এপ্রিলের ৪ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ইভানা। দেশে ফেরেন গত ২১ আগস্ট। প্রায় সাড়ে চার মাস বিদেশে থাকার পর তিনি বলেন, “দেশের বাইরে বিভিন্ন সময়ে যাওয়া হয়, এবার সময়টা অনেকটা বেশি ছিল। মূলত ঘুরতেই যাই, তবে সেই সঙ্গে কিছু শেখাও মানে মন্দ নয়।”
ইভানা জানিয়েছেন, “অভিনয় বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা আমার নেই, তাই সুযোগ থাকা অবস্থায় একটি অভিনয়ের কোর্স করেছি। এটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অনেক কাজে দেবে। অভিনয় ছাড়া আমি নাচের মেয়ে, তাই সেখানে ‘স্টেপস অন ব্রডওয়ে’ থেকে একটি নাচের কোর্সও করেছি। এছাড়া কিছু স্টেজ শো-তেও অংশ নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে মনে করতে পারেন আমি শো-অফের জন্য করেছি, কিন্তু বিষয়টি একদম নিজের জন্য। অভিনয় চর্চার বিষয়, একদিনে সব শেখা যায় না। কোর্স থেকে আমি ডিসিপ্লিন, ম্যানার, অ্যাক্টিভিটিজ এবং ইমোশন নিয়ে অনেক কিছু শিখেছি, যা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আমার শিক্ষক বলেছিলেন, ‘বি ইউরসেলফ, ডোন্ট ট্রাই টু বি সামওয়ান এলস’। সেটাই আমি মনে রাখব।”
দেশে ফেরার পরও ইভানা এখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও চার দিনের জন্য দেশে এসে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। শুটিং শেষ করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। দেশে ফেরার পর কিছু ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন, তবে নতুন কোনো কাজ শুরু হয়নি। তিনি বলেন, “চমৎকার একটি কামব্যাকের অপেক্ষায় আছি, এমন চরিত্র চাই যেখানে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারব।”
ব্যাচেলর পয়েন্টের চতুর্থ সিজনে তার চরিত্র যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখানে নতুন সিজনে পুনরায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত। তবে ছবিতে তার উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সিনেমা বিষয়ে ইভানা বলেন, “অনেকে এখন সিনেমা করছে, তবে মানে আমার করতেই হবে, এমন নয়। গল্প এবং চরিত্র ভালো হলে যে কোনো মাধ্যমেই কাজ করব—সেটা ইউটিউব, ওটিটি বা বড় পর্দা।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রূপালি পর্দায় তিনি ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। অভিনয়ের নিখুঁত দক্ষতা আর গল্প বাছাইয়ের ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বরাবরই আলাদা করে নজর কাড়েন আমির খান। তারে জামিন পার থেকে থ্রি ইডিয়টস—প্রতিটি সিনেমার মাধ্যমে তিনি শুধু বিনোদনই দেননি, দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন সমাজ ও জীবনের গভীর বাস্তবতা। তবে এবার পর্দার কোনো গল্প নয়, বরং নিজের জীবনের এক কঠিন ও অপ্রকাশিত সত্য নিয়ে মুখ খুললেন এই বলিউড সুপারস্টার— যা শুনে নতুন করে আলোচনায় উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘লোকমত মহারাষ্ট্রিয়ান অব দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে আমির খান বর্তমান প্রজন্মের ডিজিটাল অভ্যাস ও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন নিয়ে আক্ষেপ করে আমির খান বলেন, ‘আগে আমি সপ্তাহে অন্তত দু-তিনটি বই পড়তাম। শুটিংয়ে যাওয়ার পথে কিংবা সকালের নাস্তার টেবিলে ব্যস্ততার মাঝেও পড়ার অভ্যাস ছিল। কিন্তু এখন আমি হয় ইউটিউবে সময় নষ্ট করছি, না হয় ইনস্টাগ্রাম রিল দেখছি! সোশ্যাল মিডিয়া এত বেশি ঘাঁটা উচিত নয় জেনেও আমি সেই ফাঁদে পা দিচ্ছি।’ তার কথায়, ‘অ্যালগরিদম আপনার পছন্দ অনুযায়ী সব আকর্ষণীয় ভিডিও সামনে নিয়ে আসে। আর আপনিও সেই মোহে হারিয়ে যান। এটা অনেকটা মানুষকে সম্মোহন করার মতো। আমি সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে নই কিন্তু এখন এটি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বিশ্বের অনেক দেশই শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। কারণ, এভাবে শিশুমন ও মস্তিষ্ক দূষিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘অপরাধ বা দুর্নীতি কেবল আমাদের দেশের সমস্যা নয়, এটি মনস্তত্ত্বের একটি স্তর। দুর্নীতি শুধু টাকা-পয়সার হয় না, বরং চিন্তা ও মানসিকতারও হয়। যেমনটা আমরা ইদানীং এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে জানতে পারছি।’
