দক্ষিণ কোরিয়ায় আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক। হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে গিয়ংজু শহরে এই বৈঠক হবে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটিই দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।
বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ায় বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, চীন বিরল খনিজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা না তুললে নভেম্বর থেকে চীনা পণ্যে অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পরে দুই দেশই আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এপেক সম্মেলন চলবে ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দীর্ঘ বৈঠক হবে, যেখানে অনেক প্রশ্নের সমাধান বের হবে। আমি আশাবাদী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য আকাশ হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও মুসলিম বিশ্বে এ ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরো জটিল করে তুলেছে। পবিত্র নগরীতে ঘটনাটি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে পাকিস্তান সরাসরি না জড়ানোয় সৌদি আরব ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলের সহায়তা চেয়েছে সৌদি দ্য জেরুজালেম পোস্টের বরাতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। হুতিদের হামলা মোকাবেলায় তেল আবিবের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। এদিকে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। রিয়াদ এখনো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়নি এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে সম্মত নয়। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক অবস্থান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সৌদি আরব ইসরায়েলের সহায়তা চেয়েছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ইসরায়েল এবং কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি। পাকিস্তানের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এর আগে ইয়েমেনে হুতিদের লক্ষ্য করে সৌদি হামলায় যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, সদ্য স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামো এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি এখনই কার্যকর হয়েছে বলে বিবেচনা করা উচিত নয়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছিল, হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে হামলা চালাতে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর বিষয়টি বর্তমানে কেবল একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি। এ অবস্থান নিয়ে সমালোচনার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘সৌদি আরব আক্রান্ত হলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট সক্রিয় হতে পারে। রিয়াদ ইসলামাবাদের কাছে সহায়তা চেয়েছে কি না—তা জানেন না আসিফ। তবে চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানকে সহায়তা করতে বা প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মক্কাকে লক্ষ্য করে কথিত ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তবে সৌদি আরবকে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের জন্য হুতিদের সঙ্গে সংঘাতটি প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা। তবে পাকিস্তানের জন্য হুতিদের হুমকি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, একই সময়ে দেশটি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে এবং তাদের বিনিয়োগের ওপরও নির্ভরশীল। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ওপর পাকিস্তানের নির্ভরতা রয়েছে। ইরান ও হুতিরা এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম হওয়ায় তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কও ইসলামাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদির অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের সৌদি আরবের দাবি, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে সেটি ধ্বংস করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে ‘শত্রুতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘লাল রেখা’। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলেও দাবি করেন তিনি। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছে। হুতি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি সৌদি আরবের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, তাদের অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে, পবিত্র স্থানগুলোকে নয়। এক বিবৃতিতে সারি আরো দাবি করেন, চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ৪৫০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া মারিবের আকাশসীমায় স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেন সারি। তিনি জানান, ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে আসা এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমানের দুটি বহরকে হুতি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।
ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার ইসলাম ধর্মের পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় মুসলিম বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে চলমান সংঘাত আরও গভীর হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে রিয়াদও জড়িয়ে পড়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। রিয়াদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। গত সপ্তাহের আকস্মিক অভিযানে গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরোটা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয়। বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব জলপথটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সৌদি আরবের মক্কা নগরীর দিকে যাওয়া হুথিদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি দ্রুতই ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা। প্রতি বছর লাখো মুসল্লি মক্কায় হজ ও ওমরাহ পালনে যান। হুথিদের রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মক্কা লক্ষ্য করে হামলার দাবি একটি পুরোনো ও জীর্ণ মিথ্যা। এর আগেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখন আর কেউ এতে প্রতারিত হয় না।’ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তারা বলেছে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা একটি ‘রেড লাইন’। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির এক্সে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা একটি রেড লাইন। সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জোটের যৌথ বাহিনী কমান্ড কোনো দ্বিধা করবে না।’ ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলসহ মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে মঙ্গলবার সংক্ষিপ্ত সতর্কতা জারি করে রিয়াদ। ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মক্কায় এটিই ছিল প্রথম সতর্কতা। ইয়েমেন থেকে ছোড়া একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হওয়ার একদিন পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়। জুলাইয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। বহু বছর ধরে উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসা হুথিরা তখন ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরণের অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটিতে সংঘাতের কারণে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে সড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘে ইয়েমেনের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-সাদি বলেন, ইয়েমেনিরা তাদের ‘ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চিতে জাতীয় প্রতিষ্ঠান পুনঃপ্রতিষ্ঠার’ জন্য লড়াই করছে। তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। ‘বৈরী ও চরমপন্থি’ গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হুথিদের অভিযানের পর লোহিত সাগরে অবাধ নৌ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও মিসর। সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি মঙ্গলবার হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার’ আহ্বান জানান। মিসরের প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০২২ সাল থেকে স্থবির থাকা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ায় রিয়াদ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে তৎপর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম গত সপ্তাহে জানায়, সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মার্কিন হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিলেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। হুথিরা বলেছে, সৌদি জাহাজ ছাড়া বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে নৌ চলাচলের জন্য কোনো হুমকি নেই। তবে এই জলপথে যেকোনো হামলা জাহাজ পরিচালনাকারীদের কাছে রুটটিকে কম আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। লোহিত সাগর সুয়েজ খালের প্রবেশদ্বার হওয়ায় প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটলে মিসরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক আয়ের জন্য কায়রো এই খালের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৩ সালে হুথিরা প্রথম লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করার আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে সুয়েজ খালের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। হুথিরা জানায়, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেই ওই হামলা শুরু করা হয়েছিল। মঙ্গলবার কাতার সতর্ক করে বলেছে, বাব আল-মান্দাব বন্ধ হয়ে গেলে ভয়াবহ পরিণতি হবে। দেশটি বলেছে, এটি ‘পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর’ হবে। হুথিরা বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, ‘দেশটি সার্বভৌমত্ব রক্ষায়’ তারা হামলাগুলোর কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। এই ‘বৈরী ও চরমপন্থি তৎপরতা’ প্রতিরোধে তারা ‘প্রয়োজনীয় সব ধরণের অভিযানগত ব্যবস্থা’ নেবে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি মঙ্গলবার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ইয়েমেনে ৫২টি বিমান হামলা চালিয়েছে। স্কুল ও সেতুসহ বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে রিয়াদের হামলা গোষ্ঠীটির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা মঙ্গলবার এএফপিকে জানান, হামলার মুখে থাকা সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও পরিকল্পনা সহায়তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক টাস্কফোর্স কাজ করছে।
ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের বেশ কিছু অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মারিবের আল-জুবাহ জেলায় এই হামলাগুলো চালানো হলেও এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি মারিবের হারিব জেলায় হুথিদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টাও নস্যাৎ করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী। অন্য একটি ঘটনায় তাইজ বিমানবন্দরের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্যাড লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া তাইজের পূর্বে স্থানীয় পরিষদ ভবনে হুথি নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এসব হামলা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাইজ ও মারিব প্রদেশে হুথিদের অবস্থান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে সরকারি জোট। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে এই দীর্ঘ সংঘাতের শুরু হয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।