জাতীয়

২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করল কেয়ার বাংলাদেশ

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ লাখ ৪৫ হাজার যুব নারী ও পুরুষের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো।


বুধবার রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) আয়োজিত ‘ইয়ুথ অ্যান্ড এমপ্লয়ার্স মিট’-এ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।


এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে নেই (নিট) এমন যুবদের কারিগরি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সামাজিক-আবেগিক দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য তাদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়ানো। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আর্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ জন্য শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুবদের প্রয়োজনীয় দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তিনি , বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 


আর্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কাজী মোকলেছুর রহমান বলেন, দক্ষতা প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে কর্মসংস্থান ও আয়মুখী উদ্যোগ। যুবদের  দক্ষতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ থেকে কর্মজগতে তাদের প্রবেশ সহজ করতে প্রকল্পটি কাজ করছে বলে জানান তিনি।  কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রশিক্ষণকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে। 


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার।  তিনি বলেন, আর্ন শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; এটি যুবদের সম্ভাবনাকে টেকসই জীবিকার সুযোগে রূপান্তরের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি হিসেবে কাজ করবে।


বিশ্বব্যাংকের ইমপ্লিমেন্টেশন স্পেশালিস্ট রওনক জাহান যুব নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।


অনুষ্ঠানে যুব ও নিয়োগদাতারা একসঙ্গে দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে আলোচনা করেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন, তা তুলে ধরেন নিয়োগদাতারা। অন্যদিকে চাকরি খোঁজা, কর্মজীবনে প্রবেশ এবং ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা জানান যুব অংশগ্রহণকারীরা।


‘ইয়ুথ টেক দ্য মাইক’, ‘এমপ্লয়ার্স কনভারসেশন’ ও ‘ইয়ুথ ক্যাফে’সহ বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক পর্ব ও প্যানেল আলোচনায় প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সহায়তা এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ কীভাবে যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন যুব প্রতিনিধি ও অংশগ্রহণকারীরা।


আর্ন প্রকল্পটি কেয়ার বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে তার যৌথ অংশীদার সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি), দ্য আর্থ সোসাইটি, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), জাগো ফাউন্ডেশন, মিরপুর অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুল (এমএডব্লিউটিএস), তাহজিংডং, আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেপ) বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সঙ্গে। প্রকল্পটি রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত হবে।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর–প্রোগ্রামস এমেবেট মেন্না; কেয়ার ইউএসএ-এর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার, ইয়ুথ স্কিলিং সারা জনসন; কেয়ার বাংলাদেশের ডিরেক্টর–কোঅর্ডিনেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ আমানুর রহমান; প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী; ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মুর্তজা আলী; মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী; এবং ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. কাওসার উদ্দিন চৌধুরী। 


ফটো ক্যাপশন : আর্ন প্রকল্পের আওতায় কেয়ার বাংলাদেশ ও অংশীদার সংস্থাগুলোর যুব দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পথে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।   এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং রমজানে সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। আমদানির পাইপলাইনে থাকা পণ্যের পরিমাণ বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট।   তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, রমজানের আগে, চলাকালে কিংবা পরে বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।   তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।   আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের কোনো সমস্যার কথা এখন পর্যন্ত জানাননি বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।   তবে কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন বা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   মন্ত্রী জানান, আলোচনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।   স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।   তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬

শুধু সার্টিফিকেট নয়, দক্ষতার জন্যই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করল কেয়ার বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেশ: জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহি করতে হবে সরকারকে: মঞ্জু

