জাতীয়

খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনায় পরিবার : মাহদী আমিন

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৯, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

 

তিনি লিখেছেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয় করা হচ্ছে। লন্ডন থেকেও সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারেক রহমান, তার স্ত্রী এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তারা চিকিৎসা–সংক্রান্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

মাহদী আমিন জানান, মেডিক্যাল বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না থাকে সেজন্য প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে আসলেও সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে কাউকে সিসিইউতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সবাই দূর থেকে ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে লন্ডনের সেই হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যেখানে চলতি বছরের শুরুর দিকে চার মাস চিকিৎসা নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাপনাও চলছে।

 

মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হবে। আধুনিক চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবেন, নেতৃত্ব দেবেন এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ভূমিকা পালন করবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
মেঘনা-গোমতী সেতু টোল আদায়ে অনিয়ম : শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন ২৩ জুন

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ জুন দিন ধার্য করেন ঢাকার একটি আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এজন্য বিচারক মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ জুন ধার্য করেন। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন-সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম, এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়। সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ১২, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি

নওগাঁয় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর  সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি: পিআইডি

পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ডাকাত সদস্য আটক

ছবি : সংগৃহীত
দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে: প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে দেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের জনগণ নতুন এই সংসদের দিকে আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।   বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য প্রদান করেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।”   তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেউ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ছিল না।   সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে সংসদ সদস্যদের যুক্তি ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।   এ সময় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ডেপুটি স্পিকার নিয়ে আলোচনায় কায়সার-মনি

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি পদে থাকবেন সাহাবুদ্দিন, নাকি পরিবর্তন আনবে বিএনপি?

ছবি : সংগৃহীত

স্পিকারের শূন্য চেয়ার নিয়ে শুরু হবে সংসদ অধিবেশন

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ যেভাবে চলে, এবার কেন ব্যতিক্রম

