প্রবাসী

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার্তদের পাশে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালে ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব। রাজধানী লিসবনসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ায় মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে প্রবাসীদের এই সংগঠনটি।

 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় অডিভেলাস বোম্বেরস (অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকারী দল)-এর কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।

 

সংগঠনের পক্ষ থেকে পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন জরুরি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো দ্রুত বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন– পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রনি মোহাম্মদ, অর্থ সম্পাদক জাহিদ কায়সার, সাবেক সভাপতি রাসেল আহম্মেদ এবং ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক আর এ ইহসান।

 

অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সভাপতি রনি মোহাম্মদ বলেন, ‘পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব শুধু সাংবাদিকদের একটি সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা। অতীতেও যেকোনো জরুরি ও মানবিক সংকটে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। ভবিষ্যতেও পর্তুগালের যেকোনো সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজনে আমরা সক্রিয় থাকব।’

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আবারও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে পর্তুগালকে। অস্বাভাবিক আবহাওয়া ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী লিসবন ও এর আশপাশের এলাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমন সময়ে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দায়িত্বশীল ভূমিকার একটি শক্ত বার্তা বহন করছে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহায়তা কেবল বস্তুগত নয়; এটি একটি সামাজিক সংহতির প্রতীক। দুর্যোগের সময় সাংবাদিকদের এই তৎপরতা স্থানীয় জনগণ ও কর্তৃপক্ষের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম প্রবাসী কমিউনিটি ও স্থানীয় সমাজের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এমন সামাজিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অডিভেলাস বোম্বেরসের সদস্যরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শক্তিশালী কমিউনিটি বিনির্মাণে পাশে থাকার অঙ্গীকার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির উডসাইডে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রাইজআপ নিউ ইয়র্ক সিটি’ -এর তৃতীয় বার্ষিক লিডারশিপ সামিট। গত ৭ ফেব্রুয়ারি কুইন্সের গুলশান টেরেসে আয়োজিত এই সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পাশে থেকে একটি শক্তিশালী সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।   তীব্র শীত উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে যোগ দেন নিউ ইয়র্ক স্টেটের কম্পট্রোলার, সিনেট, অ্যাসেম্বলি এবং ইউএস কংগ্রেসের বিভিন্ন পদের ১৮ জন প্রার্থীসহ বর্তমান সিটি কাউন্সিল সদস্য ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঐক্য, নাগরিক সচেতনতা এবং মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন।   আমেরিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রাইজআপ এনওয়াইসি-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও এনওয়াইপির সাবেক লেফটেন্যান্ট কমান্ডিং ডিটেকটিভ শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজী তেজওয়ার (আরভিন)।   মূল বক্তব্যে শামসুল হক বাংলাদেশি কমিউনিটির অগ্রগতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি আব্রাহাম লিংকনের উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেটিকে নিজে তৈরি করা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিটির উচ্চপদে বাংলাদেশিদের সীমিত উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত কমিউনিটি সেন্টারের অভাব দূর করতে যোগ্য ও নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।   ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি নিউ ইয়র্কে ভোটার নিবন্ধন ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটি নেতাদের মতে, ২০২৫ সালের সিটি মেয়র নির্বাচনে বাংলাদেশি ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণে এই সংগঠনের বড় ভূমিকা ছিল। যার ফলে বর্তমানে মেয়র জোহরান মামদানির ট্রানজিশন কমিটিতে শামসুল হকসহ ১০ জন বাংলাদেশি স্থান পেয়েছেন।   প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নিউইর্য়ক স্টেট কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী রাজীব গোয়েল, আদেম বাষ্কেদ্দেকো, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ডিস্ট্রিক্ট ৬ এর পদপ্রার্থী চাক পার্ক, ডিস্ট্রিক্ট -৭ অ্যান্টোনিও রেইনোসো এবং জুলি ওন, নিউইর্য়ক স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৩ জেসিকা রামোস, জেসিকা গঞ্জালেস - রোহাস, ডিস্ট্রিক্ট-২৪ ওমর মোহাম্মদ, নিউইর্য়ক স্টেট এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ মাহতাব খান, ডিস্ট্রিক্ট- ২৫ কেনেথ প্যাক, ডিস্ট্রিক্ট-৩২ মোহাম্মদ মোল্লা, ডিস্ট্রিক্ট-৩৪ আবির কায়াস, ব্রায়ান রোমেরো, ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ পিয়া রহমান, ডিস্ট্রিক্ট-৩৮ ডেভিড অরকিন, ডিস্ট্রিক্ট- ৮৭ জাকির চৌধুরী। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন নিউইর্য়ক সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট-২১ এর সদস্য শ্যানেল থমাস-হেনরি, যিনি বর্তমানে কোনো পদে প্রার্থী নন।   নিউইর্য়ক স্টেট এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৪ এর প্রার্থী আবির কায়াস, তিনি প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হতে চান বলে তার বক্তব্যে ব্যক্ত করেন। এছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার নিয়ে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে দৃঢ় অঙ্গিকারবদ্ধ বলে জানান তিনি।    এদিকে কংগ্রেসনাল প্রার্থী জুলি ওন বলেন, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদসদ্যের নিউইর্য়ক সিটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার এবং তিনি এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।   অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৪ এর প্রার্থী আবির কায়াস কমিউনিটির সমস্যা সমাধানে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া বক্তব্য দেন জেসিকা রামোস, জেসিকা গঞ্জালেস-রোহাস, ওমর মোহাম্মদ, মাহতাব খান, কেনেথ প্যাক, মোহাম্মদ মোল্লা, পিয়া রহমান, জাকির চৌধুরীসহ আরও অনেকে।   বক্তারা জানান, সর্বশেষ নির্বাচনে নিবন্ধিত বাংলাদেশি ভোটারদের প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। আসন্ন ২৩ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনে এই হার ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   অনুষ্ঠান শেষে ফটোসেশন ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে শামসুল হক সকল প্রার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও আর্থিক সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কমিউনিটির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার্তদের পাশে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে ময়লার স্তূপে মিললো বাংলাদেশির মরদেহ, রিমান্ডে এক প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে জাহাজডুবি, যেভাবে উদ্ধার হলেন ১৬ বাংলাদেশি নাবিক

ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে নেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণা: প্রবাসী তরুণীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জিনিয়া তাসনিম টুম্পা নামে তরুণীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অভিযুক্ত টুম্পা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।   মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাকসুদুল আলম মাইনুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তরুণী ও তার সহযোগীরা মাকসুদসহ দুজনকে আমেরিকা পাঠানোর কথা বলে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হন টুম্পা।   পরবর্তীতে টাকা ফেরতের চাপের মুখে ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ২৫ লাখ টাকা নিয়ে টুম্পা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি টাকা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করলে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হন।   ডিএমপির নিউমার্কেট থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছেছে। তবে আসামি বিদেশে অবস্থান করায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে খুঁজে পেতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।   জিনিয়া তাসনিম টুম্পা যশোর নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমান। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনগামী যাত্রীদের জন্য বিমানের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার ই-ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

৫০ দিনের মধ্যে খুলবে ওমানের ভিসা

ছবি: সংগৃহীত
কর্মীদের সুখবর দিল আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মীদের জন্য কাজের সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কাজের এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলো। রোজা পালন ও দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রমজান শুরু হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনবে।   ২০২২ সালের মন্ত্রিপরিষদ প্রস্তাবনা অনুযায়ী, রমজান মাসে বেসরকারি খাতের কর্মীদের কাজের সময় প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে দুই ঘণ্টা কমানো হয়েছে। দেশটির মানবসপবিত্র রমজান মাসেপ্ম্পরদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল বেসরকারি কর্মীর জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কর্মীর পদমর্যাদা বা জ্যেষ্ঠতা নির্বিশেষে এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। তবে কাজের সময় কমানোর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিয়োগকর্তারা শিফট বা ‘রিমোট ওয়ার্ক’ বা দূরবর্তী কাজের ব্যবস্থা করতে পারবেন।   অতীতের রেওয়াজ অনুযায়ী, এই নির্দেশনা মুসলিম ও অমুসলিম সকল কর্মীর জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া প্রয়োজনে নির্ধারিত কম সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করালে কর্মীদের জন্য ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার বিধানও চালু থাকবে।   সরকারি খাতের জন্য ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারি সংস্থাগুলো রমজান শুরুর আগেই পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করবে। সাধারণত সরকারি অফিসে কাজের সময় কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল সময়সূচি এবং ক্ষেত্রবিশেষে রিমোট ওয়ার্কের সুযোগ রাখা হয়। তবে আমিরাতের বিভিন্ন বিভাগ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম এবং গ্রাহকসেবার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সময়সূচিতে নিজস্ব সমন্বয় করতে পারবে।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

চাকরি নিয়ে প্রবাসীদের সুখবর দিল ওমান

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি প্রবাসীদের সুখবর দিল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ওমান প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি বার্তা

0 Comments