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিক ও আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদে মোট ৫ হাজার ৬৯০ শব্দ রয়েছে। অথচ এই সনদের কতটুকু বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়নি। তার অভিযোগ, সরকার এখনো সনদের একটি অক্ষরও কার্যকর করেনি।   তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, তা অগ্রাহ্য করার সুযোগ কোনো সরকারের নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে সরকারকে একসময় রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।   ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল অস্বীকারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার পরিণতি অতীতেও ভয়াবহ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান সরকারের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।   তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারের অবস্থানও ইতিহাসে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের মতো নেতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হতে পারে।   মঞ্জু আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কোন ভাষায় প্রতিবাদ করলে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন না, আবার কোন কর্মসূচি গ্রহণ করলে কার্যকর বিরোধিতাও নিশ্চিত হবে—তা নিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   তার অভিযোগ, সরকারের সমালোচনার কারণে রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি ও আক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন বরাদ্দ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।   মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক পথে এগোচ্ছে না। বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।   মেজর আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা দায়েরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।   বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে দিলারা চৌধুরী বলেন, কার্যকর বিরোধিতা ছাড়া গণতান্ত্রিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শুধু ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার অপেক্ষায় থেকে দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিবাদ করলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।   পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি।   এ ছাড়া উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে দিলারা চৌধুরী বলেন, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।   ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা। কিন্তু সংস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সাইবার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন সাইবার আইন কার্যকর হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তার মতে, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সাধারণ মানুষের স্বার্থেই জরুরি।   সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরেও নতুন গণআন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।   এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য।   তিনি বলেন, সরকার চাইলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দিতে পারে না। অতীতে গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা দেশের মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।   ফুয়াদ অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি।   জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।   তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে মীমাংসিত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, এ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয়।   তিনি আরও বলেন, অতীতে গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাইবার আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপে বিএনপিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই ক্ষমতায় এসে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান তিনি।   জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   অতীতে বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পুরো জাতিকে বহন করতে হয়েছিল।   জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিএনপির বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান সরোয়ার তুষার।   মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে অঙ্গীকার করেছিল। গণভোটের মাধ্যমে জনগণও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।   তার মতে, সেই রায় উপেক্ষা করা হলে তা জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।   তিনি বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংস্কারের অভাব দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রয়োজন।   অর্থবহ সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন।   সভায় বক্তারা গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদের প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা নাহিদের, এককভাবে লড়বে এনসিপি

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ : প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

ইনডেমনিটি আইন করে বিদ্যুৎ খাতে নয়-ছয় করেছে আওয়ামী লীগ সরকার : রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইনডেমনিটি আইন করে বিদ্যুৎ খাতে হযবরল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নয়-ছয় করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।   আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   রিজভী বলেন, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। গণমাধ্যম প্রতিটি খাতের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারে। এতে সরকারে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং সরকার আরও বেশি স্বচ্ছ হয়ে উঠে।   বিদ্যুৎ সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে। ধীরে ধীরে সংকট কাটতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।   রিজভী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অন্ধকার কখনো চিরস্থায়ী হয় না। অন্ধকারের পর আলো আসার সম্ভাবনা সব সময়ই থাকে।’ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনেও এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ও সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ এবং নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।   গণসংলাপে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ সম্পর্কে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রবন্ধের লেখক একতরফাভাবে নিজের বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করেননি। বরং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজের গবেষণাকে প্রশ্ন করার যথেষ্ট সুযোগ রেখেছেন। শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশ্ন করতে শেখা। পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে। প্রশ্ন করার প্রবণতাই মানুষকে আজকের সভ্যতার পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।   তিনি জানান, প্রবন্ধে বিদ্যুতের ব্যবহারকে দারিদ্র্য নিরূপণের একটি সূচক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন। কারণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কোথাও বিদ্যুৎ পৌঁছালেও সব পরিবার সমানভাবে এ সুবিধা ভোগ করতে পারছে না।   শহরের বস্তি এলাকাগুলোতেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। সেখানে অনেক দরিদ্র পরিবার বিদ্যুতের সংযোগ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। পরিবারের একজন ঘুমালে অন্যজন পড়াশোনা করে। আবার একজনের পড়াশোনা শেষ হলে অন্যজন সেই আলোয় পড়তে বসে। অনেক মা-বাবা নিজেরা নানা কষ্টের মধ্যে থেকেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কখনো বিদ্যুতের অভাবে সন্তানদের হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হয়।   রিজভী বলেন, এসব বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়, বিদ্যুতের সংযোগ থাকা আর পর্যাপ্তভাবে বিদ্যুৎ-সুবিধা ভোগ করা এক বিষয় নয়। তবে এ ধরনের গবেষণা ও উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। কারণ, কোনো বিষয়কে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা এবং প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোই জ্ঞানচর্চাকে এগিয়ে নেয়।   ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এবং সাংবাদিক কাজল শহীদ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গুলিস্তান-সদরঘাট ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

0 Comments