শাহিদ কাপুরের ভয়ংকর লুক ও বিশাল ভরদ্বাজের পরিচালনায় নির্মিত সিনেমা ‘ও’ রোমিও’ এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে প্রকাশিত টিজারে দর্শকের বিশেষ নজর কেড়েছেন বলিউডের প্রতিভাবান অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। শাহিদের বিপরীতে নারী প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে তাকে, যার উপস্থিতি গল্পে প্রেম, যন্ত্রণা ও রহস্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুক্রবার পোস্টার প্রকাশের পর টিজার মুক্তি পেতেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে তৃপ্তি দিমরির চরিত্র ঘিরে। টিজারে স্বল্প উপস্থিতিতে তার চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে গভীর আবেগ, নীরব যন্ত্রণা ও ভালোবাসার ছাপ—যা পুরো গল্পের আবেগি কেন্দ্রবিন্দু বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিশাল ভরদ্বাজের নতুন এই শেকসপিয়র-অনুপ্রাণিত প্রেমকাহিনিতে তৃপ্তি দিমরিকে দেখা যাবে এক নির্যাতিত প্রেমিকার চরিত্রে, যার ভালোবাসাই নায়ককে প্রতিশোধের পথে ঠেলে দেয়। টিজারের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এ সম্পর্কই শাহিদ কাপুর অভিনীত চরিত্রের ভাঙন, উন্মত্ততা ও প্রতিহিংসার মূল কারণ।
‘বুলবুল’, ‘কলা’ ও ‘কিউএলএম’-এর মতো ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে নিজেকে শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৃপ্তি দিমরি। ‘ও’ রোমিও’ তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সিনেমা বিশ্লেষকরা।
এটি শাহিদ কাপুর ও বিশাল ভরদ্বাজের চতুর্থ যৌথ প্রজেক্ট। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন অবিনাশ তিওয়ারি, ফরিদা জালাল, নানা পাটেকার ও দিশা পাটানি। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য সুখবর। দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’-এর ধারাবাহিকতায় নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘সুড়ঙ্গ-২’। নির্মাতা রায়হান রাফী ও অভিনেতা আফরান নিশোর সফল জুটি আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন নতুন গল্প ও নতুন চমক নিয়ে। ২০২৩ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘সুড়ঙ্গ’ ছিল আফরান নিশোর প্রথম চলচ্চিত্র। সিনেমাটিতে ‘মাসুদ’ চরিত্রে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। পাশাপাশি সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি অর্জন করে এবং বক্স অফিসেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ‘সুড়ঙ্গ-২’-এর গল্প শুরু হবে প্রথম সিনেমার শেষ অংশ থেকে। নতুন কিস্তিতে আরও বড় ক্যানভাস, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিস্তৃত গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মহেন্দ্র সনি বলেন, ‘সুড়ঙ্গ’ প্রমাণ করেছে স্থানীয় গল্পও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। নতুন সিনেমার মাধ্যমে সেই যাত্রাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্মাতা রায়হান রাফীর ভাষ্য, ‘সুড়ঙ্গ’ তার চলচ্চিত্র জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই আরও গভীর ও বিস্তৃত গল্প নিয়ে আসছে ‘সুড়ঙ্গ-২’। তিনি জানান, এবার কাহিনিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম, ভালোবাসা ও অন্ধকার দিকগুলো আরও বৃহৎ পরিসরে তুলে ধরা হবে। আফরান নিশো বলেন, ‘সুড়ঙ্গ’ আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের বিশেষ অধ্যায়। “মাসুদ” চরিত্রটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। নতুন পর্বে দর্শকদের জন্য নতুন গল্প, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং বেশ কিছু চমক অপেক্ষা করছে।’ বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। শিগগিরই অন্যান্য অভিনয়শিল্পী, শুটিং সূচি এবং নির্মাণ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড প্রযোজিত ‘সুড়ঙ্গ-২’ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে মুক্তির লক্ষ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে।
ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সামাজিক মাধ্যমে তার দেওয়া একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। সেই পোস্ট ঘিরে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে, অভিনেত্রী কি আবার নতুন করে প্রেমে পড়েছেন! প্রভা বর্তমানে অবকাশযাপনে নেপালে রয়েছেন। সেখানকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যার প্রতি মুহূর্তের স্থিরচিত্র তিনি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। সেখানকার পাহাড়, মেঘ আর প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কাটানো সময়ের নানা মুহূর্ত নিয়মিতই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন। তেমনি কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী, তবে এরমধ্যে একটি ছবি একটু বিশেষভাবে নেটিজেনদের নজরে এসেছে। যেখানে দেখা গেছে, হাতে একটি বেলুন নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন প্রভা। আর সেই বেলুনে লেখা- 'আই লাভ ইউ'। আর এতেই শুরু হয়েছে আলোচনা। অনুরাগীদের একাংশের ধারণা, অভিনেত্রীর জীবনে হয়তো নতুন বিশেষ কোনো মানুষের আগমন ঘটেছে। কেউ কেউ আবার ছবিটির ক্যাপশন ও উপস্থাপনাকেও ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি প্রভা। ফলে নতুন প্রেমের গুঞ্জন আপাতত ভক্তদের কৌতূহল আর সামাজিকমাধ্যমের আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। এ ছাড়াও অভিনেত্রীর সর্বশেষ পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা গেছে দুটি খাবারের প্লেট নিয়ে বসে থাকতে। ছবিতে প্রভাকে দেখা গেলেও, অন্য প্লেটটি কার বা সঙ্গে কে আছেন সেটি কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। ক্যাপশনে শুধু অভিনেত্রী লিখেছেন, 'লাঞ্চ করেছেন'? সাম্প্রতিক সময়ের তার এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টগুলোই নতুন প্রেমের গুঞ্জনে আরও ঘি ঢালছে। প্রসঙ্গত, পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। ২০১০ সালে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে সেই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এরপর ২০১৪ সালে একটি মুঠোফোন সেবাদাতা কোম্পানির কর্মকর্তা মাহমুদ শান্তর সঙ্গে তার দ্বিতীয় সংসারও ভেঙে যায়।
বিনোদন জগতের এক আলোচিত ও প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘গোলাপ’ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে চলেছে। নানা অনিশ্চয়তা আর একাধিকবার শুটিং পেছানোর পর, আবারও নতুন করে আশার আলো দেখছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় দুই তারকা,চিত্রনায়িকা পরীমণি ও চিত্রনায়ক নীরব। দীর্ঘ বিরতির পর সিনেমাটি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, যা এই জুটির পর্দায় রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি নীরবের সঙ্গে তোলা একটি ছবি পরীমণি তার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। সিনেমার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘গোলাপ’ নিয়ে দু’জনের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের এক গণমাধ্যমকে নীরব বলেন, বেশ কয়েকবার চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ পিছিয়েছে। আমরা চাই, খুব শিগগির শুটিংয়ে যেতে। বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। পরীমণির সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ছোট শহরের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে থ্রিলারধর্মী এ চলচ্চিত্র। সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্যকার অনিক বিশ্বাস। গল্পওয়ালা প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিতব্য ‘গোলাপ’ পরিচালনা করছেন সামছুল হুদা। কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে দেখা যাবে পরীমণি ও নীরবকে।