ঢাকার লেকগুলোতে সরাসরি সুয়ারেজের পানি ফেলা যাবে না এবং এখন থেকে নতুন কোনো বাড়ি বা ভবন নির্মাণ করতে হলে সেপটিক ট্যাংক ও এসটিপি (সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে যেসব পুরনো বাড়ি রয়েছে, সেগুলোতে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার (১৭ মে) সচিবালয়ে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে মীর শাহে আলম আরও জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে জলজট তৈরি হবে। সেই পানি ধীরে ধীরে নেমে যাবে উল্লেখ করে তিনি নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহবান জানান।
বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, সেগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট সিস্টেম বা নিয়মের মধ্যে আনা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
একসময় ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই চট্টগ্রামের পাড়া-মহল্লায় শুরু হতো উৎসবমুখর উন্মাদনা। বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে থেকেই বাসাবাড়ির ছাদে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানো, দেয়ালে খেলোয়াড়দের ছবি আঁকা কিংবা দলভিত্তিক নানা আয়োজন ছিল সাধারণ দৃশ্য। সময়ের পরিবর্তনে সেই উন্মাদনার অনেকটাই স্থানান্তর হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বর্তমানে তরুণরা ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি ও কাভার ফটো পরিবর্তন করে প্রিয় দলকে সমর্থন জানাচ্ছেন। খেলা দেখার মাধ্যমেও এসেছে পরিবর্তন। স্মার্টফোন, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবহার বাড়লেও পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে টেলিভিশনে বসে খেলা দেখার ঐতিহ্য এখনো অটুট রয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এলেই টেলিভিশনের বাজারে চাঙাভাব দেখা যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হওয়া এই প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছে নানা ধরনের অফার ও ছাড়। নগরীর বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস শোরুম ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে ৩২ ইঞ্চির স্মার্ট টিভির দাম ব্র্যান্ডভেদে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, ৪৩ ইঞ্চির স্মার্ট টিভির দাম ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ৫০ থেকে ৬৫ ইঞ্চির স্মার্ট টিভির দাম ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকারও বেশি। একসময় যেখানে সিআরটি (বক্স আকৃতির) টেলিভিশনের চাহিদা ছিল বেশি, সেখানে এখন বাজার দখল করে নিয়েছে স্মার্ট এলইডি টিভি। অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক নানা সুবিধা থাকায় এসব টিভির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। প্রায় দুই দশক ধরে এ খাতে ব্যবসা করছেন নগরীর জামালখান এলাকার র্যাংগস ই-মার্টের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তৌহিদুল আলম। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘বক্স টেলিভিশনের যুগে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রচুর টিভি বিক্রি করেছি। এখনো বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে।’ নগরীর চকবাজার এলাকার সিঙ্গার শোরুমের ম্যানেজার জাফর উদ্দিন কালবেলাকে জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অফার চালু করেছে। তিনি বলেন, ‘৩২ ইঞ্চির একটি স্মার্ট টিভি কিনলেই জার্সি অথবা ফুটবল উপহার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, প্রতিদিন অনেক ক্রেতা পরিবার-পরিজন নিয়ে শোরুমে এসে অফার সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। ক্রেতাদের সুবিধার্থে ৬ মাস থেকে ১ বছরের কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বৃহৎ ইলেকট্রনিকস বাজার রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকার রাইফেল ক্লাব মার্কেট ও শাহ আমানত মার্কেট। এসব মার্কেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টেলিভিশনের পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামের বিকল্প পণ্যও পাওয়া যায়। শাহ আমানত মার্কেটের ব্যবসায়ী তিলক চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টেলিভিশনের বিকল্প সংস্করণ পাওয়া যায়। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ ও চাকরিজীবীদের আগ্রহ বেশি থাকে। অনেকের বেতন মাসের ১০ তারিখের পর হওয়ায় এখনো খুব বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে না। তবে ১০ তারিখের পর বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।’
