মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত এক মাসে প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে ইরাক। একই সঙ্গে দেশটির নিজেদের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
জ্বালানিমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে গত এপ্রিল মাসে দেশটি মাত্র এক কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পেরেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে মাসিক রপ্তানি ছিল প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি এখন খুবই সীমিত। বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক তেলবাহী জাহাজ সেখানে প্রবেশ করছে না।
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটির অচলাবস্থার কারণে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়েছে।
তবে কিরকুক-জেইহান পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ায় বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাগদাদ ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সমঝোতার পর মার্চ মাসে পাইপলাইনটি চালু হয়।
বর্তমানে ইরাক দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে জানিয়ে বাসিম মোহাম্মদ বলেন, আমরা বর্তমানে তুরস্কের জেইহান বন্দর দিয়ে দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছি। এটি পাঁচ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, তেল ও গ্যাস খাতে নতুন প্রকল্প নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে বিস্তৃত সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানি শেভরন, এক্সনমোবিল ও হ্যালিবার্টনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে ইরাক। দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে ইরাক উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারবে।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর (ওপেক) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান ইরাকি জ্বালানিমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘আমরা ওপেকের সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সংলাপ করছি। রপ্তানি বৃদ্ধি ও ওপেকের সীমা শিথিল হলে ইরাক বড় ধরনের আর্থিক আয় পাবে।’
তিনি বলেন, ইরাক ভবিষ্যতে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ওপেক বা ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না বলেও জানিয়েছেন ইরাকি কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় শনাক্ত হয়েছে গাছ ধ্বংসকারী এমেরাল্ড অ্যাশ বোরার বিটল। এশিয়ার এই ক্ষুদ্র পোকাটি উত্তর আমেরিকায় কোটি কোটি অ্যাশ গাছ ধ্বংস করেছে। স্লোভাকিয়ার কৃষি নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষাকেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের স্ট্রেদা নাদ বডরোগম জেলায় এ মাসে ১৮টি এমেরাল্ড অ্যাশ বোরার বিটল পাওয়া গেছে। হাঙ্গেরির খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুন মাসে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বেরেগসুরানি অরণ্যে দুটি পূর্ণবয়স্ক বিটল শনাক্ত হয়। এরপর থেকে আরও ফাঁদ বসানো এবং নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। কর্তৃপক্ষের মতে, এমেরাল্ড অ্যাশ বোরার অ্যাশ গাছের জন্য বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর কীট। এটি ইতোমধ্যে উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপে বিপুলসংখ্যক অ্যাশ গাছ ধ্বংস করেছে। তাই সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা গেলে সাধারণ মানুষকেও দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পোকা উত্তর আমেরিকায় কোটি কোটি অ্যাশ গাছ মেরে ফেলেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ২০০২ সালে মিশিগানে প্রথম এটি শনাক্ত হয়। পোকাটি স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে এবং দ্রুত উড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে এই পোকা দমনে বিশেষ ধরনের পরজীবী বোলতা অবমুক্ত করা হচ্ছে। এসব বোলতা বিটলের বিভিন্ন জীবনধাপে আক্রমণ করলেও অন্য কোনো উপকারী প্রাণীর ক্ষতি করে না। এছাড়া ২০২৫ সালের এক গবেষণায় কিছু ছত্রাকেরও এই বিটল দমনে কার্যকর ভূমিকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ পোকা মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি নিয়েছে। হাঙ্গেরি বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষিমন্ত্রীদের পরবর্তী বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। হাঙ্গেরির কৃষিমন্ত্রী সাবোলচ বোনা বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সচেতন। এই পোকা যেন হাঙ্গেরি বা পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বড় ধরনের কৃষি ও উদ্ভিদের সংকটে পরিণত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: সিবিএস নিউজউত্তর আমেরিকার কোটি কোটি গাছ ধ্বংস করেছে এশিয়ার বিটল প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় শনাক্ত হয়েছে গাছ ধ্বংসকারী এমেরাল্ড অ্যাশ বোরার বিটল। এশিয়ার এই ক্ষুদ্র পোকাটি উত্তর আমেরিকায় কোটি কোটি অ্যাশ গাছ ধ্বংস করেছে। স্লোভাকিয়ার কৃষি নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষাকেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের স্ট্রেদা নাদ বডরোগম জেলায় এ মাসে ১৮টি এমেরাল্ড অ্যাশ বোরার বিটল পাওয়া গেছে। হাঙ্গেরির খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুন মাসে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বেরেগসুরানি অরণ্যে দুটি পূর্ণবয়স্ক বিটল শনাক্ত হয়। এরপর থেকে আরও ফাঁদ বসানো এবং নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। কর্তৃপক্ষের মতে, এমেরাল্ড অ্যাশ বোরার অ্যাশ গাছের জন্য বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর কীট। এটি ইতোমধ্যে উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপে বিপুলসংখ্যক অ্যাশ গাছ ধ্বংস করেছে। তাই সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা গেলে সাধারণ মানুষকেও দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পোকা উত্তর আমেরিকায় কোটি কোটি অ্যাশ গাছ মেরে ফেলেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ২০০২ সালে মিশিগানে প্রথম এটি শনাক্ত হয়। পোকাটি স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে এবং দ্রুত উড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে এই পোকা দমনে বিশেষ ধরনের পরজীবী বোলতা অবমুক্ত করা হচ্ছে। এসব বোলতা বিটলের বিভিন্ন জীবনধাপে আক্রমণ করলেও অন্য কোনো উপকারী প্রাণীর ক্ষতি করে না। এছাড়া ২০২৫ সালের এক গবেষণায় কিছু ছত্রাকেরও এই বিটল দমনে কার্যকর ভূমিকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ পোকা মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি নিয়েছে। হাঙ্গেরি বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষিমন্ত্রীদের পরবর্তী বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। হাঙ্গেরির কৃষিমন্ত্রী সাবোলচ বোনা বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সচেতন। এই পোকা যেন হাঙ্গেরি বা পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বড় ধরনের কৃষি ও উদ্ভিদের সংকটে পরিণত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে শুক্রবার চালানো হামলায় ইরানি কুর্দি সশস্ত্র বিরোধী সংগঠন ‘কোমালা’ দলের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। নির্বাসিত এই সংগঠনটি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। কোমালা দলের নেতা ইদ্রিস কোলওয়াজির বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার ভোরে সুলাইমানিয়াহ শহরের কাছে সংগঠনটির একটি শিবিরে ও আশপাশের এলাকায় ইরান ড্রোন ও রকেট হামলা চালায়। তিনি জানান, হামলায় তাদের আট সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরাকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিরই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সময় কুর্দিস্তান অঞ্চলটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কারণ, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটি, বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম এবং নির্বাসিত ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের অবস্থান রয়েছে। এসব কারণে ইরান ও ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, তেহরান কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখছে। ইরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী পশ্চিমা দেশ ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে। তবে, শুক্রবারের হামলাকে যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধের পর থেকে এসব গোষ্ঠী তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ও শিবির খালি করে দিয়েছিল। এদিকে, কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোট কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি সপ্তাহে শহরটিতে এ ধরনের ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার ঘটল। এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্স রয়েছে। এছাড়া শহরটির বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক উপদেষ্টারা অবস্থান করছেন। কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিট থেকে ৫টা ২৫ মিনিটের সময় জোটের বাহিনী এরবিলের আকাশে আটটি বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। এর আগে গত বুধবার রাতেও এরবিলের আকাশে আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। এএফপির সাংবাদিকরা জানান, মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় কনস্যুলেটটি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। এরবিলে এসব হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক জোটের ব্যানারে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তেহরানের সমর্থনে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ৬০০ বারের বেশি হামলা চালিয়েছে।
সুইডেনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভো কার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের বিক্রি কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা ‘অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং’ ব্যবসায়িক পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রি বাড়বে বলে তারা আশা করছে। স্টকহোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাকান স্যামুয়েলসন বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রান্তিকের মাধ্যমে ২০২৬ সালের অস্থির প্রথমার্ধ শেষ হলো। চীনের বাজারে আমাদের বিক্রি কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় পুরো শিল্পখাতও দুর্বল হয়েছে।’ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভলভো কার্সের রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ক্রোনা (৮ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার)। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ক্রোনা। এ সময়ে বিক্রি হওয়া গাড়ির সংখ্যা ৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০-তে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ৪১৭ মিলিয়ন ক্রোনা। আগের বছরের একই সময়ে তাদের ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ক্রোনা নিট লোকসান হয়। স্যামুয়েলসন বলেন, সামনে কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে বিক্রি কমার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মে ও জুনÑটানা দুই মাস প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’ এই পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, ইউরোপে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে ভলভো কার্সের বিক্রি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি’ হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। স্যামুয়েলসন জানান, ব্যয় কমানোর উদ্যোগেও অগ্রগতি হয়েছে। গত বছর ভলভো কার্স ১৮ বিলিয়ন ক্রোনার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।