খেলাধুলা

লোপেজের রেকর্ডগড়া হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনার গোল উৎসব

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৫

গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতেছিল বার্সেলোনা। প্রথমার্ধে জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর বিরতির পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে দলটি। কাতালানদের জার্সিতে প্রথম কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন তরুণ ফরোয়ার্ড ফারমিন লোপেজ। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হ্যান্সি ফ্লিকের দল অলিম্পিয়াকোসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঙ্গলবার রাতের ম্যাচটি ছিল একেবারে একপেশে। নিজেদের মাঠে প্রায় পুরো সময় বলের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলেছে বার্সা। লোপেজের হ্যাটট্রিক ছাড়াও মার্কাস রাশফোর্ড জোড়া ও লামিনে ইয়ামাল একটি গোল করেন।

পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা বলের ৬৯ শতাংশ দখলে রাখে এবং ১৪টি শট নেয়, এর মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। অপরদিকে, অলিম্পিয়াকোসের ৫ শটের মধ্যে মাত্র ২টি ছিল লক্ষ্যে। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে তাদের ডিফেন্ডার সান্তিয়াগো হেজে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

ম্যাচের শুরুতেই সপ্তম মিনিটে ফারমিন লোপেজের গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ৩৯ মিনিটে ড্রো ফার্নান্দেজের পাস থেকে লোপেজ দ্বিতীয় গোল করেন। বিরতির পর ৫০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মরক্কোর ফরোয়ার্ড এল কাবি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে ৫৭ মিনিটে হেজে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে অলিম্পিয়াকোস ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

 

এরপর ৬৮ মিনিটে রাশফোর্ডকে ফাউল করলে বার্সা পায় পেনাল্টি, যা থেকে ইয়ামাল গোল করেন। ৭৪ মিনিটে রাশফোর্ড এবং দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন লোপেজ। ৭৯ মিনিটে রাশফোর্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোরলাইন দাঁড় করান ৬-১ এ।

এই বড় জয়ে ৩ ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা পয়েন্ট টেবিলে নবম স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ৩ ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়া (এক ড্র) অলিম্পিয়াকোস রয়েছে ৩২তম স্থানে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
পরীক্ষার্থীদের কারণে তুরস্কে বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার বন্ধ

শনিবার (২০ জুন) সকালে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে তুরস্ক। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ম্যাচটি বড় পর্দায় দেখানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার।   তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিয়েছে, যেন বিশ্বকাপ ম্যাচ উপলক্ষে কোথাও লোকজনের খেলা দেখানোর  জন্য বড় স্ক্রিন স্থাপনের অনুমতি না দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, এতে শব্দদূষণ ও যানজট কম থাকবে, যা শনি ও রোববার অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী—ওয়াইকেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য সহায়ক হবে।   এ পরীক্ষার মাধ্যমে দেশটির লাখো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ম্যাচ ঘিরে জনসমাগম ও শব্দদূষণ পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।     এর আগে স্থানীয় প্রশাসন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তুরস্কের এই ম্যাচটি বিভিন্ন শহরে বড় পর্দায় প্রদর্শনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর সেই আয়োজন বাতিল করা হয়।   জনসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখের দেশ তুরস্কে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার পর এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে। তবে গ্রুপ ‘ডি’তে নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে শুরুটা ভালো হয়নি—প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২–০ গোলে হেরেছে দলটি। একই গ্রুপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।   এর আগে ১৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ইস্তাম্বুলসহ বিভিন্ন শহরে বড় পর্দায় দেখানো হয়েছিল। তখন পার্ক ও জনসমাগমস্থলে ব্যাপক দর্শক উপস্থিতি দেখা যায়। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলীয় আনতালিয়া প্রদেশের একটি প্রাচীন অ্যাম্ফিথিয়েটারেও বিপুল সমর্থক ম্যাচ উপভোগ করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হাইতির বিপক্ষে সম্ভাব্য কৌশলী একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে ব্রাজিল

ছবি : সংগৃহীত

আমার আইডল নেইমার হলেও ইতিহাসের সেরা মেসি: লামিন ইয়ামাল

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্রাজিল–জার্মানি ম্যাচ হতে পারে কোন পর্যায়ে?

