আন্তর্জাতিক

প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে আপসের সুর

বিক্ষোভ প্রশমনে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ইরানের

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১১, ২০২৬

দুই সপ্তাহ ধরে চলা ক্রমবর্ধমান সহিংস বিক্ষোভের মাঝেই ইরানের বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান আপসের সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, চাপের মুখে থাকা ইরানের প্রশাসন দেশের অর্থনৈতিক সব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে প্রাণঘাতী অস্থিরতিশীলতা উসকে দেওয়ার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন।

 

পেজেশকিয়ান বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সমস্যার সমাধান করা, মানুষের উদ্বেগের জবাব দেওয়া এবং তিনি যাদের দাঙ্গাকারী বলেছেন, তাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে না দেওয়া। তিনি বলেন, সুতরাং আমরা পরিবারগুলোর কাছে অনুরোধ করছি—তাদের সন্তানদের যেন সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের সৃষ্ট অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়তে না দেন।

 

ইরানের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, শত্রুপক্ষ প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের দেশে ঢুকিয়েছে... দাঙ্গাবাজরা প্রতিবাদী মানুষ নন। আমরা প্রতিবাদীদের কথা শুনছি এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

 

তিনি বলেন, আমাদের যা কিছু আছে, তা জনগণের মাঝে ন্যায্যভাবে বণ্টন করাই সরকারের লক্ষ্য। তারা যে দল, গোষ্ঠী, জাতিগোষ্ঠী, বর্ণ, এমনকি যে প্রদেশ, উপভাষা বা ভাষারই হোক না কেন।

 

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ পতনের পর দেশটিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে মুদ্রার অবমূল্যায়ন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ক্ষোভ থেকে সৃষ্ট বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দেশটিতে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছে। 

 

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নির্দেশনা দিয়ে দেশে ‌‌‘‘অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা’’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষকে দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা ইরানের এই বিক্ষোভ ২০২২-২০২৩ সালের আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নারীদের জন্য কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনি পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার পর দেশটিতে ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।

 

পেজেশকিয়ান বলেন, মানুষের উদ্বেগ আছে। আমাদের তাদের সঙ্গে বসতে হবে এবং যদি সেটাই আমাদের দায়িত্ব হয়, তাহলে তাদের উদ্বেগের সমাধান করতে হবে। কিন্তু আরও বড় দায়িত্ব হলো—কোনো দাঙ্গাকারী গোষ্ঠীকে পুরো সমাজ ধ্বংস করতে না দেওয়া।

 

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদীদের সঙ্গে বিদেশে প্রশিক্ষিত দাঙ্গাকারীদের মধ্যে পার্থক্য টানার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ইরানের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা জনরোষকে ন্যায্য বলে স্বীকার করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি দ্রুত বাড়তে থাকা দাম, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং স্থানীয় মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নের কথা উল্লেখ করেছেন। এসবই এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পকেটে বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালে দেশজুড়ে ১০৯ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ শান্তিপূর্ণ ও সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পার্থক্যের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান অর্থনৈতিক উদ্বেগ নিয়ে মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ স্বীকার করে। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে সরকার।

 

 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক কমান্ডার ঘালিবাফ।

 

তিনি বলেন, ইরানে হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ডের (ইসরায়েল) পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। এ সময় কিছু আইনপ্রণেতাকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করেছেন তিনি।

 

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে অস্থিরতা কমে আসছে বলে রোববার দাবি করেছে। অন্যদিকে, দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, ইরানজুড়ে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রাখাইনের সংঘাতেই আটকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ৩ লাখের বেশি ফেরত নিতে দেরির কথা মিয়ানমারের

