কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে শিগগিরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা, আপনারা দাবি করেছেন; তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে—সেই রাজনৈতিক দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।
সংবিধানের ৪৭ আর্টিকেল অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে, রাজনৈতিক দলের সংগঠনের বিচার করা যাবে। সুতরাং অপেক্ষা করুন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে যারা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি ভবিষ্যতে জাতি দেখবে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আজকে যারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজক, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ রইল এই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি।
যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে; ইতিহাস কিন্তু তাই।”
আওয়ামী লীগের ‘পরিণতির’ প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, “যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করত, তারা চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে দিল্লি গিয়ে বসে আছে।
বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে উৎখাত করেছে। সুতরাং চেতনা বিক্রির ব্যবসা ভালো নয়, রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভালো না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মহান চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ধারণ করব, স্মৃতিকে ধারণ করব।
অনাগতকালে ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যেন দেখে—স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের পতন কীভাবে হয়েছিল? ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী আচরণ যেন ভবিষ্যতের কোনো সরকার না করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শহীদ হওয়ার মাত্র দুইদিন আগে আমাকে শিলংয়ে দেখতে গিয়েছিল ছেলেটা। কেন বাবা এতো অল্প বয়সে বাবা-মার টাকা খরচ করে পাসপোর্ট-ভিসা করে আমাকে দেখতে এলে? বলেছিল, ‘আপনাকে একনজর সামনে থেকে দেখব- বড় আশা ছিল’। ছবি তুলেছিল, ফেসবুকের প্রোফাইলে ছবিটা সে দিয়েছিল। দুই-তিন সপ্তাহ পরে দেশে এসে বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়ে দিল।
বড় করুণ সেই ইতিহাস। তার বাবা তখন বিদেশে। তার মায়ের সাথে কথা বললাম, চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। সে আজকে বলল, যে শহীদের বিচার করুন আগে। আমরা দেখতে চাই, এই দেশে প্রত্যেকটা খুনের বিচার হয়েছে।
ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে জুলাই ’২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মানবতাবিরোধী মামলার সবশেষ অবস্থা
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পাঁচটা গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে ইতোমধ্যে। বিচারাধীন মামলা আছে ২৭টা এবং তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে ৭২টা মামলা। শহীদ আবু সাঈদের মামলায় প্রথম মামলায় দুজনের ফাঁসি হয়েছে…ভাইস চ্যান্সেলরসহ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে।
প্রথম মামলার রায় হয়েছে, গণহত্যার। আপনারা সবাই জানেন—শেখ হাসিনা, তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল তাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তৎকালীন আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হওয়ার কারণে তার সাজা কম হয়েছে, তবে সাজা হয়েছে।
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো হত্যা মামলার দুইজনের ফাঁসি হয়েছে; ওখানে সাবেক একজন স্বৈরাচার দোসর এমপি আছে, ওসি আছে, ডিআইজিসহ অন্যান্যদের যাবজ্জীনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চাঁনখারপুলে হত্যা মামলায় ফাঁসি হয়েছে তৎকালীন স্বৈরাচারের দোসর পুলিশ কমিশনার হাবিব এবং জয়েন্ট কমিশনার সুদীপ্ত…তাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। অন্যান্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। অতি সম্প্রতি রায় হয়েছে। রামপুরা টিভি সেন্টারের ওখানে একটা ছেলে লুকিয়েছিল, তাকে গুলি করা হয়েছিল।
আমি শুনলাম সেই ছেলেটি কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। চিকিৎসার মাধ্যমে আল্লাহ তার জীবন বাড়িয়ে দিক, হায়াত বাড়িয়ে দিক। সেই ঘটনায় আরো দুই-একজনকে শিশুসহ হত্যা করা হয়েছে …সেই মামলায় রায় হয়েছে। ফাঁসির আদেশ হয়েছে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিব, ওসি এবং অন্যান্যদের বিভিন্ন মেয়াদে।
তিনি বলেন, “সর্বশেষ হাসানুল হক ইনু নামের একজন স্বৈরাচারের দোসর আছে, তার বিচারের রায় বেরিয়েছে। তাকে কেবল ১০ বছরের সাজা দেয়াতে বাদী পক্ষ সন্তুষ্ট নয়, সেজন্য সেটা আপিল করা হবে মর্মে শুনেছি।
তার অন্তত যাতে সর্বোচ্চ সাজা হয়, সেরকম বিচার আরো আছে; সে মামলাগুলোতে আশা করা যায়।
‘কোনোদিন আমরা ঘুমাইনি’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘কিছু পর্দার আড়ালের কথা আজকে অবমুক্ত করতে চাই। আমি ও আমার নেতা জনাব তারেক রহমান দুজনেই আমরা নির্বাসিত ছিলাম। আল্লাহর কি মহিমা যদি আমরা নির্বাসিত না থাকতাম, হয়তো এই জুলাইয়ের মত একটা উত্থান সফলভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হতো না। এটাই হচ্ছে পর্দার অন্তরালের কথা।
কোনোদিন আমরা ঘুমাইনি। ২৪টা ঘণ্টা কো-অর্ডিনেশন করে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে আমরা অর্গানাইজ করে এই জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে এই আন্দোলনকে একটা পর্যায় পর্যন্ত আমরা নিয়ে এসছি। তিন তারিখ, চার তারিখে আমরা যখন নৈতিক সমর্থন প্রদান করি…।
তিনি বলেন, “যেদিন আমরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত পৌঁছালাম, সেদিন আমার নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ‘দফা এক দাবি এক, স্বৈরাচারের পদত্যাগ’। অন্য কোনভাবে সমস্যার সমাধান হবে না।
আজকে যারা জুলাই যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দাবি করেন, তাদের অনেকেই সেদিন বলেছিল, ‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নাই, আমাদের দাবি বৈষম্যহীন’…কোটা বৈষম্য দূর করতে হবে, সেটাই ছিল তাদের বক্তব্য। আমরা জানি, স্বৈরাচারকে গতিতে রেখে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাদেরকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু তাদের সেই সাহস ছিল না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা অরাজনৈতিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শত সহস্র শহীদের রক্তের এই স্রোতের মধ্য দিয়ে আমরা এই জায়গায় এসে আছি আজকে। এই বাংলাদেশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে, এই মানচিত্র রক্তে রঞ্জিত হয়েছে, শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি ৫ অগাস্ট।
সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে যদি বিভাজন করি, তাহলে সর্ববৃহৎ অংশটি থাকবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের, যুবদলের, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের…।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জাতিসংঘের যে রিপোর্ট, সেই রিপোর্টে ১৪০০ কথা বলা আছে কিন্তু অফিশিয়ালি বিভিন্ন পত্রিকায় এবং জরিপে ৭০০ থেকে ৮০০-র মত খতিয়ান পাওয়া যায়। বাকিগুলো গেল কোথায়? কারণ শহীদের খতিয়ান হসপিটাল রক্ষা করতে পারে নাই, তাদের ডকুমেন্ট পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে দাফন করা হয়েছে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে। আজকে স্বজনরা তার কবরের সন্ধান করে, আমরা দিতে পারি না।
এরকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরে, গণহত্যার পরে আজও পর্যন্ত সেই গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার কোনো রকমের অনুশোচনা নাই। তারা জুলাই যোদ্ধাদেরকে অপরাধী হিসেবে তকমা দিচ্ছে, বাংলাদেশের এই গণ-অভ্যুত্থানকে তারা একটা জঙ্গি তকমা দিচ্ছে। বাংলাদেশে নাকি জঙ্গিবাদের মধ্য দিয়ে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে! এর চাইতে লজ্জাকর আর কিছু নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুশোচনাও নেই, দোষ স্বীকারের সেই অবস্থাও তাদের নেই, সেই ইতিহাসও তাদের নেই। তারা উল্টো বিদেশে বসে বাংলাদেশে এখন নাকি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করছে।
“আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে। দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।
জুলাই বিপ্লবে শহীদদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া।
জুলাই বিপ্লবে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ তাদের মনোবেদনার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আকিজ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আকিজ এভিয়েশন লিমিটেড বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করেছে। কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন, শিল্প খাত, ব্যক্তিগত যাত্রা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য এ পরিষেবা দেওয়া হবে। শনিবার (২৫ জুলাই) আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পাবলিক রিলেশন অফিসার ইকবাল হোসাইন রুদ্রের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এ সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ, আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ পাইলট ও দক্ষ এভিয়েশন টিমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এই হেলিকপ্টার সেবা। একই সঙ্গে খুলনা বিভাগের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে ‘ফ্রি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ সেবাও চালু রয়েছে। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এ সেবা পরিচালনা করছে আকিজ এভিয়েশন। প্রাথমিকভাবে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রোগী পরিবহনের জন্য একটি বেল-৫০৫ এবং যাত্রী পরিবহনের জন্য দুটি রবিনসন-৬৬ মডেলের হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে। আকিজ এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত যাতায়াত ও জরুরি প্রয়োজনে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ, মুমূর্ষু রোগী পরিবহন, জরুরি ভ্রমণ, নাটক-সিনেমার শুটিং, রাজনৈতিক সফর, বিয়ের বরযাত্রী পরিবহন ও ব্যক্তিগত যাতায়াতেও হেলিকপ্টারের চাহিদা বেড়েছে। এসব প্রয়োজন পূরণে নিরাপদ ও সময়-সাশ্রয়ী সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আকিজ এভিয়েশন। হেলিকপ্টার পরিষেবা ও জরুরি রোগী পরিবহন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ০১৭১৩-৪৮৮৪০৪, ০১৭১৩-৪৮৮৪০৫ এবং ০১৭১৩-৪৮৮৪০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রবি বা সোমবারের মধ্যে বঙ্গভবনের ছাড়তে পারেন। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে উনি বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। তবে, রোববারও চলে যেতে পারেন। গিয়ে উনি গুলশানের বাসায় উঠবেন। সেখানে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওনার ব্যক্তিগত উইং বিষয়টি দেখভাল করছে। মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে শুক্রবার বিকালে পদত্যাগ করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পদত্যাগপত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি তার শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে শুক্রবার বিকালে গুলশান-১ এর ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ নামে তার বাসায় গিয়ে নতুন টেলিফোন সংযোগ দেওয়াসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের।
সীমান্তবর্তী জেলা ফেনীতে মাদক ও চোরাচালান রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন। শনিবার (২৫ জুলাই) ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জয়নাল আবেদিন বলেন, সীমান্তবর্তী হওয়ায় ফেনীতে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ফেনীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্য প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। মাদকাসক্তি ও কিশোর অপরাধ রোধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না; রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সচেতন নাগরিকদেরও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করলে ব্যবসায়ী যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে। ফেনী চেম্বার অব কমার্সের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং বেকারত্ব নিরসনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে জয়নাল আবেদিন বলেন, একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকারের ক্রীড়াবিষয়ক উদ্যোগ তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে এবং তাদের মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে ভূমিকা রাখবে। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।