একটি মৃত, শূন্য হয়ে যাওয়া সম্পর্কে আটকে থাকার গল্পে নির্মিত ওয়েবফিল্ম ‘একসাথে আলাদা’ নিয়ে ঈদে দর্শকদের সামনে আসছেন পারসা ইভানা। রেজাউর রহমান পরিচালিত এ ওয়েবফিল্মের ট্রেইলারে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দেখা গেছে ইভানাকে। সিনেমার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও ইভানা। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তারেক আনাম খান, তুষার খান, রোজী সিদ্দিকী, দীপা খন্দকারসহ আরও অনেককেই। গল্পের নায়ক-নায়িকা ফারহান ও আমিরা তাদের জীবনের বাস্তবতায় বুঝতে পারে না যে কী করবে। সুখ তাদের কাছে যেন অধরা। তারা যে পাশে দাঁড়িয়ে আছে, সুখ তার বিপরীতে। ফারহান-আমিরার মানসিক দ্বন্দ্ব আর সেইসঙ্গে পরিবার ও সমাজের চাপ—সব মিলিয়ে চলতে থাকে গল্প। ইভানা বলেন, ‘চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং নতুন ধরনের। এটি রোমান্টিক কমেডি হলেও এর মধ্যে অনেক সূক্ষ্ম অনুভূতির জায়গা আছে। ট্রেইলারে সেই আবহের একটা ঝলক দেখা যাবে। ইয়াসের সঙ্গে কাজ করেও খুব ভালো লেগেছে। দুজনই চেষ্টা করেছি গল্পের আবেগটা ঠিকভাবে তুলে ধরতে।’ পরিচালক রেজাউর রহমান আগে সমসাময়িক গল্পের জন্য বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই গল্পটা মূলত আজকের সময়ের সম্পর্কগুলোকে ঘিরেই। ভালোবাসা আছে, কিন্তু একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, কাজের চাপ—সব মিলিয়ে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। ট্রেইলারের মাধ্যমে আমরা সেই গল্পের একটা আভাস দিতে চেয়েছি। ইয়াস আর পারসা দুজনই দারুণ অভিনয় করেছেন। আশা করছি, পুরো ফিল্মটা দেখে দর্শক আনন্দ পাবে।’ নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৯ মার্চ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে মুক্তি পাবে ‘একসাথে আলাদা’।
হিন্দি ও দক্ষিণী সিনেমার জগত যেন একসঙ্গে কাঁপতে চলেছে। ভারতের জনপ্রিয় নির্মাতা অ্যাটলি তার নতুন মেগা প্রজেক্টে একত্র করেছেন দুই ইন্ডাস্ট্রির দুই স্টাইলিশ সুপারস্টার আল্লু অর্জুন এবং দীপিকা পাড়ুকোনকে। এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-উত্তেজনা। প্রথমবারের মতো পর্দায় একসঙ্গে জুটি বাঁধতে চলেছেন দক্ষিণের ‘স্টাইল আইকন’ ও বলিউডের গ্ল্যামার কুইন—যা ঘিরে সিনেপ্রেমীদের প্রত্যাশা এখন আকাশছোঁয়া। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আবেগ, অ্যাকশন ও দর্শনের মিশ্রণে বৃহৎ পরিসরে বিনোদনমূলক সিনেমা তৈরির জন্য অ্যাটলি কুমারের জুড়ি মেলা ভার। তার আসন্ন সিনেমার নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সিনেমা ভুবনের দুই ক্যারিশম্যাটিক তারকা আল্লু ও দীপিকার সঙ্গে অ্যাটলির যুক্ত হওয়া মানে, সেটি ধুমধাড়াক্কা সিনেমাটিক ইভেন্টগুলোর মধ্যে একটি হবে। অ্যাটলির ও আল্লু-দীপিকা জুটিতে সত্যিকার অর্থেই পরিপূর্ণ একটি প্যান-ইন্ডিয়ান সিনেমা হতে যাচ্ছে। পুষ্পাখ্যাত আল্লু অর্জুনের জনপ্রিয়তা তেলুগু ইন্ডাস্ট্রি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী। অন্যদিকে দীপিকা পাড়ুকোনেও বিশ্বব্যাপী হিন্দি সিনেমার সবচেয়ে স্বীকৃত মুখগুলোর একটি। নতুন এই সিনেমা নিয়ে চারপাশে গুঞ্জনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এটি একেবারে নতুন অনস্ক্রিন জুটি। আল্লু ও দীপিকা দুজনই নিজেদের অভিনয়ে সব সময় স্বতন্ত্রতা বজায় রাখেন। দীপিকা পাড়ুকোন ওম শান্তি ওম-এ শান্তিপ্রিয়া, ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি-তে নয়না এবং চেন্নাই এক্সপ্রেস-এ অবিস্মরণীয় মীনাম্মার মতো আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে, আল্লু অর্জুন পুষ্পা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পুষ্পা রাজের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় এক চরিত্র হয়ে ওঠেন। তাই এ ধরনের আইকনিক চরিত্রের জন্য পরিচিত দুই অভিনেতাকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া আল্লু অর্জুনকে সিনে ইন্ডাস্ট্রির সেরা নৃত্যশিল্পী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন সিনেমায় তার সিগনেচার মুভগুলো ভাইরাল হয়ে ওঠে। দীপিকা পাড়ুকোনেও ‘বেশরম রঙ’, ‘বালাম পিচকারি’সহ কিছু স্মরণীয় গানে অনবদ্য পারফর্ম করেন। তাই দর্শক-ভক্তরা এই জুটি একসাথে কেমন নাচবে, তা দেখার জন্য আগ্রহী।