যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর শেষ করার একদিন পরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীন সফরে যাচ্ছেন। ক্রেমলিনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৯ থেকে ২০ মে তিনি চীনে অবস্থান করবেন এবং শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ক্রেমলিন জানায়, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো মস্কো ও বেইজিংয়ের সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করা। পাশাপাশি দুই নেতার মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হবে।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ট্যাস জানিয়েছে, এই সফরটি ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত 'সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি'-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের একদিন পরই পুতিনের এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তি ও কিছু বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও তাইওয়ান ও ইরান-সংক্রান্ত বড় বিরোধে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনে রয়েছে, ঠিক সেই সময় রাশিয়া ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর চীন এখন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে।
চীন ও রাশিয়া যদিও আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরপরই পুতিনের এই সফর বিশ্ব রাজনীতিতে তিনটি বড় শক্তির-যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার-মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতা ও নতুন সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহরে থাকা কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব সামগ্রী ফেলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রতিনিধি দলের পরিচয়পত্র, বার্নার ফোন ও বিশেষ পিন। বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সেগুলো সংগ্রহ করে একটি বিনে ফেলে দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি এমিলি গুডিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া কোনো কিছুই বিমানে নিতে দেওয়া হয়নি। শুক্রবার বেইজিং ক্যাপিটাল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন ট্রাম্প। বিদায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এসময় স্কুলশিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা নেড়ে ট্রাম্পকে বিদায় জানান। বিমানে ওঠার আগে ট্রাম্প মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে ইশারা করেন। তিন দিনের এই সফরে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই নেতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার বিষয়ে একমত হন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ট্রাম্প। তবে সফর শেষে বড় কোনো বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীনের সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার ঘোষণা আসেনি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তাইওয়ান ইস্যুতেও বৈঠকের আড়ালে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন শিজিনপিং। এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মে চীন সফরে যেতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদিও বেইজিং ও মস্কো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ নিশ্চিত করেনি। সূত্র : তুর্কি টুডে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত এক মাসে প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে ইরাক। একই সঙ্গে দেশটির নিজেদের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। জ্বালানিমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে গত এপ্রিল মাসে দেশটি মাত্র এক কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পেরেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে মাসিক রপ্তানি ছিল প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি এখন খুবই সীমিত। বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক তেলবাহী জাহাজ সেখানে প্রবেশ করছে না। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটির অচলাবস্থার কারণে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়েছে। তবে কিরকুক-জেইহান পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ায় বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাগদাদ ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সমঝোতার পর মার্চ মাসে পাইপলাইনটি চালু হয়। বর্তমানে ইরাক দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে জানিয়ে বাসিম মোহাম্মদ বলেন, আমরা বর্তমানে তুরস্কের জেইহান বন্দর দিয়ে দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছি। এটি পাঁচ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, তেল ও গ্যাস খাতে নতুন প্রকল্প নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে বিস্তৃত সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানি শেভরন, এক্সনমোবিল ও হ্যালিবার্টনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে ইরাক। দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে ইরাক উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারবে।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর (ওপেক) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান ইরাকি জ্বালানিমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘আমরা ওপেকের সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সংলাপ করছি। রপ্তানি বৃদ্ধি ও ওপেকের সীমা শিথিল হলে ইরাক বড় ধরনের আর্থিক আয় পাবে।’ তিনি বলেন, ইরাক ভবিষ্যতে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ওপেক বা ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না বলেও জানিয়েছেন ইরাকি কর্মকর্তারা।
ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনীর অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে ওয়াশিংটন যদি আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এসব পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাব্য অভিযান। এছাড়া ইরানের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনো ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। এদিকে ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। তিনি তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের আলোচনা এখনো অচল অবস্থায় রয়েছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করলে তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে না। এদিকে আজ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সূত্র : শাফাক নিউজ