সর্বশেষ

১২ হাজার কোটির দাবিতে কেন থামল ৫১২ কোটিতে

Unknown জানুয়ারী ৩১, ২০২৬

২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত। বিদেশি কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসের অবহেলায় ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয়, পরিবেশগত ক্ষতি, কৃষিজমি ধ্বংস এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়।

ঘটনার পরপরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে নানা হিসাব সামনে আসে, যেখানে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নে ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে দীর্ঘ দুই দশক আইনি লড়াই শেষে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ে বাংলাদেশ যে ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে, তার পরিমাণ মাত্র ৫১২ কোটি টাকা—এই ব্যবধানই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল পার্থক্যের পেছনে একাধিক আইনি ও প্রক্রিয়াগত কারণ কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে শুধু সম্ভাব্য ক্ষতি নয়, বরং প্রমাণিত আর্থিক লোকসান, চুক্তির শর্ত, দায় নির্ধারণের সীমা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আইনের কাঠামো কঠোরভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়। টেংরাটিলা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পক্ষ যে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেছিল, তার বড় অংশই ছিল ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ক্ষতি, পরিবেশগত প্রভাব ও পরোক্ষ আর্থিক লোকসানের হিসাব, যা আন্তর্জাতিক সালিসে সরাসরি ক্ষতিপূরণের আওতায় পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি।


আইন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইকসিডের রায়ে মূলত গ্যাস অপচয়ের সরাসরি আর্থিক মূল্য, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যয়ের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস, কৃষি ও জীবিকাগত ক্ষতির মতো বিষয়গুলো স্বীকৃতি পেলেও, সেগুলোর আর্থিক মূল্যায়ন প্রমাণের ঘাটতির কারণে বড় অঙ্কে নির্ধারিত হয়নি। পাশাপাশি, নাইকোর সঙ্গে করা চুক্তিতে দায় ও ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতা থাকাও রায়ের অঙ্ক কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। বিস্ফোরণের পরপরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া হলে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন করা গেলে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ভিন্ন হতে পারত—এমন মত দিচ্ছেন জ্বালানি ও আইন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলার ফলে প্রমাণ সংগ্রহ, ক্ষতির পরিমাণ যাচাই এবং দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পক্ষ কিছুটা দুর্বল অবস্থানে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তবে এই রায়কে পুরোপুরি পরাজয় হিসেবেও দেখছেন না অনেকে। কারণ, নাইকোর পাল্টা দাবি ও সম্ভাব্য বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত মুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সালিসে রাষ্ট্রের পক্ষে রায় আসা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হওয়াকে একটি কূটনৈতিক ও আইনি সাফল্য হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা, কঠোর দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে নিয়ে এসেছে।

 টেংরাটিলা ট্র্যাজেডির বিচার শেষ হলেও বিতর্ক শেষ হয়নি। ১২ হাজার কোটির দাবির বিপরীতে ৫১২ কোটির ক্ষতিপূরণ কেন—এই প্রশ্ন আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি নীতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ঢাকা দায়রা জজ আদালত, ঢাকা। ছবি : সংগৃহীত
বিদেশযাত্রার অনুমতি মিলল বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের স্ত্রী-ছেলের

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও ছেলে সাফওয়ান সোবহান বিদেশযাত্রায় তিন মাসের অনুমতি পেয়েছেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির আবেদনটি মঞ্জুর করেন।   সোমবার (৬ জুলাই) দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।   এর আগে রোববার (৫ জুলাই) বিদেশযাত্রায় অনুমতি চেয়ে তাদের পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী এনামুল হক সর্দার। পরে তাদের পক্ষে আইনজীবী মামুন চৌধুরী শুনানি করেন। অন্যদিকে বিরোধিতা করে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম, আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি ও আইনজীবী তরিকুল ইসলাম। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনায় আদেশের জন্য অপেক্ষায় রাখেন বিচারক।   শুনানিতে দেলোয়ার জাহান রুমি বলেছেন, বিদেশযাত্রার অনুমতির আবেদনের বিরুদ্ধে আমরা ঘোর বিরোধিতা করে সকল তথ্য উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করি।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। ওই সময় তৎকালীন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। একই আদালতে গত ১৯ মে সাফওয়ান সোবহান, আফরোজা বেগম ও সাবরিনা সোবহানের বিদেশাগমনের শুনানি হয়। তবে সাফওয়ান ও আফরোজের বিরুদ্ধে দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদনে মানিলন্ডারিংয়ের সুস্পষ্ট তথ্য থাকায় তাদের বিদেশ গমের অনুমতি নামঞ্জুর করা হয়। ওইদিন সাবরিনা সোবহানের এক মাসের বিদেশযাত্রায় অনুমতি দেন। এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে আফরোজা ও সাফওয়ান হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ২২ জুন ওই আবেদন নটপ্রেস রিজেক্ট হয়।   জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানসহ তার পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন৷ শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।   নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর, রূপান্তরসহ মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনের অপরাধের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জন্য দুদক অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। তারা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন। এ জন্য তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শাহজালালে মানবপাচার-চোরাচালানে ‘ভেতরের লোক’, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

