জাতীয়

আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া, আসছে না এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনের হাসপাতালে নিতে কাতারের ব্যবস্থা করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার অনুমতি নিয়েছিল। তবে আজ সেই অনুমতি প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেছে তারা। অর্থাৎ মঙ্গলবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আসছে না এবং খালেদা জিয়াও আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না।

 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, জার্মানিভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ স্থানীয় সমন্বয়কারী সংস্থার মাধ্যমে পূর্বের স্লট অনুমোদন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। এটি আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি।

 

এর আগে রোববার জমা দেওয়া অপারেটরের প্রাথমিক আবেদনের ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অবতরণ ও একই দিন রাত ৯টার দিকে উড্ডয়নের অনুমোদন নিয়েছিল।

 

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি কাতার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জার্মানিভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এটি বোমবার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০৪ মডেলের একটি বিজনেস জেট যা দীর্ঘ দূরত্বের মেডিকেল ইভাকুয়েশনের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। চ্যালেঞ্জার ৬০৪ তার শক্তিশালী ট্রান্সকন্টিনেন্টাল সক্ষমতার জন্য পরিচিত, যা ঢাকা–লন্ডন মেডিকেল ট্রান্সফারের জন্য উপযোগী।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভুগছেন। এই অসুস্থতাগুলোর মধ্যে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস (বাত) এবং কিডনি জটিলতা অন্যতম। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত কিছুদিন ধরেই তাকে বিদেশে নেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

 

২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। হাসপাতালে ভর্তির পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। এর ফলস্বরূপ, ২৭ নভেম্বর তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তিনি ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

তিস্তা প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন না নেওয়ার চিন্তা সরকারের

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে চায় না সরকার। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আজ শুক্রবার পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ একটি প্রতিনিধিদল তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শনে যাবে। এর আগে এ প্রকল্পে চীনা অর্থায়নের বিষয়টি আলোচনায় ছিল।     তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ দেওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জলাধার তৈরি করে সারা বছর পানিপ্রবাহ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। অন্যদিকে প্রতি বছর তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার একর আবাদি জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হয়। পরিকল্পিত ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এ ভাঙন রোধ করা সম্ভব। এ ছাড়া ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী খননের মাধ্যমে নৌ চলাচল সহজ ও পণ্য পরিবহন সাশ্রয়ী করা সম্ভব। নদীকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক জোন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মৎস্য চাষের সুযোগ তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প। তিস্তা নদী অববাহিকার স্থায়ী সমস্যা সমাধান এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য এ মহাপরিকল্পনা অপরিহার্য।     এদিকে, গত বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নকাজ প্রস্তাব করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, তিস্তা এলাকার ৫টি জেলায় (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট) নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা এ মাসেই শেষ করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এ কাজের মধ্যে রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান আছে, যার বাস্তবায়নও চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।     তথ্যমতে, কয়েক বছর আগে চীনা বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক সমীক্ষা পরিচালনা করে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ের একটি ধারণাপত্র বাংলাদেশকে দিয়েছিল। ওই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন গতি দেওয়া। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেবল অর্থনৈতিক বা কারিগরি বিবেচনাই নয়, বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক হিসাবও কাজ করছে। কারণ তিস্তা নদীর উজান ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৮৩ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়েছিল। সেখানে তিস্তার পানির ৩৯ শতাংশ ভারতের এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। অবশিষ্ট পানি নদীপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সে সমঝোতা কখনো স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেয়নি।     ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। দুই দেশের মধ্যে একটি খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে শেষমুহূর্তে তা আটকে যায়। এর পর একাধিকবার বিষয়টি আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী পানিবণ্টন চুক্তি হয়নি।     কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতেরও আগ্রহ রয়েছে। দিল্লি চাইছে না যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর শিলিগুড়ি করিডোরের নিকটবর্তী এলাকায় চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি তৈরি হোক। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এ করিডোরকে দেশটির নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।     অন্যদিকে চীন দক্ষিণ এশিয়ায় তার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বড় প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বন্দর, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিস্তা প্রকল্পকে বেইজিং বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এসব কারণে তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য বিদেশি ঋণ গ্রহণের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থায়ন, ঋণের শর্ত এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৯, ২০২৬

সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন-আল-রশিদের জানাজা অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুকে লঞ্চে তুলে দিতে গিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল সৌদি প্রবাসীর

ছবি: সংগৃহীত

মাছ-মুরগির দাম স্থিতিশীল, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি বাজারে

ছবি: সংগৃহীত
সব রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় একক ভ্যাট হার নির্ধারণের দাবি সমিতির

রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় বিদ্যমান ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হারকে ব্যবসায়িক অসাম্য ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সব ধরনের সেবায় একই হার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।   শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।   সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ থাকায় খাতটিতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তাই সব ধরনের রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট হার ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   সংগঠনটি আরও ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর ও সম্পূরক শুল্ক কমানো, প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়ের পুরোনো পদ্ধতি পুনর্বহাল, রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, খাতভিত্তিক শিল্পনীতি প্রণয়ন, সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ।   সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপে রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই নীতি সহায়তা ও কর কাঠামো সহজীকরণ ছাড়া এই খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।   সমিতির নেতারা আরও বলেন, বাজেটে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও কিছু প্রস্তাব খাতটিকে আরও ব্যয়বহুল ও জটিল করে তুলতে পারে। তাই বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কা, দেশজুড়ে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে নদীর তীরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
ভরিতে সোনার দাম কমল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, নতুন মূল্য কার্যকর

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।   বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয় বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।   নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।   সোনার পাশাপাশি রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন দামে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ২০৮ টাকা।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সোনার ওপর ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। আগে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার জন্য নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে।   বাজুসের মতে, নতুন ভ্যাট কাঠামোর ফলে সোনার বাজারে মূল্য সমন্বয় সহজ হবে এবং ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই কিছুটা সুবিধা পাবেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামাও স্থানীয় বাজারে সোনার মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কদমতলীতে বাড়ি ফেরার পথে সবজি ব্যবসায়ী খুন

ছবি: সংগৃহীত

৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন চট্টগ্রাম, হাঁটু পানিতে আটকে জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বিকেটিটিসির

0 Comments