রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা পারভীন মিনুর (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসের সার্ভিস লেনের গাবতলী নামক স্থান থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, নিহত কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার কোরিকান্দি গ্রামের মহিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে। তিনি ঢাকার শাজাহানপুর থানার শান্তিনগর এলাকার শান্তিবাগ বাজার গলি এলাকায় বসবাস করতেন।
বুধবার সকালে পথচারীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
ভাঙ্গা থানার উপ পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, নিহত নারীর পরিচয় প্রথমে পাওয়া যায়নি। পরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাহায্যে তার পরিচয় সনাক্ত করা গেছে।
তিনি আরো বলেন, নিহত নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম জানান, নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী এক বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তার তিন ছেলে নিয়ে বসবাস করতেন। কিভাবে তার লাশ এখানে এলো এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য উদঘাটন করা যায়নি।
যতটুকু জানা গেছে তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জরুরি উন্নয়ন কাজের জন্য টানা ৯ ঘণ্টা গাজীপুরের বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না শনিবার (২৫ জুলাই)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কাশিমপুর জোনাল অফিস। এতে বলা হয়, গাজীপুরের নরসিংহপুর রোডের সুরাবাড়ী উপকেন্দ্র থেকে দত্ত মার্কেট, ছায়াতল মার্কেট, সুরাবাড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রাইচমিল হয়ে মিছারবাগ বটতলা পর্যন্ত ১১কেভি ফিডারটি অনেক বড় এবং লোড বেশি হওয়ায় ফিডারটি ছোট করতে এবং লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে আরও দুটি ফিডার নির্মাণ করা হবে। ফলে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টা গাজীপুরের বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। এলাকাগুলো হলো, কাশিমপুর, সুরাবাড়ি, বাগবাড়ী, শরপাইতলী, ছায়াতল মার্কেট, দত্ত মার্কেট, রাইচমিলের আশপাশের এলাকা, মিছারবাগ বটতলার আশপাশের এলাকা, মাদ্রাসা বাজারের আশপাশের এলাকা, শাকিল সিনথিয়া রোড, মনটেক্স এর আশপাশের এলাকা, লালদিঘি, কবরস্থান এলাকা, বারেন্ডা (আংশিক), রফিকুল ইসলাম স্কুলের আশপাশের এলাকা, খানকা শরিফের আশপাশের এলাকা, রওশন মার্কেট এলাকা, হাকের নাল ও নয়াপাড়ার আংশিক এলাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে কাশিমপুর জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম গাজী নজরুল ইসলাম। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের শুরু, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, শিক্ষকতা, জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক তার রাজনৈতিক জীবনে পতন এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকেই বহিষ্কার করা হয় তাকে। জানা যায়, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন গাজী নজরুল ইসলাম। শৈশবের প্রথম পাঁচ থেকে ছয় বছর নিজ গ্রামেই কাটান। ১৯৬২ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে গাবুরা জিএনএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাস করেন। একই বছর সাতক্ষীরা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হয়ে ১৯৭০ সালে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর খুলনা বিএল কলেজে ডিগ্রি শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জাসদ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় হন গাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৭১ সালে ডিগ্রির ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বাড়ি ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা। এর আগে সংসদে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেও দাবি করেছিলেন, তিনি সেক্টর ৯-এ মেজর এম এ জলিলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাসদে যোগ দেন তিনি। ওই সময় জাসদের একটি সভা থেকে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন। পরে মামলাটি থেকে খালাস পান। ১৯৭৫ সালে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন গাজী নজরুল ইসলাম। পরের বছর ১৯৭৬ সালে মাকসুদা খাতুনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮০ সালে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। পরে আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। তার পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ১৯৮৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে সমর্থক হিসেবে যোগ দেন গাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৮৬ সালে দলের রোকন হন। একই বছর শ্যামনগর থানা আমিরের দায়িত্ব পান। ১৯৮৬-১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিজয়ী হতে পারেননি। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও অংশ নেন। তবে সে নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেননি। এরপর দীর্ঘ সময় সংসদের বাইরে থাকার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে নির্বাচন করেন। তিনি ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান পান ৮৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারাবন্দি হয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম। ২০০৭ সালের ৯ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় এক বছর পর ২০০৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল তৃতীয়বার কারাবন্দি হন এবং একই বছরের ২২ মে মুক্তি পান। একই বছরের নভেম্বর মাসে চতুর্থবার কারাবন্দি হয়ে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। পরে ২০১৩ সালের ১৫ মে পঞ্চমবার কারাবন্দি হন এবং একই বছরের ১৪ অক্টোবর মুক্তি পান। ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠবার কারাবন্দি হয়ে মার্চ মাসে মুক্তি পান। একই বছরের ২৫ জুলাই সপ্তমবার কারাবন্দি হয়ে ২ আগস্ট মুক্তি পান। পরে ১৬ ডিসেম্বর অষ্টমবার কারাবন্দি হন। ওই সময় তার স্ত্রী মাকসুদা খাতুন ও একমাত্র কন্যা শারমিন ফেরদৌসীকেও একটি মামলায় প্রায় ২৯ দিন কারাবন্দি থাকতে হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর, ২০ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটির একাধিক অংশ ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ২২ জুলাই দুপুরে শ্যামনগর বাজার থেকে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একই দিন বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ও শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির। তিনি দাবি করেন, বালুমহালের একটি ডাক ছিল। সেটি শ্যামনগর এলাকার হলেও আশাশুনির উপকূলসংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত হতো। ডাক শেষ হওয়ার পর শ্যামনগরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ছেলে, তার ঘনিষ্ঠ লোকজন এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ওই বালুমহাল পরিচালিত হতো, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে আমি একাধিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছি। কিন্তু এমপির প্রভাবের কারণে সেটি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে সোলায়মান কবিরের এই অভিযোগের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। জামায়াতে ইসলামী একটি নৈতিক সংগঠন। সেই জায়গা থেকে দল সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় কিছুটা হলেও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের মর্যাদা পুনরুদ্ধার হবে। আমাদের কর্মীরা এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। গাজী নজরুল ইসলামের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্ররাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, শিক্ষকতা, জামায়াতের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসা, তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং একাধিকবার কারাবরণের মতো ঘটনাগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে, তেমনি সাম্প্রতিক ভিডিও বিতর্ক ও দলীয় বহিষ্কারের ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এদিকে, দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধু দলীয় বহিষ্কারের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। জাতীয় সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উজানে ঢল আর ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ৬টায় পানির একই প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধির শঙ্কা নেই। ২ থেকে ৩ ঘন্টার মধ্যে পানি বিপদসীমার আরও নিচে নেমে যাবে। উল্লেখ যে, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৩ জুন। সেসময় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি নেমে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জুন বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছিল। যার ১২ ঘন্টা পর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।