বাংলাদেশের আশ্রয়শিবির থেকে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েও এখনই প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারছে না মিয়ানমার। রাখাইন প্রদেশে চলমান সংঘাতের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাখাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।   মিয়ানমারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য দেশটির কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করেছে মিয়ানমার।   তবে প্রত্যাবাসনের পথের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে। বর্তমানে রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ে ও কয়েকটি এলাকা ছাড়া প্রদেশটির বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইনের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় এখনই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আরসার হামলার পর সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে তাদের বসবাস।   রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় তখন কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।   মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখছে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে যাত্রীদের ভ্রমণ নথি যাচাইয়ে বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোকে নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

কাতারে নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটের তদন্ত চায় তেহরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে: সাবেক মার্কিন কংগ্রেসওম্যান

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অনুসরণের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার প্রযুক্তি কপি অর্থাৎ অনুসরণ করে নতুন ধরনের মোবাইল রাডার তৈরির কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষয়ক্ষতির পর এটি নিয়ে ভাবা শুরু করেছে দেশটি। সামরিকবিষয়ক ম্যাগাজিন মিলিটারি ওয়াচের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারে মোবাইল সেন্সর প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। রাশিয়ার এস-৩০০ ও এস-৪০০ ব্যবস্থায় শুরু থেকেই এ ধরনের মোবাইল সেন্সর ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   মিলিটারি ওয়াচের দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস করেছে।   ধ্বংস হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে ছিল আনুমানিক ৭ কোটি ডলার মূল্যের এএন/টিপিএস-৫৯ রাডার। এছাড়া থাড ব্যবস্থার দুটি এএন/টিপিওয়াই-২ এক্স-ব্যান্ড মোবাইল রাডারও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিটির মূল্য ১০০ কোটি ডলারের বেশি।   আরও একটি এএন/এফপিএস-১৩২ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।   রাডারগুলো ধ্বংস হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করার সক্ষমতা বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থায় প্রচলিত পশ্চিমা ধারণা থেকে কিছুটা সরে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সরঞ্জাম একসঙ্গে কাজ করে।   নতুন ধারণায় রাডারকে আলাদা মোবাইল সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একটি মোবাইল রাডার দূর থেকে শত্রুর লক্ষ্য শনাক্ত করবে এবং সেই তথ্য অন্য স্থানে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় পাঠাবে।   এ ধরনের নেটওয়ার্কভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা কাঠামো রাশিয়ার এস-৩০০ ও এস-৪০০ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে মিলিটারি ওয়াচ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইবিসিএস ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন সেন্সর ও অস্ত্রকে একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ধারণা রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাডার ধ্বংস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জাহাজে থাকা সেন্সর এবং তুরস্কে মোতায়েন করা একটি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে।   এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান ২ হাজারের বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   এ ছাড়া ইরানের হামলায় ৪২টির বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত অবস্থায় হামলার শিকার হয়। সূত্র: আরটি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আবারও ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস

ছবি: সংগৃহীত

মানসিক চাপে থাকা নাবিকদের নিয়ে দেশে ফিরছে সেই মার্কিন রণতরী

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে মরক্কোর অভিবাসীদের বিক্ষোভ, ‘মরতে রাজি, তবু ফিরব না’

ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত। এটি রাজনীতি বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে বলে জানিয়েছেন ভারত সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।   সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে রোববার (১৬ আগস্ট) এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের আদালত। এটি কোনো কূটনৈতিক অথবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না। আর আদালতে যেটি প্রমাণিত হতে হবে যে বাংলাদেশে তিনি যে অপরাধ সংঘটিত করেছেন সেগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ কি না।”   ভারত সরকারের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছিল, সেটি অনুযায়ী সব নথি যুক্ত করেই বাংলাদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানেই আছেন। বর্তমানে দিল্লির একটি রেস্ট হাউজে রয়েছেন তিনি।   এদিকে পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা মাঝে মধ্যে তার দলের ক্যাডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলেন। শেখ হাসিনার বর্তমান বয়স ৭৮।   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জানা গেল ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে কৌশলগত পাহাড় লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজের রক্ষকরা আপনার পা ভেঙে দেবে’: ট্রাম্পকে ইরানের সেনাপ্রধান

0 Comments