জাতীয়

ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে নতুন বিভাগ গঠনের পথে সরকার

Admin অক্টোবর ০১, ২০২৫

বাংলাদেশে প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সরকার ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আগে আলোচিত পদ্মা-মেঘনা নামের কোনো বিভাগ হচ্ছে না। একই সঙ্গে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে নতুন দুটি উপজেলা সৃষ্টির সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে গৃহীত হয়েছে।

 

সরকারি সূত্র জানায়, চলতি মাসেই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফেরার পর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানেই ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন উপজেলাও ঘোষণার তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

 

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই প্রি-নিকার বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে নতুন দুটি বিভাগ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লার মুরাদনগর এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা ভেঙে দুটি নতুন উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

 

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ফরিদপুর বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হবে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা। অপরদিকে কুমিল্লা বিভাগ গঠিত হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা নিয়ে।

 

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন বিভাগ ও উপজেলা সৃষ্টির মাধ্যমে সেবাদান প্রক্রিয়া আরও বিকেন্দ্রীকৃত হবে। তবে এর ফলে সরকারি ব্যয়, প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং জনবল বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

 

এভাবে নিকার বৈঠকে অনুমোদন পেলে বাংলাদেশের বিভাগ সংখ্যা দাঁড়াবে ১০টি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সরকারি ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর নিরাপত্তা এসকর্ট প্রত্যাহার

রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশের জনবল ও যানবাহনের সংকট বিবেচনায় মন্ত্রিসভার ১৮ সদস্যের জন্য দেওয়া পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় ৬ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।    গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীও নিজের নিরাপত্তা বহরের আকার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন।   একাধিক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।   জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আজ শনিবার টিবিএসকে বলেন, গত সপ্তাহে সরকার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করার আদেশ জারি করেছে। আদেশ জারির দিন থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এখন মন্ত্রীর শুধু গানম্যান রয়েছে।    সরকারি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকায় চলাচলের সময় অধিকাংশ মন্ত্রী পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট পেয়ে আসছিলেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। এসকর্ট প্রত্যাহার করা হলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং ঢাকার বাইরে সফরকালে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যয় কমানোর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল ও যানবাহনের সংকটও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একজন মন্ত্রীর এসকর্ট দলে সাধারণত একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবল থাকেন। তাদের জন্য একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ থাকে এবং সদস্যদের বেতন-ভাতা ও যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা হয়।   যেসব মন্ত্রী এখনো পুলিশের প্রোটেকশন এসকর্ট পাচ্ছেন তারা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।   অন্যদিকে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে।   ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ প্রয়োজন ২ হাজার ৫৭৫ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৯০০ সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে।   পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় প্রোটেকশন ইউনিটের বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে যায়। ফলে বর্তমানে একটি গাড়ি দিয়ে একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সীমিত জনবল ও যানবাহন দিয়েই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬

বঙ্গভবন ছাড়লেও চুপ্পু এখনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়ে

ছবি: সংগৃহীত

ভিসা ছাড়াই এশিয়ার ৬ দেশে ভ্রমণের সুযোগ বাংলাদেশিদের

শিক্ষাধারায় বৈষম্য দূর করতে হবে, যানজট নিরসনে নতুন সড়ক হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি
গ্যাসসংকটে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে কারখানা

