অর্থনীতি

ভারতে ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা গুগলের

খবর৭১ ডেস্ক, অক্টোবর ১৪, ২০২৫

আগামী পাঁচ বছরে ভারতে দেড় হাজার কোটি (১৫ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ করবে গুগল। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি এই ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিশাল ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

গুগল ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থমাস কুরিয়ান নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আমরা যতগুলো এআই হাব-এ বিনিয়োগ করছি, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।’

কুরিয়ান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপত্তনমে ‘১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূলধন বিনিয়োগ’ করে ‘গিগাওয়াট-স্কেলে একটি এআই হাব’ তৈরি করা হবে।

কুরিয়ান আরও বলেন, গুগলের পরিকল্পনা হলো, ভবিষ্যতে কেন্দ্রটিকে ‘একাধিক গিগাওয়াটে উন্নীত’ করা।

চলতি বছরের শেষে ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
ব্যবসা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে এর ব্যবহার বাড়তে থাকায় দেশটিতে এআই টুলস ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই বিনিয়োগের জন্য গুগলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটাল অবকাঠামো আমাদের ‘ইন্ডিয়া এআই ভিশন’-এর লক্ষ্য পূরণে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, এই দিনটি ‘খুবই আনন্দের দিন’।

রাজ্যের প্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ এক্স-এ লেখেন, ‘এটি একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ। এক বছর ধরে নিবিড় আলোচনা ও নিরলস প্রচেষ্টার পর এই চুক্তি হয়েছে।’

লোকেশ আরও লেখেন, ‘এটি আমাদের রাজ্যের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক মর্যাদার জন্য বিশাল অগ্রগতি। এটি মাত্র শুরু।’

এদিকে, এই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্ট-আপ ‘অ্যানথ্রপিক’, আগামী বছর ভারতে একটি অফিস খোলার ঘোষণা করেছে। 
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আমোদিকে জানান, ‘ভারতের প্রাণবন্ত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম ও প্রতিভাবান যুবসমাজ এআই উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

এছাড়া মোদি ‘উন্নয়নের জন্য এআই-এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার’ করতে চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

অ্যানথ্রপিকের এই পদক্ষেপের আগে ভারতের বাজারে আগ্রহ দেখিয়েছে আরও কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান।

ওপেনএআই জানায়, তারা এ বছরের শেষের দিকে ভারতে একটি অফিস খুলবে। 

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্যাম অল্টম্যান জানান, গত এক বছরে ভারতে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার চারগুণ বেড়েছে।

এদিকে, এআই প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটি জুলাইয়ে ভারতীয় টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেলের সঙ্গে একটি বড় অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেয়। 

এর আওতায় এয়ারটেলের ৩৬ কোটি গ্রাহক এক বছরের জন্য ফ্রি-তে পারপ্লেক্সিটি প্রো সাবস্ক্রিপশন পাবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ভিয়েতনাম বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিয়েতনাম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে উদ্ভিজ্জ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ভিয়েতনামে তিল, আলুসহ অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে পারবে।   সংশ্লিষ্ট দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশকে উদ্ভিজজাত খাদ্য রপ্তানির জন্য নিবন্ধিত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ভিয়েতনামের উদ্ভিদ সুরক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন বিভাগ নিশ্চিত করেছে ‘উদ্ভিজজাত খাদ্য’ রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের নানা প্রচেষ্টার পর এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় বাজার। সেখানে উদ্ভিজজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। তিল বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য। আগে নিবন্ধনজনিত জটিলতার কারণে এই বাজারে প্রবেশ করা কঠিন ছিল। এখন সেই বাধা দূর হওয়ায় রপ্তানিকারকরা নতুন সুযোগ পাচ্ছেন।   শুধু তিল নয়, আলুসহ অন্যান্য উদ্ভিজজাত পণ্যের রপ্তানির পথও খুলে যাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানির পরিধি বাড়বে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, রপ্তানি আয় বাড়বে এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে মান নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সার্টিফিকেট প্রাপ্তি এবং প্যাকেজিংয়ের মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।   এর আওতায় রপ্তানির কিছু শর্তাবলি প্রেরণ করা হয়েছে, ভিয়েতনাম পক্ষ দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যতামূলক ফাইটোস্যানিটারি শর্ত মানতে হবে।   ভিয়েতনামে শস্য পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের জাতীয় উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থা (এনপিপিও) থেকে ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এছাড়া চালানে ক্ষতিকর জীবজন্তু, ভিয়েতনাম নিয়ন্ত্রিত ক্ষতিকর জীবজন্তু বা বিদেশি ক্ষতিকর জীবজন্তু থাকতে পারবে না এবং কাঠের প্যাকেজিং বা ডানেজ ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক মান (আইএসপিএম ১৫) অনুযায়ী তা প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো মেনে চললে রপ্তানি সম্ভব হবে।   সংশ্লিষ্টরা এটিকে বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে নতুন বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন ঋণের চেয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বেশি, জুলাইয়ে ঘাটতি ২৭৩ মিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ইসলামী লাইফে আর্থিক চাপ, জীবন বিমা তহবিলে ঘাটতি ৩২৭ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

