বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন চার ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ আলোচনা শুধু বগুড়ায় নয়- পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি ও মোকামতলা উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানা গেছে- শিবগঞ্জ উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয়েছে- ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। আর নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠিত নতুন তিনটি ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয়েছে- ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’।
এদিকে প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার পৈতৃক বাড়ি ‘মীরবাড়ীর’ নামে শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন। এছাড়া তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ ও ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। আবার অনেকে অভিযোগ করেছেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মেয়েকে পরিবারে স্বর্ণ বলে ডাকা হয়। তাই মেয়ের নামানুসারে মোকামতলায় ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন করা হয়েছে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, গত ৩ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার এক সভায় বিএনপির এক নেতা ইউনিয়নগুলোর নামকরণের বিষয়ে প্রস্তাব করলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক ১১ জুন ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ এবং ১৪ জুন ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’ নামে গেজেট জারি করেন।
তবে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠনে গণশুনানি টিমের প্রধান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তারা এলাকাগুলোতে নিরপেক্ষভাবে গণশুনানি করেছেন। শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা কে কোন দল করেন তা বিবেচনা করা হয়নি। এছাড়া ইউনিয়নের নামকরণের ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রভাব ছিল না।
প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি মীরবাড়ীর নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকায় মীরবাড়ী নামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর নামানুসারে ‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব পেয়েছিলেন।
গণশুনানিতে কে এসব নামকরণের প্রস্তাব করেছেন? সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ দিতে রাজি হননি।
শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমান বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর ছেলে ও বাড়ির নামে ইউনিয়ন পরিষদ করায় এলাকার মানুষ খুশিই হয়েছেন। ছেলের বা বাড়ির নামে ইউনিয়নের নাম করায় দোষের কিছু নয়, বরং ভালো হয়েছে।’
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম মানিক জানান, ওই চার ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব তিনিসহ আরও অনেকে করেছেন। সেখানে কারো নামের সঙ্গে করা হয়নি; এলাকার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এসব নামকরণের প্রস্তাবনা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ডিও লেটার পাওয়ার পর শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে চারটি নতুন ইউনিয়নে গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিয়নগুলোর নামকরণের আগে এলাকাবাসীর মতামত গ্রহণের জন্য গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি বিধিমোতাবেক গণশুনানি করে। সেখানে মোকামতলা উপজেলায় দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে দুটি ইউনিয়ন করা হয়েছে। এ কারণে দেউলী নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া সৈয়দপুর ইউনিয়ন পার্শ্ববর্তী সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় এ ইউনিয়ন ভেঙে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ নামকরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুনানি অনুসারে নিয়ম মেনে ‘‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেন, চারটি ইউনিয়ন নামকরণের ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রীর কোনো প্রভাব বা নির্দেশনা ছিল না।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, নতুন ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব এসেছে উপজেলা প্রশাসন থেকে। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি ও মোকামতলা উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা তার বংশের নামানুসারে নতুন ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব উপজেলা প্রশাসন থেকে এলে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো কিছু করার নেই।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের নামকরণের ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব ছিল কিনা তা জানা নেই। তবে উপজেলার চিঠির আলোকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জনগণের গণশুনানি ও মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা এবং জেলা প্রশাসন যথাযথ আইন মেনে শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি ও মোকামতলা উপজেলায় তিনটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করেছে।
