সারাদেশ

১০৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রক্ষায় ডিএনসিসির কমিটি গঠন

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৫, ২০২৬

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরগুলোতে নাগরিকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং এসব স্থাপনার সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকির লক্ষ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশান নগরভবনে অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির ১৩তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির মুখপাত্র জোবায়ের হোসেন।

তিনি বলেন, সভায় জানানো হয় ডিএনসিসির আওতাধীন ৫২টি ওয়ার্ডে অবস্থিত মোট ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর সঠিকভাবে পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না সেটি নিয়মিতভাবে তদারকির জন্য এই স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

সভায় এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা শহরের পার্ক ও খেলার মাঠগুলো ভিন্ন ভিন্ন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। মাঠ ও পার্কের অব্যবস্থাপনা এবং দখলের অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ভিন্ন মালিকানা। তাই সব পার্ক ও খেলার মাঠ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে এসব পার্ক ও মাঠের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য এই স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই কমিটি প্রতি মাসে একবার পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরগুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কর্পোরেশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি এসব পার্ক ও মাঠের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে এবং সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে কোনো ক্লাব বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেন পার্ক, মাঠ ও গণপরিসর দখল করতে না পারলে সেটিও এই কমিটি তদারকি করবে।

বোর্ড সভার নির্ধারিত আলোচনায় জানানো হয়, ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মাঠ, পার্ক ও গণপরিসর চিহ্নিত করতে একটি সার্ভে পরিচালনা করা হয়।

ওই সার্ভেতে দেখা যায়, ডিএনসিসির আওতায় মোট ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর রয়েছে। বর্তমানে ডিএনসিসির আওতাধীন এই ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরের মধ্যে সরাসরি ডিএনসিসির মালিকানায় রয়েছে ৩৭টি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানায় রয়েছে ১৭টি এবং অবশিষ্ট পার্ক, মাঠ ও গণপরিসরগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মালিকানাধীন। এছাড়া কিছু মাঠ ও গণপরিসর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বোর্ড সভায় স্টিয়ারিং কমিটিতে সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), জেলা প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমিনুর রসুল, জাকিয়া শিশির, মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মো. হাফিজুর রহমান ময়নাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে ওই এলাকার প্রতিটি পার্ক ও খেলার মাঠ স্থানীয়দের সমন্বয়ে নাগরিক কমিটি ও সোসাইটির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এ কমিটি পার্ক, মাঠগুলোতে অবাধ প্রবেশ, নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। স্টিয়ারিং কমিটি এসব আঞ্চলিক কমিটির মাধ্যমে মাঠ ও পার্কগুলোর কার্যক্রম তদারকি করবে।

এছাড়া নগরীর কিছু খেলার মাঠ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের মালিকানাধীন হওয়ায়, সেসব মাঠ বিকেলে যেন স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে স্টিয়ারিং কমিটি।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর তৃতীয় তপশিলের ২৪ অনুচ্ছেদ এবং সপ্তম তপশিলের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও উদ্যান সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএনসিসির আওতাধীন হলেও ডিএনসিসির মালিকানাভুক্ত নয় এমন পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় সমাজসেবক/প্রতিনিধি এবং ডিএনসিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। যাতে এসব পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর সব নাগরিকের ব্যবহারের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা অঞ্চলে পাঁচ বছরে বন্ধ ১৮ জোড়া ট্রেন, বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি

