চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার নিউ মার্কেট এলাকার দোস্ত বিল্ডিংয়ে বিএনপি, বাসদ ও গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি অবস্থানরত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির নেতা আরিফ মঈনুদ্দিনের নেতৃত্বে দখল করা হয়েছে।
দক্ষিণ নগরের গুরুত্বপূর্ণ এ ভবনটি মাত্র কয়েকশ গজ দূরে অবস্থিত। জানা যায়, গত ৫ আগস্ট এই কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং ২৪’র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এটি ভাঙচুরের শিকার হয়। এরপর থেকে ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ছিল। তবে এনসিপি সূত্রে জানা যায়, তালাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাতে কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।
এনসিপির চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে আমরা খবর পাই ভবনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছিল। নিরাপত্তা প্রহরীদের জিজ্ঞাসা করলেও তারা কেউ আসেননি বলে দাবি করেন। এরপর আমরা তালা ভেঙে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করি। ভেতরে একেবারে সাজানো-গোছানো অফিস অবস্থায় পাই। টেবিল-চেয়ারে সিগারের ছাই ও মিটিং করার আলামত পাই।
প্রবেশের পর এনসিপি নেতা আরও জানান, বিকেলে কয়েকজন এখানে এসে ভাঙচুরের চেষ্টা করেছেন। আগামী দুই দিন তারা ভবনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া, ভবনটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং দেখা হবে যে, নগরে গত কয়েকদিনে যারা অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলসহ নানা অপকর্ম করেছে তারা ভবনে আসে কিনা।
দোস্ত বিল্ডিংয়ের আওয়ামী লীগের কার্যালয়কে ধোয়া-মুছা করে এনসিপি নিজেদের ব্যবহারযোগ্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা ছিল নাকি বন্ধ, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এ অফিস নিয়ে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এভাবে চট্টগ্রামের এই কেন্দ্রস্থলের দলীয় কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় আলুবোঝাই একটি ট্রাকের ধাক্কায় আশরাফ আলী (৫৬) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার লালদহ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফ আলী বগুড়া শহরের মালতীনগর এলাকার বাসিন্দা এবং আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিবগঞ্জ উপজেলার কুড়াহার দক্ষিণপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফ আলী মোটরসাইকেলে করে নাগর বন্দর থেকে কুড়াহারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে লালদহ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি আলুবোঝাই ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে যান এবং ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। নিহত ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও সঙ্গে থাকা কাগজপত্র দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত আলুবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গেলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ থেকে ১০ জন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দোলা পরিবহনের একটি বাস বেদগ্রাম এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে কাত হয়ে উল্টে যায়। গোপালগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন মোটরসাইকেলের আরোহী এবং বাকি তিনজন বাসের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মুসলমানরা। প্রতিবছর ঈদুল আযহার দিন থেকে পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ই জিলহজ পর্যন্ত বিভিন্ন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা। সম্পদশালী ব্যক্তিদের কারো কারো একাধিক পশু কোরবানি দিতেও দেখা যায়। আবার মধ্যবিত্ত অনেকে ভাগে উট, গরু বা মহিষের মতো পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। কিন্তু অনেকেই জানেন না, ঠিক কত টাকা হলে একজন মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ, যার কাছে কোরবানির দিনগুলোতে তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর নির্দিষ্ট পরিমাণ বা নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে তাহলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, "যে সম্পদ থাকলে যাকাত ওয়াজিব হয়, সেই ধরনের সম্পদ যদি তার থাকে তাহলে তো তার কোরবানি ওয়াজিব হবে"। অনেকের মাঝে প্রশ্ন আছে, যদি কারও কোরবানি করার সামর্থ্য না থাকে অথবা তিনি ঋণগ্রস্ত থাকেন তার ক্ষেত্রে কোরবানি দেওয়ার বিধান কী? ইসলামি গবেষকরা বলছেন, কেউ যদি ঋণের বোঝায় জর্জরিত থাকেন, সেক্ষেত্রে ঋণ করে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে ইসলামে। কোরবানি ওয়াজিব যাদের জন্য ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও আত্নিক ইবাদত। আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্তী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন। ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, যাদের ওপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না দেন তাহলে গোনাহের ভাগীদার হতে হবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন, "যে ব্যক্তির নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাকে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে। আর যদি না দেন তাহলে তিনি ওয়াজিব ভাঙল"। