বিশ্বের সবচেয়ে দামী ক্রিকেট লিগ আইপিএল গত দুই বছরে প্রায় ১১ শতাংশ মূল্য হ্রাস করেছে। ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইসরির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে আইপিএলের মূল্য ছিল ৯২,৫০০ কোটি রুপি, যা ২০২৫ সালে নামিয়ে এসেছে ৭৬,১০০ কোটি রুপিতে। একই সময়ে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের মূল্যও ৫.৬ শতাংশ কমে ১,২৭৫ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টে মূলত দুইটি কারণকে দামের হ্রাসের জন্য দায়ী করা হয়েছে:
ভারতে অনলাইন বেটিং অ্যাপ বন্ধ করা: কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’ পাস হওয়ার পর ড্রিম ১১, এমপিএলসহ ১১টি বড় অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম আর্থিক লেনদেন বন্ধ করেছে। এর ফলে আইপিএল অন্তত ২,০০০ কোটি রুপির ক্ষতির মুখে পড়েছে।
প্রচারণা ও সম্প্রচারের সীমাবদ্ধতা: সম্প্রচার থেকে আসে সবচেয়ে বেশি আয়। যদিও দর্শকসংখ্যা বাড়ছে, সেই সঙ্গে আয়ের বৃদ্ধি পর্যাপ্ত হয়নি। রিপোর্টে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কেবল ম্যাচ সম্প্রচার নয়, অন্যান্য মাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে হবে।
ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইসরির মতে, আগামী বছরেও আইপিএলের মূল্য খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৮ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রেভিসের। মাত্র ৩২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস ও জর্ডান হারম্যানের উদ্বোধনী জুটিতে ৩২ রান আসে। ১৩ বলে চারটি চারে ২২ রান করা প্রিটোরিয়াসকে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ফিরিয়ে দেন ব্র্যাড ইভান্স। তার বিদায়ের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৬১ রান। এর আগে জর্ডান হারম্যান ১৩ বলে ২০ রান করে তৃতীয় ওভারে আউট হন। তার ইনিংসেও ছিল চারটি চার। দ্রুত রান তোলার পর দুই ওপেনার ফিরে গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি একটুও কমেনি। ক্রিজে থাকা ব্রেভিস এরপর ম্যাচকে কার্যত একপেশে করে দেন। টনি ডি জর্জির সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। ডি জর্জি ১৭ বলে ১৫ রান করে ১১তম ওভারের শেষ বলে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হন। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১০৭। এরপর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি ব্রেভিস। রুবিন হারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১৬ বলে প্রয়োজনীয় আরও ৩৯ রান তুলে ফেলেন তিনি। ব্রেভিসের ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কা। ৩২ বলের ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য ২৩৪.৩৮। ব্রেভিসের পাশাপাশি রুবিন হারম্যান ৭ বলে অপরাজিত ১১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। শেষ পর্যন্ত ১৩.৪ ওভারে ১৪৬ রানে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে বেন কারানের দ্রুতগতির ব্যাটিং জিম্বাবুয়েকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। ১২ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ২৪ রান করেন তিনি। তবে পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ডুয়ান ইয়ানসেনের বলে আউট হয়ে যান কারান। দলীয় ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে ইনিংস এগিয়ে নেন। মায়ার্স ১৭ বলে ১৭ রান করে ১১তম ওভারের প্রথম বলে বিয়র্ন ফর্টুইনের বলে আউট হন। কিছুক্ষণ পর বেনেটও ৩৫ বলে ৩৪ রান করে প্রেনেলান সুব্রায়েনের শিকার হন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। ৮০ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি আরও কমে যায়। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১৭ বলে ১০ রান করে ১৫তম ওভারে এথান বোশের বলে ক্যাচ দেন। রায়ান বার্লও ৭ বলে ৪ রান করে সুব্রায়েনের দ্বিতীয় শিকার হন। ১৫.১ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৯৪ রানে ৫ উইকেট। তবে শেষদিকে তাদিওয়ানাশে মারুমানি এসে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মাত্র ১৩ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। একটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩০.৭৭। মারুমানির দ্রুত রান জিম্বাবুয়েকে ১৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। ১৮.৬ ওভারে মারুমানি আউট হওয়ার সময় জিম্বাবুয়ের রান ছিল ১৩৭। পরের বলেই ওয়েসলি মাধেভেরেকে ১২ রানে হারায় তারা। শেষ ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে—ব্র্যাড ইভান্স ২ বলে ৪ রান করে ডুয়ান ইয়ানসেনের তৃতীয় শিকার হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৪৪ রানেই থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ডুয়ান ইয়ানসেন। ৪ ওভারে ৪৫ রান খরচ করলেও তিনটি উইকেট নেন তিনি। প্রেনেলান সুব্রায়েন ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। এথান বশ ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন এবং ১৪টি ডট বল করেন। ফর্টুইন ও মাফাকা একটি করে উইকেট নেন।
রেকর্ডের সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্পর্ক যেন অবিচ্ছেদ্য। ৪১ বছর বয়সেও নতুন মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছেন পর্তুগিজ তারকা। আল তাওউনের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে ক্লাবটির সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে আল তাওউনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আল নাসর। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে গোল করে রোনালদো সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১০৪-এ। এর মাধ্যমে ১০৩ গোল নিয়ে এতদিন শীর্ষে থাকা মোহাম্মদ আল সাহলাওয়িকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ দেয়ার পর তিন বছরের কিছু বেশি সময়েই এই রেকর্ড গড়লেন রোনালদো। তার ক্যারিয়ারে মোট গোল এখন ৯৭৮টি। ১০০০ গোলের মাইলফলক থেকে দূরে আর মাত্র ২২ গোল। আল তাওউনের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল আল নাসর। ১১ মিনিটে গোল হজমের পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরে তারা। এরপর রোনালদোর গোলে নিশ্চিত হয় জয়। এই জয়ে সৌদি প্রো লিগে টানা চার ম্যাচে জয় পেল আল নাসর। চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেও রয়েছে তারা।
ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে গোলের উৎসব করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। রায়ান চেরকি ও আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সিটি। প্রথমার্ধে বলের প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজায় তারা। প্যালেসের মাত্র একটি শট লক্ষ্যে থাকলেও সিটির লক্ষ্যে ছিল নয়টি শট। ১৭তম মিনিটে অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর ক্রস থেকে দারুণ হেডে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্ড। তার হেড ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় সফরকারীরা। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে আর গোল পায়নি সিটি। বিরতির পর ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চেরকি। ফিল ফোডেনের পাস পেয়ে ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি। দুই মিনিট পর অবশ্য কিছুটা স্বস্তি পায় প্যালেস। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এসে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমার পিঠে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা। তবে গোল হজমের পরপরই আবার আক্রমণে ফেরে সিটি। ৫৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চেরকির নেওয়া জোরালো শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এতে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। ম্যাচের শেষদিকে হালান্ডও নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান। ৮৪তম মিনিটে ফোডেনের বাড়ানো পাস ধরে কোনাকুনি শটে প্যালেসের জালে বল পাঠান নরওয়ের এই তারকা। এই জয়ের ফলে প্যালেসের বিপক্ষে হালান্ডের গোলসংখ্যা আরও বাড়ল। দলটির বিপক্ষে মাত্র ছয় ম্যাচে তার গোল এখন নয়টি—প্রিমিয়ার লিগে নির্দিষ্ট কোনো দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।