জাতীয়

তারেক রহমানের হাত ধরে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ফের শুরু

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের পর  বাংলাদেশে আজ আবারও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে এককভাবে ২১১ আসনে ভূমিধস জয় পেয়েছে। ফলে বড় রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল দলটি।

দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিল। অবশেষে এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো এবং তারা সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার পেল। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক দলসহ বিশ্বব্যাপী এ নির্বাচন স্বীকৃতি পেয়েছে। ইইউ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের জালিয়াতি বা ভোট কারচুপির ঘটনা পাওয়া যায়নি।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরপর তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে দেশের মানুষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল।

২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে তাদের পতনের পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এসেছে।

মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে তাঁর রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। নির্বাসনে থেকেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে তিনি বিরামহীন সংগ্রাম করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং সম্প্রতি দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন। গাবতলী উপজেলা হলো তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক জন্মস্থান, যা উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলায় অবস্থিত।

তিনি ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তাঁর দলের পক্ষে জনমত গঠনের সুযোগ পান। বেগম খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, দলের ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজি কমিটি’র সদস্য হিসেবে তারেক রহমান সেসব আসনের নির্বাচনী প্রচারণা সমন্বয় করেন। ওই পাঁচ আসনে তাঁর মায়ের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে, তিনি একজন দক্ষ সংগঠক এবং ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বে আসার যোগ্য।

তারেক রহমান তাঁর শৈশব থেকেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতি শিখেছেন। তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া মানুষের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কত উদার ছিলেন এবং স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য তিনি কীভাবে সংগ্রাম করেছেন। তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আদর্শ রাজনৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করেছেন।

তারেক রহমান ২০০১ সালের নির্বাচনেও প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আবারও তাঁর  দক্ষ নেতৃত্বের প্রমাণ দেন। সারা দেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে তাঁর কৌশল  সফল হয়। বিএনপি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে। বিজয়ের পর ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করেন।

রাজনীতিতে তারেক রহমান যখন বিকশিত হচ্ছিলেন, তখন তাঁকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এরপর আসে কুখ্যাত সেনা-সমর্থিত অবৈধ ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আওয়ামী লীগ এবং তাদের দেশি-বিদেশি দোসরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন তারেক রহমান। ১/১১ সরকার নিষ্ঠুর, কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে নিবৃত্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তারেক রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং দেশের আইনকে উপেক্ষা করে মাসের পর মাস তাঁকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এক পর্যায়ে নির্মম নির্যাতনে মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান এবং বাধ্য হয়ে নির্বাসনে থাকার পথ বেছে নেন। কিন্তু তাঁর অদম্য মনোবল এবং জনগণের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি তাঁকে থামতে দেয়নি; বরং তিনি যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

তারেক রহমান তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের মনোবল চাঙা রেখেছেন এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল- তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।

তিনি ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এমনকি শেখ হাসিনার সরকার জিয়া পরিবারকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের সেনানিবাসের বাড়ি ভেঙে ফেলে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপপ্রচারের পরও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা ব্যাপক বাড়তে থাকে।

তারেক রহমান জনগণের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানে অবিচল ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার উত্তরাধিকারীর প্রকৃত দাবিদার। তিনি তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে জনসমর্থনের মাধ্যমে দলের তৃণমূলভিত্তি ক্রমাগত বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হয়েছে।

২০১৮ সালে যখন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে বন্দী হন, তখন তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের উৎকর্ষতার কারণে এ পদে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

নির্বাসনে থাকলেও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তারেক রহমান থেমে থাকেননি। তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আহ্বান অবশেষে জাতিকে জাগিয়ে তোলে। জনগণ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাদের প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন দিনের সূচনা করে।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার পথ সুগম হয়। এরপর আসে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক দিন, যেদিন তিনি বীরের বেশে দেশে দেশের মাটিতে পা রাখেন, খালি পায়ে হেঁটে দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখেন এবং হৃদয়ের গভীরে বাংলাদেশকে অনুভব করেন। এরপর বিশাল জনসমুদ্রে তাঁর প্রাণবন্ত কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য কান্ট্রি।’

প্রায় ১৭ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে পুরো জাতি যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল, তখন বাংলাদেশ আরেকটি দুঃসংবাদ পেল— দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর তাঁর মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হন, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে তাঁর অনিবার্য উত্থান।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান উত্তরাধিকার সূত্রে হয়নি, বরং তিনি তাঁর নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অন্তর্দৃষ্টি, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষে ওঠে এসেছেন। কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা ও ধৈর্যের সমন্বয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতিকে অপশাসন, অরাজকতা, নিপীড়ন, জোর-জবরদস্তি ও দমন-পীড়নের অচলাবস্থা থেকে বের করে আনবেন। তিনি জনগণকে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেবেন, যা তারা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি মানুষের হৃদয় জয় করেছে এবং এর ফলেই জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিশাল জয় পেয়েছে।

