জাতীয়

টঙ্গী থানায় গ্রেপ্তারদের স্বজনদের রাজনৈতিক স্লোগান, উঠল নানা প্রশ্ন

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক অভিযানে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের স্বজন ও সমর্থকদের কয়েকজনকে থানার ভেতরে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় থানার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাঁচজন এবং টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর সময় টঙ্গী পূর্ব থানার ভেতরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

 

ঘটনার সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ভিডিও ধারণ করেন। তাদের কয়েকজনের অভিযোগ, পরে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সংশ্লিষ্ট সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তাদের মোবাইল ফোন থেকে স্লোগানের ভিডিও মুছে দিতে বলেন। এতে কয়েকটি ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

 

তবে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পুরো ঘটনার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে থানার মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, এর কারণও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

 

যারা গ্রেপ্তার: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—বড় দেওরা এলাকার মন্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম (২৮)।

পুলিশ জানিয়েছে, ফারুক ছাত্রলীগের সদস্য, আলামিন সক্রিয় সদস্য, সাকিবুল হোসেন ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। শিহাবের কোনো সাংগঠনিক পদ উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকার মো. মতিনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশের বক্তব্য: টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মাকসুদুল আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টঙ্গী এলাকায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মক্কা-মদিনার মর্যাদা রক্ষায় আপস নয়, মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে বাংলাদেশ কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।   শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্কল্পনা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।   হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনার মর্যাদার বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট; এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।   মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে বহু মুসলমানের বসবাস। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। মক্কা প্যাক্টের উদ্যোগকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বলেও জানান তিনি।   সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন মূলত জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্সনির্ভর ছিল। এখন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হলো প্রচলিত সম্পর্কের পরিধি বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।   তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সহযোগিতার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন।   প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরে বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।   তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।   বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটে সকালে হাঁটতে গিয়ে ট্রাকচাপায় দুই নারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে গবেষণা, প্রকল্পে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে শাহবাগে বিক্ষোভ, দুই দিনের মধ্যে নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবি

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় দায়ের করা কামরুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. কামালকে (২২) কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ডোবারপাড় জামতলা এলাকার সালাম সাহেবের কলোনির বাসিন্দা।   শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর থানার লিংক রোড মোড়সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার পর এসআরবি-৭ ও এসআরবি-১৫-এর একটি যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।   এ ঘটনায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে কামালকে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি করা হয়েছে।   এসআরবি-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতির মনন ও মূল্যবোধ গঠনে সাহিত্য-সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি : মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আড়ালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ঢেকে গেছে শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত এই স্তম্ভটি প্রচারণার সামগ্রীতে আড়াল হয়ে পড়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।   আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেন। এরপর শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের পাশাপাশি পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরেও ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।   স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বিএনপির সমর্থকেরা স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে ব্যানার টাঙান। পরে জামায়াতের কর্মীরা গোলচত্বরের ফাঁকা জায়গায় ব্যানার ও বড় বিলবোর্ড স্থাপন করেন। এতে স্মৃতিস্তম্ভটির বড় অংশ আড়ালে চলে যায়।   ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।   জুলাই আন্দোলনের কর্মী আহছানুল হাবিব বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করে। তাই এর গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সতর্ক থাকা উচিত।   স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হায়াত ও শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, যাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতে স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার কারণে তাঁদের স্মৃতিই আড়ালে চলে যাওয়া দুঃখজনক।   তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর জাতীয় কমিটির ঠাকুরগাঁওয়ের সদস্যসচিব মাহবুব আলম স্মৃতিস্তম্ভের সামনে থেকে ব্যানার ও বিলবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সাংস্কৃতিক কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনও বলেন, শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।   অন্যদিকে, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও নির্বাচনী প্রচারণা সেলের দায়িত্বে থাকা আহমেদুর রহমান কাজল বলেন, কর্মীরা না বুঝেই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ব্যানার টাঙিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিএনপির ব্যানার লাগানোর পরও স্তম্ভটি অনেকটাই দৃশ্যমান ছিল; পরে অন্য দলের প্রচারণাসামগ্রী স্থাপনের কারণে তা আরও আড়ালে চলে যায়।   জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ শাহজালাল জুয়েল বলেন, গোলচত্বরে জায়গার সংকটের কারণে কর্মীরা সেখানে ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। ধানের শীষের ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হলে তাঁরাও দাঁড়িপাল্লার ব্যানার ও বিলবোর্ড সরিয়ে নেবেন বলে জানান তিনি।   ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে স্থাপন করা ব্যানার ও বিলবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে দ্রুত এর সামনের অংশ পরিষ্কার করা হবে, যাতে স্মৃতিস্তম্ভটি আবারও সবার কাছে দৃশ্যমান হয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর বাজারে ধস, প্রতি কেজিতে ৫–৬ টাকা লোকসানে কৃষক

ছবি: সংগৃহীত

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সংগৃহীত ছবি

কার্গো ও রপ্তানির চাহিদা মেনে কোল্ড স্টোরেজ গড়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

0 Comments