৪০ হাজারের বেশি শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক সংগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী। ছবি : সংগৃহীথ
ব্রাজিল ম্যাচে প্রদর্শিত হবে রানীর শয়নকক্ষে পাওয়া ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল

ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক এবার পাড়ি জমাচ্ছে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো ফুটবল হিসেবে স্বীকৃত প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বলটি দীর্ঘদিন ধরে স্কটল্যান্ডের স্টার্লিং শহরের স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল।   ঐতিহাসিক এই ফুটবলটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় স্টার্লিং দুর্গের রানীর শয়নকক্ষে। ওক কাঠের প্যানেলিংয়ের আড়ালে, ছাদের কড়িকাঠের মধ্যে আটকে থাকা অবস্থায় বলটি খুঁজে পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, চামড়ার তৈরি বলটি ১৫৪০ থেকে ১৫৭০ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে তৈরি হয়েছিল।   আজ আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে বলটি। মায়ামির কোরাল গেবলস মিউজিয়ামে আয়োজিত ‘ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল গেম: ফ্রম স্কটল্যান্ড টু ব্রাজিল টু হাইতি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এটি সেখানে প্রদর্শিত হবে।   শুধু প্রদর্শনীতেই নয়, আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবে এই ফুটবল। ফলে ফুটবল ইতিহাসের প্রায় পাঁচ শতকের দীর্ঘ যাত্রায় প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি ‘দেখার’ সুযোগ পাবে বলটি।   স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামের পরিচালক ক্যারোলিন ম্যাথার্স এ সফরকে প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ম্যাথার্স বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো এই ফুটবলটি স্টার্লিংয়ের নিজস্ব সম্পদ। এটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’   তিনি আরও বলেন, ‘এটি মনে করিয়ে দেয় যে সেন্ট্রাল স্কটল্যান্ডের একটি ছোট এবং বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার থাকা জাদুঘরেও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে আমাদের দেশের গল্প তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।’   এই বলটি তৈরি করা হয়েছিল চামড়ার মোটা প্যানেল সেলাই করে। বলটির বাইরের অংশকে আরও মসৃণ ও বায়ুগতীয় করতে সেলাইয়ের পর সেটি উল্টে নেওয়া হয়েছিল। আর ভেতরে ব্লাডার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল শুকরের মূত্রথলি।   গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়া এই ফুটবল স্কটল্যান্ডের ইতিহাসের ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের অন্যতম হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। স্মিথ মিউজিয়ামের ৪০ হাজারের বেশি শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক সংগ্রহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাজিলের বিপক্ষে দৌড়াবে হাইতি, স্বপ্ন দেখবে: কোচ মিনিয়ের বার্তা

ছবি : সংগৃহীত

৪৮ দলের বিশ্বকাপে সেরা ৩২: তৃতীয় হওয়া ৮ দল উঠবে যে নিয়মে

ছবি : সংগৃহীত

কোহলিকে আরও চার বছর দলে রাখতে চায় বেঙ্গালুরু

মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ড্র করেছে ব্রাজিল। ছবি : সংগৃহীত
নাজুক অবস্থায় বিশ্বকাপে গিয়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল, ইতিহাস যা বলছে

ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মিশন শুরু হয়ে গেছে ব্রাজিলের। শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তারপরও হেক্সা মিশনে আশাবাদী সেলেসাও ভক্তরা। এর পেছনে বড় কারণ অতীত উদাহরণ।   চার কোচ, ৩৭ ম্যাচ, ১৭ জয়, ১০ ড্র এবং ১০ হার; কোনো শিরোপা নেই, জয়ের হার মাত্র ৫৪.৫ শতাংশ। এমন পরিসংখ্যান নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রেখেছে ব্রাজিল। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটিই ছিল বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রস্তুতি পর্ব।   ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোর মতে, ব্রাজিলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি ধারণা জনপ্রিয় হয়েছে, খারাপ প্রস্তুতি নাকি কখনও কখনও ভালো লক্ষণও হতে পারে। কারণ ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে, ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপ জয়ের আগেও দলটি খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না।   ১৯৯৪ ও ২০০২: সংকটের মধ্যেই শিরোপা   ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের সময়টা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে দলটির কোচ ছিলেন দুজন- পাউলো রবার্তো ফালকাও এবং কার্লোস আলবার্তো পারেইরা। এই সময়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। এমনকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল টিকিট নিশ্চিত করতে।   ২০০২ সালের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। যদিও ১৯৯৯ সালে কোপা আমেরিকা জিতেছিল ব্রাজিল, তারপরও কোচ ভ্যান্ডারলেই লুক্সেমবার্গো ও এমারসন লেয়াওকে বরখাস্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মাত্র এক বছর আগে দায়িত্ব নেন লুইজ ফেলিপে স্কলারি, যিনি দলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ এনে দেন।   তবে সংকটের মধ্যে বিশ্বকাপ জয় করাই যে নিয়ম, তা নয়। ইতিহাসে ব্রাজিল অনেক সময় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও ফেবারিটের তকমা নিয়েও বিশ্বকাপ জিতেছে।   বিশ্বকাপ জয়ের আগে বিভিন্ন চক্রে ব্রাজিলের সাফল্যের হার ছিল: ১৯৬২ বিশ্বকাপ চক্র – ৮০.৩% ১৯৭০ বিশ্বকাপ চক্র – ৭৪.৫% ১৯৫৮ বিশ্বকাপ চক্র – ৬৯.৯% ২০০২ বিশ্বকাপ চক্র – ৬৬.৬% ১৯৯৪ বিশ্বকাপ চক্র – ৬০.৯% ২০২৬ বিশ্বকাপ চক্র – ৫৪.৫% পরিসংখ্যানই বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল। ‘ফেবারিট না হওয়া’ তত্ত্ব কি সত্য?   ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, এই ধারণা মূলত কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়। গ্লোবো গ্রুপের বিশ্লেষক রদ্রিগো কৌতিনহোর মতে, বিশ্বকাপ একটি স্বল্পমেয়াদি টুর্নামেন্ট যেখানে অসংখ্য অনিশ্চিত বিষয় কাজ করে।   তার ভাষায়, ‘অনেক সময় ফেবারিট দলগুলোর ভেতরে কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়। কখনো কোনো অপ্রত্যাশিত হার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। বিশ্বকাপে মানসিক চাপ অত্যন্ত বেশি থাকে। যে দল এই চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারে, তারাই এগিয়ে থাকে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ফেবারিট না হলে খেলোয়াড়রা হয়তো আরও বেশি মনোযোগী হয়। আবার ফেবারিট হলে আত্মতুষ্টি চলে আসতে পারে। প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, ফিটনেস কমে যেতে পারে এবং দলীয় সংহতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।’   ভালো প্রস্তুতি, কিন্তু শিরোপা নেই ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পাঁচটি বিশ্বকাপ চক্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, দলটি বেশিরভাগ সময়ই ভালো অবস্থায় বিশ্বকাপে গেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে তাদের সাফল্যের হার ছিল ৬৬.৭ শতাংশ। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.৯ শতাংশে। তবুও বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব হয়নি।   বিশেষ করে ২০০৬ সালের দলটিকে অনেকেই ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্কোয়াড বলে মনে করেন। রোনালদিনিও, কাকা, রোনালদো, আদ্রিয়ানোসহ বিশ্বসেরাদের নিয়ে গঠিত সেই দলও কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারেনি। সেই দলের সদস্য জে রবার্তো পরে স্বীকার করেছিলেন, দলের বড় সমস্যা ছিল প্রস্তুতির ঘাটতি।   সাম্প্রতিক উদাহরণ ভিন্ন কথা বলে ফেবারিট দল যে বিশ্বকাপ জিততে পারে না, সাম্প্রতিক ইতিহাস তা সমর্থন করে না। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের আগে তাদের সাফল্যের হার ছিল ৭২.৭ শতাংশ। একই সময়ে তারা কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমাও জিতেছিল। ২০১৮ সালে ফ্রান্সও ছিল অন্যতম ফেবারিট। বিশ্বকাপের আগের চার বছরে তাদের জয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং প্রতিভাবান এক প্রজন্মের ফুটবলার নিয়ে তারা রাশিয়ায় শিরোপা জয় করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হাইতি ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের স্মৃতিতে ফিরে গেলেন গাব্রিয়েল

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের পরই অবসরের ঘোষণা দেবেন মানুয়েল নয়ার

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে ইরানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

0 Comments