জাতীয়

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা: কীভাবে কাজ করছে, জটিলতা কোথায়?

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
এআই প্রযুক্তিতে শৃঙ্খল ফিরছে ঢাকার রাস্তায়। ছবি:সংগৃহীত
এআই প্রযুক্তিতে শৃঙ্খল ফিরছে ঢাকার রাস্তায়। ছবি:সংগৃহীত

রাজধানী কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের কোনো লেইনে যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে; একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু তারা মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন।

দিন কয়েক আগেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেইন আটকে আরেকটি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা দেখা যেত ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না।

এদিন লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল সব ধরনের বাহন। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলে কোনো যানবাহন চলছিল না।

এ সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই পাল্টে গেছে আগের হ-য-ব-র-ল চিত্র; বিপরীতে দেখা যাচ্ছে এমন শৃঙ্খলা।

ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভয়ে বাহনের চালকরা আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

যদিও কোনো যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট কিংবা নম্বর প্লেট না থাকার কারণে জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কেননা অস্পষ্ট নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা।

শুধু এ মোড় নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ।

সোনারগাঁও মোড়ে সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একজন বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার বলেন, ক্যামেরার ভয়ে কেউ সিগন্যাল ভাঙছে না।

সোনারগাঁও হোটেলের সামনের ‘স্টপ লাইন’ দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখেন কেউ লাইনই ক্রস করছে না। বেশির ভাগই সিগন্যাল মানছে। আমরা সিগন্যাল মতো গাড়ি ছাড়ার বা থামার ইশারা দিচ্ছি দাঁড়িয়ে থেকে।”

এআই ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট কমেছে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ বেশি মনোযোগ দিতে পারছে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ হোসেন।

পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।

সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে।

এ ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই যানবাহনগুলোর সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ পাওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন।

এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।

‘পিটিজেড ক্যামেরা’

আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বলছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো ও জুম করা যায়।

বড় এলাকা বা জনসমাগমপূর্ণ জায়গা পর্যবেক্ষণের জন্য এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুরে চিত্র ধারণ করতে পারে। চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে। এটি ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুম’ এর মাধ্যমে অনেক দূর থেকে স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ক্যামেরাগুলোতে দেওয়া সফটওয়্যারে ছয়টি ‘লজিক’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছয় ধরনের আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা করছে।

এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে নিমিশেই মিলছে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য।

টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্য করা গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের’ মাধ্যমে মালিক/চালকদের রেজিস্ট্রি করা ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব মামলার কপি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

৪ শতাধিক মামলা

এ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার শুরুর প্রথম আট দিনে সার্ভারে ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে। সেগুলো টিটিইউ ইউনিটের সদস্যরা যাচাইবাছাই করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী মামলা দিচ্ছেন।

ডিএমপি ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হিউজ ভিডিও পাচ্ছি। যেমন ধরেন সফটওয়্যারকে ‘লেইন ভায়োলেশনের’ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে ‘ভায়োলেশন’ হিসেবে ধরে ফুটেজ দিচ্ছে।

“কিন্তু যেহেতু এই ব্যবস্থাপনাটা নতুন, তাই আমরা ছোটোখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। বিবেচনায় নিচ্ছি, তার ওই ভায়োলেশনটার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে কিনা, স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিনা। এসব ফুটেজ যাচাইবাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি ‘প্রসিকিউশন’ (মামলা) প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে অনেগুলোই (মালিক/চালকদের) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

প্রতিদিন কী পরিমাণ আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, এ ব্যাপারে শারমিন বলেন, “গত বুধবার আমরা ৭৪৮টি ভিডিও পেয়েছি। বৃহস্পতিবার একটু কম পেয়েছি।”

কোন ধরনের আইন অমান্যের প্রবণতা বেশি, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বেশির ভাগই বাম লেইন দখল করে রাখা আর ‘স্টপ লাইন’ না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন ‘স্টপ লাইন’ মানার প্রবণতা বাড়ছে। বেশির ভাগই সিগন্যাল অনুযায়ী স্টপ লাইনটা মানছেন।”

ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার বলেন, “আমাদের লোকজন কাজ করতেছে, ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়ত ১ হাজার মামলা হবে।”

যেসব যানবাহন শনাক্ত করছে ক্যামেরা

বর্তমানে বাম লেইন বন্ধ করা, অবৈধভাবে লেইন পরিবর্তন বা বারবার পরিবর্তন, সিগন্যাল লাইট অমান্য বা স্টপ লাইট অমান্য বা জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা রাস্তায় বা ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, অবৈধ পার্কিং করা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালালে এ মামলা হবে।

গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তির সিগন্যাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সরওয়ার বলেন, “আরো অনেকগুলো লজিক দেওয়া হবে। এই লজিক যত বাড়ানো হবে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী আইনের আওতা আরো বাড়বে।”

মামলার কপি যাচ্ছে ডাকযোগে

ডিএমপি বলছে, বর্তমানে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত আইন ভঙ্গকারী মালিক/চালকদের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড নোটিস’ ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর মালিক/চালকরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।

নোটিস পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মালিক/চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা।

তবে মামলার তথ্য চালক/মালিকের মোবাইলে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও বলছে পুলিশ।

ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, “বর্তমানে চিঠি পাঠিয়ে ট্রাফিক মামলা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে বা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানাবে পুলিশ।”

মোবাইল ফোনের বার্তায় অভিযোগ লিংকও পাঠানো হবে, যেখানে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি প্রসিকিউশনের চিঠি এবং নিজের আইন ভঙ্গের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সরাসরি দেখতে পারবেন। এতে ‘স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়বে’ বলে মনে করেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একসময় কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়।

তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরো বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় মামলা কার্যক্রমের দিকে যাওয়ায় সেই সমস্যা কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

যেসব পয়েন্টে বসেছে ক্যামেরা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সাতটি, গুলশান-১ নম্বর ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় হাই কোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি এবং ডিএমপির ব্যবস্থাপনায় ১৫টিসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট চালু রয়েছে।

এই ৩০টি পয়েন্টেই এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল লাইটের খুঁটিতেই এ ক্যামেরা বসানো হবে।

সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “বর্তমানে শতাধিক পিটিজেড ক্যামেরার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনা চলছে। পর্যায়ক্রমে আরো ক্যামেরা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

জটিলতা কোথায়?

ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ ব্যবস্থায় প্রধান যে জটিলতা দেখা গেছে সেটি হচ্ছে, অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট। আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেট নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না।

ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপন করা আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে।

সে কারণে চলতি সপ্তাহ থেকেই অভিযানে নামার কথা গত ১১ মে গণবিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরে ডিএমপি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রং, ডিজাইন এবং সাইজের নাম্বার প্লেট যথাযথ স্থানে লাগানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “কয়েকদিনের মধ্যে যদি বিআরটিএ নির্ধারিত নম্বর প্লেট না লাগায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গত কয়েকমাসে এক্সপ্রেসওয়েতে অনিয়ন্ত্রিত গতির গাড়ি শনাক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। এর বাইরে বিভিন্ন ক্যামেরায় ভুল পার্কিং, রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ বিভিন্ন আইন ভঙ্গকারীর ভিডিও সংগ্রহ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এর ভিত্তিতে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

ডিএমপি বলছে, ‘হ্যালো ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কেউ ওই অ্যাপে কোনো যানবাহনের আইন অমান্যের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। এরপর সেটি যাচাইবাছাই করে মামলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিকে মাঠ নিশ্চিতের নির্দেশ, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিতসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।   গতকাল রবিবার (২৮ জুন) অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে  এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।   এতে জানানো হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলো খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় চাহিদা নিরূপণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।   এছাড়া দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই উল্লেখ করে বিদ্যালয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে সেখানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।   যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, তাদের ক্ষেত্রে আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের লক্ষ্যে সমঝোতা বা চুক্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।   একই সঙ্গে মন্দির, মসজিদ, খালি জায়গা, পতিত জমি কিংবা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার মাঠ থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় যৌথভাবে খেলাধুলার আয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   অধিদপ্তরের আরও বলেছে, যেসব বিদ্যালয়ে মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, সেখানে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দাবা, ক্যারামসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে।   এছাড়া প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন হবে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা: সরকার