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকার গঠনের পর এখন বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। আগামী ১২ই মার্চ এই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।   গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরদিনই অর্থাৎ ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে হয় সংসদ অধিবেশন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর। সে হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে এই সংসদের। গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকারি দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রীতি অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। ওই অধিবেশনেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের স্পিকারও নির্বাচিত হবে। একই দিন ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এক সংসদের পর পরবর্তী সংসদ শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের মেয়াদ থাকে। বিদায়ী সংসদের স্পিকারই নতুন সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। নতুন সংসদে স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার পরই তার দায়িত্ব শেষ হবে। ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন অভ্যুত্থানের পরপরই। আর ডেপুটি স্পিকার যিনি ছিলেন তিনিও আছেন কারাগারে। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। কিন্তু তারা না থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তিই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন অথবা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচিত করে সাময়িকভাবে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যেটিকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা বলছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ এবারে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ৭৬ শতাংশই নতুন। যে কারণে এই সংসদকে একটি ব্যতিক্রমী সংসদ বলেও মনে করছেন সংসদ গবেষকরা। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন যে সব কাজ করে থাকে তা পরিচালিত হয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে। বাংলাদেশের সংসদ এবার কেন ব্যতিক্রমী সংসদ কিংবা এই সংসদ সাধারণত কীভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে কিংবা আইন পাশ করা হয় কীভাবে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।   প্রথম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই সংসদে সরকার দল, বিরোধী দলসহ যে সব দল নির্বাচনে জয় পেয়েছে তার সবগুলো দলীয় প্রধানরাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের ২৯৬ জনের মধ্যে ২২৭জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। যে কারণে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সংসদের কার্যপ্রণালি, বিধিবিধান, স্থায়ী কমিটির কাজ, আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়াগুলো বুঝতেও কিছুটা সময় লাগবে আগামী সংসদের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেন। এ নিয়ে তার বইও প্রকাশিত হয়েছে। মি. মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "প্রথমত এবারের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবারের মতো সংসদে। তাদের অনেকেরই কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই। যে কারণে এবারে সংসদে কিছু কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ও দেখা যেতে পারে"। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের শুরুতে বিদায়ী স্পিকার বা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। প্রথা অনুযায়ী কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে বৈঠকের শুরু হয়। উদ্বোধনী বৈঠকের কার্যসূচির মধ্যেই শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়। ওই একই অধিবেশনে বিদায়ী স্পিকারের স্বাগত ভাষণ অর্ন্তভুক্ত থাকে। ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তখন থেকেই আত্নগোপনে আছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেখান থেকেই চব্বিশের সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। পরে তার পদত্যাগপত্র কার্যকরও হয়েছে। এবার রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, এমনটাও ধারণা করছেন কেউ কেউ।   স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন তার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ: কাঠামো, কার্যপদ্ধতি ও চর্চা বইয়ে সংসদ কিভাবে পরিচালিত হয় তার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের শুরুতে বিদায়ী স্পিকার বা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। প্রথা অনুযায়ী কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে বৈঠকের শুরু হয়। উদ্বোধনী বৈঠকের কার্যসূচির মধ্যেই শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়। ওই একই অধিবেশনে বিদায়ী স্পিকারের স্বাগত ভাষণ অর্ন্তভুক্ত থাকে। এবার রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এরপরই সংসদের নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদের সরকারি দল থেকেই স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে থাকে। তবে এবার জুলাই সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়া হবে। যে কারণে প্রথম সংসদ ডেপুটি স্পিকার পদের নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও রয়েছে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি স্পিকার পদে কাকে নির্বাচন করবে, সেই বিষয়ে বুধবার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দলটি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই দুই পদে নির্বাচনের পরই কিছু সময়ের জন্য সাধারণত ৩০ মিনিটের একটা বিরতি হয়। এই বিরতির মধ্যে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। বিরতির মাঝে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পর সংসদের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। সেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী নবনির্বাচিত স্পিকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সভাপতিমন্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পর আবারো একটি বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির ও শপথের পর আবারো বৈঠক শুরু হয়। সেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী নবনির্বাচিত স্পিকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অধ্যাপক মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "অনেক সময় একই দিনে স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে থাকে। তাদের দুইজনকেই একই দিনে একই সাথে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি"। তবে এবার একই দিনে ডেপুটি স্পিকারের শপথ নাও হতে পারে বলেও মনে করছেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এই শিক্ষক।   গুরুত্বপূর্ণ অংশ; রাষ্ট্রপতির ভাষণ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতির ভাষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। স্পিকার/ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের অধিবেশন শুরু হবে। অধ্যাপক মহিউদ্দিন তার বইয়ে লিখেছন, 'প্রথম দিনেই বিরতির পর রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করলে সংসদের স্পিকার ও সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং একই সময়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত শেষে স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি উভয়ে আসন গ্রহণ করেন'। উভয়ের আসনগ্রহণ শেষে সংবিধানের ৭৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আহবান জানান। প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেন সেই ভাষণ হয় লিখিত। আগে থেকেই সেই ভাষণ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণে যেমন নতুন সরকারের বক্তব্য থাকে। তেমনি বিগত শাসনামলের বিস্তারিত বিষয়বস্তু যুক্ত থাকে বলে জানান সংসদ বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এই বক্তব্য মূলত বিগত শাসনমালের নানা বিষয় যেমন যুক্ত থাকে তেমনি নতুন সরকার গঠন এবং এই সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়"। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে পুনরায় জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়, তখন স্পিকার এবং সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার পর সংসদের বৈঠক মূলতবি ঘোষণা করা হয় এবং এর মধ্য দিয়ে প্রথম বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়"। রাষ্ট্রপতির ভাষণের দুইটি কপি থাকে। একটি কপি থাকে লিখিত। যেই কপিটি প্রত্যেক সংসদ সদস্যের কাছে আগেই পৌঁছে দেওয়া আর। আর সংক্ষিপ্ত ভাষণের অংশটুকু প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য আকারে দেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে ওইদিনের মতো অধিবেশন শেষ হয়ে যায় বেশিরভাগ সময়। তবে ভাষণের দিন সাধারণত কোন ধরনের প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকে না"। ওই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়। এর ওপর জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নানা আলোচনা করে থাকেন বলেও জানান সংসদ গবেষকরা।   সংসদ পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগে জাতীয় সংসদের গঠন কার্যকাল, সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, অধিবেশন অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতি ও সংসদের বিশেষ অধিকারের বিষয়গুলো রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান কার্যপ্রণালি বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি, স্পিকারের রুলিং ও রীতি রেওয়াজ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। বিধি মোতাবেক কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সংসদ নেতার সাথে পরামর্শক্রমে স্পিকার যে ধরনের নির্দেশনা প্রদান করেন, সেই অনুসারে সংসদের প্রতিদিনের বৈঠকের জন্য 'দিনের কার্যসূচি বা অর্ডার অব দ্যা ডে তৈরি করা হয়। দিনের কার্যতালিকা স্পিকার কর্তৃক অনুমোদের পর জাতীয় সংসদের ওয়েব সাইটে তা প্রকাশ করা হয়। সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে তা প্রত্যেক সংসদ সদস্যের কাছে কার্যতালিকার প্রতিলিপি সরবারহ করা হয়। দিনের কার্যতালিকায় যে সব বিষয় অর্ন্তভূক্ত থাকে শুধুমাত্র সেসব বিষয়ই সম্পাদন করা যায়। তবে স্পিকারের অনুমোদন পেলে নতুন কোন কাজ 'সম্পূরক কার্যসূচি' জারি করার রীতিও প্রচলিত রয়েছে। অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন লিখিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ: কাঠামো, কার্যপদ্ধতি ও চর্চা বইয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিভাবে হয় সেই পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী স্পিকার কর্তৃক সংসদে পেশকৃত কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং সবশেষে সংসদ সদস্যদের ভোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সংসদে উত্থাপিত কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে বিতর্ক শেষ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম উপায় হলো কণ্ঠভোট। কণ্ঠভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ভোট গণনা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সেক্ষেত্রে বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কোনো প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণের জন্য কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এ বিষয়ে স্পিকার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে কণ্ঠভোট গ্রহণ করা হলে যাঁরা প্রস্তাবটির পক্ষে থাকেন তাঁরা 'হ্যাঁ' এবং যাঁরা বিপক্ষে থাকেন তাঁরা 'না' বলে হাত উত্তোলন করেন। গণনা শেষে স্পিকার হ্যাঁ-পক্ষ অথবা না-পক্ষ জয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। প্রস্তাব সম্পর্কিত স্পিকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো সদস্য আপত্তি না করলে স্পিকার পুনরায় দুইবার তাঁর ঘোষণা উচ্চারণ করেন, আর যদি আপত্তি করা হয় তবে স্পিকার 'বিভক্তি ভোট' কথাটি উচ্চারণ করেন।  

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
স্পিকারের চেয়ার বরাবর দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবার আরবি ক্যালিগ্রাফি স্থাপন করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

স্পিকারের আসনের ওপরে বসানো হলো কালেমা তাইয়্যেবার ক্যালিগ্রাফি

বাংলাদেশ বিমান। ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসীদের চাহিদায় ফের চালু হচ্ছে ঢাকা–ম্যানচেস্টার ফ্লাইট

ছবি : সংগৃহীত

নগর পরিকল্পনায় সবার কথা ভাবার আহ্বান গণপূর্ত মন্ত্রীর

0 Comments