এআইয়ের ধাক্কায় মাইক্রোসফটে বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৪৮০০ কর্মী

সার্ক বাংলাদেশের ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শিশু জন্মের পরই পাবে আইডি, মিলবে মৃত্যু পর্যন্ত সুবিধা

জন্মের পর একটি শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি। সেই একটিমাত্র আইডির মাধ্যমেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। নাগরিককে আর আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার একই তথ্য জমা দিতে হবে না।   প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। একজন নাগরিক একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই সব ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।   প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।    এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে।   যদিও কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থা পরিচালিত হবে।   বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়ান্স) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।   সম্প্রতি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। এর আওতায় ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।   সূত্র: বাংলানিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সোহেল তাজের স্ট্যাটাস

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরায় কোনো আইনি বাধা নেই, বললেন চিফ প্রসিকিউটর

কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর। ছবি: সংগৃহীত
কেপ ভার্দে ভ্রমণে বাংলাদেশিদের কি আগাম ভিসা লাগবে?

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৬তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ সূচক বলছে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। সেই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের নামও। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু কেপ ভার্দে ভ্রমণ করতে চাইলে বাংলাদেশিদের জন্য বাস্তবতা এখন ভিন্ন।   দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের নাগরিকদের কেপ ভার্দের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ, ট্রানজিট কিংবা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির আগে অবশ্যই ভিসা নিতে হবে। অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকেরা আগাম ভিসা ছাড়া কেপ ভার্দে যেতে পারবেন না। প্রয়োজনীয় ভিসা ছাড়া দেশটিতে পৌঁছালে প্রবেশ, ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।   সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে নিজ দেশের নিকটতম কেপ ভার্দের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।   এতে স্পষ্ট হয়েছে, হেনলি পাসপোর্ট সূচকে কেপ ভার্দেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য হিসেবে দেখানো হলেও দেশটির কার্যকর ভিসানীতি এখন ভিন্ন। পর্যটকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে হেনলি সূচক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির পরিবর্তন সেখানে হালনাগাদ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।   বাংলাদেশে কেপ ভার্দের কোনো দূতাবাস নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।   এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে পর্যটক কাজী আসমা আজমেরীর। ২০২৪ সালে কেপ ভার্দে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে তিনি সেনেগালে অবস্থানকালে সেখানকার কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ছয় মাসমেয়াদি ভিসা নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সফর আর বাস্তবায়ন হয়নি।   আসমা আজমেরী বলেন, ‘আমার মালি হয়ে কেপ ভার্দে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মালিতে গিয়ে আটকে যাই। জ্বালানিসংকটের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। কয়েক দিন মালিতে অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে কেপ ভার্দে যাওয়া বাতিল করি। তবে আবার যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।’   আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্র আয়তনে ছোট হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, ক্রেওল সংস্কৃতি ও সংগীতের জন্য দেশটি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।   বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। সাধারণত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে প্রথমে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় গিয়ে সেখান থেকে সেনেগাল হয়ে কেপ ভার্দে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে ট্রানজিট নিয়েও দেশটিতে ভ্রমণ করা সম্ভব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর | ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের মুসলিমদের জীবনযাপন কেমন চলছে?

ছবি: সংগৃহীত

ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি, উড্ডয়নের পর ফিরে এলো নভোএয়ারের ফ্লাইট

ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপিতে ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তার রদবদল, নতুন দায়িত্বে পদায়ন

0 Comments