চরম গ্যাসসংকটে দেশ। সংকটের তীব্রতায় অন্তত ৪০ শতাংশ শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো বন্ধের পথে। স্থানীয় শিল্পের পাশাপাশি তৈরি পোশাকসহ বস্ত্র খাতের কারখানাগুলো চালু রাখাই এখন উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো ক্রয়াদেশ পৌঁছানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রপ্তানি খাতের শিল্পোদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকেই দেশে গ্যাসসংকট চলছে।   তবে এক সপ্তাহ ধরে এই সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে সক্ষমতার অর্ধেকও কারখানা চালানো যাচ্ছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন, যাঁরা উৎপাদনে আছেন তাঁরা পুরো সময় কারখানা চালু রাখতে পারছেন না। এতে একদিকে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানি আয়।   শিল্প খাত না বাঁচলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি থেমে যাবে। তাই শিল্পের গ্যাস-বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো না গেলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমার পাশাপাশি রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।   মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশজুড়ে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।   এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি এখনো পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দল ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁরা আমাদের এখনো কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি। তবে কাজ চলছে, সমস্যাটি সমাধান হতে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে।’   পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস সরবরাহের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা দৈনিক প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র দুই হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। ফলে দৈনিক ঘাটতি থাকছে প্রায় এক হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। স্বাভাবিক সময়ে আমদানীকৃত এলএনজি থেকে ৯৫০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে একটি টার্মিনাল কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এতে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। দেশীয় কূপগুলো থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমে প্রায় এক হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে, যা ২০২০ সালের দিকে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ছিল প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে এই ঘাটতি পূরণে নিয়মিতভাবে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে সামাল দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যাপকহারে সরকারের ভর্তুকি বাড়লেও গ্যাসসংকট কাটছে না।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘বর্তমান গ্যাসসংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি দেখছি না। আগের সরকার শিল্প-কারখানার গ্যাস কমিয়ে সার উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব এখন শিল্প খাতকে বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারও আবাসিক ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ফলে শিল্প খাত আবারও উপেক্ষিত হচ্ছে। অথচ শিল্প-কারখানা সচল না থাকলে সরকারের ভ্যাট ও কর আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’   তিনি বলেন, ‘শিল্পমালিকরা নিয়মিত সরকারের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গেও শিগগিরই আলোচনা করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের সীমিত সরবরাহের কথাই জানানো হচ্ছে। গ্যাসসংকটে আমার নিজের শিল্পগ্রুপের প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। টেক্সটাইল মিল আগেই বন্ধ করতে হয়েছে। এখন কাগজ, বোর্ড, প্যালেটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারখানাও বন্ধ রয়েছে।’   শওকত আজিজ রাসেল আরো বলেন, ‘দেশের সব এলাকায় পরিস্থিতি এক নয়। চট্টগ্রাম ও মেঘনা অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও সার্বিকভাবে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি শিল্প-কারখানা গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত বা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত থাকলে উদ্যোক্তারা রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবেন এবং কার্যকর মূলধন দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে থাকলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’   এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে গ্যাসনির্ভর স্টিল মিলগুলো কার্যত উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। অবস্থা খুবই খারাপ, গ্যাসের কোনো চাপই নেই। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক শিল্প-কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’   দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির  মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন ডিভিশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, ‘পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিনই গ্যাস সরবরাহের সংকট কিছুটা করে বাড়ছে। বর্তমানে অনেক শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে গেছে যে উৎপাদন ব্যাপক হারে ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও কারখানা কার্যত বন্ধ হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে গ্যাসের চাপ আরো কমতে থাকবে।’   তিনি বলেন, ‘নরসিংদীসহ অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও চাপ শূন্যের কাছাকাছি। আগে যেখানে ডিআরএসের বাইরে ৭০ থেকে ৮০ পিএসআই চাপ পাওয়া যেত, সেখানে এখন তা ২০ থেকে ২৫ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। ফলে শিল্পে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।’   কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান আরো বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পরে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরো কমাতে হতে পারে।’   এ বিষয়ে সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের শিল্পাঞ্চলভেদে গ্যাসসংকটের তীব্রতা ভিন্ন। ভোলা ও হবিগঞ্জে তেমন সংকট না হলেও নরসিংদী-নারায়ণগঞ্জ শিল্পবেল্টে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে, যেখানে অনেক কারখানা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশের গ্যাস সরবরাহ আরো সংকুচিত হয়েছে। ফলে শিল্পে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে আবাসিক খাতেও গ্যাসের ঘাটতি প্রকট।’   মইনুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বর্তমানে ব্যবসায়ীরা একদিকে গ্যাসসংকট, অন্যদিকে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে শিল্প, বিনিয়োগ ও রপ্তানি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব আরো বাড়বে।’ এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে দেশে এমন গ্যাসসংকট তৈরি হবে, এটি আগে থেকেই জানা ছিল। কারণ দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অতিরিক্ত সক্ষমতা বা রিজার্ভ নেই। ফলে এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও নেই। আমাদের যদি অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকত, তাহলে সেটি ব্যবহার করা যেত। কিন্তু তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।’   ম. তামিম বলেন, ‘ভবিষ্যতেও এমন ঝুঁকি থেকে যাবে। শুধু এফএসআরইউ নয়, দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর যেকোনো একটিতেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে শত শত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন এক মুহূর্তে কমে যেতে পারে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের কয়েকটি কূপে সমস্যা দেখা দিলেও বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। আমরা এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছি।’   জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে নতুন গ্যাসকূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।   গাজীপুর, সাভার ও নরসিংদীতে উৎপাদন ৫০-৬০% কমেছে : গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাসসংকটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কালিয়াকৈর, কোনাবাড়ী, টঙ্গী, শ্রীপুর, মৌচাক, চন্দ্রা ও বোর্ডবাজার এলাকার অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অনেক ইউনিট বন্ধ রাখতে হচ্ছে, শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিল্প মালিকরা কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কালিয়াকৈরের গোমতি টেক্সটাইলে অনুমোদিত পাঁচ পিএসআইয়ের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র এক পিএসআই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ৬০ শতাংশ কমেছে। একইভাবে সাদমা ফ্যাশনওয়্যারে প্রয়োজনীয় ১০ পিএসআইয়ের বদলে ১-২ পিএসআই গ্যাস পাওয়ায় দৈনিক উৎপাদন ৬০ টন থেকে নেমে এসেছে ১০ টনে। গ্যাসসংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক এলাকায়ও। দেশের বস্ত্রশিল্পের মৌলিক চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ হয় নরসিংদীর উৎপাদিত কাপড় দিয়ে। এখানকার ছোট-বড় প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক শিল্প-কারখানা পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর। নরসিংদীর শেখেরচর এলাকার এমআর টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ রুমন বলেন, ‘গ্যাসসংকটে গত মঙ্গলবার থেকে কারখানার ডায়িং, ফিনিশিং, নিটিং, ডিজিটালসহ সব ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা তিতাস কর্তৃপক্ষও জানাতে পারছে না।’ সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র গ্যাসসংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক ১৫ পিএসআইয়ের পরিবর্তে দুই থেকে তিন পিএসআইয়ে থাকায় ব্রয়লার, জেনারেটর ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে গ্যাসসংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চালকরা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। অনেক গাড়িতে ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শিল্পমালিকরা বলছেন, সাভার-আশুলিয়ায় প্রায় এক হাজার ২০০ কারখানা রয়েছে। দীর্ঘদিন সংকট চললে ছোট ও মাঝারি শিল্প বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। সূত্র : কালের কণ্ঠ

