প্রযুক্তির এই যুগে ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে কাজ, শিক্ষার জন্য ভিডিও কল, সামাজিক যোগাযোগ ও বিনোদন—পুরো দিনটাই আমরা ফোনের স্ক্রিনের সামনে কাটাই। তবে কি আমরা জানি, এই অভ্যাস আমাদের ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়াতে পারে?
গবেষণা অনুযায়ী, ফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটার থেকে নির্গত নীল আলো বা হাই-এনার্জি ভিজিবল (HEV) আলো ত্বকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে। এর ফলে কোলাজেন ক্ষয় হয়, যা ত্বকের প্রাকৃতিক নমনীয়তা কমিয়ে দেয় এবং বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। এর ফলেই দেখা দেয় বলিরেখা, দাগ, ত্বকের নিস্তেজ ভাব ও লুপ্ত প্রাণশক্তি।
ত্বক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দিনের অধিকাংশ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ শক্তি হ্রাস করে। সূর্যের UV রশ্মির মতো নীল আলোও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ত্বককে রক্ষা করার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু পদক্ষেপ পরামর্শ দিচ্ছেন:
দৈনন্দিন ফোন ব্যবহার সীমিত করুন।
নীল আলো ব্লকিং চশমা ব্যবহার করুন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্বকের যত্ন এবং হাইড্রেশন বজায় রাখুন।
রাতের বেলা ফোন ব্যবহার কমিয়ে ঘুমের মান উন্নত করুন।
সুতরাং, ফোনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত স্কিন কেয়ার ও ফোন ব্যবহারে সচেতনতা আপনার ত্বককে বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বয়স মাত্র ১৩ বছর। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম মুঠোফোনে প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালোবাসত। কিন্তু ছবি তোলার শখটাই যে তার জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে যাবে, তা কে জানত! গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলেও মায়ের আইফোনটি নিয়ে সেই উদ্দেশ্যেই বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু আর ফেরা হয়নি। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় তার নিথর মরদেহ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান অপ্রতিমের এমন নির্মম মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। ঘটনাটি নাড়া দিয়েছে দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এই ঘটনায় স্তব্ধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক জানিয়ে অনেকেই অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, পাশাপাশি দাবি তুলেছেন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের। অভিনেতা সিয়াম আহমেদ নিজের ফেসবুক পোস্টে অপ্রতিমের ছবি দেখে নিজের সন্তানের কথা মনে পড়ার কথা জানান। তিনি লিখেছেন, ‘অপ্রতিমের ছবিটার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারছি না। বাবা হওয়ার পর থেকে কোনো শিশুর এমন খবর দেখলে নিজের সন্তানের মুখটাই বারবার চোখের সামনে আসে। একটা সন্তান বিকেলে বাসা থেকে বের হয়েছিল ছবি তুলবে বলে। সেই সন্তান আর বাসায় ফিরল না। একজন বাবা মায়ের জন্য এর চেয়ে ভয়ংকর কোনো অপেক্ষা, কোনো সংবাদ হতে পারে কিনা আমি জানি না। সিয়াম আরো লেখেন, ‘অপ্রতিমের বাবা মা ও পরিবারের মানুষগুলোর এই মুহূর্তের কষ্ট আসলে কোনো শব্দ দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল, তার সঠিক উত্তর তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসুক। কোনোভাবেই যেন সত্যটা চাপা না পড়ে। সর্বোচ্চ সততার সাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রতিম, তোমার এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল না। একজন বাবা হিসেবে আজ শুধু এটুকুই মনে হচ্ছে, আমাদের সন্তানদের জন্য আরো নিরাপদ একটা পৃথিবী তৈরি করার দায় আমাদের সবার।’ তৌসিফ মাহবুব লেখেন, ‘আমরা আইফোনকে এতটাই মহিমান্বিত করেছি যে এটি একটি জীবনের চেয়েও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। দোষটা আমাদেরই।’ অপ্রতিমের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরীও। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি দেখে সত্যিই আমি গভীরভাবে মর্মাহত। একজন মায়ের একমাত্র সন্তান, একটি পরিবারের স্বপ্ন—এভাবে অকালে ঝরে যাবে; এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। একটি শিশুর এমন মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের সবার হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ রেখে যায়। অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল। সৃষ্টিকর্তা যেন তার পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দেন।’ বিচারের দাবি জানিয়ে পূজা লেখেন, ‘এই ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তারা যেন আইনের আওতায় আসে—এটাই প্রত্যাশা। অপ্রতিম, তুমি শান্তিতে থেকো। তোমার জন্য রইল অশেষ ভালোবাসা ও প্রার্থনা।’ অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ শোকের পাশাপাশি নিজের ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আহা বাচ্চাটা! বাংলাদেশি হিসেবে সবচাইতে বড় স্বপ্ন হওয়া উচিত বাংলাদেশই ছেড়ে দেওয়া। যারা অলরেডি ছেড়ে গেছেন, এই অভিশপ্ত দেশ থেকে বেঁচে গেছেন। সবাই সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু কেউ ন্যূনতম নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে না। আর যে দেশে প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকার পরও বিচার হয় না, সে দেশ জীবনেও নিরাপদ হবে না। যদি সামর্থ্য থাকে সুযোগ থাকে এই দেশ ছেড়ে ভাগেন। যাতে আপনার সন্তানকেও অলস শুক্রবারের দুপুর বেলা বাসা থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে ফিরে আসতে না হয়।’ অপ্রতিমের এমন মৃত্যুতে শোবিজ তারকাদের প্রতিক্রিয়ায় যেমন গভীর শোক উঠে এসেছে, তেমনি উঠে এসেছে নিরাপদ পরিবেশ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি। এখন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার অপেক্ষায় অপ্রতিমের পরিবারসহ সাধারণ মানুষ।
হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ সিনেমার নায়ক মরতুজা পলাশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর গত ২৮ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা যায়, হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর পলাশকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে পলাশ কারাগারে থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে ‘শিকার’ সিনেমার বাকি কাজ। নেপালে সিনেমাটির বেশির ভাগ অংশের দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। এখনও কয়েকটি দৃশ্য ও গানের শুটিং বাকি। আগামী অক্টোবরে সেগুলোর দৃশ্যধারণের পরিকল্পনা করেছিলেন নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান। কিন্তু নায়ক কারাগারে থাকায় শুটিংয়ের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারছেন না তিনি। কামরুজ্জামান রোমান বলেন, ‘নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার বেশির ভাগ অংশের শুটিং শেষ হয়েছে। অক্টোবরে বাকি কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নায়ক কারাগারে থাকায় এখনও চূড়ান্ত শিডিউল করা যাচ্ছে না। মরতুজা পলাশ আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আশা করছে, তিনি শিগগিরই মুক্তি পাবেন। তা না হলে অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কোনও উপায় নেই।’ নেপালে অপু বিশ্বাস ও পলাশ ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। গত আগস্টে শুরু হওয়া সিনেমাটির ২৫ দিনের বেশি শুটিং শেষে আকস্মিক বন্যার কারণে ২৮ আগস্ট দেশে ফেরেন তারা। সেদিনই বিমানবন্দর থেকে পলাশকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার গ্রেফতারের বিষয়টি এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা। অভিনয়ে এখন অনেকটাই বিরতিতে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের ভাবনা ও ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় ভাগ করে নেন ভক্তদের সঙ্গে। এবার সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তা দীর্ঘস্থায়ী করার উপায় নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানালেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বর্ষা লিখেছেন, কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সেখানে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে সেই বিনিয়োগকে শুধু অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চান না তিনি। বর্ষার ভাষ্য, সম্পর্কের প্রকৃত বিনিয়োগ হলো সময়, যত্ন, ব্যবহার এবং আন্তরিকতা। তিনি লিখেছেন, ‘যেকোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে সেই সম্পর্কে ইনভেস্ট করতে হবে। আর এই ইনভেস্টমেন্ট বলতে শুধু টাকা-পয়সা বোঝায় না।’ জীবনের প্রয়োজন মেটাতে অর্থ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেটিই সবচেয়ে বড় বিষয় নয় বলে মনে করেন বর্ষা। তাঁর মতে, প্রিয় মানুষটির জন্য সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং ভালো ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিজের পারিবারিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করাও সম্পর্ককে গভীর করে। বর্ষা মনে করেন, কোনো মানুষকে যদি সত্যিই জীবনের দীর্ঘ পথের সঙ্গী হিসেবে দেখতে হয়, তাহলে তাকে শুধু নিজের জীবনের নয়, পরিবারেরও অংশ করে নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'একজন মানুষের সঙ্গে যখন পরিবারের সামাজিকতা, সম্মান, মায়া, দায়বদ্ধতা ও আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন সেই বন্ধন আর কেবল দুজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্য মানুষগুলোর কথাও ভাবতে হয়।' বর্ষার পরামর্শ, পছন্দের মানুষটিকে পরিবারের বড়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পারিবারিকভাবে আপন করে নেওয়া উচিত। কারণ একটি সম্পর্ক যত বেশি পারিবারিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত হয়, ততই সেখানে মায়া, সম্মান ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয় বলে মনে করেন তিনি। দাম্পত্য জীবনে এক যুগেরও বেশি সময় পার করেছেন বর্ষা ও চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। ২০১১ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে পথ চলার কারণে শোবিজে তাদের দাম্পত্য প্রায়ই আলোচনায় এসেছে। গত বছর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন বর্ষা। এরপর নতুন কোনো কাজে তাকে দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন এই অভিনেত্রী। সম্পর্ক নিয়ে নিজের বক্তব্যের শেষাংশে বর্ষা স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন সময়, যত্ন, সম্মান, সুন্দর ব্যবহার, আন্তরিকতা এবং পারিবারিক বন্ধনের সমন্বয়।