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নেসাব অর্থাৎ কোন ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত ভরি পরিমাণ স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি পরিমাণ রুপা বা এর সমমূল্যের নগদ টাকা অথবা সম্পদ থাকলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যেই ব্যক্তির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে যদি পশু কোরবানি না করে তাকে ঈদগাহের কাছে না যেতে বলা হয়েছে। অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব তাদের অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে। যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তারা যদি তা পালন না করেন, তবে তারা ওয়াজিব তরক করার গোনাহর ভাগীদার হবেন। অন্যদিকে, ইসলামের বিধান অনুযায়ী যাদের সেই পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তি নেই তাদের জন্য পশু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। ঋণ করে বা ঋণগ্রস্তের জন্য কী নিয়ম? বাংলাদেশে প্রতি বছর কোরবানিতে ৯০ লাখ থেকে এক কোটি গরু কোরবানি হয়ে থাকে। যার মধ্যে বেশিরভাগই গরু এবং ছাগল কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যার নেসাব বা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকে তার জন্য কোরবানি দিতে হবে। তবে বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায় আর্থিকভাবে সামর্থ্য না থাকার পরও অনেকেই ঋণ করে কোরবানি দিতে চান। ইসলামের গবেষকরা বলছেন, যে ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব, তিনিও যদি ঋণের টাকা দিয়ে কোরবানি করেন, তাহলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, "ঋণগ্রস্ত হলে কোরবানি দিবে না বলেও এক ধরনের কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু এখানে বিষয়টি হলো জীবনযাত্রা যেখানে একেবারেই চলে না, কষ্ট হয় থাকা ও খাওয়ার জন্য অর্থ নেই এরকম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কোরবানির দরকার নাই। তাদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব না"। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলছিলেন, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হওয়ার পর, যদি কোনো ব্যক্তি তার হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকার কারণে ঋণ করে কোরবানি করেন, তবে তার এই ইবাদতটি সহিহ হবে এবং ওয়াজিব আদায় হবে"। "তবে এই ঋণের বোঝা পরিশোধ করার সামর্থ্য তার থাকতে হবে, যাতে করে পরবর্তীতে তা তার জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়", বলছিলেন মি. রশীদ। বিভিন্ন সময় অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা মানুষ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে কোরবানির বিধান কি সেটি নিয়েও প্রশ্ন থাকে অনেকের। এক্ষেত্রে অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন, "মনে করেন আমার জমি আছে। কিন্তু একটা কাজের জন্য ঋণ করলাম কিন্তু তার অপজিটে আমার সম্পদ আছে, তার ক্ষেত্রে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। একইভাবে হজের ক্ষেত্রে সে যদি ঋণগ্রস্ত হন তার জন্য হজ ওয়াজিব"। ইসলামি গবেষকদের মতে, শরিয়ত অনুযায়ী সুদভিত্তিক যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, আর কোরবানি একটি বিশুদ্ধ ইবাদত, যা সুদের মতো অপবিত্র অর্থ দ্বারা সম্পন্ন করা যায় না। বাংলাদেশে প্রতিবছর ঈদুল আযহায় যে পরিমাণ গবাদিপশু কোরবানি বা জবাই করা হয় তার মধ্যে বেশিরভাগই গরু ও ছাগল কোরবানি হয়ে থাকে। এর বাইরেও বর্তমানে বাংলাদেশে মহিষ, ভেড়া, দুম্বা উটও কোরবানি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই একা একটি গরু কোরবানি দেওয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হতে পারেন। তবে ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় একাধিক শরিক হওয়া জায়েজ নয়, এটি একজনের নামেই হতে হবে। ইসলামি গবেষকরা বলছেন, ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছর, উটের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে অন্তত এক বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাসের হয় কিন্তু দেখতে এক বছরের মতো বড় লাগে, তবে তা দিয়ে কোরবানি জায়েজ। অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন, "আমাদের দেশে অনেক সময় কোরবানি লোক দেখানো বিষয় হয়। নিয়ম অনুযায়ী একজনের জন্য একটা বকরি বা ছাগল যথেষ্ট। একটা গরুর সাত ভাগের এক ভাগ যথেষ্ট। কিন্তু দেখা যায় কেউ কেউ ২০টা গরুও কোরবানি দিচ্ছে"। "যদি কেউ গরীব লোককে দেওয়ার জন্য অনেক প্রয়োজনের অতিরিক্ত পশু কোরবানি দিয়ে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি যেন লোক দেখানো না হয়", যোগ করেন তিনি। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ব্যক্তিভিত্তিক ইবাদত। পরিবারের একাধিক সদস্য (যেমন বাবা, মা, ছেলে) যদি প্রত্যেকে পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে কোরবানি ওয়াজিব হবে। অনেকে আবার প্রশ্ন করে থাকেন কোরবানির জন্য সমপরিমাণ টাকা কী দান করা যাবে কী -না। এর জবাবে ইসলামি গবেষক ও লেখকরা বলছেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নামে পশুর রক্ত প্রবাহিত করা। পশুর বদলে টাকা দান করলে ওয়াজিব কোরবানি আদায় হবে না। তবে নফল হিসেবে দান করা যেতে পারে।