কুমিল্লা অঞ্চলে একের পর এক ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি। গত পাঁচ বছরে লোকাল ও আন্তনগর মিলিয়ে বন্ধ হয়েছে ১৮ জোড়া ট্রেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য চালু করা চার জোড়া ডেমু ট্রেনও। ফলে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কুমিল্লা-লাকসামসহ আশপাশের রেলপথে বাড়ছে যাত্রীচাপ। বাধ্য হয়ে অনেকে বাড়তি খরচে সড়কপথে যাতায়াত করছেন।   অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় অর্থে কেনা কোটি টাকার ডেমু ট্রেন পড়ে আছে লাকসাম জংশনের লোকোশেডে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় ট্রেনটির শরীরজুড়ে মরিচা ধরেছে। নষ্ট হচ্ছে সিট, পাখা, ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কারিগরি সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের অভাবে অচল ডেমুগুলো মেরামত করে পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।   রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, একসময় কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে ২০ জোড়া এবং কুমিল্লা-ঢাকা ও কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে ৩৪ জোড়াসহ মোট ৫৪ জোড়া লোকাল ও আন্তনগর ট্রেন চলাচল করত। গত পাঁচ বছরে এর মধ্যে ১৮ জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া ট্রেনের মধ্যে রয়েছে চার জোড়া ডেমু।   বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে লোকাল ও আন্তনগর মিলিয়ে ৩৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এসব ট্রেনে যাত্রী চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পূরণ হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে বিকল্প হিসেবে সড়কপথ বেছে নিতে হচ্ছে।   লাকসাম লোকোশেডে পড়ে আছে কোটি টাকার ডেমু: ২০১২ সালে চীন থেকে ২০ সেট ডেমু ট্রেন আমদানি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব ট্রেন আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। দীর্ঘমেয়াদে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ ডেমু বিকল হয়ে পড়ে।   কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ ছিল চার সেট ডেমু। বর্তমানে চারটিই অচল। এর মধ্যে একটি পড়ে আছে লাকসাম জংশনের লোকোশেডে। তিন কোচ ও দুই ইঞ্জিনের এই ট্রেনটির বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় ভাঙাচোরা সিট, পাখা ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।   লাকসাম জংশনের লোকোশেড ইনচার্জের তথ্য অনুযায়ী, ডেমুটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণহীন অবস্থায় থাকায় এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।   ট্রেন কমেছে, বেড়েছে যাত্রীচাপ: কুমিল্লা অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন লাকসাম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা এই স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে লাকসামসহ আশপাশের স্টেশনগুলোর যাত্রীদের ওপর।   বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা আগে ডেমু ও লোকাল ট্রেনে তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াত করতেন। এসব ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেকেই আন্তনগর ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন। এতে আসনভিত্তিক টিকিটের ওপর চাপ বেড়েছে। অনেক সময় টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের ফিরে যেতে হচ্ছে।   কুমিল্লা স্টেশনে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাওয়া যাত্রী সুজন বলেন, ‘কুমিল্লা অঞ্চলে চলাচল করা লোকাল ও ডেমু ট্রেন বন্ধ হওয়ায় মানুষ বিপাকে পড়ছেন। আগে এসব ট্রেনে চড়ে স্বল্প সময়ে গন্তব্যে যাওয়া যেত। এখন ট্রেন সংকটের কারণে চাহিদামতো টিকিটও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সড়কপথে যেতে হচ্ছে।’   স্থানীয় সংবাদকর্মী আফরাতুল করিম রিমু বলেন, ‘একটি ট্রেন একসঙ্গে অনেক যাত্রী পরিবহন করতে পারে। কিন্তু এখন ট্রেন না থাকায় আমাদের বাসমুখী হতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলে ডেমু ট্রেন থাকলে আমরা অনেক সুবিধা পেতাম।’   চাঁদপুরে মেঘনা, নোয়াখালীতে উপকূল: চাঁদপুর ও নোয়াখালী রুট পুরোপুরি ট্রেনশূন্য নয়। চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে বর্তমানে মেঘনা এক্সপ্রেস এবং নোয়াখালী রুটে উপকূল এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন হিসেবে চলাচল করছে। কুমিল্লা-নোয়াখালী রুটে উপকূল এক্সপ্রেসের পাশাপাশি নোয়াখালী মেইলও চলাচল করছে।   তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব রুটে চলমান ট্রেনের সংখ্যা ও সেবার পরিমাণ যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য ডেমু ও লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। ফলে লাকসাম, কুমিল্লা ও আশপাশের স্টেশনগুলোতে চলমান ট্রেনগুলোতে বাড়ছে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ।   ৩০ কোটি টাকার সম্পদ পড়ে নষ্ট: সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, লাকসাম জংশনের লোকোশেডে পড়ে থাকা ডেমুটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় রাষ্ট্রীয় অর্থে কেনা মূল্যবান এই সম্পদ এখন নষ্টের পথে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ কারিগরি সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের অভাবে এসব ডেমু মেরামত করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে একদিকে যাত্রীরা সাশ্রয়ী ও দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থে কেনা মূল্যবান সম্পদও নষ্ট হচ্ছে।   টিকিট বিক্রিতে বড় অঙ্কের আয়: রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট চারটি রুটে গত অর্থবছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকার।   যাত্রীদের প্রশ্ন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ রেলপথে যাতায়াত করলেও চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন বাড়ানো হচ্ছে না কেন? বিশেষ করে লাকসাম জংশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ট্রেনের সংখ্যা না বাড়ালে ভবিষ্যতে যাত্রীচাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।   আসনভিত্তিক টিকিটের চাহিদা বেড়েছে তিনগুণ: কুমিল্লা স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনেক যাত্রী আন্তনগর ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন না। স্বল্প খরচে তারা ভ্রমণ করতে চান। ডেমুসহ লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে আসনভিত্তিক টিকিটের চাহিদা তিনগুণ বেড়েছে।’   লাকসাম জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘ডেমুগুলোতে আগে যথেষ্ট আর্নিং ছিল। ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি নতুন গাড়ির ব্যবস্থা করে, তাহলে যাত্রীদের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে।’   ডেমু চালু হলে কমবে ভোগান্তি: কুমিল্লা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, ‘ডেমুগুলো পুনরায় মেরামত করা হলে যাত্রীদের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে বলে মনে করি। এতে স্বল্প ব্যয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ আবারও তৈরি হবে।’   লাকসাম জংশনের লোকোশেড ইনচার্জ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডেমুটি নষ্ট। ডেমুগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও আমাদের সড়কপথ ব্যবহার করতে হয়। কুমিল্লা অঞ্চলের যাত্রীরা এতে কয়েকগুণ বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।’   যাত্রীদের দাবি, অচল ডেমুগুলো দ্রুত মেরামত করে চালু করার পাশাপাশি কুমিল্লা-লাকসাম অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হোক। এতে একদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাবি এলাকায় পরপর তিন ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন

সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের আগে ১৫ জনকে উদ্ধার

এনসিপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। ছবি: সংগৃহীত
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন গাজী সালাউদ্দিন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।   মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।   এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।   এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও তানভীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, কারামুক্তির পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তানভীরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।   জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরী পাড়া থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তানভীরকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন তাকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   পরবর্তী সময়ে বগুড়া জেলা কারাগারে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং এর মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।   তানভীরের শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে জামিন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নির্দেশের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। পরে আসামিপক্ষের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।   গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরের এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।   আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর প্যানিক ডিজঅর্ডার, তীব্র মাথাব্যথা ও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট কারাগারে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার তাগিদে আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিএসএফের হাতে আটক ৫ জন

আটক ৫ বাংলাদেশিকে আট দিনেও ফেরত দেয়নি বিএসএফ

ছবি: সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

ফাইল ছবি

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩

ফ্যামিলি কার্ড। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড চালুই হয়নি, আগেই ৫০০ টাকা

সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হওয়ার আগেই কুমিল্লার চান্দিনায় কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অসহায় ও দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অন্তত ৫৯ নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।   অভিযোগের তীর স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির দুই নেতার দিকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১৬ আগস্ট চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের প্রায় এক মাস পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীদের। পরে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের দেওয়া লিখিত অভিযোগের নথি সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না।   অভিযুক্তরা হলেন মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম এবং জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা আবুল হোসেন।   জোরপুকুরিয়া গ্রামের রাশিদা বেগম অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন তার এবং তার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেন। প্রায় দুই মাস পার হলেও কার্ড না পাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিভিন্ন কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়।   রাশিদা বেগম বলেন, পরে এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।   একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহানসহ কয়েকজন নারী। তাদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও তারা কোনো কার্ড পাননি।   অভিযোগকারী শামীম আহমেদ মজুমদার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট স্মারক নম্বরসহ ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।   তিনি আরও বলেন, প্রায় এক মাসেও অভিযোগের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবার ইউএনও কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি নথিতে নেই। বিষয়টি তাদের হতাশ করেছে।   তবে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, জোরপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের কথামতো ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। চান্দিনা সদরে যাতায়াত এবং অনলাইনে আবেদন করার খরচ হিসেবে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবুল হোসেনও টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনটি গ্রাম থেকে মোট ৫৯টি আবেদনের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা ও কাগজপত্র এখনো তার কাছে রয়েছে। যারা টাকা ফেরত চাইবেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।   চান্দিনায় এখনো ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, আগে কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে রাখা হয়েছে। কর্মসূচি চালু হলে তখন কার্ড দেওয়া হবে।   এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন মহিচাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, খোরশেদ আলম ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেও আবুল হোসেনের দলের কোনো পদ-পদবি নেই। তারা এ ধরনের কাজ করে থাকলে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অভিযোগের বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়ে থাকলে আবেদনটি দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজ টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সেলফি পরিবহণের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ।

সেলফি পরিবহনের ৬৪টি রুট পারমিটের বিপরীতে চলছে ১৭০টি বাস

সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: হুড়োহুড়িতে শিশুসহ ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

0 Comments