সর্বশেষ

অবৈধ কর্মকাণ্ড বা নাশকতায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১০, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত ব্লকেড কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ১১ নভেম্বর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। এই দুই দিন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

 

পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ কর্মকাণ্ড, নাশকতা বা সংঘর্ষের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। ইতোমধ্যে বাড়তি নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি টিম শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আট বিভাগের ১৪২টি পয়েন্টকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের ডিসির তত্ত্বাবধানে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রমনায় সর্বোচ্চ ৩৪টি, মিরপুরে ১৪টি, ওয়ারীতে ১৬টি, মতিঝিলে ১৭টি, লালবাগে ১৫টি, উত্তরায় ১৬টি, গুলশানে ১৪টি এবং তেজগাঁওয়ে ১৬টি স্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অরাজকতা প্রতিরোধে পুলিশ সবসময় প্রস্তুত। লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ৮ বিভাগের ১৪২টি স্পটে অনগার্ড মোবিলাইজেশন ড্রিল পরিচালনা করেছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ ভবন, বঙ্গভবন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে মহড়া সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীতে কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও মশাল মিছিলের ঘটনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। শনিবার সকালে ডিএমপির সব জোনের ডিসি ও থানার ওসিদের সঙ্গে একাধিক সভায় ঢাকায় প্রবেশ মুখগুলোয় চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের আগে ১১ নভেম্বর জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল রাজধানীতে সমাবেশ করবে। কোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগাম তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, কারণ সেখানে প্রচুর ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রাজনৈতিক কার্যালয় ও কৌশলগত মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন। শনিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান, যাতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কাজ চলছে।

অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে বড় কোনো সহিংসতার নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বেড়েছে। এসব তথ্য গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সারা দেশে চেকপোস্ট, তল্লাশি ও অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবি না মানলে ১১ নভেম্বর কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবে আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দল। ফলে ঐ সমাবেশকে কেন্দ্র করেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকায় প্রবেশপথ, হোটেল, মেস ও বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোয় বিশেষ তল্লাশি শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, ওপেন সোর্স থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী র‌্যাবের গোয়েন্দা ও সাইবার মনিটরিং টিম সক্রিয় রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো আশঙ্কা না থাকলেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট স্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ঈদযাত্রায় ঝুঁকি নিয়েই খোলা ট্রাক-পিকআপে বাড়ি ফিরছেন নিম্নআয়ের মানুষ

ঈদ সামনে রেখে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে রাজধানী ছাড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও পোশাক শ্রমিকরা। তবে বাড়তি ভাড়ার চাপে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করেই গ্রামের পথে রওনা দিচ্ছেন।   বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। নবীনগরগামী লেনে খোলা ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন অসংখ্য মানুষ।   রিতা আক্তার নামের এক পোশাক শ্রমিক জানান, স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে হয় তাকে। বাসের ভাড়া বেশি হওয়ায় কম খরচে ট্রাকে করেই রংপুরে যাচ্ছেন তিনি, যাতে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন।   একই ট্রাকে থাকা আলম হোসেন বলেন, বাসে ভাড়া প্রায় ১৪০০ টাকা, যা তার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে ৪০০ টাকায় ট্রাকে করেই গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন।   অন্যদিকে ফরিদুল ইসলাম নামের আরেক শ্রমিক জানান, তিনি পিকআপ ভ্যানে করে গাইবান্ধায় যাচ্ছেন। তার পরিবার গ্রামে থাকায় ঈদে তাদের কাছে ফিরতেই এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নিতে হয়েছে।   যাত্রীরা স্বীকার করছেন, এ ধরনের যাত্রায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তাদের মতে, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর আনন্দই বড়—সাময়িক কষ্ট বা ঝুঁকিকে তারা সেভাবেই মেনে নিচ্ছেন।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা: ৯ বগি লাইনচ্যুত, আহত শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

চন্দ্রায় যানবাহনের চাপ, ৮ কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতি—ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি : সংগৃহীত
সেই চা বিক্রেতা নানি-নাতনির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

রাজধানী ঢাকার বাংলা কলেজের পাশে ভাসমান চা বিক্রেতা ৬ বছরের শিশু ফাতেমা ও তার নানির জন্য ‘ঈদ উপহার’ পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (১৭ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর তালতলা এলাকায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র নেতৃবৃন্দ এই উপহার নিয়ে যান। এসময় সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও ফরহাদ আলী সজীব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র প্রতিনিধি দলটি শিশু ফাতেমার জন্যে নতুন জামা, জুতা, কসমেটিক্সসহ এবং তার নানীর জন্যে শাড়ি ও ‘ঈদের উপহার’ হস্তান্তর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ‘ঈদ শুভেচ্ছা’ পৌঁছে দেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বাংলা কলেজের সামনে ভাসমান চা দোকানে ফাতেমা তার নানিকে সহায়তার সময় রাস্তা পারাপারকালে আহত হয়। পরে ওই স্থানে ডিউটিরত অবস্থায় এক পুলিশ সার্জেন্ট শিশুটির চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃশ্যগোচর হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

চন্দ্রা টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়, ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট

ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রীর স্বস্তির আশ্বাস, বাস্তবে ঈদযাত্রায় বাস-ট্রেনের চরম দুর্ভোগ

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের বেনারসি পল্লিতে অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
দূষণের তালিকায় লাহোর এগিয়ে, ঢাকার অবস্থা কী

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বায়ুদূষণ বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। তবে বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানী ঢাকার বায়ুমান কিছু ভালো আজ। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে বায়ুদূষণের তালিকায় ২০তম অবস্থানে বাংলাদেশের ঢাকা। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১০০, যা সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। একই সময়ে ৪০৪ স্কোর নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে মিসরের কায়রো। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ২২৮ এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের দিল্লির স্কোর ২০০। এছাড়া ১৬৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আরেক শহরের স্কোর ১৬১। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি এই এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল বা দূষিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিয়ে থাকে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা জানায়। একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো, ৫১–১০০ সহনীয় বা মাঝারি, ১০১–১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর। বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)-এর ভিত্তিতে। ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন অনুসারে, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে দেয়াল ধসে প্রাণ গেল নারীর

ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যরাতে ৪ শব্দেই ভাইরাল আসিফ মাহমুদের পোস্ট

0 Comments