এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বাংলাদেশের ক্লাব বসুন্ধরা কিংস টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল। আজ লেবাননের ক্লাব আল আনসার এফসি তাদের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে। কিংসের মতো তারাও নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল। লেবাননের ক্লাব জয়ের ধারায় ফিরলেও বসুন্ধরা কিংস টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পথে আছে।
ম্যাচ হারলেও শুরুটা ভালো করেছিল বসুন্ধরা কিংস। আল নাসরের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল বক্সের বাইরে থেকে শট নিলেও বলটি ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে যায়। বাংলাদেশের ক্লাবটি দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিল। সানডে ইমানুয়েলের দারুণ থ্রু পাসে আরেক ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েল্টন বল পেয়েছিলেন, কিন্তু তার নিচু শটটি ঠেকিয়ে দেন নাসরের গোলরক্ষক নাজিহ আসাদ।
এর চার মিনিট পর নাসার পাল্টা আক্রমণে ওঠে। মাজেদ ওসমান টানা দুটি সুযোগ নষ্ট করেন। বসুন্ধরা কিংসের গতি থেমে গেলে আল নাসরও আগ্রাসী হয়। ওসমান ও আলি দু’জনই বক্সের বাইরে থেকে শট নিলেও গোল পাননি। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৩তম মিনিটে) লেবাননের ক্লাবটি লিড নেয়। মোহাম্মদের সেট-পিস থেকে করা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে আবুবকর আকুকি সুন্দর হেডে গোল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৮ মিনিটে আল আনসার পেনাল্টি পায়। কিংসের ইমানুয়েল ফাউল করেন মোহাম্মদকে। কিংসের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ চমৎকারভাবে ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়ে গোল সেভ করেন। ১০ মিনিট পর কিংসের জালে বল পাঠায় আল নাসর। কিন্তু বক্সের মধ্যে বল রিসিভের সময় হাতে লাগায় রেফারি গোল বাতিল করেন।
৭৩তম মিনিটে আবারও বক্সে ফাউল করেন এমানুয়েল। এইবার হিশেম খালফাল্লাহ স্পট কিক থেকে গোল করে লিড দ্বিগুণ করেন।
ইনজুরি টাইমে হেবুস অসাধারণভাবে গোলরক্ষক শ্রাবণকে পরাস্ত করলে নাসরের ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়। আগামী শুক্রবার আল নাসর মুখোমুখি হবে ওমানের আল সিব ক্লাবের আর বসুন্ধরা কিংস খেলবে স্বাগতিক কুয়েত এসসির বিপক্ষে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একপেশে জয় তুলে নিয়েছে ভারত। এর ফলে আরও একবার পাকিস্তানের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখল ক্রিকেট দুনিয়া। ভারত-পাকিস্তানের এমন নিস্প্রভ ম্যাচের পর বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু মনে করেন, উপমহাদেশে বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতর ম্যাচই বেশি আকর্ষণ তৈরি করছে। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন বিসিবির প্রধান প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন মনে হয় উপমহাদেশে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচগুলোই বেশি প্রাণবন্ত। মানুষের মনোযোগও এখন ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচের দিকে বেশি, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের তুলনায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এই বিশ্বকাপ যেন দূর থেকেই দেখা এক টুর্নামেন্ট। নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে রাজি না হওয়ায় ২০ দলের আসরে বাংলাদেশের জায়গা নেয় স্কটল্যান্ড। এর প্রতিবাদে প্রথমে ভারতকে না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান, তবে পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আশ্বাস পাওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত বদলায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন নান্নু। তার মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো স্থিতিশীলতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, ‘নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে, আমরা আশা করি সবকিছু এখন স্বাভাবিকভাবে এগোবে। ক্লাবগুলোর মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে হবে। সাবেক নির্বাচক নান্নু জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে দেশের ক্রিকেটকে। তার ভাষায়, ‘আমরা চাই ক্রিকেটই সবার আগে থাকুক, বাংলাদেশ সবার ঊর্ধ্বে। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগোতে হবে। খেলাধুলার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। সবার জন্য সর্বোত্তম ফলই আমরা চাই।’