বাংলাদেশ আজ আবারো একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং তারেক রহমানের হাত ধরে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এ পর্যন্ত ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বুধবার (১০ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।   অনুষ্ঠানে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শহীদ হওয়া ছয় সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আহত শান্তিরক্ষীদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখেরও বেশি সদস্য ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করছেন।   তিনি আরও জানান, শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী সদস্যদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য, যা বর্তমানে প্রায় ১১ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের কারণে বিশ্বমঞ্চে দেশটি অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে।   তিনি অতীতের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখাই সশস্ত্রবাহিনীর জন্য সম্মান ও মর্যাদা ধরে রাখার মূল ভিত্তি।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো এখন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ভবিষ্যতে এসব মিশনকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।   অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ ও আহত সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ফাইল ছবি।

নবম পে স্কেল কার্যকরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সরকারি কর্মচারীরা

ছবি : সংগৃহীত

ডেঙ্গু চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শামীম ওসমান। ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে ১০ খুন: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিচার শুরু ট্রাইব্যুনালে

সংগৃহীত ছবি
নির্বাচনী দায়িত্বে প্রাণ হারালে পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা

নির্বাচনে ও ভোটার তালিকা প্রণয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্য মারা গেলে ১০ লাখ টাকা দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (১০ জুন) ইসির একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসির উপসচিব রাশেদুল ইসলামের সই করা এসংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভোট ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্ঘটনা বা হামলায় মারা গেলে তার পরিবারের জন্য ১০ লাখ টাকা, গুরুতর আহত/স্থায়ী অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ৪ লাখ টাকা, গুরুতর আহত/অস্থায়ী অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ২ লাখ টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এ ছাড়া দায়িত্বরত অবস্থায় আকস্মিকভাবে অসুস্থ/গুরুতর অসুস্থ/মৃত্যুবরণ করলে ৬ লাখ টাকা, গুরুতর অসুস্থ/স্থায়ী অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ৩ লাখ টাকা, সাময়িকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করা হলে ৩ লাখ টাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সাধারণ চিকিৎসা গ্রহণ করা হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তি বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নির্দিষ্ট পন্থায় আবেদন করতে হবে। সে আবেদন নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে কমিশনের কাছে উত্থাপন করা হলে কমিশন যা নির্ধারণ করবে, সেই অনুযায়ী অনুদান প্রদান করা হবে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা সুস্পষ্ট আকারে ছিল না। এবার সেটা করা হয়েছে। এর ফলে অনুদানের অর্থ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কিভাবে বণ্টন হবে, তা নিয়েও সংকট কাটবে। 

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৭ দোকান; ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

বাজেটের আগমুহূর্তে সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

নির্বাচন কমিশন ভবন (ফাইল ছবি)

আগস্টে তফসিল, অক্টোবরে স্থানীয় নির্বাচন: ইসির প্রস্তুতি শুরু

ছবি : সংগৃহীত
আদ-দ্বীনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জবাব পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শোকজের লিখিত জবাব জমা দেয়। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নোটিশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চাইলে তা মঞ্জুর করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আজ লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছে। আগামীকাল জবাব পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে নোটিশে উল্লেখিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দায়িত্বরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্স ও স্টাফদের দায়িত্বে অবহেলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ হবে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, “ ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অনুযায়ী বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” গত ৭ জুন সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, হাসপাতাল স্থাপনাসংক্রান্ত বিধিমালা, আইনের বিভিন্ন ধারা এবং প্রাসঙ্গিক বিধিবিধান পর্যালোচনা করে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। হাসপাতালটির জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল তিন বছর ধরে অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এদিন দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিলের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা বেআইনি। এ দাবির জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ আইন অনুসারেই জারি করা হয়েছে। কোনো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে লাভ নেই। নোটিশটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। ৬ নবজাতকের মৃত্যু একটি গুরুতর ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।”

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

গরম বাড়লেই দেশে বেড়ে যায় নারী ও শিশু নির্যাতন, তাপমাত্রা বাড়লে সহিংসতা প্রায় ৪.৪৯% বৃদ্ধি পায়

জাতিসংঘে মোতায়েন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ছবি : সংগৃহীত

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

টাকা, সরকারের লোগো ও অর্থমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

জুনেই পে-স্কেল ও গ্রেড-পেনশনে বড় চমক

0 Comments