বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলেও ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে দেশের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে নিট এফডিআই প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৩১৫ দশমিক ০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আগের বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১০৪ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার। ফলে বছর ব্যবধানে নিট এফডিআই প্রবাহে প্রায় ২০২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় এফডিআইয়ের সব উপাদানেই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(বিডা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট নিট এফডিআই প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৮০ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে নয় মাসে নিট এফডিআই প্রবাহে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
এ সময়ে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ৩১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৭৬ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০১ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পুনঃবিনিয়োগকৃত আয় বা রিইনভেস্টেড আর্নিংস সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯০ দশমিক ০৭ শতাংশ। আগের বছরের ৭২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ বা ইন্ট্রা-কোম্পানি লোনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। যেখানে আগের বছর এ খাতে ঋণাত্মক প্রবাহ ছিল ৪৫ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে তা ঘুরে দাঁড়িয়ে ২ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের ইতিবাচক অবস্থানে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেও এফডিআই প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) নিট এফডিআই ছিল ৩০৩ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) নিট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের একটি বিশ্বাসযোগ্য পাইপলাইন তৈরি করাই বিডার মূল কাজ। এই পাইপলাইন থেকে বাস্তব বিনিয়োগ আসতে শুরু করায় আমরা উৎসাহিত।
তিনি বলেন, তুলনামূলক মানদণ্ড এখনো নিচু হলেও টানা দুই প্রান্তিকের এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আস্থা রাখছেন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বিনিয়োগ প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি দেখা যেতে পারে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী বিনিয়োগ পাইপলাইনের ভিত্তিতে আবারও বিনিয়োগে গতি ফিরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিডা চেয়ারম্যান আরও জানান, বাস্তবায়িত বিনিয়োগের পরিসংখ্যানের বাইরেও ২০২৫ সালের জন্য বিডার নিজস্ব বিনিয়োগ পাইপলাইনে ইতোমধ্যে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবাহ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের বাসিজ ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে আইআরজিসির এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় বাসিজ প্রধান নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, বাসিজ বাহিনীর এই শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু ইরানের জন্য বড় ক্ষতি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সম্মানিত শহীদের হত্যাকারী দুষ্ট ও সন্ত্রাসীদের আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি, নিবেদিতপ্রাণ বাসিজ যোদ্ধারা কখনোই তাদের নেতার, শহীদ কমান্ডারদের এবং জনগণের অসংখ্য শহীদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে না। উল্লেখ্য, বাসিজ বাহিনী ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক সংগঠন, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সামরিক কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ইরান। আলি লারিজানি ছিলেন ইরানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর একজন প্রভাবশালী ও তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী নেতা। তিনি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেয়া লারিজানি আমোলের একটি প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসেন। তার পরিবারকে একসময় টাইম ম্যাগাজিন ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তার বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান ধর্মীয় আলেম। ২০ বছর বয়সে তিনি ফারিদে মোতাহারিকে বিয়ে করেন। ফারিদে মোতাহারি ছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহোল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কন্যা।
ইরানের হামলা করার সক্ষমতা কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দেশ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সেজন্য কূটনীতিকদের বিদেশি সরকারগুলোকে চাপ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে হামলার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ কমাতে মার্কিন কূটনীতিকদের পাঠানো গোপন তারবার্তার এ তথ্য প্রকাশ করেছে এবিসি নিউজ। বার্তায় রুবিও অন্যদেশের সরকারগুলোকে ‘নিজ নিজ দেশ ও নাগরিকদের ওপর ইরান ও ইরান-ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার’ আহ্বান জানাতে বলেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তারবার্তা সব কূটনৈতিক ও কনস্যুলারদের কাছে ‘অ্যাকশন রিকোয়েস্ট’ (অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ) হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এ তারবার্তার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘আইআরজিসি-র কার্যক্রম নিয়ে উচ্চতর উদ্বেগ’। এখানে আইআরজিসি বলতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরকে বোঝানো হয়েছে। নির্দেশনাটিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, এই বার্তাটি, যা সংবেদনশীল কিন্তু শ্রেণিবদ্ধ নয়—আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ‘উপযুক্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছে দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার জন্য একটি জোট গঠনের বিষয়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, সহায়তায় রাজি হওয়া দেশগুলোর একটি তালিকা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। রুবিওর এই বার্তায় ইরান বা তার প্রক্সিদের পক্ষ থেকে হামলার উচ্চ ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, হুমকি মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপই সেরা কৌশল। তারবার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা মূল্যায়ন করছি— ইরান সরকার একতরফা পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। একতরফা পদক্ষেপের চেয়ে যৌথ চাপ তাদের আচরণ পরিবর্তনে বাধ্য করার সম্ভাবনা বেশি।’ এতে আরও বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশ্বজুড়ে ইরানের সন্ত্রাসী অভিযান বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ যখন এই মুহূর্তে নিবদ্ধ, তখন আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিকে হাতছাড়া হতে দেবেন না।’ এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করছেন। আইআরজিসি, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো সরকারকে অস্থিতিশীল করে এবং আঞ্চলিক শান্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।’ তারবার্তায় কূটনীতিকদের আরও কিছু বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের সমর্থনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরে ইরান সরকারের দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেওয়া। সেই সঙ্গে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র লক্ষ্যগুলো তুলে ধরতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা, ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ধ্বংস করা, তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন করা এবং তাদের নৌ সক্ষমতা কমিয়ে আনা। এতে আরও বলা হয়, কূটনৈতিক পোস্টের বিবেচনানুসারে, এই প্রচারণামূলক প্রচেষ্টাগুলো ইসরায়েলি কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত। তবে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনার মূল পয়েন্টগুলো যেন বাদ না পড়ে। এছাড়া, যেসব দেশ এখনও আইআরজিসি এবং হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেনি, সেসব দেশের কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সেই সরকারকে ‘দ্রুত’ তা করার জন্য উৎসাহিত করেন। তারবার্তায় বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘এমন ঘোষণা ইরান সরকারের ওপর চাপ তীব্র করবে এবং বিশ্বজুড়ে তাদের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করবে, যা আপনাদের জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে বিপন্ন করে।’ এতে আরও যোগ করা হয়েছে, ‘আইআরজিসি সরাসরি বিদেশি মাটিতে সন্ত্রাসী ও হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র পরিচালনা করেছে এবং নিয়মিত গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রগুলো মূলত জনগণকে আতঙ্কিত করা এবং আপনাদের বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পিত।’
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি আজ থেকেই ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলমান ইরান যুদ্ধকে আমি বিবেকের দিক থেকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না এবং স্পষ্ট যে, আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী মার্কিন লবির চাপে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমি সেই মূল্যবোধ ও পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক, যেগুলো আপনি ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের প্রচারণায় তুলে ধরেছিলেন এবং প্রথম মেয়াদে বাস্তবায়ন করেছিলেন। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আপনি বুঝতেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো এক ধরনের ফাঁদ, যা আমাদের দেশের দেশপ্রেমিকদের অমূল্য জীবন কেড়ে নেয় এবং আমাদের সম্পদ ও সমৃদ্ধিকে ক্ষয় করে।’ চিঠিতে কেন্ট উল্লেখ করেন, ‘আপনার প্রথম প্রশাসনে আপনি আধুনিক কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভালোভাবে বুঝেছিলেন কীভাবে দৃঢ়ভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, কিন্তু অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েও। আপনি তা প্রমাণ করেছেন কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে এবং আইএসআইএসকে পরাজিত করার মাধ্যমে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই প্রশাসনের শুরুর দিকে ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং মার্কিন মিডিয়ার প্রভাবশালী অংশ একটি ভ্রান্ত তথ্য প্রচারণা চালায়, যা আপনার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিকে দুর্বল করে এবং যুদ্ধপন্থী মনোভাব তৈরি করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রতিধ্বনি-চক্র ব্যবহার করা হয়েছিল আপনাকে বিশ্বাস করানোর জন্য যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি এবং এখন আঘাত হানলে দ্রুত বিজয়ের একটি স্পষ্ট পথ রয়েছে। এটি একটি মিথ্যা—এবং একই কৌশল ব্যবহার করে আমাদের ইরাকের ভয়াবহ যুদ্ধে টেনে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে আমাদের হাজারো সেরা সৈনিকের জীবন হারাতে হয়েছে। আমরা আর সেই ভুল করতে পারি না।’ একজন সৈনিক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমি ১১ বার যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছি এবং একজন গোল্ড স্টার স্বামী হিসেবে এমন এক যুদ্ধে আমার প্রিয় স্ত্রী শ্যাননকে হারিয়েছি, যা ইসরায়েলের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। তাই আমি এমন একটি যুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে পাঠানোর সমর্থন করতে পারি না, যা আমেরিকান জনগণের কোনো উপকারে আসে না এবং যার জন্য জীবন দেওয়ার কোনো ন্যায্যতা নেই।’ সবশেষে তিনি লেখেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, আপনি যেন ইরানে আমরা কী করছি এবং কার জন্য করছি, সেটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন। এখনই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। আপনি চাইলে এই পথ পরিবর্তন করে আমাদের জাতির জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, অথবা আমাদের আরও অবনতির ও বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে দিতে পারেন। সিদ্ধান্ত আপনার হাতেই। আপনার প্রশাসনে কাজ করা এবং আমাদের মহান জাতির সেবা করা আমার জন্য গর্বের বিষয় ছিল।’