জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চূড়ান্ত বৈঠক সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ হস্তান্তর করবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানায়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা কমিশনের গঠনের পর থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ পর্যন্ত সব নথি, ছবি, ভিডিও ও আলোচনার অডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এই দলিলগুলো জাতির জন্য অমূল্য সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও গবেষকরা যেন এসব দলিল থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব বৈঠক, আলোচনা, চিঠি চালাচালি ও টেলিভিশনে প্রচারিত সংলাপ হয়েছে, সবগুলোই ক্যাটাগরি করে সংরক্ষণ করতে হবে। এগুলোই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত দলিল হবে।
বৈঠকে রাজনৈতিক দল, কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
সমাপনী বৈঠকে কমিশনের সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বাংলাদেশে একটি স্থায়ী জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য কাজ করেছে। রাজনৈতিক দল, আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারপতি ও নাগরিক সমাজের আলোচনার ভিত্তিতেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এর মধ্যে সংস্কার কাঠামো তৈরি করাই ছিল কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোও সহযোগিতা করেছে এবং ধৈর্যের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছে।
কমিশন সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের নিবিষ্টতা ও সাহসিকতা এখন প্রয়োজন। গণ–অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়।
বিচারপতি এমদাদুল হক বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের প্রতিফলন দেখা গেছে কমিশনের বৈঠকগুলোতেও।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ বলেন, প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো ধৈর্যের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। ভবিষ্যতেও এই সৌহার্দ্য বজায় থাকবে বলে আশা করি।
দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদের পাশাপাশি দুদক সংস্কারেও সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে তাদের সন্তানের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে। জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানই এই সনদের মূল ভিত্তি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ হস্তান্তর করবে। কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ অক্টোবর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাস না পেরোতেই শুরু হয় ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত। এই যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। এরই মধ্যে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় অর্থসংকটে পড়েছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনেও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে বাজেট অধিবেশন। ইতোমধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালি প্রণয়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এদিকে প্রস্তাবিত পে স্কেল পুনর্বিবেচনার ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে একসঙ্গে পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। যদিও সরকারি সূচিতে তাকে পিকেএসএফ চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে বৈঠকে পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পে স্কেলের সুপারিশ আমাদের দেখতে হবে। না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। মোট অর্থের পরিমাণ কত, বর্তমান আর্থিক অবস্থায় কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব—এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ রাজস্ব ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, যার প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হোক, এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না সরকার। এ কারণে প্রস্তাবিত পে স্কেল পুনর্বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে একটি কমিশন গঠন করেছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে নির্বাচনের আগে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সব সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ তথ্য পাঠাতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এসংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইতোমধ্যে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য হালনাগাদ করার লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যাদি (সংযুক্ত ছক অনুযায়ী) প্রস্তুত করা প্রয়োজন। এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে (হার্ডকপি ও সফটকপি) সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার তথ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখায়, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের তথ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-২ শাখায় এবং ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-৩ শাখায় পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। ইসির চিঠিতে আরো বলা হয়, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসার থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো অঞ্চলভিত্তিক একীভূত করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাবেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আকাশপথ ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বন্ধ থাকা শারজাহ ও আবুধাবি রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইন্স US-Bangla Airlines। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৩ মার্চ থেকে সপ্তাহে চারদিন—শুক্রবার, রোববার, মঙ্গলবার ও বুধবার—Dhaka থেকে Sharjah রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা। এছাড়া ১৪ মার্চ থেকে সপ্তাহে তিনদিন—শনিবার, সোমবার ও বৃহস্পতিবার—ঢাকা থেকে Abu Dhabi রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। এছাড়া প্রতি সোমবার Chattogram থেকে আবুধাবির উদ্দেশ্যে সরাসরি একটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে শুক্রবার, রোববার, মঙ্গলবার ও বুধবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে শারজাহর উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে শারজাহ থেকে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে শনিবার ও বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সরাসরি এবং সোমবার বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবির উদ্দেশ্যে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। সোমবার চট্টগ্রাম থেকে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে আবুধাবির উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। আবুধাবি থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে আসবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ৪৩৬ আসনের তিনটি Airbus A330-300 এবং ১৮৯ আসনের নয়টি Boeing 737-800 সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। তবে শারজাহ ও আবুধাবি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ দিয়ে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ঢাকা থেকে Dubai রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য Jeddah, Riyadh ও Muscat রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। খুব শিগগিরই ঢাকা থেকে Doha রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।