ফিফা বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচের শুরুতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে যায়। কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরার পর বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ইনজুরি টাইমের শেষ সময়ে জয়সূচক গোল করে দলকে শেষ ষোলোতে তুলে নেন। এর মাধ্যমে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেল ব্রাজিল।
বিরতির পর ব্রাজিলের সেই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ধৈর্যের বার্তা দিয়ে খেলোয়াড়দের তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি এবং এই পথেই এগিয়ে যেতে হবে।’
ধৈর্য ধরে খেলার গতি ঠিক রাখা এবং পরিকল্পনায় অবিচল থাকার সেই বার্তায় ব্রাজিলকে বিরতির পর নতুন রূপে ফিরতে সাহায্য করে।
প্রথমার্ধে জাপানের কাইশু সানো’র গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। তাদের সংগঠিত রক্ষণ ও টাইট মার্কিংয়ের কারণে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় সেলেসাওরা। ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে না উঠার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে।
পরিস্থিতি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার আগে ড্রেসিংরুমে শিষ্যদের প্রতি শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিল অধিনায়ক মিডফিল্ডার কাসেমিরো কোচের বিষয়ে জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘শুরুতে আমরা মাঝমাঠে আধিপত্য তৈরি করতে চেয়েছিলাম এবং আক্রমণাত্মকভাবে প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের টাইট মার্কিংয়ের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তারা খুবই সংগঠিত ছিল এবং স্পেস বন্ধ করে রেখেছিল।’
তিনি জানান, বিরতির পর কৌশল বদলে ক্রস ও আক্রমণে অতিরিক্ত খেলোয়াড় যুক্ত করার মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে আসে ব্রাজিল। পরিস্থিতি জটিল হলে নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনাও ছিল বলেও জানান কোচ। তবে শেষ পর্যন্ত বদলি কৌশলই ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়েছে।
কোচের মতে, এটি এখন পর্যন্ত দলের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ধাপ। তিনি বলেন, ফুটবলে চাপ ও কষ্ট দুইই অংশ এবং সেই চাপ সামলাতে পারাই পার্থক্য গড়ে দেয়।
কোচের প্রশংসা করে ক্যাসেমিরো বলেন, ‘প্রথমার্ধের বিরতিতে কোচ আমাদের অনেক কিছু বলেছিলেন। তবে সবচেয়ে বড় বার্তাটি ছিল—শান্ত থাকতে হবে। আমরা মাথা ঠাণ্ডা রেখেছিলাম বলেই ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। দলের প্রত্যেকে এই প্রশংসার দাবিদার।’
দলের তরুণ ও বদলি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের আলাদা প্রশংসা করতেও ভুলেননি কাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘বেঞ্চ থেকে এসে মার্তিনেল্লি গোল করল, এন্ড্রিক ভালো খেলেছে, রাফিনহার জায়গায় রায়ান নিজেকে প্রমাণ করেছে। বিশ্বকাপ জিততে হলে এমন দলগত স্পিরিটই দরকার।’
গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও কোচের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বিরতির সময় কোচ যেভাবে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন, তা অসাধারণ ছিল। আমরাও একে অপরকে বলছিলাম যেন কেউ মাথা গরম না করি। কারণ এই ধরনের মুহূর্তে এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা গ্রাস করে।’
দলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছি। আমরা কখনোই হাল ছাড়ি না।’ একই সুর শোনা গেল ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘এটাই ব্রাজিল, কখনোই হাল না ছাড়া আমাদের সংস্কৃতি। দলের জয়ে আমি ভীষণ খুশি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে এই জয় আমরা ছিনিয়ে এনেছি।’
বিরতিতে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আনচেলত্তির মূল বার্তা ছিল কৌশল পরিবর্তনের চেয়ে ধৈর্য রাখা। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা জানতাম এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে, বিশেষ করে শেষ ৩২-এর পর্যায়ে। হাফটাইমে আমি খেলোয়াড়দের ধৈর্য্য ধরতে বলেছিলাম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের কাঠামো ঠিক রাখা এবং সেটি নষ্ট না করা।’
দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ম্যাচের গতিপথ ব্রাজিলের দিকে ঘুরে যায়। তারা আক্রমণে বেশি খেলোয়াড় যুক্ত করে, এন্ড্রিককে নামানো হয় সরাসরি গতিশীলতা বাড়াতে এবং পরে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে আনা হয়, যিনি জাপানের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা আক্রমণে আরও খেলোয়াড় যুক্ত করতে চেয়েছিলাম এবং এন্ড্রিক আমাদের সেটাই দিয়েছে। মার্তিনেল্লির গতি ও নড়াচড়া স্পেস তৈরি করেছে, যা ভিনিসিয়ুসকেও সাহায্য করেছে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামার আগে টাইব্রেকারের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছে না থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (কঙ্গো ডিআর) মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা। নকআউট পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নামার আগে দলের উইঙ্গার ননি মাডুয়েকে জানিয়েছেন, পেনাল্টি শুটআউটের প্রস্তুতিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য দল প্রস্তুত রয়েছে। ক্রোয়েশিয়া ও পানামাকে হারিয়ে এবং ঘানার সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ ‘এল’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে পা রেখেছে ইংল্যান্ড। শক্তি ও সামর্থ্যে কঙ্গোর চেয়ে ইংলিশরাই কাগজে-কলমে অনেকটা এগিয়ে, তবু কোনোরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নন টুখেল। ইউরো ২০২১-এর ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হারানোর ক্ষত এখনো ভোলেনি সমর্থকরা। তাই এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে যেন ভাগ্য পরীক্ষায় কোনো ভুল না হয়, সেজন্য অনুশীলনে পেনাল্টি শটের ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। মাডুয়েকে স্পষ্ট করে বলেন, নকআউট ফুটবলে পেনাল্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তাই খেলার অন্যান্য বিভাগের মতো টাইব্রেকারেও তারা নিজেদের সেরা স্তরে রাখতে চান। আর্সেনালের এই ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গারকে যদি টাইব্রেকারে শট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তিনি সানন্দে সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। যদিও এক মাস আগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে আর্সেনালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল হারের টাইব্রেকারে তিনি শট নেননি, তবে দেশের জার্সিতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন এই তারকা। দলে বুকায়ো সাকার সঙ্গে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই থাকলেও, তাদের মধ্যকার এই সুস্থ প্রতিযোগিতা মাঠের পারফরম্যান্সকে আরও সমৃদ্ধ করছে বলে মনে করেন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই সাকার সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে মাডুয়েকে বলেন, তাদের খেলার ধরন কিছুটা আলাদা হলেও একে অপরের সাফল্য কামনা করেন। সম্প্রতি আর্সেনালের হয়ে ২০০৪ সালের পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার যে আত্মবিশ্বাস, সেটিই এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে কাজে লাগাতে চান এই উইঙ্গার। গ্রুপ পর্বে দারুণ ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড এখন কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ১৬-র টিকিট কাটতে পুরোপুরি তৈরি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কর্নার থেকে জোরালো হেডে বল জালে জড়িয়েছিলেন ডিফেন্ডার জোনাথন টাহ। জার্মানরা তখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার উল্লাসে মেতে ওঠেন। কিন্তু ভিএআরে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর রেফারি গোলটি বাতিল করেন। তার সিদ্ধান্তে জানান, কর্নারের সময় ভালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পর জার্মানজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিতর্কের শুরুর দিকেই মুখ খুললেন কিংবদন্তি কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। লিভারপুলের এই সাবেক কোচ রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইংলিশ ফুটবলের উদাহরণ টেনে বলেন, 'যদি এটা গোল না হয়, তাহলে আর্সেনাল কখনোই ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হতে পারত না। ওরা এ ধরনের পরিস্থিতি থেকেই প্রায় ৬০ শতাংশ গোল করেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত সত্যিই নির্মম।' ভিএআরের হস্তক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন সমালোচনা সেখানেই থেমে