শ্রমিক সংগঠন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিবাদের মুখে চট্টগ্রাম বন্দরের সর্ববৃহৎ ও লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার এ চুক্তি না করেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দরকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে, তা বাতিল বা শেষ করার নির্দেশনা দেয়। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু বিকালে আরেক চিঠিতে একই মন্ত্রণালয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা তথা দরকষাকষির আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। একই দিন সকাল ও বিকালে মন্ত্রণালয়ের দুই চিঠি নতুন করে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। বন্দরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আন্দোলনকারীরা বলছেন, দেখে-শুনে মনে হচ্ছে এনসিটি ইজারা ইস্যুতে সরকারের মধ্যেই দুটি পক্ষ হয়ে গেছে। একপক্ষ বিদেশিকে দিতে চাচ্ছে; আরেকপক্ষ চাইছে দেশীয় অপারেটর দিয়ে পরিচালনা করতে। এখন যে পক্ষ শক্তিশালী সেই পক্ষই দ্বিতীয় চিঠি ইস্যুর নেপথ্যে কাজ করছে বলে তারা সন্দেহ করছেন। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপি) কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রথম চিঠি দিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল বা শেষ করার কথা বলা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় ইজারা দর নিয়ে নির্দেশনা চাইলে দ্বিতীয় চিঠিতে তা (দরকষাকষি) অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৭ সদস্যের মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে তা অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েও নৌ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এনসিটি ইজারার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়ে জানার জন্য বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত নৌ মন্ত্রণালয়ের দুটি চিঠি পেয়ে তারা বিস্মিত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার যেখানে আন্দোলনের মুখে পিছু হটেছে, সেখান বর্তমান নির্বাচিত সরকার কার জন্য স্রোতে গা ভাসাতে চাচ্ছে বুঝতে পারছি না। এনসিটি কোনো ট্রানজিট পোর্ট বা টার্মিনাল নয়। ব্যবসায়ীরাও বলেননি যে এনসিটি তাদের সেবা দিতে পারছে না। এনসিটির আয়ও রেকর্ড পরিমাণ। এনসিটির সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন জড়িত। বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪৪-৪৫ শতাংশ এই এনসিটিতেই হয়। দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনসিটি চালানোর দক্ষতার পরিচয় ইতোমধ্যে দিয়েছে। তাই এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।' এই ইস্যুতে তাদের অবস্থান আগের মতোই আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আন্দোলন করতে গিয়ে এই শ্রমিক দল নেতা পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা জানান, এনসিটিতে নতুন করে কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। দেশীয় অপারেটররা এটি দক্ষতার সঙ্গেই পরিচালনা করে আসছিল। বিশেষ করে সাইফপাওয়ারটেক দীর্ঘদিন এই টার্মিনাল পরিচালনা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের কাছ থেকে এই প্রতিষ্ঠান অনেকটা কেড়ে নেওয়া হয়। সরকারি সংস্থা ড্রাইডক ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনা করছে। পরিচালন ক্ষমতা হারালেও দেখা গেছে, সাইফপাওয়ারটেকের কর্মীদেরকেই কাজে লাগাচ্ছে ড্রাইডক। এখনো এই টার্মিনালে রেকর্ড হ্যান্ডলিং হচ্ছে। তাছাড়া ডিপি ওয়ার্ল্ড এনসিটি হ্যান্ডলিং করে সরকারকে যে লাভ দেবে বলেছে, দেশীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান তার চেয়েও বেশি লাভ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এরপরও কেন নতুন করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকেই এনসিটি দেওয়ার জন্য নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা বোধগম্য নয়। এটি যদি হয় তবে তারা নতুন করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিএনপি’র অ্যাডমিনিস্টেশন ও দেশ পরিচালনার কোনও অভিজ্ঞতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলায় একটি পার্টি সেন্টারে এনসিপি আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশে গ্যাস, তৈল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে মানুষ অস্বস্তিতে আছে। শেখ হাসিনার আমলে গত ১৭ বছরে যা দাম বেড়েছিল তিন মাসে ততটুকু গ্যাসের দাম বাড়াতে তারা সক্ষম হয়েছে। সবমিলিয়ে বিএনপি একটি অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মব বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও মব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে সরকার দলীয় লোকজনের সেখানে সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে। বিএনপি সরকার কখনোই দেশ পরিচালনায় ভালো ছিল না।’ এনসিপি এই নেতা বলেন, ‘যারা একটা ছায়া বাজেট দিতে পারে, তারা বাজেটও প্রণয়ন করতে পারে। এই সক্ষমতা এনসিপির তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার কোনও ব্যক্তি বা দল নেই। দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার একমাত্র বিরোধী দলের ভূমিকায় আছে এনসিপিই।’ তিনি বলেন, ‘যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন জনগণকে দেখিয়েছি, সেটা বাস্তবায়ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’ আগামীতে বাংলাদেশে এনসিপির রোল মডেল জেলা হিসেবে কুমিল্লাকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু রায়হানের উপস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’র সভাপতি তারিকুল ইসলাম। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব হলেন- সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন শিশিরসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দরা।