আন্তর্জাতিক

উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সেন্ট্রাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের অবশিষ্ট সমস্ত অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।

 

বৃহস্পতিবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, “অপরাধী আমেরিকা এই অঞ্চলে তার আইনশৃঙ্খলাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রেখেছে।”

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কোনও অবস্থাতেই ইরান একটি বিদেশি ও বহিঃআঞ্চলিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালীতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না। এটি ইরানের অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন।”

 

তিনি বলেন, “যদি ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সাম্প্রতিক হুমকি কার্যকর করা হয়, তাহলে ইরানের সংযমের কারণে যা কিছু অবশিষ্ট আছে- অর্থাৎ এই অঞ্চলের সমস্ত অবকাঠামো- তা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাতের আঘাতে এমনভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে যে, তার কোনও চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি মনে হবে, যেন এগুলোর কোনও অস্তিত্বই ছিল না।”

 

জুলফাগারি আরও সতর্ক করে বলেন, “নির্বোধ শত্রুর জেনে রাখা উচিত, আমাদের জন্য এই মহাকাব্যিক মুহূর্তটি এড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্ত নয়। ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলার জবাব সমান মাত্রায় হবে না, বরং আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক হবে।” সূত্র: আল-জাজিরা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আড়াই বছর পর মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ, ভারতে গ্রেপ্তার ২

ভারতের উত্তর প্রদেশে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক নারীকে প্রতারণা এবং অন্তত ২৫টি বিয়ে করার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ করেছেন বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি, যিনি দাবি করেছেন—তার মেয়েও ওই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিধায়কের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে অনুজ ত্রিবেদী এবং তার ছেলে প্রখর ত্রিবেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উত্তর প্রদেশের মিসরিখ এলাকার বাসিন্দা প্রখর ত্রিবেদীর সঙ্গে জ্ঞান তিওয়ারির মেয়ে প্রজ্ঞার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় প্রখরের বাবা অনুজ ত্রিবেদী নিজেকে মুম্বাইয়ের একজন পরিচিত আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিবারের অতীত অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   বিধায়ক জানান, স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ইতিবাচক তথ্য পাওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিয়ের প্রায় আড়াই বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রখরের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও একাধিক বিয়ের অভিযোগের তথ্য সামনে আসে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রখর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যের নারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রায় ২৫টি বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।   ঘটনা জানার পর মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্ঞান তিওয়ারি। তিনি বলেন, এ ঘটনা তাদের পরিবারকে গভীর মানসিক আঘাত দিয়েছে এবং সামাজিকভাবে বিব্রত করেছে।   রেউসা থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জ্ঞান তিওয়ারি দাবি করেন, তার পরিবার পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।   সূত্র: এনডিটিভি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৯, ২০২৬
বৃষ্টিতে দুর্ভোগে স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে বৃষ্টি-ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ করল আমিরাত

ফাইল ছবি
সৌদি আরামকোতে হামলা চালানোর দাবি হুথিদের

সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।   হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।   সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।   হুথিদের নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে জিজানের ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি বাহিনীর চালানো ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ আক্রমণ করা হয়েছে।   তবে হুথিদের হামলার দাবি এবং হামলায় স্থাপনার কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   এর আগে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ভোরের দিকে জিজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আগুনের ঘটনা ঘটে।   মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।   সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   জিজান সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।   সৌদি হামলার প্রতিশোধের দাবি হুথিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই জিজানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় আক্রমণ চালানো হয়েছে।   ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ- দুটি প্রদেশই হুথিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।   হুথিরা এর আগেও সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে বিমান হামলা চালিয়েছে।   জিজানের তেল অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ জিজান সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সেখানে সৌদি আরামকোর শোধনাগারসহ বিভিন্ন তেল ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা রয়েছে।   এ ধরনের স্থাপনায় হামলা হলে শুধু স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সরবরাহের ওপর নয়, আঞ্চলিক তেল বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে এবারের ঘটনায় উৎপাদন বা সরবরাহ কার্যক্রমে কোনও ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।   এদিকে হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও তথ্য আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে।   হুথিদের হামলার দাবি ও হামলার কারণ হিসেবে সৌদি ড্রোন হামলার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজে জাহাজ চলাচলে বড় ধস

মিসরের পতাকা। সংগৃহীত ছবি

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার পথে মিসর

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে চাপে রাখতে মার্কিন নীতি অব্যাহত থাকবে: ভ্যান্স

সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

সৌদি আরব এবং তুরস্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক একদিন পরই ইসরায়েলকে ‘অবৈধ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। শনিবার নিজ দেশের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলকে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য সরাসরি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্ট বা জোট গঠনের জোর আহ্বান জানান।   এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে খাজা আসিফ বলেন, ইসরায়েলের প্রেক্ষাপটে সমস্ত মুসলিম দেশকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৪০-এর দশকের বালফোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ইসরায়েল হলো বালফোর ঘোষণারই এক ফসল, যা ১৯৪০-এর দশকে একটি অবৈধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি এই অঞ্চলের যেকোনো দেশের জন্যই সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।    উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালের ব্রিটিশ ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, তার ঠিক এক বছর আগে ১৯৪৭ সালে একই রকম ব্রিটিশ ঘোষণার মধ্য দিয়েই পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল।   পূর্বে ইসরায়েলকে ‘মানবজাতির জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যানসার আক্রান্ত রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দেওয়া এই পাকিস্তানি মন্ত্রী জানান, আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও ইসরায়েলের প্রতি তার এই কঠোর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, জেরুজালেমের ক্ষমতায় কে আসল—নফতালি বেনেট নাকি অন্য কোনো নেতা—তাতে পরিস্থিতির খুব সামান্যই ফারাক ঘটবে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব এবং ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা কখনো দূর হবে না। তারা একের পর এক মুসলিম দেশকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে চলেছে। যতক্ষণ না ফিলিস্তিন-সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ পুরো ইসলামিক বিশ্বকে এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।   খাজা আসিফের এই নতুন হুমকির বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফের দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সে সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইসলামাবাদের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারী কোনো দেশের মন্ত্রীর মুখে ইসরায়েল ধ্বংসের এমন ডাক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।    উল্লেখ্য, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে ইসলামাবাদ।   এদিকে, শনিবার এক পৃথক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা কার্যত ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫-এর মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এর অর্থ হলো, এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।    তিনি জানান, আঙ্কারা, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের এই জোটে ন্যাটোর আদলে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠিত হবে এবং এর প্রধান সচিবালয় থাকবে সৌদি আরবে। কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলে মিসরও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে জানান তিনি। প্রায় দুই বছর আট মাসের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই জোটটি ন্যাটোর বিকল্প নয় এবং আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের জন্যও এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে আঙ্কারা নিশ্চিত করেছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহাসিক সফরে সার্বিয়ায় গেলেন জেলেনস্কি

ছবি: সংগৃহীত

‘আজাদ’ কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে জবাবদিহিতা চায় জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির উচ্চ নিরাপত্তার সামরিক ঘাঁটির উপরে ড্রোনের আনাগোনা

0 Comments