এক ধাক্কায় ভরিতে সোনার দাম কমল ৭ হাজার ১১৫ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালের মধ্যেই অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই সময়ের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। কানাডার সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।   আইএমএফএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির আকার আরো বড় হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসবে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো থেকে।   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, দেশটির জিডিপি হতে পারে ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকবে জার্মানি, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।   ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে। এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে চীনের।   তবে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে জার্মানির সঙ্গে ভারতের ব্যবধান খুব সামান্য। ২০৩০ সালে জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। অর্থাৎ দুই দেশের ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার।   বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নামমাত্র জিডিপির হিসাবে ভারত জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী হিসাব করলে ভারত ইতিমধ্যে জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় অর্থনীতি।   এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি বাড়বে ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি হবে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি।   চীন ও ভারতের পর এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে জাপান। দেশটির জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এরপর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশ দুটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ও ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার।   একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল জাপান। তবে কয়েক দশক ধরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে। ২০১০ সালে জাপানকে ছাড়িয়ে যায় চীন। এরপর ২০২৪ সালে জার্মানিও জাপানকে ছাড়িয়ে যায়।   ইউরোপে থাকবে তুলনামূলক ভারসাম্য ২০৩০ সালে ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থাকবে ইউরোপের দখলে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত নামমাত্র জিডিপি ২৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে জার্মানি। এরপর থাকবে ফ্রান্স ও ইতালি। দেশ তিনটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২, ৪ ও ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।   ইইউর বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে থাকবে যুক্তরাজ্য। ২০৩০ সালে দেশটির জিডিপি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। এরপর থাকবে রাশিয়া, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।   তবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাশিয়া হবে এমন কয়েকটি দেশের একটি, যাদের অর্থনীতি এ সময়ে সংকোচনের মুখে পড়তে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফের বড় পূর্বাভাস

বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেবে ১৭ ব্যাংক

২৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৩ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে টানা তিন দিন পর কমল স্বর্ণের দাম

টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক বন্ড ‘বাইব্যাক’ ঘোষণার পর মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম ১৪ মে এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। তবে, বুধবার স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলারে নেমে আসে।   মার্কিন গোল্ড ফিউচার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৭৩ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে এসেছে।   জেফরিসের মালিকানাধীন ট্রাডু ডট কমের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট নিকোস জাবোরাস বলেন, আজ স্বর্ণের দাম কমেছে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর আগে বাজারের সবাই সতর্ক অবস্থানে থাকে।       ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, ইরান বলেছে– বৃহত্তর সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন হওয়ায় তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করেছে।   অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমেছে, প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৪ দশমিক ৫১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইএমএফের শর্ত থেকে দূরে সরছে সরকার

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাস কারখানা লে-অফের সিদ্ধান্ত ফুয়াং ফুডের

0 Comments