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে বিসিবি সিইও বলেন, ‘বুলবুল ভাই পারিবারিক কারণে দেশের বাইরে গিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ফিরে আসবেন বলে আশা করছি।’ বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, দেশ ছাড়ার আগে বিসিবি পরিচালকদে’র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সভাপতি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে আমি দেশের বাইরে যাচ্ছি, দ্রুতই ফিরে আসব।’ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ছিটকে যাওয়ার পর থেকেই বিসিবিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বোর্ড পরিচালকদে’র মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। এদিকে বিসিবি’র প্রধান প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আজ বিসিবি প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রিকেটের বর্তমান অচলাবস্থা কাটবে। নান্নু বলেন, ‘নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে, আশা করি এখন সব কিছু নিয়মের মধ্যে ফিরবে। ক্লাবগু্লোর সঙ্গে বিসিবি’র যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।’ বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বোর্ডের অধীনে অনেক ক্লাবই ঘরোয়া লিগে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। এই ‘বিসিবি বনাম ক্লাব’ দ্বন্দ্বের বিষয়ে নান্নু সাফ জানিয়ে দেন যে, ক্রিকেটের স্বার্থে কোনো আপস করা চলবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ক্রিকেটই সবার আগে। সব কিছুর উপরে বাংলাদেশ—এই নীতি মেনে আমাদের এগোতে হবে। খেলার মাঠে কোনো আপস নেই। আমরা চাই সবার জন্য একটি সুন্দর সমাধান আসুক।’
আর অল্প কিছুক্ষণ পরই কলম্বোর প্রেমাদাসায় মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। এই মুহুর্তে আলোচনায় ‘হ্যান্ডশেক ইস্যু’। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত বছর এশিয়া কাপে যে তিন বার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান, কোনোবারই হ্যান্ডশেক করেননি ক্রিকেটাররা। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে গতকাল শনিবার কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দুই অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও সালমান আলী আগা। গত বছর এশিয়া কাপে যে দুই অধিনায়ক টসের সময় হ্যান্ডশেক করেননি, গতকাল দুই অধিনায়কের কাছেই এসেছে এমন প্রশ্ন। সালমান-সূর্য দুজনেই কৌশলে উত্তর দিয়েছিলেন। আজ ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে জানা গেছে, কলম্বোতেও করমর্দন করবে না পাকিস্তান। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, টসের সময় সালমানের সঙ্গে সূর্যর হাত না মেলানোর সম্ভাবনা বেশি। পাকিস্তানের সঙ্গে হাত না মেলানো প্রসঙ্গে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বললেন সূর্যকুমারপাকিস্তানের সঙ্গে হাত না মেলানো প্রসঙ্গে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বললেন সূর্যকুমার টসের সময় তো দূরে থাক, ২০২৫ এশিয়া কাপে ম্যাচ শেষেও ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা করমর্দন করেননি। তিন ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল একই ঘটনা। লাহোরে কদিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আইসিসির কাছে পাকিস্তান দাবি জানিয়েছিল, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেন ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা করমর্দন করেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে হ্যান্ডশেক ইস্যুতে বল ঠেলে দিয়েছিলেন ভারতের দিকে। ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানিয়েছিলেন, কলম্বোতে আজ টসের সময়ই সব দেখা যাবে। পরিসংখ্যানের বিচারে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের পাল্লাই ভারী। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত দুই দলের ১৬টি লড়াইয়ের মধ্যে ভারত জিতেছে ১৩ ম্যাচ। আর পাকিস্তান জিতেছে কেবল ৩ ম্যাচ। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারত অনেক ব্যবধানে এগিয়ে। আটবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে সাতবার জিতেছে ভারত। পাকিস্তান কেবল ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জিতেছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ পরিত্যক্ত হলে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী দুই দলই এক পয়েন্ট করে পাবে। বর্তমানে ‘এ’ গ্রুপে দুই দলেরই সমান ৪ পয়েন্ট। ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুই দলই সুপার এইটে উঠে যাবে। এই ম্যাচ নিয়ে কদিন আগেও ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেলায় তাদের সমর্থনে বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করতে যাচ্ছিল পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্ত ছিল পাকিস্তান সরকারের। পরবর্তীতে এখান থেকে ‘ইউটার্ন’ করে পাকিস্তান। তবে লাহোরে সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান। তবু এই ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা এখনো কাটেনি। কলম্বোয় আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে মুষলধারে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।