সুত্র: তেহরান টাইমস
চলতি বছরের শেষ দিকে চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত পাকিস্তান-ইরান-তুরস্ক মালবাহী ট্রেন পরিষেবা। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে তুরস্কের ইস্তান্বুলের উদ্দেশে প্রথম ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে।
সোমবার ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী মুহম্মদ হানিফ আব্বাসি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ট্রেনটি সম্পূর্ণ পণ্যবাহী হবে এবং পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো ও পরিবহন খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘আইটিআই’ (ইসলামাবাদ–তেহরান–ইস্তান্বুল) নামে এই ট্রেন পরিষেবার রুটটি হবে ইসলামাবাদ থেকে ইরানের তাফতান সীমান্ত হয়ে তেহরান, তারপর তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান ও রাশিয়া পেরিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য ইস্তান্বুল পর্যন্ত। পুরো যাত্রাপথের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার, যা অতিক্রম করতে সময় লাগবে ২০ থেকে ২৫ দিন।
রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি জানান, আমরা আরও আগেই আইটিআই ট্রেন সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, বিশেষ করে হামাস-ইসরাইল সংঘাতের কারণে প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়েছে। এখন বেশিরভাগ কাজ শেষের পথে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সব প্রশাসনিক ও লজিস্টিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ইসলামাবাদ থেকে ইস্তান্বুলগামী প্রথম ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে। এটি হবে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
এই রেলপথ চালু হলে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে তিন দেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন। ট্রেনটি ভবিষ্যতে যাত্রীবাহী পরিষেবা হিসেবেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মুসলমানরা। প্রতিবছর ঈদুল আযহার দিন থেকে পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ই জিলহজ পর্যন্ত বিভিন্ন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা। সম্পদশালী ব্যক্তিদের কারো কারো একাধিক পশু কোরবানি দিতেও দেখা যায়। আবার মধ্যবিত্ত অনেকে ভাগে উট, গরু বা মহিষের মতো পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। কিন্তু অনেকেই জানেন না, ঠিক কত টাকা হলে একজন মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ, যার কাছে কোরবানির দিনগুলোতে তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর নির্দিষ্ট পরিমাণ বা নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে তাহলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, "যে সম্পদ থাকলে যাকাত ওয়াজিব হয়, সেই ধরনের সম্পদ যদি তার থাকে তাহলে তো তার কোরবানি ওয়াজিব হবে"। অনেকের মাঝে প্রশ্ন আছে, যদি কারও কোরবানি করার সামর্থ্য না থাকে অথবা তিনি ঋণগ্রস্ত থাকেন তার ক্ষেত্রে কোরবানি দেওয়ার বিধান কী? ইসলামি গবেষকরা বলছেন, কেউ যদি ঋণের বোঝায় জর্জরিত থাকেন, সেক্ষেত্রে ঋণ করে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে ইসলামে। কোরবানি ওয়াজিব যাদের জন্য ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও আত্নিক ইবাদত। আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্তী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন। ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, যাদের ওপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না দেন তাহলে গোনাহের ভাগীদার হতে হবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন, "যে ব্যক্তির নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাকে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে। আর যদি না দেন তাহলে তিনি ওয়াজিব ভাঙল"। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নেসাব অর্থাৎ কোন ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত ভরি পরিমাণ স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি পরিমাণ রুপা বা এর সমমূল্যের নগদ টাকা অথবা সম্পদ থাকলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যেই ব্যক্তির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে যদি পশু কোরবানি না করে তাকে ঈদগাহের কাছে না যেতে বলা হয়েছে। অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব তাদের অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে। যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তারা যদি তা পালন না করেন, তবে তারা ওয়াজিব তরক করার গোনাহর ভাগীদার হবেন। অন্যদিকে, ইসলামের বিধান অনুযায়ী যাদের সেই পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তি নেই তাদের জন্য পশু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। ঋণ করে বা ঋণগ্রস্তের জন্য কী নিয়ম? বাংলাদেশে প্রতি বছর কোরবানিতে ৯০ লাখ থেকে এক কোটি গরু কোরবানি হয়ে থাকে। যার মধ্যে বেশিরভাগই গরু এবং ছাগল কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যার নেসাব বা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকে তার জন্য কোরবানি দিতে হবে। তবে বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায় আর্থিকভাবে সামর্থ্য না থাকার পরও অনেকেই ঋণ করে কোরবানি দিতে চান। ইসলামের গবেষকরা বলছেন, যে ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব, তিনিও যদি ঋণের টাকা দিয়ে কোরবানি করেন, তাহলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, "ঋণগ্রস্ত হলে কোরবানি দিবে না বলেও এক ধরনের কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু এখানে বিষয়টি হলো জীবনযাত্রা যেখানে একেবারেই চলে না, কষ্ট হয় থাকা ও খাওয়ার জন্য অর্থ নেই এরকম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কোরবানির দরকার নাই। তাদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব না"। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলছিলেন, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হওয়ার পর, যদি কোনো ব্যক্তি তার হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকার কারণে ঋণ করে কোরবানি করেন, তবে তার এই ইবাদতটি সহিহ হবে এবং ওয়াজিব আদায় হবে"। "তবে এই ঋণের বোঝা পরিশোধ করার সামর্থ্য তার থাকতে হবে, যাতে করে পরবর্তীতে তা তার জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়", বলছিলেন মি. রশীদ। বিভিন্ন সময় অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা মানুষ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে কোরবানির বিধান কি সেটি নিয়েও প্রশ্ন থাকে অনেকের। এক্ষেত্রে অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন, "মনে করেন আমার জমি আছে। কিন্তু একটা কাজের জন্য ঋণ করলাম কিন্তু তার অপজিটে আমার সম্পদ আছে, তার ক্ষেত্রে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। একইভাবে হজের ক্ষেত্রে সে যদি ঋণগ্রস্ত হন তার জন্য হজ ওয়াজিব"। ইসলামি গবেষকদের মতে, শরিয়ত অনুযায়ী সুদভিত্তিক যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, আর কোরবানি একটি বিশুদ্ধ ইবাদত, যা সুদের মতো অপবিত্র অর্থ দ্বারা সম্পন্ন করা যায় না। বাংলাদেশে প্রতিবছর ঈদুল আযহায় যে পরিমাণ গবাদিপশু কোরবানি বা জবাই করা হয় তার মধ্যে বেশিরভাগই গরু ও ছাগল কোরবানি হয়ে থাকে। এর বাইরেও বর্তমানে বাংলাদেশে মহিষ, ভেড়া, দুম্বা উটও কোরবানি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই একা একটি গরু কোরবানি দেওয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হতে পারেন। তবে ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় একাধিক শরিক হওয়া জায়েজ নয়, এটি একজনের নামেই হতে হবে। ইসলামি গবেষকরা বলছেন, ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছর, উটের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে অন্তত এক বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাসের হয় কিন্তু দেখতে এক বছরের মতো বড় লাগে, তবে তা দিয়ে কোরবানি জায়েজ। অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন, "আমাদের দেশে অনেক সময় কোরবানি লোক দেখানো বিষয় হয়। নিয়ম অনুযায়ী একজনের জন্য একটা বকরি বা ছাগল যথেষ্ট। একটা গরুর সাত ভাগের এক ভাগ যথেষ্ট। কিন্তু দেখা যায় কেউ কেউ ২০টা গরুও কোরবানি দিচ্ছে"। "যদি কেউ গরীব লোককে দেওয়ার জন্য অনেক প্রয়োজনের অতিরিক্ত পশু কোরবানি দিয়ে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি যেন লোক দেখানো না হয়", যোগ করেন তিনি। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ব্যক্তিভিত্তিক ইবাদত। পরিবারের একাধিক সদস্য (যেমন বাবা, মা, ছেলে) যদি প্রত্যেকে পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে কোরবানি ওয়াজিব হবে। অনেকে আবার প্রশ্ন করে থাকেন কোরবানির জন্য সমপরিমাণ টাকা কী দান করা যাবে কী -না। এর জবাবে ইসলামি গবেষক ও লেখকরা বলছেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নামে পশুর রক্ত প্রবাহিত করা। পশুর বদলে টাকা দান করলে ওয়াজিব কোরবানি আদায় হবে না। তবে নফল হিসেবে দান করা যেতে পারে।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) কম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউএস ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের নিবন্ধক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. সাজিদ-উর-রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে রেকর্ডপত্রের ফটোকপি আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। গত ২১ মে যৌথ মূলধনী কম্পানিতে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠায় দুদক। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেডের (সাবেক পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড, যা বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ) বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেডের নামে যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে যে কম্পানি বা ফার্ম নিবন্ধন করা হয়েছে, তার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহপূর্বক পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড, পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লি. ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কম্পানির নিবন্ধন সম্পর্কিত রেকর্ডপত্রসহ অনুমোদিত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনসহ কম্পানি ও কম্পানির মালিকানা, নিবন্ধিত অফিস, ফ্যাক্টরির তালিকা, সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন নং ও তারিখ, অথরাইজড ক্যাপিটাল, পেইড-আপ ক্যাপিটাল, শেয়ারসংখ্যা, পরিচালকবৃন্দ, পরিচালকদের সম্মতিপত্র, ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্রের ফটোকপি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। এ ছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেডের বাংলাদেশ অংশের বাংলাদেশ টোব্যাকো লিমিটেডের ঢাকা ও চট্টগ্রাম ফ্যাক্টরির মালিকানা কিভাবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ পেল এসংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্রের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ১ জানুয়ারি এই অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এই কম্পানির মালিক হওয়ার কথা বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু কিভাবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এই