অন্যান্য

অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে পাবনার দুটি আসন বাদে ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৭। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন থেকে এই তথ্য জানানো হয়।


নির্বাচন কমিশন আরো জানায়, মোট দুই হাজার ৫৮৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রিটার্নিং অফিসারদের বাছাইয়ে ৭২৬ জন বাদ পড়লে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৮৫৮।

বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৩৯ জন নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান ৪৩১ জন। গতকাল শেষ সময় পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন ৩০৫ জন।
জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি আনুগত্য ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে গতকাল শেষ দিনে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন। এই আসনে প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রিটার্নিং অফিসারের বাছাইয়ে ব্যারিস্টার সরওয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। পরে তিনি আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান। ব্যারিস্টার সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করি। দীর্ঘদিন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করেছি। এমনকি কারাবরণও করেছি। তাই চেয়ারম্যানের সম্মানে এবং তাঁর সমর্থনে আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।’ দলীয় প্রধান তারেক রহমান এই আসনে লড়ছেন, একজন দলীয় সদস্য হিসেবে তাঁকে সহযোগিতা করা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। গত সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের সম্মেলনকক্ষে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘দলের প্রতি অনুগত্য এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রেখে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’ আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন সাবেক সচিব আব্দুল বারী।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মর্তুজা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা কালেক্টরেট হলরুমে রিটার্নিং অফিসারকে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চিঠি দেন। এ সময় তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বেচ্ছায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন কৃষক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছির উদ্দীন হাজারী। দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান ও দলীয় প্রার্থী বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক এমপি ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমানকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে নাছির উদ্দীন হাজারী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করি।’
নাটোর-২ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির বিকল্প স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। এই আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী রয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন গতকাল শেষ দিনেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গত ১৭ জানুয়ারি নুরকে অসহযোগিতার কারণে পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির বিদ্রোহীদের মধ্যে আরো যাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, গাজীপুর-২ থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন সরকার।

বিএনপি বিদ্রোহীদের মধ্যে শেরপুর-১ আসনে সফিকুল ইসলাম, শেরপুর-৩ আসনে আমিনুল ইসলামও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এই প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ৫০টি আসনে ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আছেন। দলীয় টিকিট না পেয়ে অনেক সাবেক ও বর্তমান স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় ইউনিটগুলোতে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বৈধ রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আজ প্রতীক বরাদ্দ করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র কতজন বৈধ প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেনি ইসি।
গতকাল মঙ্গলবার ছিল সারা দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র অসংখ্য প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে ২৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ৫০টির মতো সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। শেষ দিন তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

ময়মনসিংহের মোট ১১টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। আসনগুলো হলো ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট), ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর), ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও), ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)। নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বহাল রয়েছেন।

এ ছাড়া আরো যাঁরা দলের অনুরোধেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী-৪, রাজবাড়ী-২, গোপালগঞ্জ-১ ও ২, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-২, টাঙ্গাইল-১, ৩, ৪ ও ৫, শেরপুর-১ ও ৩ আসনের একাধিক নেতা। নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বহাল রয়েছেন।


বিএনপি জোটের প্রার্থীশূন্য দুটি আসন :

এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসন নিজেদের রেখে বাকি আটটি আসনে শরিক দলগুলোকে ছাড় দেয়। বিভিন্ন জটিলতায় দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় ধানের শীষ প্রতীক থাকছে ২৯০টি আসনে।


জামায়াত প্রার্থীকে প্রত্যাহারে বাধা :

গতকাল তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাধার মুখে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি। অবরোধ ও চাপের কারণে শেষ সময় পর্যন্ত তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা রেখেছেন।


জামায়াত জোটে প্রার্থী সংকট নেই :

