রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬। আজ এমন এক দিন, যা আমাদেরকে বুকফাটা হাহাকার আর তীব্র বেদনার অতল গহ্বরে নিয়ে যায়। বক্তব্যের শুরুতে আমি তীব্র কষ্ট-বেদনা নিয়ে এবং গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জোরপূর্বক গুমের শিকার সব মানুষকে।
তিনি বলেন, ‘স্মরণ করছি, সেই সব মা-বাবা, ভাই-বোনদের যারা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন-এই বুঝি তাদের সন্তান, স্বজন ফিরে এলো। স্মরণ করছি সেই স্ত্রীকে, যিনি প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে একা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। স্মরণ করছি, সেই সন্তানকে, যার শৈশব পেরিয়ে গেছে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু বাবা তাকে কোলে তুলে নিতে আর ফিরে আসেননি।’
‘গুমের নির্মম শিকার সব ব্যক্তি, পরিবার, স্বজন ও সহযোদ্ধার প্রতি জানাই আমার গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা। গুম-নির্যাতনের শিকার সকল মানুষের পবিত্র স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। আমি তাদের আত্মার চিরশান্তি ও মাগফিরাত কামনা করি’, বলেন রাষ্ট্রপতি।
গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক অস্তিত্ব। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকটিকেই একসঙ্গে ভূলুণ্ঠিত করা হয়।’
গত দেড় দশকের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, গোপনে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঘৃণ্য অপরাধকে সবসময় অস্বীকার করে গেছে।’
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা ভুলে যাইনি বিএনপির প্রথিতযশা নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত মানুষকে। যাদের পরিবারের প্রতিটি রাত কেটেছে বুকভরা বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষা নিয়ে।’
তিনি বলেন, ‘আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিককে বছরের পর বছর অন্ধকার, দুঃসহ পরিবেশে, আলো-বাতাসহীন আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।’
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মঞ্চে উপবিষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে বিদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সৌভাগ্যক্রমে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। এ দেশে আজও এমন বহু মানুষ আছেন, যারা আজ পর্যন্ত আর ফিরে আসেননি।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যে গণতন্ত্র, সাম্য, বাকস্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বাধীন দেশে গুম-নির্যাতনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চূড়ান্ত অন্যায় আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে একটা ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায়।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই সময়ে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। যিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশেই হবে।’
তিনি বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বংশসহ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যে সত্য বেরিয়ে এসেছে, তা শুধু বেদনাদায়কই নয়, অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১,৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া, বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক গুম ও গোপনে হত্যা করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এই বর্বর ও নৃশংস কাজগুলো বেশি করা হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারের কাজ স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।’
গুমের শিকারদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। যেসব পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করেছে। তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে-কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশের উন্নয়ন ও সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে—সেটিই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সবশেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের,তা সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের আরেকটি পবিত্র দায়িত্ব, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরেও পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল আসিম মুনিরের কাছে বিশ্ব পরিস্থিতি ছিল আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। সৌদি আরবের রিয়াদে সে সময় উপস্থিত থেকে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হন তিনি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ বলছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ওই চুক্তির আয়োজন করেছিলেন মুনির। তার কাছে সেটি ছিল বড় কৌশলগত সাফল্য। অর্থ সংকটে থাকা পাকিস্তানকে সৌদি আরব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও ঋণ দেবে। বিনিময়ে পাকিস্তান সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে দেশটিকে রক্ষা করতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এগিয়ে আসবে। তখন এমন হামলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, তখন পাকিস্তান ধরে নিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক শিগগিরই আবার স্বাভাবিক হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম। তবে এরপর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এখন পাকিস্তান, বিশেষ করে আসিম মুনিরের ওপর চাপ ক্রমে বাড়ছে। আগস্টে সৌদি আরবের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত করা হয় এবং এর নতুন নাম দেওয়া হয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। তিন দেশ সম্মত হয়, তাদের যে কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সিনিয়র ফেলো আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমার মনে হয় না আসিম মুনির এই অঞ্চলের সামনে থাকা হুমকিগুলো যথাযথভাবে হিসাব করেছিলেন এবং এত দ্রুত যে পাকিস্তানকে নিজেদের সেনাদের যুদ্ধে নামাতে হতে পারে, সেটিও তিনি ভাবেননি।’ সৌদি আরবের কাছে কয়েক হাজার কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বাস্তব যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা তাদের নেই। অন্যদিকে হুতিরা কঠিন ও দৃঢ় প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। ভারতের স্থায়ী হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি বাহিনী তাই যুদ্ধের সম্মুখসারিতে সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব যদি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পাকিস্তানের সামনে সেনা পাঠানো ছাড়া খুব বেশি বিকল্প থাকবে না। এর মধ্যে সৌদি আরবে প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে প্রায় পুরোপুরি সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি সৌদি আরব পাকিস্তানকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ও বিনিয়োগ দিয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সরকারি মন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তারা চুক্তির প্রতি পাকিস্তানের ‘শর্তহীন’ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সৌদি আরবকে রক্ষায় ইসলামাবাদ ‘যে কোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত বলে জানান। তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে দেশটি জড়িয়ে পড়া নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পাকিস্তান এরই মধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে কার্যত সংঘাতের মধ্যে রয়েছে এবং জঙ্গি তৎপরতার বৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার মতো ঠিক কোন পরিস্থিতিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান সম্ভবত ধরে নিচ্ছে যে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই বাড়ানোর মাধ্যমে সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। তুরস্কও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা এই সংঘাতে জড়াতে চায় না
