খেলাধুলা

সুপার ওভারে নাটকীয় হার বাংলাদেশের

শাহ মোঃ সিজু মিয়া অক্টোবর ২১, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

১১ রানের টার্গেটে সুপার ওভারে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল করতে আসেন বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেন। ওভারের প্রথম বল ওয়াইড দিলেও পরের নো-বলে দুই রান নিয়ে সহজ সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ৭ রান। কিন্তু সেই রান তুলতেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।

ফ্রি হিটে সৌম্য নিতে পারেন মাত্র ১ রান, সাইফও পরের দুই বলে পান ১ রান। ফলে শেষ তিন বলে প্রয়োজন হয় ৫ রানের। চতুর্থ বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে ফেরেন সৌম্য সরকার। পঞ্চম বলে আসে অতিরিক্ত থেকে ১ রান। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রানের, কিন্তু আকিলের ওয়াইড দিয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ব্যাটাররা। শেষ বলে সাইফ নিতে পারেন এক রান, ফলে বাংলাদেশ হেরে যায় ১ রানে।

এর আগে বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমান সুপার ওভারে দেন ১০ রান। প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ৬ রান দিলেও শেষ বলে হোপের ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি আসে। সেই রানই পার্থক্য গড়ে দেয় ম্যাচে। ফলে রোমাঞ্চকর এই জয়ে সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় ফেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এর আগে মূল ম্যাচের শেষ ওভারে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৫ রান প্রয়োজন থাকলেও শেষ বলে নুরুল হাসানের ক্যাচ মিসে দুই রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম টাই ম্যাচ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের পদত্যাগ

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ হওয়ার পর পতদ্যাগ করেছেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হারের দুই দিন পর সরে দাড়ালেন তিনি।   এফআইজিসি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর আজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর কার্লো তেভেচ্চিও পদত্যাগ করলে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আর গ্যাব্রিয়েল দায়িত্ব নেওয়ার পরে ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপেই জায়গা করতে পারেনি ইতালি। গ্রাভিনার সময়ে ইতালি ২০২০ ইউরো জিতেছিল। তবে ‘আজ্জুরিরা’ আরও একবার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফুটবল ফেডারেশন। গ্রাভিনা ইতালির সাবেক কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি এবং বর্তমান কোচ জেনেরো গাত্তুসোর নিয়োগ তদারকি করেছেন। পদত্যাগের আগে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও তিনি গাত্তুসোকে দলের সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। এফআইজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ২২ জুন ভোট হবে। প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির সাবেক প্রধান এবং মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিক কমিটির সাবেক সভাপতি জিওভান্নি মালাগা।  ইতালির ফুটবলে এমন টালমাটাল সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,  যদি ইতালি তাদের ফুটবল অবকাঠামো আধুনিকায়ন না করে, তবে দেশটি ২০৩২ সালের ইউরোর সহ-আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে। ইতালি ও তুরস্কের যৌথ আয়োজনে ২০৩২ ইউরো হওয়ার কথা। তবে আধুনিক স্টেডিয়ামের অভাবের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইতালি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে অক্টোবরের মধ্যেই ইউয়েফাকে ইউরো আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম জমা দিতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

‘মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি’—দুঃখ প্রকাশ আইপিএলের

ছবি : বাফুফে

ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পেল বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি চূড়ান্ত

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের দৃশ্য। ছবি : বাফুফে
নেপালের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে ফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ বুধবার লাল সবুজের প্রতিনিধিরা ১-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আজ আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালকে চাপে রাখে বাংলাদেশের যুবারা। প্রথমার্ধের সপ্তম মিনিটেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। মুরশেদ আলীর চমৎকার এক পাসে বল পেয়েছিলেন নাজমুল হুদা ফয়সাল। তবে ডি-বক্সের ভেতর সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন তিনি। তার নেওয়া শটটি পোস্টের বেশ অনেকটা দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়। অথচ সেই সময় গোলপোস্টের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সতীর্থ রোনান সুলিভান। তাকে পাস দিলে গোল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল, কিন্তু ফয়সাল নিজেই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আক্ষেপ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। নিজে কর্নার কিক নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনায় কাজে লাগান মুরশেদ আলী। তার বাড়ানো মাপা ক্রসে ডি-বক্সে জটলার ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন মোহাম্মদ মানিক। মানিকের এই গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের ডাগআউট। গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেপাল। তারা কিছু আক্রমণ সাজালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল সজাগ। লিড পাওয়ার পর বাংলাদেশ আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং প্রতি-আক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। রোনান একবার গোলের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় তা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও দুর্দান্ত লড়াই করে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে নেপালও ম্যাচে ফেরার জন্য সব ধরণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু এই সময়ে কোন দলই আর জালের দেখা পায়নি। ফলে মানিকের করা একমাত্র গোলের সৌজেন্যেই ফাইনালে জায়গা করে নেয় আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
বিশ্বরেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছেন আমেলিয়া কার ও কেইলি নাইট। ছবি : সংগৃহীত

রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল নিউজিল্যান্ড

এবারের আসরে বাজিমাত করেছেন টাইগার স্পিনার রিশাদ হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

বিগ ব্যাশের বর্ষসেরা বাংলাদেশি ক্রিকেটার

ছবি : সংগৃহীত

ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে জয়ের পথে ফিরল ব্রাজিল

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে বিষণ্ণ ইতালির ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত
৫৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইতালি

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ইতালি এখন এক অকল্পনীয় ও অন্ধকারতম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ ম্যাচে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৬ নম্বর দল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে।   এর ফলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত আজ্জুরিরা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হলো। বসনিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ইতালির জন্য হতে পারত গত এক দশকের ব্যর্থতার পাপমোচনের সুযোগ, কিন্তু আক্ষেপ যে তাদের আবারও ঘরে বসে অন্যের খেলা দেখতে হবে এবং আরেকটি সুযোগের জন্য চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা সইতে হবে।   কাগজ-কলমে ১২ নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা ইতালি এবং তাদের চেয়ে ৫৪ ধাপ নিচে থাকা বসনিয়ার লড়াইটি ছিল সব দিক থেকেই অসম। ইতালির জনসংখ্যা যেখানে প্রায় ৬ কোটি, সেখানে বসনিয়ার মাত্র ৩৫ লাখ। এমনকি ইতালি দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বার্ষিক বেতন প্রায় ১০০ কোটি ইউরো, যার বিপরীতে বসনিয়ার খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইতালির সাত ভাগের এক ভাগ মাত্র।   অথচ মাঠের লড়াইয়ে সেই অর্থ বা পরিসংখ্যান কোনো কাজে আসেনি। জেনিৎসার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে বসনিয়ার চতুর্থ শটটি যখন জালের ঠিকানা খুঁজে নিল, তখন স্টেডিয়াম জুড়ে নেমে আসে এক স্তব্ধতা। ইতালিয়ান খেলোয়াড়রা তখন সবুজ ঘাসে মাথা নিচু করে অবিশ্বাসের নোনা জলে ভাসছিলেন, আর অন্যদিকে তখন চলছিল বসনিয়ার রূপকথার জয়োল্লাস।   ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইতালির জন্য বেশ আশাজাগানিয়া ছিল। জেনিৎসার মাঠে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগে মইসে কিন গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ইতালীয় সমর্থকদের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ ১২ বছরের আক্ষেপের অবসান বুঝি আজই হতে চলেছে।   কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন অন্য চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিলেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আজ্জুরি সেন্টার ব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইতালি মুহূর্তেই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগে দ্বিতীয়ার্ধে ইতালির ওপর স্টিম রোলার চালায় বসনিয়া।   গোলরক্ষক জানলুইজি দোনারুম্মা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে কয়েকবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ডেডিচের রক্ষণচেরা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে সমতা ফেরান বদলি খেলোয়াড় হারিস তাবাকোভিচ।   নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়েও ১-১ সমতা বিরাজ করায় ম্যাচ গড়ায় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে। সেখানে ইতালির পিও এসপোসিটো এবং ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে গোল করতে ব্যর্থ হলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পায় বসনিয়া।   বসনিয়ার হয়ে জয়সূচক পেনাল্টিটি জালে জড়ান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এসমির বাজরাকতারেভিচ, যিনি মাত্র কয়েক মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে বসনিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।   ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বাছাইপর্বে যথাক্রমে সুইডেন ও উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়া ইতালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে এই হার আরও একটি কলঙ্ক তিলক যুক্ত করল। কোচ জেনারো গাত্তুসো পরাজয় শেষে বিষণ্ণ মনে স্বীকার করেন, জাতীয় দল এবং ক্লাব পর্যায়—উভয় ক্ষেত্রেই ইতালি এখন কঠিন সময় পার করছে। ডিফেন্ডার লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলাও সেই একই হাহাকার প্রকাশ করে জানান যে, এই বাদ পড়াটা বিশেষ করে সেই শিশুদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের যারা কখনও ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি।   ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের এই বিদায়ের অর্থ হলো, ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে কোনো ম্যাচ না খেলে তাদের অন্তত ১৬ বছর পার করতে হবে। ২০০৬ সালের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর কোনো ম্যাচ খেলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মেসি–আলভারেসের দাপটে জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

ছবি : সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হার, স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশের

ফখর জামান। ছবি : সংগৃহীত

কঠোর শাস্তি পেলেন পাকিস্তানি ব্যাটার

0 Comments