চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগের রাউন্ডেই বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। এবার জার্মান ক্লাব লেভারকুসেনের বিপক্ষে তারা রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতেছে। ৯ গোল ও ২ লাল কার্ডের নাটকীয় এই ম্যাচে লুইস এনরিকের দল ৭-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে।
জাবি আলোনসোর অধীনে গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিল লেভারকুসেন। তবে নতুন মৌসুমে ছন্দ হারিয়েছে জার্মান ক্লাবটি। ঘরের মাঠ বে অ্যারেনায় খেলতে নেমে প্রথমার্ধেই তারা চার গোল হজম করে এবং একটি শোধ দেয়। চার মিনিটের ব্যবধানে দুই দলই একটি করে লাল কার্ড দেখে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।
ফরাসি জায়ান্টদের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন দেজিরে দুয়ে। এছাড়া উইলিয়াম পাচো, খিচা কাভারাৎস্খেলিয়া, নুনো মেন্দেস, উসমান দেম্বেলে ও ভিতিনিয়া একটি করে গোল করেছেন। পিএসজি ম্যাচে ৬৭ শতাংশ বলের দখল রেখে ২২টি শট নেয়, এর মধ্যে ৮টি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে লেভারকুসেনের ৫ শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে ছিল। ৩৩ ও ৩৪ মিনিটে যথাক্রমে লেভারকুসেন মিডফিল্ডার রবার্ট আনড্রিখ ও পিএসজি ডিফেন্ডার ইলিয়া জাবারনি লাল কার্ড দেখেন।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই উইলিয়াম পাচোর গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। এরপর ৩৩ ও ৩৭ মিনিটে দুই দল ১০ জনের শিবিরে পরিণত হয়। ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে অ্যালেক্স গার্সিয়া লেভারকুসেনকে সমতায় ফেরান। তবে বিরতির আগে একে একে তিন গোল হজম করে জার্মান ক্লাবটি।
৪১ মিনিটে দেজিরে দুয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন এবং যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। মাঝখানে কাভারাৎস্খেলিয়া একটি গোল করেন। প্রথমার্ধ শেষে পিএসজি এগিয়ে ছিল ৪-১ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫০ মিনিটে মেন্দেস গোল করেন, ৫৪ মিনিটে গার্সিয়া ব্যবধান কমালেও পরবর্তীতে বদলি খেলোয়াড় উসমান দেম্বেলে ৬৬ মিনিটে এবং ভিতিনিয়া ৯০ মিনিটে গোল করে ৭-২ ব্যবধানে পিএসজির বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে ৩ ম্যাচের সবকটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না ইয়োহান মানজাম্বি। এবারের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ড দলের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি। তার অনুপস্থিতি তাই সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগের জন্য বড় এক শূন্যতা তৈরি করেছে। ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এ পর্যন্ত ২০০ মিনিটে মাঠে কাটিয়ে গোল করেছেন তিনটি, অ্যাসিস্ট করেছেন দুটি। মানজাম্বি মাঠে থাকা অবস্থায় সুইজারল্যান্ড প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৩.৬টি গোল করেছে। কিন্তু তাকে ছাড়া খেলা ২৮০ মিনিটে গোল মাত্র একটি। হাঁটুর ইনজুরির কারণে কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও খেলতে পারেননি মানজাম্বি, আর সেই চোটই তাকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষ ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, মানজাম্বির চোট আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করে দিল। এটি সত্যিই বড় ধাক্কা। সে দারুণ ফর্মে ছিল। আনন্দ নিয়ে খেলছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সে খেলতে পারছে না।’
২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রশংসায় ভাসালেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এমন ফুটবল খেলছেন, যেন আবার ১৯ বছর বয়সে ফিরে গেছেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “লিওনেল মেসিকে দেখে মনে হয়, তার বয়স আবার ১৯ বছর। সে ক্লান্ত হয় না, ক্ষুধা হারায় না। সে সবার জন্যই অনুকরণীয়।” স্প্যানিশ কোচের মতে, মেসির প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তার অদম্য জয়ের ক্ষুধাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। এত সাফল্যের পরও একই উদ্যমে খেলে যাওয়া তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। চলতি বিশ্বকাপে গোল, নেতৃত্ব ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনার মূল ভরসা মেসি। তার পারফরম্যান্সে আবারও প্রমাণ হয়েছে, বয়স তার ফুটবলে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়েও মেসির দিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বলেছেন, তিনি চান আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শিরোপা জিতুক। তবে এই চাওয়ার কারণ লিওনেল মেসি নন। হিন্দুস্থান টাইমস-এর প্রতিবেদন। ইসরায়েলি কমেডিয়ান বেন বারুচের সঞ্চালনায় ‘দ্য মোজো পডকাস্ট’-এ অংশ নিয়ে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। ভিডিও পডকাস্টটির একটি ক্লিপ বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থনের কারণ লিওনেল মেসি নন, বরং দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের প্রশাংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি একজন ‘সুপারস্টার’ এবং ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আলোচনার এক পর্যায়ে নেতানিয়াহু নিজেই প্রশ্ন করেন, ‘আমি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে খুঁজি। কেন জানেন?’ সঞ্চালক উত্তর দেন, মেসি। তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘না, মেসির আগে মিলেই। তিনি একজন সুপারস্টার।’ মিলেইয়ের এমন প্রশংসার ব্যাখ্যায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘কারণ তিনি মুক্ত অর্থনীতিকে আপন করে নিয়েছেন। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মিলেই ইসরায়েলের একজন মহান বন্ধু।’ লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে এবারও বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ‘বিতর্কিত’ জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।