্তরেই তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে আনা এই সমস্যা সমাধানের একটি অন্যতম বিকল্প হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী যেকোনও পদক্ষেপ কেবল দ্বিতীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার পরই কার্যকর হবে। এই সমঝোতা স্মারকের চেয়েও দ্বিতীয় চুক্তিটির কারিগরি দিকগুলো অনেক বেশি জটিল হওয়ায় এটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   অবশ্য কূটনীতিকের দাবি, এই সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক বিষয়ের সব খুঁটিনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে।   হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার   সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, কোনও টোল ছাড়াই অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের মতো জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক সংখ্যায় ফিরে যাওয়া হবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।   মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর ইরানকে ৬০ দিনের জন্য তেল বিক্রির সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা দেওয়া হবে। এর ফলে তেহরান অত্যন্ত জরুরি ও মূল্যবান রাজস্ব আয়ের সুযোগ পাবে। ইরান যদি প্রাথমিক চুক্তি মেনে চলে এবং পরবর্তী আলোচনাগুলোতে ‘সদ্ব্যবহার’ দেখায়, তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা আরও বাড়বে।   কূটনীতিক বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, এটি পুরোপুরি চুক্তির বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত থাকবে।   অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে ধোঁয়াশা   বিদেশের মাটিতে আটকে থাকা ইরানের শত কোটি মার্কিন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়ে এই খসড়ায় কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছে যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তাদের কিছু অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ছাড়তে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চুক্তি মানার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে এই অর্থ অবমুক্ত করা হবে।   প্রশাসনের বাইরের একটি মার্কিন সূত্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে যে অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়টি হয়তো কোনও গোপন পার্শ্ব-চুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা হতে পারে। তবে সম্প্রতি এক মার্কিন কর্মকর্তা এই ধরনের সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেছেন।   এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিটি যদি শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষ সই করতে রাজি হয়, তবে একে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হবে।   মধ্যস্থতাকারী দেশের ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা পক্ষগুলোর সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি এবং স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করছি।’   সূত্র: অ্যাক্সিওস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুবাই বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত স্যুটকেস থেকে ২২৩ জীবন্ত প্রাণী উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে ইতোমধ্যে বিএসএফকে ১০০ কিমি জমি দেয়া হয়েছে: শুভেন্দু

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

0 Comments