খেলাধুলা

‘আমার সময় ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলার ছিল না’ — মুশফিক

আক্তারুজ্জামান মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম আবারও স্মরণ করলেন নিজের অধিনায়কত্বের সময়কার চ্যালেঞ্জের কথা। সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের বর্তমান ও অতীত পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন।

 

মুশফিক বলেন, তার অধিনায়কত্বের সময় টেস্ট ক্রিকেটে দলীয় বোলিং আক্রমণ এখনকার মতো ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না। তার ভাষায়, “টেস্টে আগে আমাদের বোলিংটা এখনকার তুলনায় কম ব্যালেন্সড ছিল। তখন ২০ উইকেট নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত বোলার পাওয়া কঠিন ছিল।”

 

বর্তমান দলের উন্নতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট অনেক বেশি কার্যকর এবং প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তুলনামূলকভাবে ভালো সমর্থন পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

মুশফিক আরও বলেন, শান্ত দায়িত্ব ভালোভাবে সামলাচ্ছে এবং চাপের মধ্যেও নিজের ব্যাটিং ও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছে।

 

সিলেট টেস্ট প্রসঙ্গে তিনি জানান, মাঠ সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হলেও আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে আর্দ্রতা থাকতে পারে। এরপরও ভালো উইকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটের আশা করছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানকে বড় শাস্তি দিল আইসিসি, টাকা ও পয়েন্ট দুই-ই হারাল

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্টে হারের স্বাদ পেল পাকিস্তান। সেই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর এবার দলের প্রত্যেককে গুনতে হলো জরিমানা। শুধুমাত্র ম্যাচ ফি জরিমানা দিয়েই শেষ হচ্ছে না ব্যাপারটা। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও কাটা হয়েছে দলটির।   বিপত্তি বাঁধে ধীর বোলিংয়ের কারণে। আইসিসি জানিয়েছে, ধীর বোলিং করায় পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ৪০ শতাংশ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। আবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৮ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে শান মাসুদের দলের। যা একটি জয় থেকে অর্জিত পয়েন্ট থেকে মাত্র ৪ পয়েন্ট কম। এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে পাকিস্তান জিতেছে একটি ম্যাচ, দুটি ম্যাচেই হেরেছে। যে ১২ পয়েন্ট ছিল, তা থেকে এখন ঝুলিতে আছে মাত্র ৪!   পাকিস্তানের এই শাস্তি নির্ধারণ করেন ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো। নির্ধারিত সময়ের বাইরে পাকিস্তান ৮ ওভার করেছে। আইসিসি আচরণবিধির আর্টিকেল ২.২২ ও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্লেয়িং কন্ডিশনের আর্টিকেল ১৬.১১.২ অনুযায়ী, প্রতি ওভার পিছিয়ে থাকার জন্য ৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা ও ১ পয়েন্ট জরিমানার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী পাকিস্তানকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৮ পয়েন্ট ও প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ফির ৪০ শতাংশ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ অবশ্য দোষ মেনে নিয়েছেন, তাই কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ঢাকা টেস্টের অনফিল্ড আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরো ও কুমার ধর্মসেনা, তৃতীয় আম্পায়ার আল্লাউদ্দিয়েন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার গাজী সোহেল অভিযোগটি উত্থাপন করলে এরই ধারাবাহিকতায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান দলকে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬
জাকির হাসান। ছবি : সংগৃহীত

সাদমানের চোটে সিলেট টেস্টের দলে জাকির

ছবি : রয়টার্স

মিতোমাকে ছাড়াই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা জাপানের

ছবি : সংগৃহীত

ইরান ফুটবল দলকে এখনও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
তিলাক-জ্যাকসের শেষের ঝড়ে মুম্বাইয়ের রোমাঞ্চকর জয়

জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রয়োজন ছিল ৫০ রান। অসম্ভব না হলেও, কঠিন তো বটেই। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেই দুরূহ কাজটিই করে দেখালেন তিলাক ভার্মা ও উইল জ্যাকস। টানা পঞ্চম হারের তেতো স্বাদ পেল পাঞ্জাব কিংস।   আইপিএলে বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের জয় ৬ উইকেটে। ২০১ রানের লক্ষ্য এক বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। মুম্বাইয়ের নিয়মিত ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে এ দিন আইপিএলে নেতৃত্বের অভিষেক হয় জাসপ্রিত বুমরাহর। উপলক্ষটা স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি দারুণ এক জয় দিয়ে। প্লে-অফের লড়াই থেকে যদিও মুম্বাই ছিটকে গেছে আগের ম্যাচে হেরে। তাই প্রাথমিক পর্বের বাকি ম্যাচগুলো তাদের জন্য শুধু নিয়ম রক্ষার। পাঞ্জাবের বিপক্ষে জয়ের নায়ক তিলাক। ৬টি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা তিনি। ২টি করে চার ও ছক্কায় ১০ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন জ্যাকস। ১৭তম ওভারে এই দুজন জুটি বাঁধেন যখন, তখনও মুম্বাইয়ের দরকার ছিল ২১ বলে ৫২ রান। ১৮তম ওভারে মার্কো ইয়ানসেনকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন তিলাক, একটি চার মারেন জ্যাকস। এই ওভারে আসে ২২ রান। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে আর্শদিপ সিংকে ছক্কায় ওড়ান জ্যাকস, পঞ্চম বলে চার মারেন এই ইংলিশ ক্রিকেটার। এই ওভারে আসে ১৩ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। জেভিয়ার বার্টলেটের প্রথম বলে লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন জ্যাকস। পরের বলে তিনি নেন এক রান। তৃতীয় বলে স্কুপ খেলার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রান নিতে পারেননি তিলাক। তবে অস্ট্রেলিয়ান পেসারের চতুর্থ বলে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে দারুণ শটে ছক্কা মারেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। পঞ্চম বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে আরেকটি ছক্কা হাঁকিয়ে উল্লাসে মাতেন তিনি। ধারামসালায় রান তাড়ায় ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে মুম্বাইয়ের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন রোহিত শার্মা ও রায়ান রিকেলটন। রোহিত দুই ছক্কায় ২৬ বলে করেন ২৫ রান। ৪টি করে চার ও ছক্কায় ২৩ বলে ৪৮ রান করেন রিকেলটন। এর আগে পাঞ্জাবের হয়ে প্রাভসিমরান সিং (৩২ বলে ৫৭) ও আজমাতউল্লাহ ওমারজাই (১৭ বলে ৩৮) ছাড়া আর কেউ ২২ রানের বেশি করতে পারেননি। ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মুম্বাইয়ের সফলতম বোলার শার্দুল ঠাকুর। কোনো উইকেট না পেলেও চার ওভারে ৩৫ রান দেন বুমরাহ। আসরে ১২ ম্যাচে মুম্বাইয়ের চতুর্থ জয় এটি। প্রথম সাত ম্যাচের ছয়টি জয়ের (অন্যটি পরিত্যক্ত) পর টানা পাঁচটি হারল পাঞ্জাব। প্লে-অফের লড়াইয়ে যদিও ভালোভাবেই টিকে আছে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দলটি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিয়মরক্ষার ম্যাচে রেয়াল মাদ্রিদের সহজ জয়

ছবি: সংগৃহীত

‘আমার সময় ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলার ছিল না’ — মুশফিক

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের বাকি ২৭ দিন: ইয়োহান ক্রুইফ দা ক্রিয়েটর

