বিশ্ব

ট্রাম্পের ‘স্বপ্নপূরণ’, অবশেষে হাতে পেলেন নোবেল!

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তুলে দেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ছবি : সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তুলে দেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের এক সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া। বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রকাশ্যেই সেই ইচ্ছার কথা বলেছেন। অবশেষে এক নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে যেন সেই স্বপ্ন পূরণের প্রতীকী মুহূর্ত এলো। ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে।


বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠক শেষে মাচাদো নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই বৈঠক এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি বন্দিশিবিরে তাকে রাখা হয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাতের পর মাচাদো দিনটিকে ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের গেটে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করতে পারি। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নিজের নোবেল পদকটি তাকে উপহার দিয়েছেন।
এই উপহারকে মাচাদো ঐতিহাসিক এক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মার্কেস দে লাফায়েত যেভাবে সিমন বলিভারকে পদক উপহার দিয়েছিলেন, এটি তেমনই এক প্রতীকী সম্মান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উপহার গ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি একে পারস্পরিক সম্মানের এক চমৎকার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মাচাদোকে একজন অসাধারণ নারী বলে আখ্যা দেন। তবে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদো বিজয়ের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। বরং মাদুরোর আমলে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন ট্রাম্প, যিনি বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি মনে করেন ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই।
নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মারিয়া কোরিনা মাচাদো ট্রাম্পকে পদক উপহার দিলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর কোনো বৈধতা নেই। এর আগে মাচাদো যখন পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখনই নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।
গত সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে নোবেল কমিটি জানায়, নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষণা করা হয়ে গেলে তা প্রত্যাহার, ভাগাভাগি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী। বৃহস্পতিবার মাচাদোর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নোবেল কমিটি বিবিসিকে তাদের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করে। একই দিনে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে নোবেল পিস সেন্টার সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানায়, একটি পদকের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি বদলায় না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
থামছে না ইরান, পাল্টা হামলা অব্যাহত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের মধ্যে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধ থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত মেলেনি কোনো পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ থামবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি দাবির আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষের হাহাকার। গত ছয় দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত শুধু ইরানেই নিহত হয়েছে ১ হাজার ২৩০ জনের বেশি মানুষ, যার একটি বড় অংশই শিক্ষার্থী। সংঘাতের আঁচ লেগেছে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মতো দেশগুলোতেও। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে একের পর এক তেল ট্যাংকার ও যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার তার রাজধানী দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের চারপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তোলে। ইরাক থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এ রণক্ষেত্রে এখন শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন এবং বারুদের গন্ধ। যুদ্ধের এ পর্যায়ে কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না, বরং ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দিনগুলোয় তাদের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত ও তীব্র হবে। এক কথায়, মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপ পুরো বিশ্বকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। গত শনিবার যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে, তখন থেকেই পুরো অঞ্চলটি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালেও তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে এসেও কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতির সংকেত দেয়নি। ইরানের সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হায়দারি সাফ জানিয়েছেন, ‘সময় আমাদের কাছে বড় বিষয় নয়; আমরা এ যুদ্ধ থামাতে আসিনি।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে ফোনে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুদের অশুভ তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের কার্যক্রম থামাবে না। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা এরই মধ্যে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ১৯তম ধাপের হামলা সম্পন্ন করেছে। এ অভিযানে তারা শুধু ইসরায়েল নয়, বরং কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে থাকা ২০টিরও বেশি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনের আমাজন ডাটা সেন্টারে আঘাত হানার মাধ্যমে তারা মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়ার দাবি করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের সামরিক সদর দপ্তর ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোয় দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের কোম শহরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ইসফাহান শহরের একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানে ২ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইরানের আকাশসীমায় এখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই দাবির বিপরীতে ইরান দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ দাবিকে ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হতাহতের চিত্র ও মানবিক বিপর্যয়: এ যুদ্ধের সবচেয়ে করুণ পরিণতি ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ২৩০ জন ছাড়িয়ে গেছে এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মিনাব শহরে, যেখানে গত শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৭৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পারান্দ শহরের আরও দুটি স্কুলেও মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সেখানে শ্রেণিকক্ষ ও আবাসিক ইউনিটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি ছড়িয়ে পড়লেও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সংঘাতের এ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। এর বাইরে কুয়েতের নিজস্ব বাহিনীর দুই সেনাসহ আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ইরানের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে গত ১ মার্চ বেইত শেমেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন মারা যান। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় গত সোমবার থেকে অন্তত ১০২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, ওমানে একজন এবং বাহরাইনে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওমান উপকূলে একটি তেল ট্যাংকারে হামলায় একজন এবং বাহরাইনের সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একজন প্রাণ হারান। আবুধাবিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ধ্বংস করার সময় নিচে পড়া ধ্বংসাবশেষে পাকিস্তান ও নেপালের ছয় নাগরিক আহত হয়েছেন। বৈরুতের একাংশ গাজার মতো ধ্বংস করার হুমকি ইসরায়েলের: লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে বেড়ে চলে হতাহতের সংখ্যাও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজলাল স্টরমিচ। লেবাননের সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ১০২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৬৩৮ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করেছে মন্ত্রণালয়। এদিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজলাল স্টরমিচ হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘খুব শিগগির (বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের) দাহিয়েহ এলাকা খান ইউনিসে পরিণত হবে।’ নৌপথ ও সমুদ্রসীমার উত্তেজনা: যুদ্ধের আঁচ এখন সমুদ্রপথেও প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে। গত বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দিনা’ মার্কিন সাবমেরিন থেকে করা হামলার শিকার হয়ে ডুবে যায়। জাহাজটিতে থাকা ১৮০ জন আরোহীর মধ্যে ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রকে এর চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে ইরানও উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। ইরাকের খোর আল-জুবাইর বন্দরে বাহামার পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারে নৌকা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের মুবারক আল-কাবির বন্দরের কাছেও একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং জাহাজটিতে পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানিয়েছেন, ইরানের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং ১৫ হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। বিশ্ব বাণিজ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ পথটি অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রভাব ও জ্বালানি বাজার: মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স সতর্ক করেছেন যে, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এরই মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘চলুন, এ যুদ্ধ এখনই বন্ধ করি।’ তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং দায়িত্বশীল আঞ্চলিক কূটনীতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতার তার নাগরিকদের সুরক্ষায় দোহায় মার্কিন দূতাবাসের চারপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে। বাহরাইন তাদের আকাশে অন্তত ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ছয়টি সংকট মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করেননি, যদিও তিনি ইরানের ওপর হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ইরানের ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। যুদ্ধের এ ডামাডোলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে ‘ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি’র ওপরও অভিযান শুরু করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০৬, ২০২৬ 0