মধ্যপ্রাচ্যের টেকসই নিরাপত্তা এই অঞ্চলের বাইরের কোনো শক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার ‘গ্লোবাল টাউন হল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আরাগচি বলেন, বড় শক্তির স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা হলে আইনের শাসন নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে না। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক। বর্তমান বিশ্বে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলেও মন্তব্য করেন আরাগচি। তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের মূল্য যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যুদ্ধের খরচ করদাতাদের বহন করতে হলেও সবচেয়ে ভারী মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে জীবন, রক্ত, ঘরবাড়ি, ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার বিনিময়ে। আরাগচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ, আস্থা তৈরি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই টেকসই নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব। বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি কিংবা তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এ অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সূত্র: আল জাজিরা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির কর রাজস্ব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সহায়তার বড় একটি অংশ সামরিক শক্তি বাড়াতে ব্যয় করছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহল। তাদের দাবি, বড় আকারের স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তোলা এবং নতুন অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা সংগ্রহে জোর দিচ্ছেন শারা। খবর দ্য জেরুজালেম পোস্টের। ইসরায়েলি নিরাপত্তা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অবকাঠামো পুনর্গঠন কিংবা ১৫ বছরের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিবর্তে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সামরিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গোপন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হিজবুল্লাহ ও ইরানপন্থিদের লক্ষ্য? ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে শারার দীর্ঘমেয়াদি কিছু সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানপন্থি শিয়া মিলিশিয়াদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি। সূত্রগুলোর মতে, শারা এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় থাকতে পারেন, যখন সিরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো শেষ হবে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে আসবে। বিশেষ করে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে গেলে সম্ভাব্য কোনো সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা কমতে পারে; এমন হিসাব সিরিয়ার নেতৃত্বের থাকতে পারে বলে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলের মূল্যায়ন। সিরিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপ সিরিয়া যখন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে ইসরায়েলি সূত্রগুলো দাবি করছে, তখন ইউরোপের কয়েকটি দেশ দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। জার্মানির নেতৃত্বে ইউরোপীয় দেশগুলো সিরিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে এবং শারার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপের অন্যতম লক্ষ্য হলো শরণার্থীদের প্রবাহ কমানো এবং তাদের সিরিয়ায় ফেরার পরিবেশ তৈরি করা। তাদের মতে, সিরিয়া স্থিতিশীল হলে এবং দেশটিকে আর সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা না হলে ইউরোপীয় সরকারগুলোর পক্ষে শরণার্থীদের দেশে ফেরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া সহজ হবে। শারাকে প্রভাবিত করতে চায় সৌদি-আমিরাত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপন্থি সুন্নি দেশগুলোও শারাকে নিজেদের বলয়ে আনতে সক্রিয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র। তারা শারাকে আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন কূটনৈতিক সম্মান দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তার নীতিকে আরও মধ্যপন্থি করা, চরমপন্থি উপাদানগুলো থেকে দূরে রাখা এবং তার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে শারার অতীতের জিহাদি কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব দেশের উদ্বেগ রয়েছে বলেও নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে। তুরস্ক-সিরিয়া সম্পর্ক জটিল তুরস্ক ও সিরিয়ার সম্পর্কও জটিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র। তাদের মতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের হাতে সিরিয়ার ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ সহজে তুলে দিতে চাইবেন না শারা। ইসরায়েলি এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, শারা দ্রুত এরদোয়ানকে সিরিয়ার ভূখণ্ড ছেড়ে দেবেন না এবং দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণও তুরস্ককে দেওয়ার অনুমতি নাও দিতে পারেন। ওই কর্মকর্তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় ইসরায়েলের চালানো হামলা কোনো কোনো দিক থেকে শারার জন্য সুবিধাজনক হয়েছে। কারণ এতে তুরস্কের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তার অবস্থান শক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, শারা তার নেতৃত্বে সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করতে চান এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারেন। দুর্বল অবস্থায় শারার সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ হারিয়েছে ইসরায়েল? ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, শারা দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে ছিলেন, তখনই তার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক সুযোগ হারিয়েছে ইসরায়েল। সূত্রগুলোর মতে, সে সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার পাশাপাশি গোলান মালভূমির মর্যাদা নিয়ে বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল ইসরায়েলের সামনে। কিন্তু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ দ্বিধা এবং অন্যান্য ফ্রন্টে মনোযোগের কারণে সেই উদ্যোগ এগোয়নি বলে দাবি তাদের। এখন সিরিয়ার সামরিক বাহিনী, এর সদস্য, সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আরও জোরদার করতে হচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতা বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য হুমকি তৈরি হলে তা ঠেকাতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখতে হবে। তাদের মূল্যায়ন, ভবিষ্যতে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না এবং এমন সংঘাত কেবল সময়ের ব্যাপার। সূত্র : দ্য জেরুজালেম পোস্ট