থাকেনি। ম্যাজেন্টা টিভির রেফারি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ইট্রিখ বলেন, তার মতে এই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ করারই কথা ছিল না, কারণ মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তে 'স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল' ছিল না। তিনি বলেন, 'আমার মতে, এটি রেফারির কোনো স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল ছিল না।' ইট্রিখ আরও যোগ করেন, 'আমার কাছে সিদ্ধান্তটি অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে মনে হয়েছে। এখানে আমি কোনো ধাক্কাধাক্কি বা ঠেলাঠেলি দেখতে পাইনি।' একই মত প্রকাশ করেন জেডডিএফের রেফারি বিশ্লেষক থর্স্টেন কিনহোফারও। রেফারিং দলের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'এই বিশ্বকাপে এর চেয়েও অনেক বেশি শারীরিক সংস্পর্শের ঘটনা আমরা দেখেছি। গোলরক্ষকও সঙ্গে সঙ্গেই উঠে দাঁড়িয়েছিল। এটা স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ, কখনোই ফাউল নয়।' শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গোলটি বাতিল হওয়ার পর টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে শেষ ষোলোতে উঠে গিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষেও ভাঙেনি ১-১ গোলের সমতা। অবশেষে মেক্সিকোর মন্টেরেই স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল মরক্কো। ফেভারিট ডাচদের রুখে দিয়ে আরও একটি রূপকথার জন্ম দিল আফ্রিকান সিংহরা। পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলেরই প্রথম পাঁচ শটের দুটি করে মিস হলে ম্যাচ চরম নাটকীয়তায় রূপ নেয়। ডাচদের হয়ে প্রথম ও তৃতীয় শটে তিউন কুপমাইনার্স ও ওউত ওয়েঘর্স্ট গোল করলেও জাস্টিন ক্লুইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার এবং শেষ শটে ক্রিসেনসিও সামারভিল গোল করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে মরক্কোর এল আইনাউই এবং চতুর্থ শটে তারকা আশরাফ হাকিমি মিস করলেও সুফিয়ান রাহিমি, চেমসেদিন তালবি এবং পঞ্চম শটে ইসমাইল সাইবারি ঠান্ডা মাথায় গোল করে মরক্কোকে উল্লাসের জোয়ারে ভাসান। ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডসের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করে রাখে মরক্কোর রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধে আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ডাচ রক্ষণকে তটস্থ করে তোলে তারা। ২১ মিনিটে হাকিমির একটি দূরপাল্লার জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভেরব্রুগেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হাকিমির ফ্রি-কিক থেকে ইসমাইল সাইবারি ফাঁকায় বল পেয়েও সংযোগ করতে না পারায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় মরক্কোর। ফলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে নেদারল্যান্ডস। ৪৮ মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্খের শট ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর বিশ্বস্ত গোলপ্রহরী ইয়াসিন বোনো। কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা না পেয়ে ৭১ মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন ডাচ কোচ। ব্রায়ান ব্রবি ও নাথান আকে-কে তুলে মাঠে নামানো হয় ওউত ওয়েঘর্স্ট ও তিউন কুপমাইনার্সকে। কোচের এই কৌশলী সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই ফল এনে দেয়। ৭২ মিনিটে ওউত ওয়েঘর্স্টের হেড থেকে বল পেয়ে ক্রিসেনসিও সামারভিল ডিফেন্ডারদের চাপে পড়েও ফাঁকায় থাকা কোডি গাকপোর কাছে বল বাড়িয়ে দেন। সহজ ফিনিশে জাল খুঁজে নিয়ে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই লিভারপুল ফরোয়ার্ড। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরক্কো আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচ যখন ডাচদের হাতের মুঠোয়, ঠিক তখনই ৯০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্নার থেকে ভেসে আসা দুর্দান্ত এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে নেদারল্যান্ডসের জাল কাঁপিয়ে দেন ডিফেন্ডার ইসা দিওপ। মরক্কোর জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। যা মরক্কোকে রূপকথার মতো ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোল না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ডাচদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট লুফে নেয় মরক্কো।