কম্পানির মালিক হলো তা জানতে হবে। কম্পানিটির মালিকানা বাংলাদেশের থাকলে স্বাভাবিকভাবে লভ্যাংশও বাংলাদেশেই থাকার কথা। লভ্যাংশ হিসেবে যে পরিমাণ টাকা বিদেশে নেওয়া হয়েছে তা হতো না। কোনো জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে কম্পানিটি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মালিকানায় নেওয়া হয়ে থাকলে লভ্যাংশ হিসেবে এ পর্যন্ত যে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা আইন অনুসারে পাচার হিসেবে গণ্য হবে। দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড (পিটিসি) একটি ব্রিটিশ মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৪৭ সালে করাচিতে তাদের প্রথম কারখানা স্থাপন করে। এরপর ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামে আরেকটি কারখানা স্থাপন করা হয়। ১৯৫৬ সালে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে কম্পানিটি নিবন্ধিত হয়। ১৯৬৫ সালে ঢাকায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আরো একটি কারখানা স্থাপন করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানা এবং তাদের কার্যক্রমকে পিটিসি পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ১৯৭২, ১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া রিপোর্টে পিটিসি উল্লেখ করে, তারা বাংলাদেশের কাছে তাদের দুটি কারখানা হারিয়েছে এবং এ কারণে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার ও কর কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার তাদের কর-সুবিধ (ট্যাক্স রিলিফ) প্রদান করে এবং পিটিসি ক্ষতিপূরণ আদায় করে। তারা দাবি করে, পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত কারখানাগুলো হারিয়ে গেছে এবং সেগুলো আর তাদের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এবং আইন অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত পিটিসির মালিকানাধীন ওই দুটি কারখানা, যা বর্তমানে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত, পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং আইনগতভাবে ১০০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় পরিণত হয়। অভিযোগে বলা হয়, সাবেক পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানির তৎকালীন ফাইন্যান্স ম্যানেজার (পরবর্তী সময়ে উপ-প্রধানমন্ত্রী) জামালউদ্দিন আহমেদ কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশ করে জাল নথিপত্র তৈরি করেন। পরে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট-স্টক কম্পানির কাছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানিকে নিবন্ধিত করান, যেখানে প্রতিষ্ঠানটিকে পাকিস্তানের পরিবর্তে বাংলাদেশের কম্পানি হিসেবে দেখানো হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মালিকানাধীন হিসেবেই পরিচালিত হতে থাকে। জয়েন্ট-স্টক কম্পানির তৎকালীন রেজিস্ট্রার (নাম মোহাম্মদ আলী) ছিলেন একজন সৎ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তিনি তখন গুলিস্তানে অবস্থিত জয়েন্ট-স্টক অফিসে কর্মরত অবস্থায় এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। এতে তাঁর চাকরি হারানোর উপক্রম হয়। মন্ত্রী ও কয়েকজন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তার চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি ওই জাল নথিপত্র গ্রহণ করতে বাধ্য হন। দুটি কারখানাকে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানির সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশে নিবন্ধিত করা হয়, যার সর্বাধিক শেয়ার বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানির মালিকানাধীন ছিল। অভিযোগে আরো বলা হয়, গত ৫৫ বছরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যদিও কারখানাগুলো আইনগতভাবে ১০০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের অবৈধ কার্যক্রম, কর ফাঁকি ও ভ্যাট ফাঁকির বিষয়গুলো গোপন রাখতে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি তিন দশক ধরে সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তা ও সচিবদের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দিয়ে এসেছে এবং লাভজনক এজেন্সি ব্যবসার মাধ্যমে রাজনীতিবিদদেরও সুবিধা দিয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়, ঢাকায় রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট-স্টক কম্পানিজের কাছে সংরক্ষিত সব নথিপত্র এবং ইসলামাবাদ ও করাচিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে করাচির নথিপত্র যাচাই করা হলে, বিশেষ করে ১৯৭২-৭৫ সময়কালের পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সোমবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে ঈদযাত্রার এই ব্যস্ততার মধ্যেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। বিভিন্ন দূরপাল্লার পরিবহনে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক যাত্রী জানান, অগ্রিম টিকিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে কিংবা ইঞ্জিনের ওপর বসে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে। বরিশালগামী যাত্রী জসিম অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ সময়ে ৫০০ টাকায় যাতায়াত করা গেলেও এবার প্রতিটি টিকিটের জন্য ৮০০ টাকা গুনতে হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুধু বরিশাল নয়, চট্টগ্রাম ও খুলনাগামী পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নন-এসি বাসে যেখানে সাধারণ সময়ে ৭০০-৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, সেখানে এখন আদায় করা হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে তীব্র যাত্রীচাপের কারণে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় সকাল থেকেই ছিল ভিড় আর বিশৃঙ্খল পরিবেশ।