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করল আকিজ এভিয়েশন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক সফর শেষে ঢাকায় ফিরলেন সেনাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন

ছবি: সংগৃহীত
বৈঠক করতে মন্ত্রী নিজে গেলেন সৌদি দূতাবাসে!

হজ ইস্যুতে আলোচনার জন্য সম্প্রতি ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে গিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। স্বাগতিক দেশের একজন মন্ত্রীর সরাসরি বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করার এ ঘটনায় কূটনৈতিক অঙ্গনে অলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন প্রটোকল ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী এটি ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা।   তারা বলছেন, কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী কোনো দাপ্তরিক বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন হলে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদেরই মন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার কথা; মন্ত্রীর রাষ্ট্রদূতের কাছে যাওয়ার রীতি নেই। ‘মহৎ উদ্দেশ্যে’ হলেও প্রথা ভেঙে এভাবে বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে সাক্ষাৎ করা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের অবস্থান দুর্বল করে।   ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য ‘ব্যাকআপ আবাসন’ ১ শতাংশ বহাল রাখার অনুরোধ জানাতে গত ২০ জুলাই রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে যান ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় আবাসন ২ শতাংশ নির্ধারণ করায় হজের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা রোধ করতে মন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূত আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   প্রচলিত কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে বৈঠকের প্রয়োজন হলে স্বাগতিক দেশের মন্ত্রীর দপ্তরে বিদেশি দূতদের আমন্ত্রণ জানানো বা ডেকে পাঠানোই নিয়ম। বিশেষ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু কোনো বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা একচন মন্ত্রীর জন্য কূটনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়।   এ ছাড়া ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক বা সাক্ষাতের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়। এরপর মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ কীভাবে সম্পাদন করা যায় সে সিদ্ধান্ত নেয়।    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মমন্ত্রী সৌদি দূতাবাসে যাবেন বা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ করবেন, এ ধরনের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পেরেছে, এ ধরনের একটি বৈঠক হয়েছে এবং হজ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ হয়েছে।   ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তারাও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।     সরকারের এক কূটনীতিক বলেন, একজন মন্ত্রী যখন বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন, সেটা প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়। কূটনৈতিক একটি প্রটোকল আছে, সেটা মানা উচিত। যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই হোক, রাষ্ট্রদূত যদি মন্ত্রীর অফিস বা অন্য কোনো ভেন্যুতে দেখা করতেন, তবে সমস্যা হতো না। অফিশিয়াল বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য মন্ত্রীর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসে গিয়ে বৈঠক করা খুবই বেমানান এবং কূটনৈতিক যে প্রটোকল আছে তার বিচ্যুতি। মন্ত্রী গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছেন, লবিং করছেন, এটা তো নজিরবিহীন ঘটনা!   এ কূটনীতিক আরও বলেন, একজন মন্ত্রী চাইলে বিদেশি দূতাবাসের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে যেতে পারেন, শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে যেতে পারেন, চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন বা কোনো রাষ্ট্রদূতের বাসায় আমন্ত্রণ জানালেও যেতে পারেন। কিন্তু দূতাবাসে গিয়ে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করতে পারেন না। এগুলো কূটনৈতিকভাবে আমাদের দুর্বল করে।   আরেক কূটনীতিক বলেন, মন্ত্রী হাজিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলতে গেছেন। বাংলাদেশিদের স্বার্থ নিয়ে আলাপ করতে দূতাবাসে গেছেন। এই আলাপটা ওনার দপ্তরে হতে পারত। মন্ত্রী হয়তো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গেছেন, কিন্তু আমাদের প্রটোকলটা মাথায় রাখতে হবে। একজন মন্ত্রী যখন বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন, সেটা প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়। সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রীকে এই বার্তা দিতে পারতেন, মনে করিয়ে দিতে পারতেন।   নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে সাবেক এক রাষ্ট্রদূত বলেন, সাধারণত নিয়ম হলো, যে দেশে রাষ্ট্রদূতরা থাকবেন তারা এসে মন্ত্রী বা সচিবের সঙ্গে দেখা করবেন। যদি অফিশিয়াল কোনো বিষয় হয় তাহলে রাষ্ট্রদূতরা এসে দেখা করবেন এবং সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে করা হয়। যদি সোশ্যাল কোনো প্রোগ্রাম হয়, সেখানে যেতে বাধা নেই। অফিসিয়াল কোনো আলাপ থাকলে সেটা অফিসে হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো মিশনে গিয়ে মন্ত্রীর বৈঠক করার কথা না বা এ রকম হয় না। সাধারণ প্রটোকল অনুযায়ী এটা হওয়ার কথাও না। এটা দৃষ্টিকটু হয়েছে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি তো জানি না, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি আমাদের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের (পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগ) সঙ্গে কথা বলেন।   জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, মিশনের লোকজন মন্ত্রীর কাছে আসবেন, মন্ত্রী সাধারণত মিশনে যান না। এটা সাধারণ অনুশীলনে নেই। কাজেই প্রচলিত কূটনৈতিক যে অনুশীলন, সেই অনুযায়ী এটা ঠিক কাজ হয়েছে বলে মনে করা যায় না। জ্ঞানের অভাব থেকে হয়তো না জেনেই করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের যেটা জানা নেই, সেটা জানার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা যেত। হয়তো সেটা জরুরি মনে করেন না বলেই এ ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য সৌদি আরব। দেশটির সঙ্গে হজ, ওমরাহ ছাড়াও নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। বৃহৎ স্বার্থ থাকার পরও স্বাগতিক দেশের একজন মন্ত্রী প্রটোকল ভেঙে বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে সাক্ষাৎ বা বৈঠক করতে পারেন না। একজন মন্ত্রী যখন এ ধরনের কাজ করেন, তখন কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়, কূটনীতিকদের জন্য দরকষাকষি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কূটনৈতিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

কবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন?

স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিসিপিএস

কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিসিপিএস

0 Comments