বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘Genotype IIIb’ টাইপের চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাস শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্য প্রাদুর্ভাব না থাকলেও সম্প্রতি নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। বিষয়টি দেশের পোলট্রি খাতের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেনের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি পরিচালনা করেন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মারজানা আকতার। প্রকল্পটির শিরোনাম ছিল— ‘বাংলাদেশে মুরগির চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাসের আণবিক অনুসন্ধান ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ’। এটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়।
গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য জার্নাল Microbiology Spectrum-এ প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাপক গোলজার হোসেন জানান, অতীতে ব্রিডার ফ্লকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার কারণে দেশে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ছিল খুবই সীমিত। তবে ২০২৩ সালে নরসিংদীর একটি বাণিজ্যিক ব্রয়লার খামারে হঠাৎ করে রোগটি দেখা দেয়, এরপরই গবেষণা শুরু হয়।
গবেষক মারজানা আকতার জানান, আক্রান্ত মুরগিগুলোর মধ্যে অ্যানিমিয়া, ফ্যাকাশে ঝুঁটি ও নীলচে ডানার মতো উপসর্গ দেখা যায়। ময়নাতদন্তে thymus, spleen, bursa, liver ও bone marrow-এ পরিবর্তন লক্ষ্য করা হয়। ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয় এবং সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে প্রমাণিত হয় এটি Genotype IIIb টাইপের— যা আগে কখনো বাংলাদেশে শনাক্ত হয়নি।
গবেষকরা জানান, ভাইরাসটির জিনগত গঠন চীনের একটি স্ট্রেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা পোলট্রি আমদানি–রপ্তানির মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভাইরাসটির VP3 প্রোটিনে নতুন কিছু মিউটেশন পাওয়া গেছে, যা রোগের তীব্রতা ও ইমিউনোসাপ্রেশন বাড়াতে পারে।
অধ্যাপক গোলজার বলেন, দেশের স্থানীয় ভাইরাস প্রজাতির জিনোম বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের টিকা উন্নয়ন, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং জাতীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে সহায়ক ভিত্তি তৈরি করাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য।
গবেষক দল মনে করছে, নতুন এই জেনোটাইপের বিস্তার রোধে এখনই জাতীয় পর্যায়ে ভাইরোলজিক্যাল মনিটরিং জোরদার, ব্রিডার ফ্লক ভ্যাকসিন আপডেট এবং খামার পর্যায়ে কঠোর বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গত জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকেরা। অনেকেই দাবি করছেন, আগের তুলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে কম হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিল দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি কয়েকজন গ্রাহক স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল পাওয়ার অভিযোগও করেছেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় স্পষ্টিকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, কোনো অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে সে বিষয়ে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সোমবার (৩ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‘অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের স্পষ্টিকরণ’ ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যে সকল অভিযোগ পাওয়া গেছে তা বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ সংস্থাসমূহ কর্তৃক সমাধান করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, তবে কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলবিষয়ক কোনো অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে সে বিষয়ে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধু বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি রেল টানেলের নিচের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং আশপাশের জমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ এই পাকা সড়কটি বছরের ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত হাঁটুসমান পানিতে ডুবে থাকে। এতে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, টানেলের দুই পাশে পানি জমে আছে এবং মানুষ কাপড় গুটিয়ে, মাথায় ব্যাগ তুলে স্কুল, কলেজ, অফিস ও কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। স্থানীয় শিক্ষার্থী হুজাইফা জানায়, প্রতিদিন পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়, আর রাস্তার কিছু অংশ ভাঙা থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃষক বিষু শিকদার বলেন, আগে আশপাশ খোলা থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে নেমে যেত। এখন জমি ভরাট করে বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। রাস্তা উঁচু করলে টানেলের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হতে পারে, তাই পরিকল্পিত সমাধান প্রয়োজন। কুমারখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক জানান, স্থায়ী সমাধানের জন্য মহাসড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রয়োজন, যা এলজিইডির এককভাবে বাস্তবায়নের আওতায় পড়ে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, সমস্যাটি সম্পর্কে প্রশাসন অবগত রয়েছে। প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রবেশগম্য ও সমঅধিকারভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গুরুতর প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটসহ বিকল্প ভোটদান ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে প্রবেশগম্যতা, যুক্তিসংগত সুবিধা (Reasonable Accommodation) এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কার্যকর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ (২ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেল, গুলশান, ঢাকা-এ বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) আয়োজিত "প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিতকরণে জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ পর্যবেক্ষণের ফলাফল ও নীতিগত সুপারিশ" শীর্ষক প্রকাশনা মোড়ক উন্মোচন ও মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমানেল মাসুদ, মাননীয় নির্বাচন কমিশনার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, এমপি, অ্যাডভোকেট নওয়াজ হালিমা আর্লি, এমপি, নুসরাত তাবাসসুম, এমপি, শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সোনামনি চাকমা, পরিচালক, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইপিডি এর প্রকল্প পরিচালক আনাস্থাসিয়া এস. উইবাওয়া, এহেড বাংলাদেশ-ইলেকটোরাল সাপোর্ট ফেসিলিটিজ প্রকল্প, ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি)। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বি-স্ক্যানের পরিচালক জনাব ইফতেখার মাহমুদ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ও নীতিগত সুপারিশ উপস্থাপন করেন বি-স্ক্যানের সমন্বয়কারী জনাব মাহফুজুর রহমান রাকীব। অনুষ্ঠানের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বি-স্ক্যান’র সহসভাপতি জনাব অন্তরা আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন বি-স্ক্যান’র নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব। ইপিডি এর সহায়তায় Promoting Disability Inclusive Election Observation (PDIEO) প্রকল্পের আওতায় বি-স্ক্যান ৭১ জন প্রতিবন্ধী নির্বাচন পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে ঢাকা, দিনাজপুর, ফরিদপুর ও মেহেরপুর জেলার ৮টি সংসদীয় আসনের ১০০টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ এবং ২৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতা মূল্যায়ন পরিচালনা করে। একই সঙ্গে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালার বিশ্লেষণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা হয়। বি-স্ক্যান তার পর্যবেক্ষণ কর্মকান্ড থেকে নিম্নোক্ত সুপারিশ উপস্থাপন করেন। ১। রাজনৈতিক দলসমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক শাখা চালুকরণ, দলের সদস্য হিসেবে ১% প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্তকরণ এবং সংসদে অন্তত ৫টি আসন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ২। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ (CRPD) এবং ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্যতা, সংগতিপূর্ণ বন্দোবস্ত (reasonable accommodation), স্বাধীন ভোটদান, প্রতিনিধিত্ব এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ৩। সকল ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুসরণ করার মাধ্যমে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করে তা ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের বাধ্যতামূলক মানদণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি পোলিং সেন্টারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোট প্রদানের জন্য নীচতলায় অন্তত একটি কক্ষ রাখতে হবে। ৪। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্তিকরণকে নির্বাচন ব্যবহারবিধি, প্রয়োগ প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষন কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্বাচন কমিশনে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব (ফোকাল) অর্পন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্বাচনকালীন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ প্রদান, প্রশিক্ষক ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহে যুক্ত করতে হবে। ৫। নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীন অংশগ্রহনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের সমন্বয়ে একটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব ভোটার শিক্ষা কৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে ব্রেইল, সহজপাঠ্য (Easy Read), বড় অক্ষর, অডিও, বাংলা ইশারা ভাষা এবং প্রবেশগম্য ডিজিটাল ফরম্যাটে ভোটার শিক্ষা ও নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৬। নির্বাচন কমিশন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনসমূহ (OPDs)-এর মধ্যে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তুলে নির্বাচন সংস্কার, প্রবেশগম্যতা মূল্যায়ন, ভোটার শিক্ষা এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। ৭। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটার ছাড়াও নির্বাচন কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব এবং প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণে সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা। ৮। যেসকল প্রতিবন্ধী ভোটার স্বাধীনভাবে ভোটকেন্দ্র গমনে সক্ষম নন, তাদের জন্য পোস্টাল ভোট, অনলাইন ভোটসহ বিকল্প ভোটদান পদ্ধতির সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ৯। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিবন্ধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষে জাতীয় পরিচয় পত্রের সঙ্গে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড (প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিচয় পত্র) এর সমন্বয়সহ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা উন্নয়ন করতে হবে।