জাতীয়

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা: কীভাবে কাজ করছে, জটিলতা কোথায়?

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
এআই প্রযুক্তিতে শৃঙ্খল ফিরছে ঢাকার রাস্তায়। ছবি:সংগৃহীত
এআই প্রযুক্তিতে শৃঙ্খল ফিরছে ঢাকার রাস্তায়। ছবি:সংগৃহীত

রাজধানী কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের কোনো লেইনে যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে; একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু তারা মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন।

দিন কয়েক আগেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেইন আটকে আরেকটি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা দেখা যেত ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না।

এদিন লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল সব ধরনের বাহন। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলে কোনো যানবাহন চলছিল না।

এ সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই পাল্টে গেছে আগের হ-য-ব-র-ল চিত্র; বিপরীতে দেখা যাচ্ছে এমন শৃঙ্খলা।

ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভয়ে বাহনের চালকরা আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

যদিও কোনো যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট কিংবা নম্বর প্লেট না থাকার কারণে জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কেননা অস্পষ্ট নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা।

শুধু এ মোড় নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ।

সোনারগাঁও মোড়ে সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একজন বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার বলেন, ক্যামেরার ভয়ে কেউ সিগন্যাল ভাঙছে না।

সোনারগাঁও হোটেলের সামনের ‘স্টপ লাইন’ দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখেন কেউ লাইনই ক্রস করছে না। বেশির ভাগই সিগন্যাল মানছে। আমরা সিগন্যাল মতো গাড়ি ছাড়ার বা থামার ইশারা দিচ্ছি দাঁড়িয়ে থেকে।”

এআই ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট কমেছে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ বেশি মনোযোগ দিতে পারছে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ হোসেন।

পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।

সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে।

এ ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই যানবাহনগুলোর সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ পাওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন।

এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।

‘পিটিজেড ক্যামেরা’

আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বলছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো ও জুম করা যায়।

বড় এলাকা বা জনসমাগমপূর্ণ জায়গা পর্যবেক্ষণের জন্য এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুরে চিত্র ধারণ করতে পারে। চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে। এটি ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুম’ এর মাধ্যমে অনেক দূর থেকে স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ক্যামেরাগুলোতে দেওয়া সফটওয়্যারে ছয়টি ‘লজিক’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছয় ধরনের আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা করছে।

এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে নিমিশেই মিলছে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য।

টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্য করা গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের’ মাধ্যমে মালিক/চালকদের রেজিস্ট্রি করা ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব মামলার কপি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

৪ শতাধিক মামলা

এ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার শুরুর প্রথম আট দিনে সার্ভারে ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে। সেগুলো টিটিইউ ইউনিটের সদস্যরা যাচাইবাছাই করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী মামলা দিচ্ছেন।

ডিএমপি ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হিউজ ভিডিও পাচ্ছি। যেমন ধরেন সফটওয়্যারকে ‘লেইন ভায়োলেশনের’ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে ‘ভায়োলেশন’ হিসেবে ধরে ফুটেজ দিচ্ছে।

“কিন্তু যেহেতু এই ব্যবস্থাপনাটা নতুন, তাই আমরা ছোটোখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। বিবেচনায় নিচ্ছি, তার ওই ভায়োলেশনটার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে কিনা, স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিনা। এসব ফুটেজ যাচাইবাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি ‘প্রসিকিউশন’ (মামলা) প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে অনেগুলোই (মালিক/চালকদের) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

প্রতিদিন কী পরিমাণ আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, এ ব্যাপারে শারমিন বলেন, “গত বুধবার আমরা ৭৪৮টি ভিডিও পেয়েছি। বৃহস্পতিবার একটু কম পেয়েছি।”

কোন ধরনের আইন অমান্যের প্রবণতা বেশি, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বেশির ভাগই বাম লেইন দখল করে রাখা আর ‘স্টপ লাইন’ না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন ‘স্টপ লাইন’ মানার প্রবণতা বাড়ছে। বেশির ভাগই সিগন্যাল অনুযায়ী স্টপ লাইনটা মানছেন।”

ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার বলেন, “আমাদের লোকজন কাজ করতেছে, ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়ত ১ হাজার মামলা হবে।”

যেসব যানবাহন শনাক্ত করছে ক্যামেরা

বর্তমানে বাম লেইন বন্ধ করা, অবৈধভাবে লেইন পরিবর্তন বা বারবার পরিবর্তন, সিগন্যাল লাইট অমান্য বা স্টপ লাইট অমান্য বা জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা রাস্তায় বা ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, অবৈধ পার্কিং করা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালালে এ মামলা হবে।

গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তির সিগন্যাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সরওয়ার বলেন, “আরো অনেকগুলো লজিক দেওয়া হবে। এই লজিক যত বাড়ানো হবে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী আইনের আওতা আরো বাড়বে।”

মামলার কপি যাচ্ছে ডাকযোগে

ডিএমপি বলছে, বর্তমানে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত আইন ভঙ্গকারী মালিক/চালকদের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড নোটিস’ ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর মালিক/চালকরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।

নোটিস পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মালিক/চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা।

তবে মামলার তথ্য চালক/মালিকের মোবাইলে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও বলছে পুলিশ।

ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, “বর্তমানে চিঠি পাঠিয়ে ট্রাফিক মামলা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে বা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানাবে পুলিশ।”

মোবাইল ফোনের বার্তায় অভিযোগ লিংকও পাঠানো হবে, যেখানে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি প্রসিকিউশনের চিঠি এবং নিজের আইন ভঙ্গের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সরাসরি দেখতে পারবেন। এতে ‘স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়বে’ বলে মনে করেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একসময় কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়।

তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরো বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় মামলা কার্যক্রমের দিকে যাওয়ায় সেই সমস্যা কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

যেসব পয়েন্টে বসেছে ক্যামেরা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সাতটি, গুলশান-১ নম্বর ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় হাই কোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি এবং ডিএমপির ব্যবস্থাপনায় ১৫টিসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট চালু রয়েছে।

এই ৩০টি পয়েন্টেই এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল লাইটের খুঁটিতেই এ ক্যামেরা বসানো হবে।

সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “বর্তমানে শতাধিক পিটিজেড ক্যামেরার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনা চলছে। পর্যায়ক্রমে আরো ক্যামেরা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

জটিলতা কোথায়?

ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ ব্যবস্থায় প্রধান যে জটিলতা দেখা গেছে সেটি হচ্ছে, অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট। আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেট নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না।

ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপন করা আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে।

সে কারণে চলতি সপ্তাহ থেকেই অভিযানে নামার কথা গত ১১ মে গণবিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরে ডিএমপি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রং, ডিজাইন এবং সাইজের নাম্বার প্লেট যথাযথ স্থানে লাগানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “কয়েকদিনের মধ্যে যদি বিআরটিএ নির্ধারিত নম্বর প্লেট না লাগায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গত কয়েকমাসে এক্সপ্রেসওয়েতে অনিয়ন্ত্রিত গতির গাড়ি শনাক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। এর বাইরে বিভিন্ন ক্যামেরায় ভুল পার্কিং, রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ বিভিন্ন আইন ভঙ্গকারীর ভিডিও সংগ্রহ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এর ভিত্তিতে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

ডিএমপি বলছে, ‘হ্যালো ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কেউ ওই অ্যাপে কোনো যানবাহনের আইন অমান্যের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। এরপর সেটি যাচাইবাছাই করে মামলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭৭ বোতল বিদেশি মদসহ রুশ নাগরিক আটক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৭ বোতল অবৈধ বিদেশি মদসহ এক রুশ নাগরিককে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।   মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের EK-584 ফ্লাইটে ঢাকায় আসার পর ওই যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব মদ উদ্ধার করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দাদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে (২৩:৫০) তার ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়।   কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশির সময় যাত্রীর লাগেজ থেকে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি মদের মোট ৭৭ বোতল পাওয়া যায়। পরে এসব মদ জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে আটক করা হয়।   আটক রুশ নাগরিকের নাম মিখাইলভ রোমান (Mikhailov Roman)। তার পাসপোর্ট নম্বর 66N3620866। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৯০ সালের ৭ ডিসেম্বর।    কাস্টমস সূত্র জানায়, জব্দ করা মদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অবৈধভাবে মদ বহন ও আমদানির অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন এবং দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।   কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, বিমানবন্দরে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বা অনুমোদন ছাড়া বিদেশি মদসহ বিভিন্ন পণ্য আনা ঠেকাতে নিয়মিতভাবে নজরদারি ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহজনক যাত্রীদের ব্যাগেজে তল্লাশির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   এ ঘটনায় জব্দ করা মদের প্রকৃতি, পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

হিট প্রকল্পের অগ্রগতি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে : ইউজিসি চেয়ারম্যান

সংগৃহীত ছবি

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে অন্য দেশে পাচার, বাধ্য করা হতো দেহব্যবসায় : এসআরবি

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ চান পর্যটনমন্ত্রী

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবন, বারিধারায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই আহ্বান জানান পর্যটনমন্ত্রী।    এ সময় পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে যুক্তরাজ্য আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি। যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানাই-বাংলাদেশে আসুন এবং আমাদের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করুন। আমরা যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই এবং একটি অনুকূল, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যটন খাতের বিকাশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি করছি। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।   এভিয়েশন খাত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এয়ার কার্গো খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা কামনা করছি। ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও ডাককে ‌‘High Risk Cargo and Mail’ (HRCM) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।   অনুষ্ঠানে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি বৃন্দ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের পক্ষে সরকারের অবস্থান

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জনগণ ভালো থাকে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন। জনগণের জন্য উপযুক্ত যে প্রক্রিয়া সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে।   আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।   বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, কমিটির সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, কমিটির সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের বৈঠকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, বার্তা সংস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত রোববার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়।   তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে কথা শোনার জন্য দুই দিনে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবগুলো সংগ্রহ করে কমিটি পরবর্তী সময়ে সেগুলো পর্যালোচনা করবে।   কমিটির সভাপতি বলেন, আজকের আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত এসেছে।   তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব ও ভিন্নমত রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কোন কোন ধাপ অনুসরণ করা হবে, তার একাধিক বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করতে কমিটি সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।   দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় দেশের জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। সংসদে এ বিষয়ে কোনো নতুন প্রস্তাব এলে তা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।   প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে মতামত এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, কোনো ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের যে প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় দিয়েছিল, সে অবস্থান থেকে তারা এখনো সরে আসেনি।   তিনি বলেন, জনগণ কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত-এমন মতামতও এসেছে। তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ যেন তৈরি না হয়, সে বিবেচনায় ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, কমিটি সেটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্ন প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।   তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব এবং গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও জীবিত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।   কমিটির সভাপতি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। পরে সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং এর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে আসবে। সংসদে বিল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।   তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গেও কমিটি আলোচনা করবে। এ বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের ভিত্তি ছিল ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। এসব কমিশনের সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে।   তিনি বলেন, অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন বর্তমানে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয়। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করে সুপারিশ নিতে পারে। যেমন, গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে আলাদা কমিশন গঠন করা হলে তার বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশও পরবর্তীতে বিবেচনা করা সম্ভব।   কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধান সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক সংশোধনী প্রণয়নের লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

মাদকদ্রব্য রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে : আইজিপি

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

পাকুন্দিয়ায় দুই ঘণ্টার হাটে কোটি টাকার পানবাণিজ্য

0 Comments