আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না আসিয়ান

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৭, ২০২৫

আগামী ডিসেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। সোমবার (২৭ অক্টোবর) আসিয়ানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

 

এই সিদ্ধান্ত মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং আগামী ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর “জাতীয় পুনর্মিলনের সূচনা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

 

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ১১ জাতির আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা মিয়ানমারের চলমান সংঘাত নিয়ে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচনের আগে সহিংসতা বন্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

আসিয়ান সদস্য দেশগুলোকে জান্তার পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হলেও আঞ্চলিক কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন, জোট হিসেবে কোনও পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে না। তবে সদস্য দেশগুলো চাইলে দ্বিপাক্ষিকভাবে পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারে।

 

সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা ইজুদ্দিন বলেন, আসিয়ানের এই সিদ্ধান্ত মিয়ানমারের বৈধতা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় নিঃসন্দেহে বড় আঘাত। এতে নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনাও নষ্ট হবে।

জান্তা সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ দেশের সব অঞ্চলে হবে না, কারণ বহু এলাকা এখনও গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের পরিস্থিতিকে একটি মানবিক বিপর্যয়” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষায়, “জনগণকে রক্ষা করার কথা যাদের, সেই সেনাবাহিনীই এখন জনগণের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নির্বাচনের এই আয়োজনকে “প্রহসন” এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে “দমনমূলক কৌশলের অংশ” বলে উল্লেখ করেছে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার কাইসা অলংগ্রেনও জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনও পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। তিনি বলেন, এই নির্বাচন না অবাধ, না সুষ্ঠু—তাই আমরা একে নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দিই না।

 

বর্তমানে আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো হলো—ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও নতুন সদস্য পূর্ব তিমুর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন, ১৫৭ জনকে উদ্ধার

ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যগামী অভিবাসীবাহী একটি নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্ধার অভিযানে নৌকাটিতে থাকা ১৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   ফরাসি চ্যানেল ও উত্তর সাগর সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চ্যানেল অতিক্রমের সময় নৌকাটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে বুলোন-সুর-মের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি সোমবার রাতে ফ্রান্স থেকে যাত্রা শুরু করে। অভিবাসীরা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।   ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতেই নৌকাটিতে থাকা পাঁচজনের জরুরি উদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তবে বাকি যাত্রীরা সে সময় ফরাসি টহল নৌকাগুলোর সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।   এক বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রীরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং চরম বিপদ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ফরাসি জরুরি পরিষেবার সহায়তা গ্রহণ করেননি।   কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চ্যানেল পারাপারে ব্যবহৃত ছোট নৌকাগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে উদ্ধারকারীরা শুরুতে সীমিত পর্যবেক্ষণে ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।   উদ্ধার অভিযানে ফরাসি ও ব্রিটিশ উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। আরএনএলআই ইস্টবোর্ন লাইফবোট এবং ইউকে বর্ডার ফোর্সের বিএসসি কন্টেন্ডার ও বিএসসি কারেজিয়াস নামের জাহাজও অভিযানে অংশ নেয়।   ফরাসি নৌযানগুলো ১০৩ জনকে এবং ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযানগুলো ৫৪ জনকে উদ্ধার করে।   বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাইকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বুলোন-সুর-মেরে নেওয়া হচ্ছে।   ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ

ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে দাবানলে ঘরছাড়া ৬৫ হাজার মানুষ

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই: সাবেক সেনাপ্রধান জালুঝনি

ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি বলেছেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।   সোমবার ইউক্রেনীয় কূটনীতিকদের এক বৈঠকে তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য যে সামরিক মানদণ্ড প্রয়োজন, তা ইউক্রেন বর্তমানে পূরণ করছে না। জালুঝনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে ন্যাটোর মান অনুযায়ী গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশটি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইউক্রেনের ন্যাটোর মতো একটি জোটে যোগ দেওয়া কঠিন। ইউক্রেনের সংবিধানে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা আছে। তবে দেশটির সরকারও স্বীকার করেছে, ন্যাটোর সব সদস্য বর্তমানে ইউক্রেনকে জোটে নিতে প্রস্তুত নয়। এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে জুলাই মাসে রাশিয়ার অগ্রগতি অনেকটাই কমে গেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র ৪০ বর্গকিলোমিটারেরও কম এলাকা দখল করতে পেরেছে। এর আগের মাসে এই অগ্রগতি ছিল প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার। গত বছরের তুলনায় রাশিয়ার অগ্রগতির গতি অনেক কমেছে। তবে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে ও দখলকৃত অঞ্চলে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনাকে সরিয়ে দিয়েছেন। ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই এই পরিবর্তন আনা হলো। এদিকে, রাশিয়ার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় এলাকায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি পর্যটন এলাকায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হন। ক্রিমিয়াতেও আরও চারজন নিহত হওয়ার দাবি করেছে মস্কো। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ বিমান হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া ক্রিভি রিহ শহরের কাছে রুশ হামলায় আট বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা, একদিনেই নিহত ২৬

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে ৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত
উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরানের বাহিনী

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন থাকা বাহিনী যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।   সোমবার আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি এক বিবৃতিতে বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হামজা সাইয়্যিদ আল-শুহাদা সদর দপ্তরের অধীন বাহিনী বিদেশি শত্রু ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত। এই সদর দপ্তর ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান, কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এসব এলাকা ইরাক ও তুরস্ক সীমান্তের কাছাকাছি। ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের ওপারে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কয়েকটি ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীর ঘাঁটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে আইআরজিসির উত্তেজনা চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে থাকা এসব গোষ্ঠীর অবস্থানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগে সোমবার ইরানের সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোজতবা জাফারি দাবি করেন, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া ও এরবিল প্রদেশে ইরানের সেনাবাহিনী ১৪টি স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু হতে পারে, দাবি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

সংঘাতের ব্যয় বাড়িয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে ইরান: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে ছাই ৬০০ স্থাপনা

0 Comments