আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পরিমার্জিত নির্ভুল পাঠ্যবই সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
তিনি বলেন, ‘২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যথাসময়ে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত জাতীয় জীবনে যার যতটুকু প্রাপ্তি ও অবদান রয়েছে, তা কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই প্রকৃত ইতিহাস বইয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।’
আজ সকালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কার্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা সচিব।
ইতিহাস বইয়ের পরিমার্জন ও নতুন কনটেন্ট সংযুক্তি সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা সচিব বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান যুক্ত করা হচ্ছে। মাধ্যমিকের সকল শ্রেণিতে ৭ নভেম্বর : ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ তথা ‘সিপাহী জনতার বিপ্লব’ সম্পর্কে বিবরণ যাচ্ছে। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট এবং ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের বিস্তারিত ঘটনাপ্রবাহ পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সচিব বলেন, একইসঙ্গে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিকের নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে তাঁর ঐতিহাসিক জোট গঠন, কারাবরণ, গৃহবন্দি দশা এবং রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্বদানের আপসহীন ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব জানান, বিশেষ করে মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান এবং স্বাধীনতার ঘোষণার বিস্তারিত বিবরণসহ মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তা যুক্ত করা হচ্ছে।
শিক্ষা সচিব সাংবাদিকদের আরো জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যেন কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সেজন্য এনসিটিবি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ‘এনসিটিবি’র বিশেষজ্ঞরা এই রোডম্যাপ অনুযায়ী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। চলতি মাসের মধ্যেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত বই চূড়ান্ত করা, বই বাছাই এবং বইয়ের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। এই কর্মযজ্ঞ সফল করার পথে যদি কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকে, তবে মন্ত্রণালয় তা দূর করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’
শিক্ষা সচিব বলেন, ‘অতীতে যারা খারাপ কাজ করেছে বা শেষ মুহূর্তে এসে নিম্নমানের বই দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের এ বছর বই ছাপার কাজ দেওয়ার আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা (ট্রান্সপারেন্সি) নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
পর্যালোচনা সভায় এনসিটিবি চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের অন্যান্য সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পরিমার্জিত নির্ভুল পাঠ্যবই সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। তিনি বলেন, ‘২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যথাসময়ে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত জাতীয় জীবনে যার যতটুকু প্রাপ্তি ও অবদান রয়েছে, তা কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই প্রকৃত ইতিহাস বইয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।’ আজ সকালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কার্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা সচিব। ইতিহাস বইয়ের পরিমার্জন ও নতুন কনটেন্ট সংযুক্তি সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা সচিব বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান যুক্ত করা হচ্ছে। মাধ্যমিকের সকল শ্রেণিতে ৭ নভেম্বর : ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ তথা ‘সিপাহী জনতার বিপ্লব’ সম্পর্কে বিবরণ যাচ্ছে। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট এবং ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের বিস্তারিত ঘটনাপ্রবাহ পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সচিব বলেন, একইসঙ্গে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিকের নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে তাঁর ঐতিহাসিক জোট গঠন, কারাবরণ, গৃহবন্দি দশা এবং রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্বদানের আপসহীন ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব জানান, বিশেষ করে মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান এবং স্বাধীনতার ঘোষণার বিস্তারিত বিবরণসহ মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তা যুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষা সচিব সাংবাদিকদের আরো জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যেন কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সেজন্য এনসিটিবি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এনসিটিবি’র বিশেষজ্ঞরা এই রোডম্যাপ অনুযায়ী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। চলতি মাসের মধ্যেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত বই চূড়ান্ত করা, বই বাছাই এবং বইয়ের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। এই কর্মযজ্ঞ সফল করার পথে যদি কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকে, তবে মন্ত্রণালয় তা দূর করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’ শিক্ষা সচিব বলেন, ‘অতীতে যারা খারাপ কাজ করেছে বা শেষ মুহূর্তে এসে নিম্নমানের বই দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের এ বছর বই ছাপার কাজ দেওয়ার আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা (ট্রান্সপারেন্সি) নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ পর্যালোচনা সভায় এনসিটিবি চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের অন্যান্য সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ডিজাইন, প্রশিক্ষণ ও পাইলটিং শেষে ২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন কারিকুলাম। আগামী এক বছরের মধ্যে ডিজাইন সম্পন্ন করা হবে। নতুন কারিকুলামে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে। আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ময়মনসিংহ, আয়োজিত প্রাথমিক স্তরের ভাষার দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রমের বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এখন প্রাথমিক শিক্ষার মাপকাঠি হবে শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শিখিয়ে বের করতে পারছি। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মূল্যায়িত করা হবে সকল কর্মকর্তাদের। এতে উন্নত ওয়াশরুম এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ভাষা, গণিত, সিটি এডুকেশন এবং একই সঙ্গে স্পোর্টস, কালচার এই ভিত্তিতে আমরা নতুন কারিকুলাম শিখাচ্ছি। এই নতুন কারিকুলাম ক্লাসরুমে আবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিন থেকে প্রত্যেকটা স্ট্রাকচার হবে, শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শেখাতে পারলাম, তার ওপর ভিত্তি করে। এসময় নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। যাতে করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সারা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ করে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার সকালে কালকিনি উপজেলার সিডি খান ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে চরফতে বাহাদুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খোকন তালুকদার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রাণ। তাকে নিয়ে আমাদের বিরোধী বন্ধুরা অহেতুক সমালোচনা করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তারেক রহমানকে যদি বিতর্কিত করতে চান তাহলে আমরা মনে করবো আপনারা বাংলাদেশকে বিতর্কিত করলেন এবং আপনারা বাংলাদেশের শত্রু। এসময় সিডি খান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরদার, পৌর বিএনপির সাধারণ কামাল হোসেন বেপারী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হাওলাদার, যুবদল নেতা মামুন শিকদারসহ বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।