সারাদেশ

১০৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রক্ষায় ডিএনসিসির কমিটি গঠন

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৫, ২০২৬

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরগুলোতে নাগরিকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং এসব স্থাপনার সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকির লক্ষ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশান নগরভবনে অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির ১৩তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির মুখপাত্র জোবায়ের হোসেন।

তিনি বলেন, সভায় জানানো হয় ডিএনসিসির আওতাধীন ৫২টি ওয়ার্ডে অবস্থিত মোট ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর সঠিকভাবে পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না সেটি নিয়মিতভাবে তদারকির জন্য এই স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

সভায় এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা শহরের পার্ক ও খেলার মাঠগুলো ভিন্ন ভিন্ন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। মাঠ ও পার্কের অব্যবস্থাপনা এবং দখলের অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ভিন্ন মালিকানা। তাই সব পার্ক ও খেলার মাঠ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে এসব পার্ক ও মাঠের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য এই স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই কমিটি প্রতি মাসে একবার পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরগুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কর্পোরেশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি এসব পার্ক ও মাঠের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে এবং সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে কোনো ক্লাব বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেন পার্ক, মাঠ ও গণপরিসর দখল করতে না পারলে সেটিও এই কমিটি তদারকি করবে।

বোর্ড সভার নির্ধারিত আলোচনায় জানানো হয়, ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মাঠ, পার্ক ও গণপরিসর চিহ্নিত করতে একটি সার্ভে পরিচালনা করা হয়।

ওই সার্ভেতে দেখা যায়, ডিএনসিসির আওতায় মোট ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর রয়েছে। বর্তমানে ডিএনসিসির আওতাধীন এই ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরের মধ্যে সরাসরি ডিএনসিসির মালিকানায় রয়েছে ৩৭টি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানায় রয়েছে ১৭টি এবং অবশিষ্ট পার্ক, মাঠ ও গণপরিসরগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মালিকানাধীন। এছাড়া কিছু মাঠ ও গণপরিসর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বোর্ড সভায় স্টিয়ারিং কমিটিতে সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), জেলা প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমিনুর রসুল, জাকিয়া শিশির, মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মো. হাফিজুর রহমান ময়নাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে ওই এলাকার প্রতিটি পার্ক ও খেলার মাঠ স্থানীয়দের সমন্বয়ে নাগরিক কমিটি ও সোসাইটির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এ কমিটি পার্ক, মাঠগুলোতে অবাধ প্রবেশ, নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। স্টিয়ারিং কমিটি এসব আঞ্চলিক কমিটির মাধ্যমে মাঠ ও পার্কগুলোর কার্যক্রম তদারকি করবে।

এছাড়া নগরীর কিছু খেলার মাঠ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের মালিকানাধীন হওয়ায়, সেসব মাঠ বিকেলে যেন স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে স্টিয়ারিং কমিটি।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর তৃতীয় তপশিলের ২৪ অনুচ্ছেদ এবং সপ্তম তপশিলের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও উদ্যান সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএনসিসির আওতাধীন হলেও ডিএনসিসির মালিকানাভুক্ত নয় এমন পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় সমাজসেবক/প্রতিনিধি এবং ডিএনসিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। যাতে এসব পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর সব নাগরিকের ব্যবহারের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৭৩০

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ এক দিনে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের; একজন করে মারা গেছে সিলেট ও রংপুর বিভাগে।      স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সংক্রামক এ ব্যাধির লক্ষণ নিয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৩০ জনে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর ৯৯২ জনের শরীরে এই রোগের উপসর্গ দেখা গেছে। গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪১৫ জন।     সরকার ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তখন থেকে হিসাব ধরলে, গেল প্রায় সাড়ে চার মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরে আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৭ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯০, চট্টগ্রামে ৫৭, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে। দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গের রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ জন। এর মধ্যে এক লাখ তিন হাজার ৪৬৭ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। দেশে হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫। আর হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের শিক্ষিকার গান নিয়ে বিতর্ক, ‘গান গাওয়া অন্যায় নয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

শাহ আলী মার্কেট থেকে ২৭০ ভরি স্বর্ণ চুরি, উধাও পাঁচ প্রহরী

ছবি : সংগৃহীত

ফেনী সীমান্তে চারজনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত
ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, জীবিত উদ্ধার নারী

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী কুমিল্লা ফেরি থেকে মাঝ পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।    চার ঘণ্টা পর রাজবাড়ীর পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের কবিরপুর চরের কিনারা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।    উদ্ধারকৃত ওই নারীর নাম লাইজু আক্তার (৩৯)। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে।   ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।   শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়াগামী ফেরি কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটে।   দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আমাদের জানালে আমরা নিশ্চিত হই। বর্তমানে তিনি স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে সুস্থ অবস্থায় আছেন এবং তার কাছে ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা যাচ্ছেন।    ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, পদ্মা নদীতে থাকা কচুরিপানার সঙ্গে ভাসতে ভাসতে কবিরপুর চরে আটকে পড়েন ওই নারী। এ সময় স্থানীয়রা দেখে আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে হেফাজতে রাখি। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। আমরা তার বিষয়টি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ, ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি পুলিশকে জানিয়েছি।   ফেরি কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার বলেন, পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে তাদের ফেরিটি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝ নদীতে দৌলতদিয়ার লাল বয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারি যে, এক নারী ফেরির পেছন দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফেরিটি থামিয়ে ও ঘুরিয়ে ওই এলাকায় আলো ফেলে খোঁজাখুঁজি শুরু করি এবং সংশ্লিষ্টদের সংবাদটি জানাই। ওই নারী ফেরিতে একাই ছিলেন।     প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, আটক ৭

ছবি: সংগৃহীত

এমপি নজরুলের একের পর এক ভিডিও, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে ইয়াবাসহ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আটক

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের নালা থেকে উদ্ধার ১ হাজার ৩৫০ বুলেট

চট্টগ্রামে নগরীতে একটি নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক হাজার ৩৫০টি বুলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন নালা থেকে এসব বুলেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং এক হাজার ২৩০টি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বুলেটগুলো সামনের অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুলেটগুলো পরীক্ষার জন্য রোববার বিশেষজ্ঞ টিমের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।     পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নালা পরিষ্কারের সময় একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তাটি ভারি হওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে বস্তাটি খুলে বিপুল পরিমাণ বুলেট দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি বুলেটগুলো জব্দ করে।   প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া বড় বুলেটগুলো একে-৪৭সহ ভারি অস্ত্রে ব্যবহৃত হয় এবং ছোট বুলেটগুলো রাইফেল এবং এসএমজি জাতীয় অস্ত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে।    বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি বুলেটের দুইটি অংশ থাকে। যেটি অস্ত্র থেকে বের হয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে, সেটি সামনের অংশ এবং অপরটি খোশা। উদ্ধার হওয়া বুলেটগুলো মূলত সামনের অংশ। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। বুলেটগুলোর ধরন এবং ব্যবহৃত কিনা এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোববার বিশেষজ্ঞ টিম আসার কথা রয়েছে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬
কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। ছবি : সংগৃহীত

গোপনে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন তৌহিদ আফ্রিদি

ছবি - সংগৃহীত

রাজধানীতে গ্যাসের সংকট: সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, বিপাকে চালকেরা

ছবি - সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে ৩৬ দিন ভেসে থাকার পর উদ্ধার দুই শ্রীলঙ্কান জেলে

0 Comments