তিনি বলেন, তার দুই ছেলের নাম মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। কেউ কেউ তার ছেলেদের নামের সঙ্গে নতুন ইউনিয়নের নামকরণের সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করছেন। এটা মোটও সঠিক নয় এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। এ ব্যাপারে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। আর তিনি এসব প্রশ্নের উত্তর সংসদে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম জেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিলা করা হয়েছে। আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে চাওয়া হয়েছে ১০টি স্পিডবোট। আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ৮ হাজার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়েন। উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে। স্পিডবোট পাওয়া গেলে পানিবন্দী মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যাবে এবং উদ্ধারকাজ আরও কার্যকর হবে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সরকারের কথা ছিল শিক্ষিত বেকার যুবকদের হাতে চাকরি দেওয়ার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, চাকরির পরিবর্তে মাদক ও জুয়া উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে, দোকানে দোকানে অনলাইন জুয়া ও মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ফেনীর সোনাগাজী পৌর চত্বরে গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যে চাকরির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সূচিত হয়েছিল, আমার সেই বেকার ভাইদের কর্মসংস্থান এখনো নিশ্চিত করতে পারিনি। নতুন সার্কুলার দেওয়া হচ্ছে না। দলীয় বিবেচনায় চাকরি দেওয়া হবে বলে এই সার্কুলারগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। কিন্তু গত ছয় মাসে এক কোটি দূরে থাক, ১০ লাখ দূরে থাক, একটি কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে পারেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা মাদকের সবচেয়ে বড় হাব। তার নিজের এলাকা মাদক সিন্ডিকেটের উর্বর ক্ষেত্র। পাছে লোকে বলে, মাদকের সঙ্গে তার কোনো ধরনের প্রশ্রয় আছে কি না-এটি আমাদের ভেবে দেখা উচিত। প্রত্যেক সমাজে, ঘরে ঘরে যেভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে কোনো সুস্থ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা আগে বলতেন ঈদের পর আন্দোলন। কিন্তু কোন ঈদের পর, সেই ঈদ বাংলার জনগণ আর দেখতে পায়নি। বাংলার ছাত্রসমাজ ও জনগণ ঈদের পরের আন্দোলনের জন্য বসে থাকেনি। তারা নিজেরাই রাস্তায় নেমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ঈদের পর বিশেষ অভিযান হবে। কিন্তু কোন ঈদের পর, সেটি তিনি বলেননি। রোজার ঈদ, কোরবানির ঈদ গেলেও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান দেখা যায়নি। কোন ঈদের পরে, তা স্পষ্ট না করলে ২৪-এর মতো দেশের ছাত্র-জনতা আবারও রাস্তায় নেমে আসবে, বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এনসিপির এই নেতা বলেন, অনেকে বলে আগে আমরা রিকশায় চলতাম, এখন গাড়িতে চলি। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গেছে, তারা আগে রিকশা চালাত, এখন প্রাডো গাড়ি চালায়। নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত, তারা যখন ধানক্ষেতে ঘুমাতো, ঢাকায় রিকশা চালাতো-এই কয়েক বছরের মধ্যে কীভাবে তারা নিজের গাড়ি কিনেছে। চাঁদাবাজি-দুর্নীতির পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মামলা বাণিজ্য, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি ও বালুমহাল দখল-বাণিজ্য করে যে অর্থ তারা আয় করেছে, তা নিয়ে নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত। আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পাশাপাশি চাঁদাবাজ-দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদেরও পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলো- এসব কেবল হাতবদল হয়েছে। সোনাগাজীতে আগে একটি পক্ষ বালুর ব্যবসা করতো, এখন সেটি আরেকটি পক্ষ করছে। আগে একটি পক্ষ মামলা বাণিজ্য করেছে, এখন আরেকটি পক্ষ করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল। আমরা সেই প্রোপাগান্ডা বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুতের পরিবর্তে জনগণের হাতে হারিকেন ও মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছে। আগে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ যেত, এখন মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ আসে। সংসদে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ নাকি যায় না, সবসময় থাকে। মাননীয় মন্ত্রী, জনগণের কাছে আসুন। এসি রুমে বসে, এসি গাড়িতে চলে, এসি বাসায় থেকে জনগণের কষ্ট বোঝা যায় না। আপনার বাসা, সংসদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে বিদ্যুৎ যায় না। কিন্তু বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যায়। