বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ, ঘটনাবহুল ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের নেতৃত্ব আজ তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিল। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে থাকা এই নেত্রীর রাজনৈতিক জীবন কেবল একটি দলের নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দেশের রাজনৈতিক ধারা, বিরোধী আন্দোলন ও ক্ষমতার পালাবদলে তার ভূমিকা ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর এক চরম অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে খালেদা জিয়া সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজপথের নেতৃত্বে উঠে আসা তার এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংকটকালে দায়িত্ব নেওয়ার সাহস, আপসহীন অবস্থান এবং সংগঠক হিসেবে দক্ষতাই তাকে সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত করেছিল।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পরের বছর ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন এবং একই বছরের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সেই সময় থেকে টানা ৪১ বছরের বেশি সময় তিনি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন।
তার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আলোচনায় আসেন। তার রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি যেসব সংসদীয় আসনে অংশগ্রহণ করেছেন, প্রতিটিতেই জয়ী হয়েছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খালেদা জিয়ার অবস্থান ছিল শক্তিশালী। নারী শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে তার বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা পায়। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় স্থান করে নেন, যা তাকে বৈশ্বিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করে।
তবে তার রাজনৈতিক জীবন কেবল সাফল্যে ভরা ছিল না; বরং তা ছিল সংগ্রাম ও অগ্নিপরীক্ষায় পূর্ণ। ক্ষমতার বাইরে থাকার সময়ে তাকে দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়, যা তার জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। করোনা মহামারির সময় নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করা হয় এবং তিনি গুলশানের বাসভবনে শর্তসাপেক্ষে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি পান।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান এবং টানা ১১৭ দিন চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকেই বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন এবং একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। শেষ পর্যন্ত আজ ভোর ৬টায় তার মৃত্যুতে থেমে যায় চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পথচলা।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তার নেতৃত্ব, সংগ্রাম, অর্জন ও বিতর্ক—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে থাকবেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। ভবিষ্যতেও তার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন চলতে থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রোববার (২৪ মে) চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং রোববার চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি চার্জশিট প্রস্তুত করছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিএনএসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন পরীক্ষা করছেন। গতকাল শনিবার রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পান তদন্তকারী কর্মকর্তা। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে সব ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২১ মে রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আগামী রোববারের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে এক কর্মশালায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের আগে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে, ঈদের পরপরই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। রামিসার পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ষণ মামলাগুলোও সরকার পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।
নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলির ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতির মধ্যে একটি পুলিশভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এ সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। একই সঙ্গে শিশুটিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ির পথরোধ করে। রাত ১১টা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। এ সময় সড়কে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বলেন—“ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে আটক করেছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে থানায় আনার পথে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়।” ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিম্ন আদালতের ১৫ জন বিচারককে সচিবালয় থেকে সরিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করেছে সরকার। একইসঙ্গে সচিবালয়ের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করে জানায়, এই ১৫ বিচারককে ১০ এপ্রিল থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তটি রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্ট দিয়ে কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ ১০ এপ্রিল থেকেই তাদের সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় থেকে সরিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক, যাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শেখ আশফাকুর রহমানও রয়েছেন। বাকি ৫ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। এরপর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন, যার লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে এনে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওই ১৫ জন বিচারকসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে গত ২ এপ্রিল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কয়েকটি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে মোট ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিতের সুপারিশ করে, যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশও ছিল। পরদিন ৩ এপ্রিল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা করা হবে এবং সংশোধনের পর সেগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, এসব অধ্যাদেশ পুরোপুরি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি, বরং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শের জন্য সময় নেওয়া হচ্ছে।