বিশ্ব

আফ্রিকার তিন দেশে এইচআইভি প্রতিরোধে টিকাদান শুরু

খবর৭১ ডেস্ক, ডিসেম্বর ০২, ২০২৫

প্রাণঘাতী এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে যুগান্তকারী একটি নতুন ইনজেকশন প্রয়োগ শুরু করেছে আফ্রিকার তিন দেশ ইসওয়াতিনি, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাম্বিয়া।

আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো জনসাধারণের মধ্যে চালু হচ্ছে এই টিকাদান কর্মসূচি। আফ্রিকা মহাদেশেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত মানুষ রয়েছে।

লেনাকাপাভির নামের এই ইনজেকশন বছরে দু’বার নিতে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সংক্রমণের ঝুঁকি ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশেরও বেশি কমাতে পারে, যা কার্যত একটি শক্তিশালী টিকার মতো কাজ করবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যেখানে প্রতি পাঁচ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি আক্রান্ত সেখানে উইটস ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা ইউনিট এই কর্মসূচি তদারকি করছে।

এটি জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা ইউনিটেইড এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি উদ্যোগের অংশ বলে জানানো হয়েছে এনডিটিভি’র খবরে।

ইউনিটেইড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষরা প্রথম এইচআইভি প্রতিরোধে লেনাকাপাভির ব্যবহার শুরু করেছেন... যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ছয় মাস অন্তর এই ইনজেকশনের বাস্তব প্রয়োগের অন্যতম প্রথম দৃষ্টান্ত।’

তবে কতজন টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে একজনের জন্য এই ওষুধের বার্ষিক খরচ ২৮ হাজার ডলার। আগামী বছর দেশব্যাপী এই টিকা বিস্তৃতভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জাম্বিয়া ও ইসওয়াতিনি গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ হাজার ডোজ টিকা পেয়েছে এবং সোমবার বিশ্ব এইডস দিবসে ওষুধটি চালু করার কথা রয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস তিনবছরে বেশিমাত্রায় এইচআইভি আক্রান্ত দেশগুলোর ২০ লাখ মানুষকে বিনা লাভে লেনাকাপাভির সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ ডোজ দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম এবং এর দামও মানুষের নাগালের বাইরে- বলছেন সমালোচকরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পরিবর্তন

ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতি জোরদারের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। বুধবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৭ সেন্ট কমে ৯৭ দশমিক ১৪ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৪০ ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি কমবে— এমন আশাবাদ থেকেই তেলের দাম কিছুটা নেমেছে। এদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীন আগের তুলনায় কম অপরিশোধিত তেল আমদানি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের চাপ কিছুটা কমেছে। ফলে ইরান যুদ্ধ ঘিরে উদ্বেগ থাকলেও তেলের দাম আরও বেশি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা

ছবি : সংগৃহীত

তেলের চাহিদা কমেছে চীনের, দাম কমার আভাস

ছবি : সংগৃহীত

কুয়েত বিমানবন্দর হামলার দায় অস্বীকার ইরানের

ছবি : সংগৃহীত
বাহরাইনে ৫ শীর্ষ ধর্মীয় আলেমসহ ২০ শিয়া আটক

বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনী ২০ শিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ৫ প্রভাবশালী ধর্মীয় আলেম রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাইয়্যিদ ইয়াসিন মুসাভি, শেখ আলী আল-মুস্তারিশদ, শেখ জাফর আশুর, শেখ নাজির মালিক এবং শেখ মাহমুদ তাহেরিকে আটক করা হয়। সর্বশেষ এই গ্রেপ্তারের ফলে মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩ শিয়া ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিরা একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং আইআরজিসির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার ২০০৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিস্তৃত ধারাগুলো ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় বক্তব্য ও ভিন্নমত দমন করছে। তাদের মতে, এসব গ্রেপ্তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিহারের বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৪ জনের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

জেমস বন্ডের রূপে ট্রাম্প, নতুন পোস্ট ঘিরে আলোচনা

ছবি : সংগৃহীত

মৃত্যুপথযাত্রী বাবাকে দেখতে এসে আগুনে প্রাণ হারালেন ৮ স্বজন

ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, বাড়ল ইরান চুক্তির সম্ভাবনা

ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। দুপক্ষের সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লিতানি অঞ্চল থেকে তাদের সব সদস্য সরিয়ে নেবে এবং সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে গত মাসেও দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তবে সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে সীমান্তে হামলা চালিয়ে আসছিল। এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে অভিযান পরিচালনা করেছে। যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তেলের দামও প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর ছোড়া বলে সন্দেহ করা একটি শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে। আর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, বৈরুতে নতুন করে হামলা হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে। তার এ হুংকারের পরও লেবাননে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলা চালানোর ক্ষমতা কমছে ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল-লেবানন

রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি "মিখাইল উলিয়ানভ"

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোথাও হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই: উলিয়ানভ

0 Comments