১০ দলীয় জোটের সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াতসহ শরিক দলগুলো ৩০২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তিনটি আসন উন্মুক্ত থাকছে। বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত জোট ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে এনসিপি। ছবি : সংগৃহীত
এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহারে কী আছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক রূপরেখা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ৩৬ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম প্রধান শরিক দলটি তাদের এই ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের ‘লা ভিতা’ হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহারটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, মানবাধিকার, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, পরিবেশ, কৃষি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এনসিপির ঘোষিত ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার— ১. জুলাই সনদের আইন ও আদেশনির্ভর দফা বাস্তবায়নে সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো নির্ধারণে স্বাধীন কমিশন গঠন। ২. জুলাই গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন। ৩. সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও বৈষম্য প্রতিরোধে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ সেল গঠন। ৪. মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আয়-সম্পদের হিসাব ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে প্রকাশ ও হালনাগাদ। ৫. পারফরম্যান্সভিত্তিক পদোন্নতি, ল্যাটেরাল এন্ট্রি বৃদ্ধি এবং তিন বছর পরপর পে-স্কেল হালনাগাদ। ৬. এনআইডি কার্ডকে সব সেবার একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার। ৭. ঘণ্টায় ১০০ টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা বিমা। ৮. টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড নিবন্ধিত মুদি দোকানে ব্যবহারযোগ্য করা। ৯. সুনির্দিষ্ট বাড়িভাড়া কাঠামো ও সামাজিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন। ১০. গরিব ও মধ্যবিত্তের করের বোঝা কমিয়ে কর-জিডিপি ১২%-এ উন্নীত করা। ১১. LDC উত্তরণে আগাম FTA-CEPA, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। ১২. চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও হটলাইন চালু। ১৩. মুদ্রাস্ফীতি ৬%-এ নামানো ও আর্থিক শিক্ষার প্রসার। ১৪. ভোটাধিকার বয়স ১৬ বছর নির্ধারণ এবং Youth Civic Council গঠন। ১৫. পাঁচ বছরে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ১৬. বছরে ১৫ লাখ দক্ষ ও নিরাপদ প্রবাসী কর্মী তৈরি। ১৭. শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন ও ৭৫% এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ। ১৮. স্নাতক পর্যায়ে ৬ মাসের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ বা গবেষণা। ১৯. রিভার্স ব্রেন ড্রেইনের উদ্যোগ ও ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার স্থাপন। ২০. উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন (SHZ) গঠন। ২১. জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স ও আধুনিক ইমার্জেন্সি বিভাগ। ২২. এনআইডি-ভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড ও ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্স। ২৩. নিম্নকক্ষে ১০০ নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন। ২৪. ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ও ১ মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক। ২৫. উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ। ২৬. প্রবাসীদের জন্য ‘ডায়াস্পোরা ডিজিটাল পোর্টাল’ চালু। ২৭. রেমিট্যান্সের বিপরীতে বিনিয়োগ, পেনশন ও RemitMiles সুবিধা। ২৮. প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক অধিকার নিশ্চিত। ২৯. ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা। ৩০. দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। ৩১. সব শিল্পকারখানায় ETP বাধ্যতামূলক ও পরিবেশ সুরক্ষা। ৩২. কৃষকদের জন্য এনআইডি-ভিত্তিক সরাসরি ভর্তুকি। ৩৩. দেশীয় বীজ গবেষণা ও খাদ্যে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণ। ৩৪. সীমান্ত হত্যা ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যায় কঠোর কূটনীতি। ৩৫. রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান ও আসিয়ানমুখী কূটনীতি। ৩৬. শক্তিশালী রিজার্ভ ফোর্স, UAV ব্রিগেড ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শীত নিয়ে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

ছবি : সংগৃহীত

দেশ কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণ করবে এই নির্বাচন: তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত
শেষ সময়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ সরানোর সুযোগ নেই

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য সাতটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও কারিগরি ও আইনগত জটিলতার কারণে সেসব আসনেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। শেষ সময়ে ব্যালট পেপার থেকে দলটির নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করা হলেও কমিশন তা নাকচ করে দিয়েছে। ফলে জোটের শরিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এক চিঠির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম মিয়া পরওয়ারকে কমিশনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। চিঠিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রথমে নরসিংদী-২ আসনে আমজাদ হোসাইনকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. আবু নাসেরকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে নরসিংদী-২ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ারকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপির মনোনীত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই দুই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারায় ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। অন্য এক চিঠিতে জামায়াত জানায়, দলটির পক্ষ থেকে ভোলা-২ আসনে মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে, নরসিংদী-৩ আসনে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে তোফায়েল আহমদকে এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ ফরিদুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার ভিত্তিতে ভোলা-২ আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরীকে, নরসিংদী-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) মনোনীত প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি বিকেএম মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহানকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোজাম্মেল হক তালুকদারকে এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনটি এলডিপি মনোনীত প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এসব আসনের জামায়াত মনোনীত পাঁচজন প্রার্থীও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। এ কারণে ওই পাঁচটি আসনের ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। জামায়াতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ১৬(২) উল্লেখ করে জানায়, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত নোটিশের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করতে হয়। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রার্থিতা বা প্রতীক প্রত্যাহারের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এ অবস্থায় ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার সুযোগ না থাকার বিষয়টি দলটিকে অবহিত করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া সাতটি আসনেও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতের মহিলা সমাবেশ স্থগিত

ছবি : সংগৃহীত

জামায়াত নেতা নিহত, প্রতিক্রিয়া জানালেন চরমোনাই পীর

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীর জনসভায় মঞ্চে তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন কয়টা কলা খাওয়া উচিত?

কলা একটি সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং শক্তির প্রাকৃতিক উৎস। বছরের বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ফলের দাম উর্ধ্বগতি দেখালেও কলা তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং সহজে পাওয়া যায়। দ্রুত শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি হজম উন্নত করতে চাইলে এটি সেরা ফলের মধ্যে একটি। কলা একটি পুষ্টিকর এবং শক্তি বৃদ্ধি করে এমন ফল। এটি আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং জটিল স্টার্চ সরবরাহ করে, যা দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। হজমের জন্যও কলা উপকারী, কারণ এতে থাকা ফাইবার, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ অন্ত্রের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য খনিজও থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক, তবে প্রাকৃতিকভাবে এতে চর্বি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ খুব কম। প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া উচিত? সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে দুইটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী। শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা দিনে দুই কলা খেতে পারেন যাতে শক্তি পুনরায় ভরাট হয়। তবে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী কলার পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত। কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং উচ্চ পটাসিয়াম কিডনির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।   প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা কলায় থাকা ফাইবার এবং পেকটিন অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা কমায়। এই ফল শারীরিক পরিশ্রমের সময় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। কলায় থাকা পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ভিটামিন বি৬ শরীরে সেরোটোনিন এবং ডোপামিন উৎপাদন উদ্দীপিত করে, যা মনের ভালো লাগার অনুভূতি বাড়ায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

দুটি আসনে দলীয় প্রতীক না চেয়ে সিইসির কাছে জামায়াতের আবেদন

ছবি : সংগৃহীত

আজ তিন দিনের নির্বাচনী সফরে উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

0 Comments