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ফেনীর ত্রাণ চুরির অভিযোগও আমাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়। মসজিদের জন্য টাকা তুললে সেটি কি নিজে রড-সিমেন্ট কিনে খরচ করে, নাকি মসজিদ কমিটির সভাপতির কাছে দেওয়া হয়? ঠিক একইভাবে বন্যার সময় সারা দেশ থেকে মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ১২ কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছে। আমরা টাকা উঠালেও লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল না। আমরা এই টাকা কয়জনকেই বা দিতাম? যদি তখন কাউকে এ টাকা দিতাম, তাহলে স্বজনপ্রীতি ও টাকা খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠত। এজন্য এ টাকা আমরা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু যাদের চোখ ও মনে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে, যারা অশিক্ষিত, তারা এ হিসাব দেখবে না। কিন্তু যাদের মেধা আছে, জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, শিক্ষিত-তারা ঠিকই জানেন, এ বন্যার টাকার এক টাকা পর্যন্ত হিসাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আপনারা বলতেন, আমাদের সরকার আমাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করবে না। কিন্তু এখন সরকার, পুলিশ, ডিজিএফআই, দুর্নীতি দমন কমিশন-সবই তো আমাদের? তাহলে কেন তদন্ত করছেন না? সবসময় বলে আসছি, আমাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি থাকলে প্রমাণসাপেক্ষে হাজির করুন। এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণও আপনারা করতে পারবেন না। এ সময় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, দলের ঘোষিত সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন প্রমুখ। এনসিপির ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন। এর আগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’-এ অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এর মাধ্যমে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচির সূচনা হয়। কর্মসূচি শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ দুইজনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের পর হানিমুনকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেকেই বেছে নেন বিলাসবহুল হোটেল বা মনোরম পর্যটনকেন্দ্র। তবে ভারতের মহারাষ্ট্রের জালনার এক নবদম্পতি সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে চেন্নাইগামী একটি ট্রেনের ফার্স্ট এসি কেবিনকেই হানিমুন স্যুটে রূপ দিয়েছেন। তাদের সেই ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সাজসজ্জা প্রতিষ্ঠান ‘রাহাত রুম ডেকোরেশন’ আগে থেকেই বুক করা কেবিনটি সাজিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের করিডোর পেরিয়ে কেবিনের প্রবেশপথে গোলাপি রঙের পুঁতির পর্দা এবং হৃদয় আকৃতির সাজসজ্জা। ভেতরে লাল ও সাদা বেলুনে ঢাকা ছাদ, মেঝেজুড়ে গোলাপের পাপড়ি এবং গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধার ফুল দিয়ে সাজানো দেয়াল ও জানালা। দেয়ালে লেখা ছিল ‘আই লাভ ইউ’। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই এই অভিনব আয়োজনের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, বিশেষ মুহূর্ত উদযাপনের এটি একটি ভিন্নধর্মী ও স্মরণীয় উপায়। তবে অন্যদিকে, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন রেলের কামরা এভাবে সাজানোর অনুমতি ছিল কি না। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং বেলুন, কাগজ ও ফুলের মতো সাজসজ্জার উপকরণ আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মজা করে এই কেবিনের নাম দিয়েছেন ‘সুহাগরাত এক্সপ্রেস’ বা ‘হানিমুন অন হুইলস’। এ নিয়ে বিভিন্ন মিম ও রসিকতাও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়নি। তাদের ভাষ্য, নবদম্পতি ফার্স্ট এসি কেবিনের দুটি বার্থই বুক করেছিলেন। ফলে কেবিনটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। সাজসজ্জার কারণে রেলের সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং ট্রেন পরিচালনায়ও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। এ ধরনের আয়োজন নিষিদ্ধ করার মতো নির্দিষ্ট কোনো বিধানও নেই। ‘রাহাত রুম ডেকোরেশন’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জালনার এক দম্পতির অনুরোধে কেবিনটি সাজানো হয়েছিল। তারা গাড়িতে ঔরঙ্গাবাদ থেকে জালনা স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই তাদের দল ট্রেনের কেবিনটি প্রস্তুত করে রাখে। নিরাপত্তার স্বার্থে নবদম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।