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স, হ্যাটট্রিক হবে দেশমের

আসছে বিশ্বকাপে কোন দল বাজিমাত করবে, সে প্রশ্নের উত্তর আপাতত সময়ের হাতে তোলা। তবে ক্রিস্তিয়ঁ কাহেম্বুর বিশ্বাস, দিদিয়ে দেশমের হাত ধরে এবার সাফল্যের চূড়ায় উঠবে ফ্রান্স। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে ‘হ্যাটট্রিক’ করবেন তার সাবেক সতীর্থ। এমনটা মনে হওয়ার কারণও কাহেম্বু নানা যুক্তি দিয়ে তুলে ধরেছেন ফিফার সাথে আলাচারিতায়।   ফ্রান্সের ডাগআউটে ৫৭ বছর বয়সী দেশম সেই উঠতি বয়স থেকেই নেতৃত্ব দিতে পাকা। ক্ষুরধার পারফরম্যান্সে মাঠেও ছিলেন ভীষণ প্রভাববিস্তারি খেলোয়াড়। সব মিলিয়ে জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ফুটবল, সবখানেই দারুণ সব সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ফ্রান্স সাফল্যের চূড়ায় প্রথম উঠেছিল দেশমের হাত ধরেই। তার অধিনায়কত্বে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ফরাসিরা; ঘরের মাঠে, ১৯৯৮ সালে। সেই আসরে দেশমের মতো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলেন কাহেম্বু। এর আগে-পরেও অনেক ম্যাচ একসঙ্গে খেলেছেন দুজনে। ফলে দেশমকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। ডাগআউটেও দেশমের সামর্থ্য ঈর্ষণীয়। বুটজোড়া তুলে রাখার পরপরই, কোচিংয়ে নাম লেখান তিনি এবং এখানেও তার সাফল্য পেতে সময় লাগেনি। কোচ হিসেবে অভিষেক মৌসুমেই মোনাকোকে ফরাসি লিগ কাপ জেতান। তার কোচিংয়ে ২০০৭ সালে ইতালির শীর্ষ লেগে ফেরে ইউভেন্তুস। এরপর মার্সেইয়ের হয়ে লিগ আঁসহ কয়েকটি শিরোপা জয়ের পর, ২০১২ সালে ফ্রান্স দলের দায়িত্ব নেন দেশম এবং ছয় বছরের মাথায় দেশকে জেতান দ্বিতীয় বিশ্বকাপ; প্রথমটি অধিনায়ক আর দ্বিতীয়টি কোচ হিসেবে।   ফ্রান্সের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৩টি ম্যাচ খেলা কাহেম্বুর চোখে দেশম তাই একজন সহজাত নেতা। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক সতীর্থকে প্রশংসা ভাসিয়েছেন তিনি। “নঁতে খেলার সময়েই বয়সের তুলনায় সে অনেক পরিণত ছিল। ১৫ কিংবা ১৬ বছর বয়সেই সে সিনিয়র দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সে খুবই বুদ্ধিমান এবং ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তি- সত্যিকারের নেতা।” “যেভাবে সে ফ্রান্স, ইউভেন্তুস, মার্সেই ও মোনাকোকে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাতে প্রমাণ মেলে; সে যেখানেই গেছে, সফলতা তাকে অনুসরণ করেছে। তার ক্যারিয়ার সত্যিই অসাধারণ।” দেশমের কোচিংয়ে কাতারের গত বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফ্রান্স। যদিও লুসাইলের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা। সেই দলের তারকা ফুটবলারদের অনেকে আছেন এবারের বিশ্বকাপ মিশনের দলে। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলেরা অভিজ্ঞ, পরিণত হয়েছেন আরও। এবারের আসরে ‘টপ ফেভারিট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটিকে। তাছাড়া, এবারের বিশ্বকাপ দিয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছেন দেশম। স্বাভাবিকভাবে শেষটা রাঙাতে চাইবেন তিনি। কাহেম্বুরও আশা, হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ জিতেই বিদায় নেবেন দেশম। “চূড়ায় থেকে ফ্রান্স দলকে দিদিয়ে বিদায় বলতে পারলে খুব ভালো হবে, আমার দারুণ লাগবে। জানি, এটা খুব কঠিন হবে; তবে দারুণভাবে শেষ করার এবং ফ্রান্সে ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করার লক্ষ্যেই সে এখানে আছে।” “ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সে সত্যিকারের অভিভাবক, দেশের দুই বিশ্বকাপ জয়েই সে বড় কারিগর ছিল- আমার বিশ্বাস এবার সে হ্যাটট্রিক করবে। সে আগেই ঘোষণা করেছে যে, এটা তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই সবচেয়ে বড় শিরোপা, আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে তার বিদায় নেওয়াটাই সবচেয়ে দারুণ হবে।” আগামী ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ফ্রান্স। ‘আই’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরাক ও নরওয়ে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অফার পেয়েও ওয়ানডেতে ফেরার পরিকল্পনা নেই মুশফিকের

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাবা-ছেলের অনন্য ইতিহাস

মঞ্চ মাতাতে দেখা যাবে ম্যাডোনা, শাকিরা এবং কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএসকে। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতাতে আসছেন ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএস

0 Comments