ইরানি ড্রোন ক্যারিয়ার জাহাজে হামলা, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে ভয়াবহ ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

ভারতে যুদ্ধবিমান নিখোঁজ

  আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটি জোরহাট থেকে উড্ডয়ন করেছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি শেষবার রাডারে দেখা গেছে রাত ৭টা ৪২ মিনিটে। বিমানটি খুঁজে বের করতে একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।  এসইউ-৩০ এমকেআই হলো ১৯৮০-এর দশকে রাশিয়ার উন্নত বিশেষ সংস্করণের যুদ্ধবিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একাধিক স্কোয়াড্রন এই বিমান ব্যবহার করছে। রাশিয়ায় তৈরি এই বিমান প্রথম ১৯৯৭ সালে ভারতে পৌঁছায়। হিন্দুস্থান এয়ারক্রাফটস লিমিটেড এই বিমানের উৎপাদন করছে। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ২৫০টিরও বেশি এসইউ-৩০ বিমান রয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি

মারিয়া রহমান মার্চ ০৬, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

খামেনির ছেলেকে নিয়ে ট্রাম্প বললেন, সে দুর্বল

আল-আকসায় আজ জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল

‘অপেক্ষা করছি’, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা নিয়ে বলল ইরান

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা

  ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, রণতরীটি হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ইরানের দাবি, ওই রণতরী হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব বিস্তার করতে এগিয়ে এসেছিল। মুখপাত্র বলেন, ড্রোন হামলার পর রণতরীটি দ্রুত সরে যায় এবং সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ারসহ ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে চলে গেছে। এর আগে ১ মার্চও একই রণতরীকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলা ওই রণতরীকে আঘাত করেনি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রাধান্য বিস্তার করেছে এবং বি-২ ও বি-১ বোমারু বিমান সেখানে অভিযান চালাচ্ছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সতর্ক বার্তা

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দখলদার ইসরায়লের হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজার একটি শহর।

বৈরুতে গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হুমকি ইসরায়লের

0 Comments