ছবি: সংগৃহীত

জলুমের পার্লামেন্ট সাড়ে ১৭ বছরের সব গুম-খুনের বিচার চায়—বিরোধীদলীয় নেতা

ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছরে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার, অন্তর্বর্তী আমলেরও তদন্ত চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
সংসদে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি দাবি করেন, দলটির নামের সঙ্গে ‘ইসলাম’ থাকলেও তাদের ঘোষিত নীতিমালায় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা শরিয়াহভিত্তিক শাসনের কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নেই।   রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ৯৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়াহ আইন, ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজব্যবস্থা কিংবা ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো অঙ্গীকার নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলটি নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে কীভাবে উপস্থাপন করছে।   তিনি আরও বলেন, শিক্ষা বিষয়ে দলটির প্রস্তাবে কেবল মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত।   জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষেও অবস্থান নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন পাকিস্তানপন্থী প্রশাসনের সঙ্গে দলটির নেতাদের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে অংশগ্রহণকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন।   দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে অপরাধ সংঘটিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং মামলা গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় অধিক কার্যকর হয়েছে।   সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে আধুনিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো এবং রাজস্ব ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   এ সময় ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার বিক্রি নিয়ে ওঠা বিতর্কেরও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তার বক্তব্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় অডিট রিপোর্ট ও দালিলিক তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড, চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশীদারিত্ব

ছবি: সংগৃহীত

‘৭১-এর ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল’—সংসদে মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতে ‘ব্রিজ টু বাংলাদেশ’ চালু, ডায়াসপোরা নীতিমালা অনুমোদনের অপেক্ষায়

ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসেরও দুদক তদন্ত চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থপাচারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সময়কালেরও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ওপর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত কয়েকদিনে একটি রিপোর্ট দিয়েছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সময়েও সর্বোচ্চ দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। যদিও সেই পত্রিকা বা রিপোর্টটি এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই, তবুও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাই ১৮ মাসের অস্থির সময়ে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত, তার সবকিছুই দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের ভিত্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা, তাই যেকোনো ধরনের অভিযোগেরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তিনি জানান, বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাবে এক ধরনের লুটেরা অর্থনীতি ও ক্রনি ক্যাপিটালিজম গড়ে উঠেছিল। সেই সময়কালে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গত ১৫ বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল এবং মেগা প্রজেক্টের নামে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল আইনি মোড়কে দুর্নীতি বা লেজিসলেটিভ ম্যানিপুলেটেড করাপশন, যার মাধ্যমে কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে ইনডেমনিটি দিয়ে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি আদম ব্যবসার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় অপাত্রে দেওয়ার খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন। বিগত আমলের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৮ মাসের চরম অস্থির সময় পার করে সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থার পতন ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যমুনার অভ্যন্তরে ও কিনারে মিলিয়ে যে বহুমুখী সংকট ছিল, সেই অস্থির সময়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই জুলাই সনদে সমঝোতার মাধ্যমে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে বর্তমান নেতৃত্ব সবসময় সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটকে ‘এ বাজেট অব নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক বাস্টিয়া কিংবা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের জনকল্যাণমুখী দর্শনের আলোকে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্তের একজন অসহায় বিধবা মহিলাও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং ড. গোহ-এর সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সফল মডেলের উদাহরণ দেন। নোবেলজয়ী জোসেফ স্টিগলিৎসের তত্ত্বের আলোকেই বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও মাল্টি-পোলার বিশ্বে বাংলাদেশকে নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে বলে তিনি জানান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে এই বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ পাঁচটি মূল ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৮, ২০২৬
ফাইল ছবি

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ৪৫ দিন আগে তফসিল: ইসি

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ক্র্যাব) এবং সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস-এর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস ও ক্র্যাবের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ইস্যুতে সংসদে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

0 Comments